• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
 মেয়ে তোমার ঘোর কাটেনি, এলোমেলো চুল নিয়ে কাঁপছে তোমার ছায়াশরীর, শিহরনে। তুমি এসেছিলে, শুক্লপক্ষের চাঁদ ছিল কার্ণিশের উপর, তারপর যখন তোমার নিঃশ্বাস গাঢ় হতে লাগলো, আমি দেখলাম সব নক্ষত্রগুলো সাদা কাক হয়ে উড়ে যাচ্ছে একে একে। আর তোমার  নাভীতে জমা দুঃখগুলো তখন সুখ নিয়ে মিশে যায় সুদুর অন্তঃরীক্ষে। এদিকে আমার শয্যাপাশে এখনও ভোর হয় নি। কিন্তু মেয়ে, তোমার চোখে জমে আছে একরাশ নিঃশব্দ ধূসর ঘোর।
আমি তারাদের রোদন, ঠিক যেন অবিরাম নষ্ঠ হতে থাকা রাতগুলোর কুন্ডলী। একটি অখন্ড আকাশ আমার শৈশব লিখে রেখেছিল তার বায়বীয় আগুনের বুকে। এখনও আমি চলতে ফিরতে দেখি আমার শৈশব জন্ম নিচ্ছে আলোর কোটরে; বেড়ে উঠেছে বৃষ্টির আবরনে। আগুনে পুড়ে আয়নাতে ভেসে উঠেছে একজন ঘুমিয়ে পড়া যাদুকর, এই অবয়ব আমি কখনও ভুলিনি।

তোমার ভেতর শুকনো নদীর পাড় ঘেঁসে বেড়ে উঠেছে সবুজ ক্ষত, ট্রাক এসে বোঝাই করে নিয়ে যায় উপচে পড়া নিল, ঘামে ভেজা গামছার তলে মুখ মোছা ঘ্রাণের শক্তিই তোমাকে জাগিয়ে রাখে। ভোরের সরল আলো এখনও চোখের তারায়। বিশুদ্ধ বাতাস চুলের মেঘ থেকে ঝরিয়ে নেয় বৃষ্টি। মৃত্তিকার অবয়বে ফুটিয়ে তোলে আলতা ছাপ, যে রঙের মাঝে তোমার হাত বাড়ানো পাপড়ি থেকে ঝরে পড়ে খেয়াঘাট।
মেয়ে, তুমি বৃষ্টি হয়ে ঝরো, খোলা আকাশ আর এলোমেলো হাওয়া, অদ্ভুত কিছু ভালোলাগা আর কিছু টুকরো মেঘ নিয়ে এসো। আমার আকাশ আজ ভিন্নভাবে শ্বাস ফেলতে চাইছে। রোজ দু'টোর সময় আমি একটা দুচাকার দুপুরকে হারিয়ে ফেলতে দেখি তার মনখারাপের হাতল। আমি চমকে উঠি, ছুটে গিয়ে জাপটে ধরি তার নির্জনতার হাতল। আমার সেলফোন দুপুরে ঠিক সাইকেলের বেলের মতই বেজে ওঠে।  ঝকঝকে আকাশ থেকে অলক্ষ্যে ঝরে পড়তে থাকে অন্ধকারের অদৃশ্য কনাগুলো রোদের ফাঁক দিয়ে। রোজ দু'টোর সময় এক সন্ধ্যে আমার বিছানায় ঘুমোতে আসে। আমার কবিতাগুলো ছন্দহীন হয়ে পড়ে তারপর।

তারপর আমি ফিরে যাই তোর আকাশে, আমি দেখি আমার হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি সুতো কেটে উড়ে বেড়ায়। আমি ফেরাতে পারিনা, আমার মন খারাপ করে। ফাঁকা ঘরে জানালার ওপারে দূর নীলাকাশ থেকে ফিসফিসিয়ে ভেসে আসে প্রিয়তম হাওয়া। কান্নায় আমার গলা ভিজে যায়, আমি ফুঁপিয়ে উঠি। আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক নির্জন তালগাছ। তালগাছটার শিখরে দুলছে মৌসুমী সমুদ্রের হাওয়া। আমি দেখি এক পিঙ্গল অশ্বারোহী, দিগন্তের ওপারে ওই দেখো থেমে আছে সময়, ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে তেপান্তরের মাঠ, মাঝখানে থমকে আছে আমাদের প্রিয়তম মুহুর্তেরা। যবনিকা সরে যায়, দেখি দূর অন্ধকার স্রোতের ওপারে এক আমোঘ সত্য। ফিরে যাই দিগন্তের কিনারে, দেখি শিশির ভেজা মাঠে শুয়ে আছে কিছু সুখী মাথা।
অন্ধকার নেমে এলে আমি বেঁচে থাকি এক অন্য পৃথিবীতে, চিরকাল আকাশ বলেছি যাকে, চোখ তুলে দেখে নিই, আজ সে হয়ে আছে মহাকাশ।

এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সচেতন কবিতারা, বন্ধ আছে অন্ধ অভিষেক; কিশোর এসে প্রতিদিন হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে। তবুতো জ্যোৎস্নারাতে ঘরে ফিরতে হয় বুকে চেপে রেখে কিছু বেওয়ারিশ ভয়। এই অলীক পৃথিবীতে আমিও একজন অতিথি, আমিও একজন পথিক মাত্র। সকলের মাঝে আমি চিরদিন থাকবনা। ধূমল কুয়াশা কেটে গেছে। স্বর্ণময় শিশির কনাও নীরস। নদীর ঢেউয়ের সাথে দুপুর গড়িয়ে গেল নিঃশব্দে বহুদুর। শ্রাবনের ঝরো ঝরো বর্ষন বয়ে গেল, তবু মনে মরুভূমি।
পিছনে পড়ে ছিল কাতর নদী, কারো কংকালে লেখা থাকে মৃত নদীর নাম। যে যায় সে ফেরে না, তবু কোন কোন রাতে তৃষিত নদীরা ঘুম চোখে জল চায়। ভুল করে আমিও নদীর মত তৃষিত হই, হাত রাখি অর্পিত চাঁদে। ফোঁটা ফোঁটা জ্যোৎস্নারা কাঁদে নিরুপায়, তবুও কেউ মিষ্টি করে বলে না আকাশের ছাদে বসে থাকা পাখির পালকের নাম কবিতা।

তুমি তৈরী থেকো, এবার আমি এসে যাবো। যে কোন দিন, যে কোন জুঁই ঝরবার আগে। বুঝলে নীলা, পথে যদি সন্ধ্যা লাগে পাঁজর খুলে আগুন দেব অন্ধকারে। শান ধরানো তীক্ষ্ণ ফলার লাঙ্গল টেনে সবুজ মাটি চষে বীজ ছড়াবো আবার। সত্যি রক্তে এবার তোমার নীল মেশাবো। ইদেন বনের নিষিদ্ধ ফল ছিঁড়ে খাবো। র‍্যাবের চাকায় পিষ্ট হয়ে যে কোন খুন ঝরার আগেই মাটির কাছে, তোমার কাছে যে কোন দিন এসে যাবো।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হিসেবের খাতা যখনই হাতে নিয়েছি , তাতে দেখি শুধুই রক্তক্ষরন, মাঝে মাঝে হঠাৎ চমকে উঠে ভাবি, আরে, কোথায় ছিলাম আমি? কোথায় ছিলাম? সে যে এক গভীর নীল স্নিগ্ধ জগৎ। সেখানে এক অদ্ভুত আলো ছিলো। ছিল এক বিচিত্র সুন্দর শব্দ। সেই আমার জগৎ থেকে কে আমাকে এখানে আনলো? কেন আনলো এই মৃত্যুশীলতার মধ্যে, যে পথ দিয়ে আমি এসেছিলাম সেই পথের দুধারে ছিল অনেক তারা নক্ষত্র, সেই বীথিপথটি অনন্ত থেকে ঢলে গেছে অনন্তে। তার শুরু নেই, শেষও নেই। সেই পথে চলতে চলতে কেন আমি থেমে গেলাম? নেমে এলাম এইখানে?

আকাশে ঘনিয়ে আসে বর্ষার গাঢ় মেঘ। ঘন মেঘের ছায়া পড়ে চারধারে। বর্ষার ব্যাঙ ডাকে। বৃষ্টি নামে। আমি আমার দরজার চৌকাঠে বসে সেই বৃষ্টির দৃশ্য দেখি। কোন দূর থেকে বৃষ্টির ফোঁটা গুলি আসে? গাঢ় ভালোবাসায় মাখে মাটিকে, ভিজিয়ে দেয় গাছপালা। ্বৃষ্টির শব্দে যেন কোন ভালোবাসার কথা বলা হতে থাকে। ওই যে বর্ষার ব্যাঙ ডাকে, গাছপালার শব্দ হয়, আমি প্রান দিয়ে শুনি। মনে হয়, ওই ব্যাঙের ডাক মেঘকে ডেকে আনে, গাছপালা তাঁকে আকর্ষন করে, মাটিতে টেনে নামায় মেঘ থেকে জল, এরকম টান ভালোবাসার ওপরই চলছে সংসার। আমি চৌকাঠে বসে থাকি, চোখের পলক পড়েনা, আমি দেখি শীতের কুয়াশা, বৈশাখের ঝড়।




মাঝরাতে বাগানের ছায়াগুলো বেঁকে ভেঙ্গে যাচ্ছিলো। জ্যোৎস্না তীব্র হয়েছে। ফুলের গন্ধ গাঢ়, মন্থর হয়েছে বাতাস। দুঃখীদের জন্য স্বপ্নের সন্ধানে বেরিয়েছেন ঈশ্বর, আনাচে-কানাচে ঘুরে তিনি চরাচর থেকে স্বপ্নদের ধরেন নিপুন জেলের মতন। আঁজলা ভরা সেই স্বপ্ন তিনি আবার ছড়িয়ে দেন। মাঝরাতে তারার গুঁড়োর মত সেই স্বপ্নেরা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে।

মানুষের মধ্যে সবসময়ই একটা ইচ্ছে বরাবরই চাপা থেকে যায়। সেটা হচ্ছে সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে। কোথাও কেউ একজন বসে আছেন প্রসন্ন হাসিমুখে, তিনি আমার কিছুই চান না, তবু তাঁকে আমার সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার কথা। টাকা-পয়সা নয়, আমার বোধ-বুদ্ধি-লজ্জা-অপমান-জীবনমৃত্যু-সবকিছু। বদলে তিনি কিছুই দেবেন না, কিন্তু দিয়ে আমি তৃপ্তি পাব। রোজগার করতে করতে, সংসার করতে করতে মানুষ সেই দেওয়ার কথাটা ভুলে যায়। কিন্তু কখনও মানুষ মরবার সময়ে দেখে, সে দিতে চায়নি, কিন্তু নিয়তি কেড়ে নিচ্ছে, তখন মনে পড়ে, এর চেয়ে স্বেচ্ছায় দেওয়া ভালো ছিল।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3174276807"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কোনোদিন সুসময় দেখা দিলে দেখিস একদিন ঠিক ফিরে যাবো তোর মায়াবী চিলেকোঠায়।
জানিস, আমার খুব ইচ্ছে করে একবার দেখতে তোর যত্নে সাজানো ছোটোবেলার পুতুলগুলো, ওরা যে কতটা ভাগ্যবান ওরা জানেনা; আমি কিন্তু বুঝতে পারি।

তোর চিলেকোঠায় আর কি কি আছে আমায় দেখাবি?

শুনলাম তুই নাকি তোর সমস্ত স্থাবর অস্থাবর কষ্ট, মনখারাপ, বিষন্ন বিকেল আর একলা রাত আমার নামে লিখে দিয়েছিস।

তুই কি জানিস তোর দেওয়া কষ্টগুলো আজও জমিয়ে রেখেছি বুকপকেটে। ওরা কিন্তু তোর মত নয় একদমই। পিছু ছাড়তে চায়না মোটেই।

তুই কিন্তু অনেক কিছুই দিয়ে গেলি। বিষন্ন বিকেল, একলা আকাশ আর কিছু উদাস দুপুর। তোর দেওয়া দুপুরটাকে একবার উড়িয়েছিলাম অনেক অনেক উঁচুতে, তুই যতটা ভাবতে পারিস তার থেকেও বেশি। কিন্তু জানিস, ওই দুপুরটা লাট খেতে খেতে আবার ফিরে এলো আরও অনেক অনেক মনখারাপ নিয়ে; সেই থেকে ওকে জমিয়ে রেখেছি আমার লেখার টেবিলে। তুই বল, তোর দেওয়া কিছুই কি আমি ফেলতে পারি?

তোর বাড়ির সামনে যে নীল রঙের ডাকবাক্সটা দঁড়িয়ে থাকে ওকে একবার চিঠি লিখেছিলাম, সেই চিঠিতে ছিল আমার হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবর।

আচ্ছা বলতে পারিস আমার আকাশটার রঙ বারবার পালটে যায় কেন? একসময় আমারও একটা আকাশ ছিল, ঠিক সমুদ্রের মতই নীল। সেই আকাশটাও কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে গেল। আচ্ছা আমায় বলতে পারিস তোর আকাশের রঙ কেমন? তোর আকাশে কি আজও বুনো হাঁসেরা পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়?
প্রিয়তি, মাঝরাতে বৃষ্টিরা জানিয়ে দিয়ে গেলো বড্ড বেশি বড় হয়ে গেলাম বড় অবেলায়।  সবাই যখন আদর খুঁজে বেড়ায় মাঝরাতে, আমি আজও খুঁজে বেড়াই আকাশের নীল রং; বুঝতে পারি দখিনা বাতাসের ইচ্ছে অন্য কিছুর; জানালার কাঁচে ঠান্ডা দু’টো হাত জানিয়ে দেয় আর ফেরা যাবে না ফিরতি পথ। ভালো থাকিস তুই নতুন চারা গাছ; এখনও আমি নদী খুঁজি রোজ, দেবদারু গাছেদের কানে কানে রোজ বলি এবার সময় এসেছে নির্বাসনের; একটু একটু করে ভাসান দিচ্ছি তোকে ঘোলা জলে। বৃষ্টির সামনে হাঁটু গেড়ে বসি, দু’হাত পেতে ভিখারির মত বলি “ ফিরিয়ে দে আমার নদী।”

তবুও কেউ জানবে না কখন চুপি চুপি আমি বেঁচে থাকি; এ বাঁচা অন্য রকমের বাঁচা। কখনও অনেক আকাশ যদি পাই , তোকে আনবো; তারপর রাতের আকাশ জুড়ে মা’য়ের ওমের মতই ফুটে উঠবে ভোরের গন্ধরাজ।

প্রিয়তি, একটা একটা করে নদী মুছে যায় রোজ; আবার কার্ণিশে এসে দাঁড়াই, হাতের মুঠি আলগা করে খুল সেই কোন এক সাঁঝবাতি ডুবু ডুবু ভোরে, বৃষ্টি মেখে ভেসে গেছিস কোন সে নদী বেয়ে। তারপর কত কত বৃষ্টিতে ভিজেছি, রোদ মেখেছি দু’হাতে; হিম হিম চাঁদের সাথে কথা বলেছি; এইরকম কিছু কিছু স্বচ্ছ সময় শুধু আমারই থেকে যায়।


অহংকার নেই, জেদ নেই, মান অভিমান নেই, রাগ নেই হিংসে নেই, তুই নেই; তবু কি অবহেলে বলি, আমার তো সবই আছে, কমতি পড়েনি কিছুর। একটা জানালা ছিল, শুধু আজ সেটাই নেই হয়ে গেছে।
এখনও আমি নদী খুঁজি রোজ; দেবদারু পাতাদের কানে কানে বলি, ফিরিয়ে দে আমার নদী। নদী খুঁজি রোজ আনমনে, শহরের পথে পথে, বিসর্জনের সময় এসেছে বোধে-অবোধে। পাঁজরের খাঁচার একটা একটা করে আগল উপড়ে নিচ্ছি রোজ। আর একটু করে তোকে ভাসান দিচ্ছি রোজ। তবুও কেউ জানবে না, এই সব মুহুর্তরা বড্ড বেশি নিঃসঙ্গ। জানিস প্রিয়তি, এইসব মুহুর্তে তোর কথা বড্ড বেশি মনে পড়ে; এইসব মুহুর্তগুলো বড় বেশি করে জানিয়ে দেয় আমি বড়ই একলা; কিন্তু তুই জানিস না, এই একলা থাকার মাঝেও এক আনন্দ আছে, সবার জন্যে তা নয়। তুই একে বলতে পারিস অহংকার, আমি বলি নিজেকে খুঁজে ফেরা; তুইতো জানিস অহংকার ব্যাপারটা আমার একদম আসে না। তারপরেও বলি আমার একটা আকাশ আছে, সে আকাশের রং আজও নীল; সেই আকাশে পরিযায়ি পাখিরা আজও উড়ে বেড়ায়। আক্ষেপ দিয়ে নতুন করে লিখতে চেয়েছি সেই ভুলে যাওয়া নামের বানান। প্রাণপণে ভুলে যেতে চেয়েছি সব। কিন্তু পেরেছি কি?

আসলে ভুলে যাওয়া নাম কখনোই ভুলতে পারা যায় না। এক অভিমানী বালকের মতো মন তাকেই খুঁজতে থাকে হারানো খেলনা ভেবে। তাই এই শহরের ভিড়ের মধ্যে, রাত্রিবেলা শূন্য পথে, আলোয়, ছায়ায় খুঁজে ফেরা তাকে। ভুলে যাওয়া নাম সংসারের ছায়ার মধ্যে মরে যায়। মরে যায় পাথর চাপা ঘাসের মতো। সত্যিই কি মরে? ভুলে যেতে চাইলেই কি ভুলে যাওয়া নাম বিদায় নেয় জীবন থেকে? না, বিদায় নেয় না। কোনো বৃষ্টি আসি আসি ভোরবেলা, কোনো এক ব্যস্ত দিনে অনেক রোদের মধ্যে, হেমন্তের মরে আসা বিকেলে ভুলে যাওয়া নাম ঝাঁপ দেয় ফিরে। উল্টে যায় পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা পেছনের দিকে।

ভুলে যাওয়া নামের সঙ্গে আর কোনোদিন দেখা হয়নি। তবু নাম ধরে ডাকি, ডাকতে থাকি আড়াল থেকে। জানি, ভুলে ভরা একটা গল্পে নামটাও ভুল হয়, সংশোধনের সুযোগ থাকে না।
একবার পেছনে ফিরে দেখ, চাদরে নেমেছে কুয়াষা, মেঘেদের কাছে জমা রেখেছি অনেক অনেক ঘুম। তবুও তুই থাকিস আদরে আর নালিশে, তুই মিশে থাক ভেজা ভেজা শীতে, অচেনা নদীতে। আর হ্যাঁ, কখনো ফেরার ঠিকানা খুঁজিস না। বরফিলি ঘাসে মেঘ নেমে এলে,  বৃষ্টি ভেজা বিকেলে আঙ্গুল ছুঁলে ঠিক দেখিস, তোর শ্রাবনে হারাবো ঠিকানা।।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3174276807"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কিছুদিন ধরেই মনটা পালাই পালাই করছে। মনে হচ্ছে, আমি একটা ভুল জায়গায় আছি, আমার অন্য কোথাও থাকার কথা ছিল।
এক-একদিন বন্ধু-বান্ধব কেউ থাকে না। যারই বাড়িতে যাই সে নেই, প্রত্যেকেরই সেদিন অন্য কোন কাজ থাকে। আমার অভিমান হয়, কেউ একবারও ভাবলো না, আমি কি করে সন্ধ্যেবেলা একা থাকব? সেই অভিমান থেকে মনখারাপ, উদ্দেশ্যহীন হয়ে ঘুরতে থাকি, আর বার বার নিজেকে বলি, আমায় কেউ মনে রাখেনি। তারপর একসময় পুরো ব্যাপারটাই যে একটা হাস্যকর ছেলেমানুষী তা বুঝতে পেরে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি।

স্যার আশুতোষ মুখার্জীর বাড়ির সামনে থেকে দুটি মেয়ে মন্থর ভাবে রাস্তা পার হয়। শীতকালীন মসৃন মাধুর্য্য লেগে আছে তাদের মুখে, সেই রুপের ঝাপটা এসে আমার গায়ে লাগে। আমি মনে মনে বলি, ওরা আমার কেউ নয়। ওরা আমাকে কোনোদিন চিনবে না।

একটা গাড়ি বারান্দার নিচে একটা ভিখিরি পরিবার কদিন ধরে বাসা বেঁধেছে। অন্যদিন লক্ষ করিনা, হঠাৎ একদিন দেখলাম, ভিখিরি মা ইটের তোলা উনুনে মাটির হাঁড়িতে খিচুরী চাপিয়েছে। অনেকখানি হলুদ মেশানো গাঢ় হলদে রঙের খিচুরীতে অনেকখানি নানা রঙের ডাল। বাচ্চাগুলো উনুনের সামনে গোল হয়ে বসা-আনন্দে চকচক করছে তাদের চোখ। আমার কষ্ট হয়, আমার মনে হয়, আমি কেন ওদের আত্মীয় হতে পারলুম না? কেন আমি ওদের পাশে বসে এইরকম খিচুরী ভোগ পেতে পারি না?

জানালা দিয়ে জলন্ত সিগারেটের টুকরো ছুঁড়ে ফেলা আমার একটা বদ অভ্যেস। যখনই মন খারাপ থাকে, তখনই মনের উপর আর কোনো অধিকার থাকেনা। সেরকম অনেকদিন বাদে, অন্য কি একটা কথা ভাবতে ভাবতে সিগারেটের শেষ অংশ ছুঁড়ে দিয়েছি জানলা দিয়ে, একটা লাল টুকটুকে লেপের উপর পড়েছে আমার সিগারেটের টুকরোটা, এবং ধোয়াচ্ছে। তুলোর আগুন সাংঘাতিক, কখনও দাউ দাউ করে জ্বলেনা, ভেতরে ভেতরে ছারখার।
প্রথমেই ভাবলাম, আমি এই মুহুর্তেই বাড়ি থেকে কেটে পড়লে কে আর বুঝবে এই দুষ্কর্মটি আমার? অন্য যার ঘাড়ে দোষ পড়ে পড়ুক। পরমুহুর্তেই মনে হল, এখনো চেষ্টা করলে লেপটাকে বাঁচানো যায়। ও বাড়ির মেয়ে দোতালার জানালার কাছে রোদে বসে পার্ট টু পরীক্ষার পড়া পড়ছিল, আমি তাঁকে বললাম, এই শোনো শোনো!
সে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। কোনো দিন তার সঙ্গে ডেকে কথা বলিনি। আমি বললাম, শিগগির একবার ছাদে এসো তো, শিগগির, এক্ষুনি।
আমার ব্যাগ্রতাকে মেয়েটি অগ্রাহ্য করতে পারল না, বই মুড়ে রেখে মেয়েটি ওপরে উঠে এলো। এরমধ্যেই সিগরেটের টুকরোটা টুপ করে খসে পড়ে গেল নিচে, লেপটার কিছুই ক্ষতি হয়নি, শুধু একটা ছোট্ট কালো দাগ পড়েছে, হয়টো কারুরই নজরে আসবে না। পুরো ব্যাপারটা চেপে গেলেই তো হয়।
কিন্তু ততক্ষনে মেয়েটি ছাদে উঠে এসেছে। ভুরু কুঁচকে িজ্ঞাসা করলো, কী?
আমার আর একটা দোষ এই, আমি ঠিক দরকারের সময় মিথ্যে বলতে পারি না। আমি তো-তো করে বললাম, এই না, মানে হঠাৎ মনে হল...। মেয়েটি এমনভাবে আমার দিকে তকালো, যেন আমি মানুষ নয়, অন্য কোন অদ্ভুত প্রানী। পরীক্ষার পড়া থেকে তুলে একটি মেয়েকে ছাদে ডেকে এনে যে কোনো কথা বলতে পারে না, সে কি মানুষ হতে পারে? জানালার কাছ থেকে সরে এসে আমি নিজের কান মুলে বললাম, স্টুপিড, জীবনে আর যদি কক্ষনো সিগরেত খেয়ে...।

কিছুদিন ধরেই এইসব ভুল ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে পরপর, নানা লোক টুকটাক অপমান করে যাচ্ছে বিনা কারনে। একএকটা সময় আসে যখন দিনের পর দিন চলে গন্ডগোলের দিকে।

গার্হস্থ্য আশ্রম থেকে  চির বিদায় নেবার সাহস আমার নেই, তবু মাঝে মাঝে ছুটি তো নিতেই পারি। ঠিক করলাম, আজই বেরিয়ে পড়বো। কোথায় যাব জানিনা, তবু কোথাও যেতে হবে।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="5898435076"
     data-ad-format="auto">



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে। কিছু ঘটনা আমাদের অজান্তেই আমাদের হঠাৎ আলতো করে নাড়িয়ে দিয়ে যায়, বুঝতে পারি জীবনটা বড্ড বেশি ক্ষনস্থায়ী, আঙুলের ফাঁকগলে কখন যে সোনালী মুহুর্তগুলো উড়ে গেলো…
কথা ছিলো এক মেঠো পথ আর তার শেষে একটা কুঁড়ে ঘর পেলে আমরা দুজনেই শহর ছাড়বো। জানিস বকুল, আজ আমরা দুজনেই শহর ছেড়েছি, হয়তো তোর ফেলে যাওয়া পথেই হেঁটে যাচ্ছি, তোর ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসগুলো বুকপকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তবু আজও আমাদের সেই মেঠোপথ আর কুঁড়েঘর পাওয়া হয়নি।

আজ দেখি, সেই দুরন্ত মেয়েটি বারান্দায় রেলিঙে ভর দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে, বাদলশেষের ইন্দ্রধনুটি বললেই হয়। তার বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ আজ অচঞ্চল, তমালের ডালে বৃষ্টির দিনে ডানাভেজা পাখির মতো।
ওকে এমন স্তব্ধ কখনো দেখি নি। মনে হল, নদী যেন চলতে চলতে এক জায়গায় এসে থমকে সরোবর হয়েছে।

অনেকদিন পর অচিন্ত্যবাবুকে দেখলাম পাথরের মূর্তিছেড়ে স্কুলমাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনীর কথা; অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সূত্র আর রঞ্জিনী বলেছিল মৃত্যুর পর ওর দেহটা আপেল গাছ হয়ে যাবে, আমি বলেছিলাম, আমার আপেল একদমই পছন্দ না; রঞ্জিনী রেগে গিয়ে বলেছিল সেই কারনেই ও আপেল গাছ হতে চায়।
আমি জানিনা রঞ্জিনী এখন কোথায়, আদৌ সে আপেল গাছ হতে পেরেছে কি না...আমার জানা নেই অচিন্ত্যবাবু মাঠছেড়ে আবার পাথরের বেদিতে ফিরে গেছেন কি না।

আমি দেখতে পাই মাঝরাতে শহরের রাস্তাগুলো একে একে নদী হয়ে যাচ্ছে, আমার মনে পড়ে তালদিঘিটির কথা, যার জল কাকচক্ষুর মতই স্বচ্ছ ছিল…মনে পড়ে যায় ছোটোবেলার কথা।
তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। জিওগ্রাফি পড়ান অসিত বাবু।  তিনি ক্লাসে ঢুকলে চেয়ার টেবিলগুলো পর্যন্ত ভয়ে কাঁপে। মানুষটা ছোটোখাটো, কিন্তু হাতের থাবাটা বিশাল। আমাদের ধারনা ছাত্রদের গালে চড় বসানোর জন্য ভগবান স্পেশালভাবে এই হাত তৈরী করে দিয়েছেন। স্যারের চড়েরও নানা নাম ছিল-রাম চড়, শ্যাম চড়, মধু চড়।

এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে রাম চড়, আর কোমল হচ্ছে মধু চড়। স্যার সেদিন পড়াচ্ছেন বাংলার নদ নদী। ক্লাসে ঢুকেই আমার দিকে আঙুল বাড়িয়ে বললেন, এই একটা নদীর নাম বলতো। চট করে বল।
অসিত বাবু কোনো প্রশ্ন করলে কিছুক্ষনের জন্য আমার মাথাটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। কান ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। মনে হয়, মাথার খুলির ভেতর জমে থাকা কিছু বাতাস কানের পর্দা ফাটিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

কি ব্যাপার, চুপ করে আছিস কেনো? নাম বল।

আমি ক্ষীনস্বরে বললাম আড়িয়াল খাঁ।

স্যার এগিয়ে এসে প্রচন্ড চড় বসিয়ে দিলেন। খুব সম্ভব রাম চড়। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এত সুন্দর নাম থাকতে তোর মনে এলো আড়িয়াল খাঁ? সবসময় ফাজলামি? কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
আমি কান ধরে সারাটা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকলাম।

ঘন্টা পড়ার মিনিট পাঁচেক আগে পড়ানো শেষ করে স্যার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কাছে আয়।

আরেকটি রাম চড় খাওয়ার জন্য আমি ভয়ে ভয়ে স্যারের কাছে এগিয়ে গেলাম। স্যার এমন ভঙ্গিতে আমার মাথায় আর পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন যে আমার চোখে জল এসে গেল। স্যার বিব্রত গলায় বললেন, আমি তোর কাছ থেকে সুন্দর একটা নদীর নাম শুনতে চেয়েছিলাম, আর তুই বললি আড়িয়াল খাঁ। আমার মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে। আচ্ছা এখন সুন্দর  একটা নদীর নাম বল। আমি শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে বললাম ময়ুরাক্ষী।
ময়ুরাক্ষী? এই নাম তো শুনিনি। কোথাকার নদী?
জানিনা স্যার।
স্যার হাল্কা গলায় বললেন আচ্ছা থাক, না থাকলে নেই। এটা হচ্ছে তোর নদী। যা, জায়গায় গিয়ে বস। এমনিতেই তোকে স্বাস্তি দিয়ে আমার মনটা খারাপ। তুই তো দেখি কেঁদে কেঁদে আমার মনখারাপটা বাড়াচ্ছিস। আর কাঁদিস না।

আমি ফিরে যাই আমার একান্ত চিলেকোঠায়।

সিঁড়িতে লেগে থাকে অসহায় ভাবে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি চলে যাওয়া অভিমান!

ছেলেবেলার প্রেমিকারা কেমন আছো? চিলেকোঠারা ভালো নেই তোদের ছাড়া। তোমাদের ছাড়া।
তোমরাও কি আমার মতই বড়ো হয়ে গেছো!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মাঝেমধ্যে মাঝরাতেই হুট করে একটা গীটার হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে।  আঙ্গুল,চুল, শাদা টিশার্ট আর এখানে সেখানে লেগে থাকার লোভ'টা খুব বেশি কড়া!   আজকাল কোনো কারন ছাড়াই বড্ড মন খারাপ করে, মনকেমনের পাখিরা ভীড় করে আছে পুরো আকাশ জুড়ে। যখন মনখারাপের মেঘগুলো নদীর দুকুল ছাপিয়ে যায়, তখন তোর কথা বড় বেশিই মনে পড়ে। খুব ইচ্ছে করে তোর কাছে ফিরে যাই।

বকুল, তুই হয়তো জানিস না, আমার শৈশবের নদীটাও হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে ছেলেবেলার চিলেকোঠা। এইতো গতবছর বন্যায় আমার প্রিয় আকাশমণি গাছটাও ভেসে গেলো। অনেক কিছুই হারিয়ে গেলো, সকাল, দুপুর, রাত। আজকাল আর কোনো কিছুই হারানোর ভয় কাজ করে না।

আজকাল বাবা’র জন্য খুব মনকেমন করে। কলেজের ফার্স্ট সেমিস্টারের একটা অথবা দু’টো পেপার শেষ হয়েছে, পরীক্ষা দিয়ে হস্টেলে ফিরছি, তখনই মায়ের ফোন, বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। নাহ, আমার আর হস্টেলে ফেরা হয়নি, বাড়ি ফিরে বাবার শেষ কাজ সম্পন্ন করে ফিরলাম কলেজে। দু’টো পেপার দিতে পারিনি।
এই কথাগুলো কাউকেই বলতে পারিনা, বাবা’র চিতার ধোঁয়াগুলো যখন পাক খেতে খেতে আকাশে মিশে যাচ্ছিলো তখন বাবার জন্য দু:খ হয়নি, মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো দুটো এক্সাম পেপার মিস হয়ে যাওয়াটা। একটা মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে তাই না!

বাবাকে নিয়ে বিশেষ কোনো ঘটনা আমার মনে পড়েনা, আজও আমি স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই, খুঁজে বেড়াই …

আমি অপেক্ষা করি, থাক বলবনা কিসের অপেক্ষা করছি। ভর সন্ধ্যেয় যখন চারিদিকে হাহাকার ধ্বনি ধ্বনিত হয়ে থাকে  তখন ব্যক্তিগত অপেক্ষার কথা বলতে হয় না।

“দুঃখ তোমার কেড়ে নিতে চায় যত
এমন একটা নাছোড়বান্দা ছেলে
সুখের দিনে নাইবা পেলে পাশে
খবর দিও হঠাৎ কান্না পেলে”

পৌনঃপুনিকতা বড্ড বাজে জিনিস; জীবনে কোনো গল্প নেই, জীবনটাকে একটা সরলরেখা হিসেবে চিন্তা করে সময়নিরপেক্ষ যে কোনো একটা অংশ তুলে নিলেই পুরো জীবনের রেপ্লিকা পাওয়া যাবে। কোনো গল্প নেই, কোনো বিশেষ ঘটনা নেই; বড্ড খারাপ।
শহরের কোনো পুকুরের পাড়ে মাটি নেই। সেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে আমি বসে থাকবো; একা এবং একাকী। পুকুরের পাশ দিয়ে চলে গেছে কালো পিচ মোড়ানো একটা পথ, সেই পথটাও ফাঁকা থাকবে। আমি বৃষ্টির মাঝে তাকিয়ে দেখবো নীলছাতা মাথায় দিয়ে গুটিগুটি পায়ে কে যেন এগিয়ে আসছে।

মন, অনেক বড় বড় শহর দেখেছো তুমি; সেই সব শহরের ইট পাথর, কথা কাজ আশা নিরাশার ভয়াবহ হৃত চক্ষু আমার মনের বিঃস্বাদের ভেতর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; কিন্তু তবুও শহরের বিপুল মেঘের কিনারে সূর্য্য উঠতে দেখেছি, বন্দরের ওপারে সূর্য্যকে দেখেছি মেঘের কমলা রঙের ক্ষেতের ভিতর প্রণয়ী চাষার মত বোঝা রয়েছে তার; শহরের গ্যাসের আলো উঁচু উঁচু মিনারের উপরও দেখেছি, নক্ষত্রেরা অজস্র বুনো হাঁসের মত কোন দক্ষিন সমুদ্রের দিকে উড়ে চলেছে। হায় মেঘ, পর্যটক কুমারী মেঘ, তুমি উড়ে গেলে সবুজ কান্না ঝরবে নীলকন্ঠ পাখির চোখে।

এই শহরের কঠিন আস্তরনের উপর ঋতুচক্র তার কেরামতি দেখাতে পারে না। বুড়ো যাদুকরের মত সে ধুঁকতে ধুঁকতে আসে বটে, কিন্তু পরনের ছেঁড়া পাতলুন নোংরা জামা পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। এ শহর তার জায়গা নয়। একটা মস্ত শিউলি গাছে শরৎকালে অজস্র ফুল ফোটে বটে, কিন্তু সেই গাছটার তলায় ডাই হয়ে জমে থাকে আবর্জনা, ময়লা জল। গাছ ফুল ফোটায়, ফুল ঝরায়, কেউ ফিরেও তাকায় না। শুধু আমি লোভির মত চেয়ে থেকে ভাবি এক আঁজলা যদি পাওয়া যেত।

মাঝরাতে অন্ধকার এক জংশনে গাড়ি থেকে নামি। ঘোর অন্ধকার প্লাটফর্ম পেরিয়ে ওপাশে এক অন্ধকার ট্রেনের কামরায় উঠি; একা। ট্রেন ছাড়ে, দুলে দুলে চলে। কোথায় যাচ্ছি তা প্রশ্ন করতে নেই। কেউ জবাব দেবে না। কিন্তু জানিস বকুল, জানালায় তোর মুখ ভেসে ওঠে, করুন তীব্র এক স্বরে তুই বলিস “ পৃথিবী আর সুন্দর থাকবে না যে; ফুল ফুটবে না আর, ভোর আসবে না।” আমি একটু হাসবার চেষ্টা করি, বলি, বড় মারে এরা; বড্ড ভুল বোঝে। প্রত্যাখান করে। তার চেয়ে এই লম্বা ঘুমই ভালো। অনেক দিন ধরে আমি এইরকম ঘুমিয়ে পড়তে চাইছি।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="5898435076"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হলুদ জীবনের ধারাপাত শেষে ডেকেছ আমায়, বকুল শুভ্র দিনগুলো কি ফের পাওয়া যায় ?জীবনে কিছু কিছু ঋন আছে যা কোনদিনই শোধ করা যায়না, শুধু স্বীকার করা যায় মাত্র। তোর কাছে  আমি তেমনই একটা ঋনে ঋণি।
একটু সুযোগ দিবি, আমার যে ভীষন মন কেমন করে। কেন এভাবে ঋণি করে দিয়ে গেলি? আজও গাছের ছায়ার ফাঁকে ফাঁকে তোর হারিয়ে যাওয়া ছায়া খুঁজে বেড়াই। আমি যে তোর আকাশটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তোর চলে যাওয়া পথ আজও যে হাতছানি দিয়ে ডাকে। যদি কোনোদিন সুসময় দেখা দেখা দেয়, একদিন ঠিক দেখিস তোর ফেলে যাওয়া পথে আকাশটা কে মিশিয়ে দেবো।
আমার দিগন্ত যে এখনো ভীষন ভীষন ফ্যাকাসে, আমার আকাশটাকে কেন এমন একলা করে দিয়ে গেলি! তোর স্বপ্নেরা কি এখনও সবুজ আছে? কখনো কখনো আমার খুব ইচ্ছে করে তোর স্বপ্নে হানা দিই, মিশিয়ে দিই ইট, কাঠ আর পাথরের শুষ্কতা, কিন্তু আমি পারিনা। তোর স্বপ্নগুলো যে একদিন আমারই ছিল।

চল না একবার তেপান্তরের মাঠে ফিরে যাই, সেখানে আকাশটা কিন্তু আজও নীল আছে। আমায় বলতে পারিস তোর আকাশের রং কেমন?  আমার আকাশটা ভীষন রকম কালো। আমার খুব খুব ভয় করে আজকাল। এই ভয়ের কোনো কারন নেই, কারন ছাড়া ভয় গুলো বুঝি সব থেকে বেশি ভয়ের।

পৃথিবীটা গোল, একদিন দেখা হতে পারেই, তুই কি জানতে চাইবি আমি কেমন আছি? প্লিজ এমন কথা জিজ্ঞেস করিস না। এগুলো ভীষন ভীষন পুরোনো রে। কখনও ভাবিস নি তো! কখনও সময় করে রাতের তারা গুলোর দিকে তাকাস। মিটি মিটি করে ওরা জ্বলছে বুঝি! মোটেই না। ওই গুলিই প্রশ্ন।
ওরা আজকাল আমায় দেখে খুব হাসে; তোর কি আর ফিরতে ভালো লাগেনা? জানিস ফিরে যাওয়ার মাঝে এক অদ্ভুত বিষন্নতা থাকে রে। এই বিষন্নতা কেমন বলা যায় না, শুধুই অনুভব করা যায়। এ এক অদ্ভুত কষ্ট। এই কষ্ট বার বার পেতে ভাল লাগে, তাই তো এই ফিরে আসা।

এই ফিরে আসার মাঝে এক অদ্ভুত মাদকতা আছে। সবাই পারে না।  তুমি ফিরে এসে দেখবে এখানে অনেক গল্প জমে আছে; এই গল্প গুলো তোমার নয়, তারপরেও তুমি ভাববে এই গল্পতো আমারই। এই গল্প তোমার তোমার না। তোমার গল্প চারদেওয়ালের মধ্যে বন্দি। তোমার গল্পে আকাশ কখনই ছিলোনা। বৃষ্টি নেই তোমার গল্পে। নেই জোনাকি। তোর ফেলে যাওয়া পথে নেই কৃষ্ণচূড়ার লাল; আসলে তোর কোনো গল্পই নেই। তোর গল্পেরা হারিয়ে গেছে।
আচ্ছা, একটা গল্প শুনবি? এক বিষন্ন বালকের গল্প। মাঝরাতে নেমে আসতো পরীরা।  জানালা দিয়ে ঢুকে পড়তো বৃষ্টি। মাঝরাতে তার উঠোনে ঝরে পড়তো কুয়াশা। সে এক অদ্ভুত কুয়াশা। সে অদ্ভুত কুয়াশারা রেখে যেত একমুঠো বিষন্নতা তার শিয়রে। তুই দেখিস আজও বুকপকেটে সযত্নে পেলেও পেয়ে যেতে পারিস তোর হারিয়ে যাওয়া গল্প, হারানো বৃষ্টি, হারিয়ে যাওয়া আকাশ।

একবার ফিরে আসিস, তোকে ছাড়া যে আকাশ ভাগ করা যায় না।।  
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
একটা অসময়ের খুব দরকার,  যখন চুল এলোমেলো করা হাওয়া সময়ের হিসেব রাখবেনা।  পুরোনো আড্ডা সবই ভেঙ্গে গেছে। বাইরের পৃথিবীটা আর আগের মত নেই। বড্ড পর হয়ে গেছে সব। বেলা গড়িয়ে যায়। রৌদ্রতপ্ত ঘাসে নিবিড় গাছপালায় বনের গন্ধ ঘনিয়ে ওঠে। তাপ মরে আসে। ঘামে ভেজা শরীরে শীতের বাতাস এসে লাগে। বুঝতে পারি ফেরার সময় হল।

হারিয়ে যাব? হঠাত আমাকে ঘিরে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। নিজেকেই প্রশ্ন করি, হারিয়ে যাব? মুন্নি পিছিয়ে পড়ে। তার জুতোয় কাঁকর ঢুকেছে। জুতো খুলে কাঁকরটা বের করছে সে। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াই। পিছু ফিরে দেখি, শূন্য রাস্তার মাঝখানে আমার শিশু মেয়ে একা। ঝাঁকরা চুল মুখের উপর ফেলে উবু হয়ে বসে জুতো পরিষ্কার করছে। দৃশ্যটা থেকে চোখ ফেরাতে পারিনা।
নিশুতিরাতে এসেছিল এক ডাকপিয়ন। আমার সারাজীবনের সব স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। বোধহয় আমার আর কোনো চিঠি আসবে না। আমি যেন মোহানার কাছে পৌঁছানো এক নদী, যার স্রোতের আর কোনো ঢল নেই। সামনে মহা সমুদ্র।
আমি মুন্নির জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আমার দিকে তার কোনো মনোযোগ নেই। আমি একটু হাসি, তারপর এগিয়ে যেতে থাকি। মুন্নি একা আসতে পারবে। আমি যখন থাকবোনা, তখনওতো মুন্নিকে একাই হাঁটতে হবে।


দিনগুলি কেটে যায়। কিন্তু কিভাবে যায় কেউ কি তা জানে? বুকের মাঝে উড়ন্ত প্রজাপতির মত একটুখানি সুখ বা ছোট্ট কাঁটার মত একটুখানি দুঃখ-এ তো থাকবেই। তবু দিন যায়। কথাগুলো থেকেই যায়।
অলক্ষ্যে হাওয়া বন্দুক নামিয়ে পরাজিত এক অচেনা পুরুষ ফিরে যায়। তার লক্ষ্যভেদ হয় না। কোনওদিন আবার সেই বন্দুকবাজ ফিরে আসবে। লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করবে বারবার। হয়তো লক্ষ্যভেদ করবেও সে। ততদিন পর্যন্ত পৃথিবীর এই রঙ্গীন মেলায় আনন্দিত বাতাস বয়ে যাক এই কথা বলে-ঠিক আছে, সব ঠিক আছে। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
দু একটা নীল নখের কথা কোন কোন গল্প-কাব্যে থাকে।  সে বইতে যা যা আছে আমার হৃদয়ে তার কিছুই নেই।  আমি নখ টাকে ধারালো করি তাই।  কোনদিন যদি হয়ে যায় নীল!  কালো চশমার ভেতর দিয়ে আমি কালচে শহরটাকে দেখি।
তোর্সার বন্যায় সেবার কোমর জল উঠেছিল মিশনারি হাইস্কুলে। কিন্তু বন্যার  কথা থাক বন্ধুগন। বরং বলি, মেদিনিপুরের আকাশে বাতাসে আজও মালবিকা রায়ে'র ডান গালের আঁচিলটা উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
শীতের সকালে এক রূপমুগ্ধ বালক এই ইস্কুলের পাশের মাঠে কুয়াশা জড়ানো অদ্ভুত সকালে কেডস পায়ে দৌড়াতে আসতো। আর দৌড়াতে দৌড়াতে সে সেই আধো ভেজা গাছের গন্ধমাখা আলো আঁধারে কি করে যেন জিন পরীদের রাজ্যে চলে যেতে পারতো।

একটা বয়সের পর সে আবার এসে শরীরের ভার নিয়ে বসে আছে সাগরদিঘীর পাড়ে।
রোদে উত্তপ্ত কাঠের বেঞ্চ, সেই পুরোনো। তবুও সে নয়।

এইতো কাছেই মালবিকাদের বাড়ি। কোন লতায়-পাতায় আত্মীয়তা ছিল বলে তাদের বাড়িতে যেতাম গল্পের বই আনতে। মালবিকা কোনোদিনও কথা বলে নি। তার ডানগালে এক আশ্চর্য্য আঁচিল ছিল, কত নির্জনে, একাকিত্বে সেই আঁচিলটার কথা ভেবেছি। সে এখনও আমার স্মৃতিতে কিশোরীই রয়ে গেছে, কেননা আর কখনও দেখা হয়নি। যাব একবার? চেনা দিলে ঠিক চিনবে, বলব তখন লজ্জায় যা বলতে পারিনি, আজ বলতে এসেছি। আমার সমস্ত শৈশব হারিয়ে গেছে। তুমি সেটা আমাকে অল্প একটু ফিরিয়ে দেবে?
হিসেব করে বুঝতে পারি-বোকা! বেঁচে থাকলে তারও এখন না হোক পঁচিশের উপর বয়স। এতদিনে সে কি কুমারী হয়ে বসে আছে! আপনমনে একটু হাসি।

বন্ধুগন, বন্ধুগন, আজ বুঝতে পারি সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর কিছুই নেই।
সব পুরোনো মাঠ প্রান্তর হারিয়ে গেছে। চেনা যায়গার সব চিহ্ন মুছে নিয়ে গেছে এক অদৃশ্য বান। শৈশবে যেমন আলো দেখেছি, অন্ধকার দেখেছি, তার আর কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। বুড়ি নদী, তুমি আর কী ভাসিয়ে নিয়ে গেছ?
নদী উত্তর দেয়, "পাগল ছেলে, যা, ঘরে ফিরে যা। একদিন সব ফিরিয়ে দেব। তখন বলবি এত জঞ্জাল কোথা থেকে এলো।"

দুপুর বেলায় যখন বাস স্টপেজে নামছি, তখনও পেছন থেকে কে যেন কোমর জড়িয়ে ধরে টেনে বলে, নামছিস কেন? এই বাসটাই তোকে কাটিহারে নিয়ে যাবে। একবার দেখবিনা সেই মাদার গাছটা? যেখানে সেই আশ্চর্য্য কোকিল ডেকেছিল একবার। চলো যাই।
আমি মাথা নেড়ে বললাম, না থাক।হয়তো সেই মাদার গাছটা আর নেই।
আমি সেই আমার নাছোড়বান্দা আমিকে মিনতি করে বলি-না থাক। ওই একটা যায়গায় আমার আর কোনোওদিন না যাওয়াই ভাল। গেলেই চিরকালের মত যায়গাটা হারিয়ে যাবে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তবুও আমরা পাশাপাশি থেকে যাই। কোন এক বিকেলে হয়তো মেঘপিয়নকে সাক্ষী রেখে মহাকালের যাত্রায় আমিও বিলিন হয়ে যাবো। তখনও তুমি বুঝে নিয়ো - কেউ একজন ছিলো তোমার একলা মনে একলা হয়ে।শীতের শেষে বসন্তের গোড়ার দিক, তখন বাতাসে টান লেগেছে। শুকনো পাতারা টুপটাপ করে ঝরে শেষ হয়েছে। খেতে মটর শাকে পাক ধরেছে। যারা শুকনো কাঠ-পাতা কুড়োতে যেত তাদের দিন গেল।
এমনি একদিন শেষ দুপুরে অনেক দূর থেকে বাশিওয়ালা আমার দাওয়ায় বসল। আমি কখনও এই বাশিওয়ালাকে দেখিনি।
সে বলল, 'আমি বাঁশি বিক্রি করিনি, বাঁশির সুর বিক্রি করি।' এই বলে সে তার বাঁশিতে এক অদ্ভুত সুর বাজালো। আমি বললাম, 'বাঁশিতে তুমি কী সুর বাজালে আমি তার কতক বুঝলাম, কতক বুঝলাম না।

বাঁশিওয়ালা তার ঘন ভ্রুর নীচে গভীর গর্তের মত চোখ দুটো দিয়ে আমায় দেখল। বলল, " এ সুর আমি কোথাও শিখিনি। কেউ আমাকে শেখায়নি। আমি হাটে মাঠে ঘাটে যা শুনি, তাই বাজিয়ে বেড়াই। কখনও নোঙর করা নৌকায় জলের ঢেউ লাগবার সুর, কখনও শুকনো পাতায় বাতাস লাগবার সুর।"

সে আবার তাঁর বাঁশিতে ফুঁ দিল। শেষে শীতের শুকনো বাতাসে বাঁশির টান লাগল। কয়েকটা সুর তীরের মত আকাশে ছরিয়ে মিলিয়ে গেল। আমার চোখের সামনে দুপুরটা মাতালের মত টলতে লাগল। যেন অনেক দুরের পথ। আমাদের এই মৌরী ক্ষেত ডিঙিয়ে ধানের আবাদের পাশ দিয়ে পাহাড় পেরিয়ে চলেছে-চলেছে। কত গঞ্জ, কত ব্যাপারির আস্তানা, কত বন্দর, ঘাট মাঠ পেরিয়ে যাওয়া দেশ। বাঁশির সুর সেই দূর দুরান্তের আভাস মাত্র দিয়ে কোকিলের অস্পষ্ট ডাকের মত নরম, বিষণ্ণ হয়ে ফিরে ফিরে আসছে। সেই পথ ধরে অনেক আলো, অনেক অন্ধকার মাড়িয়ে কে যেন আসছে।

বাঁশিওয়ালা সুর পালটিয়ে অন্য সুর ধরল। কখন আমার চোখ ছাপিয়ে কান্না এসেছে। এ কেমন সুর যা দিনের আলোকে অন্ধকার করে দেয়। যেন এতদিন মাঠটা ছিল রোদে পোড়া, ফাটা ফাটা। একদিন পাহাড়ে মেঘ জমল। বৃষ্টি নামল। অঝোর ধারার বৃষ্টি। মাটির কোষে কোষে জল ঢুকল। বীজধান ফুলে উঠল। বুক ফাটিয়ে শীষ বার করল আকাশে।

বাঁশিওয়ালা চলতে লাগল। আমি দেখলাম শীতের ঘন রোদে রোগা দুটো পায়ে রাঙা ধুলো মেখে সে আস্তে আস্তে আমাদের পাড়া ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য ডাকছে না। শেষ শীতের গরম দুপুরে সেই অদ্ভুত বাঁশিওয়ালা আর তার সুর দূর থেকে দুরান্তে মিলিয়ে গেল।

বাঁশিওয়ালা তাঁর প্রথম সুরে বলেছিল ঘর বলতে তোর কোন কিছুই নেই। কোনওদিন ছিল না। বৃথাই তুই সারা বিকেল আগুন জ্বেলে পাহাড়ের দিকে চেয়ে রইলি। যারা পাহাড়ের ওপারে গেছে তারা আর কোনোদিন ফিরবে না। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কথা ছিলো…  ভেবেছিলাম  কবিতার কাছে আর ফিরবো না ভেবেছিলাম অনেক কিছুই…  অথচ দিনে দিনে প্রতি ভোরে নিজের কবিতার কাছে নিজেই 'প্রতারক' হয়ে যাই……  আমি আমার হারানো শহরকে খুঁজে পাইনা, সেই কবে আমার শহর থেকে দেখা এক রহস্যময় মহাপর্বত মেঘের মতো ডেকেছিল, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তা কোথায় কোন সুদুরে চলে গেছে। কতবার মনে হয় ফিরে আসি... এ শহর তো নয়, আমার সেই শৈশবের চোখে একটা শহরের ছবি আঁকা হয়ে গিয়েছিল কল্পনায়। কিছুতেই সে ছবি মিলিয়ে যায় না। সে এক অদ্ভুত সুন্দর ম্লান- আলোর উপত্যকা, চারধারে নীল পাহাড় হাসিমুখে চেয়ে আছে, শহরের মাঝখান দিয়ে নদী। নদির উপর ঝুলন্ত পোল। আকাশে রামধনু-রঙা নানা বর্নের মেঘ ভেসে যায়। পথে পথে স্থল পদ্ম ফুটে থাকে। রাস্তা আকির্ণ করে থাকে ঝরা ফুলে। মানুষ সেখনে জেগেও স্বর্গের ভেতর বাস করে।

আমার শহরে ফুল ফোটে; পাখিরা গান গায়; মেঘ ভেসে যায়। তবুও কিছুতেই ছবিটা মেলাতে পারিনা। আমি ফিরে যাই। আমার আরও কিছু দেখে যাওয়ার বাকি আছে। যেমন কাটিহারের সেই মাদার গাছটা- যেখান থেকে সেই আশ্চর্য্য কোকিল ডেকেছিল। কিংবা বাসস্টপের পশ্চিমের সেই মাঠটা, যেখানে ডুবে গিয়েছিল পেট্রলের ট্যাঙ্ক। কিংবা সেই স্কুল বাড়ি, যেখানে হোস্টেলের কাঁচা ঘরে প্রথম থাকতে গিয়ে মায়ের জন্য মন কেমন করায় হাপুস নয়নে আমি কেঁদেছিলাম।
আমি বিদায় নিতে যাই।
আমার চোখ জলে ভেসে যায়। আমি দেখতে পাই অচিন্ত্যবাবু স্কুলের পাথরের মুর্তি ছেড়ে পথে নেমে এসেছেন। মাঝরাতে সবাই যখন গভীর ঘুমে ব্যাস্ত, আমি দেখি ধীরে ধীরে রাস্তা গুলো এঁকে এঁকে নদী হয়ে যায়। অচিন্ত্যবাবু আনমনে ঘুরে বেড়ান।
আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনির কথা। অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সুত্র। আর রঞ্জীনি বলেছিল মৃত্যুর পর ওর দেহটা আপেল গাছ হয়ে যাবে। আমার আপেল খেতে একদম ভাল লাগেনা-আমি বলেছিলাম। ও তাতে রেগে গিয়ে বলেছিল সেই কারনেই ও আপেল গাছ হতে চায়।
অচিন্ত্যবাবু পুনরায় ফিরেযান পাথরের মুর্তিতে। আমি ফিরে যাই তালদিঘিটির কাছে, তালদিঘীর জলে আমি নিজেকে দেখি।
কিছুতেই বুঝতে পারিনা। হঠাৎ চার দিকে এক ভুতুড়ে কুয়াশা উঠে এলো কোথা থেকে? একধারে গভীর খাদ, অন্য ধারে উঁচু পাহাড়, কিছুই দেখা যায় না। আলো মরে গেলো।কেবল এক শূন্যের রেললাইনের উপর দিয়ে ছোট্ট খেলনা গাড়ি দুলে দুলে কোথায় চলছে।

গাড়িটা তার ধুকপুক চলার শব্দ দিয়ে বলে কোথাও না, কোথাও না।
আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে যায়। হঠাৎ অনুভব করি, হলুদ প্রজাপতিটা এতক্ষন পর হঠাৎ উড়াল দিল।
গাড়ি আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে? কোন শূন্যপথে? কোন অচেনার কাছে? কে সেই চিরযুবতী অপেক্ষা করছে সেইখানে যেখানে নামের ফলকে লেখা আছে '' কোথাও না।"

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমার পড়ার টেবিলে এক মুঠো ফাল্গুন মাস ছিলো কোথায় যেন চলে গেছে ঘরের মধ্যে, দুপুরের পরে, একজন জীবনানন্দ হাঁটাহাঁটি করতেন তিনিও এখন ব্যস্ত অন্য কাজে আলমারির শেষ তাকে কিছু স্বপ্ন এনে রেখেছিলাম ক'দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছি না এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি... এলোমেলোকেমন আছো তুমি আমার লেখার ঘর, কেমন আছ তুমি পুকুর, খোলা মাঠ, ফিরবই।

পরবাসে ভালো নেই। আমি ভালো নেই। তোদের ছাড়া যে ভালো থাকা যায় না। তোদের ছাড়া কিভাবে ভালো থাকতে হয় একটু শিখিয়ে দিবি!

আমার লেখার ঘর আজ ধুলোয় ভর্তি। স্বপ্নেরা যে যার নিজের মত হেঁটে যাচ্ছে ট্র্যাকে। সবাই ফিরে যাচ্ছে নিজের মত করে, শুধু আমারই আর ফেরা হয় না। আমার যে আজও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে তালদিঘীটির কাছে; ওর জলের রঙ কেমন আমার জানা নেই; মাছেরা কি আর আগের মত ঘুরে বেড়ায়?
ঝাপসা কুয়াষায় ট্রাফিক লাইনের ওইপারে আজও কি তুই খুঁজে বেড়াস ডি-অ্যাক্টিভেটেড ভালোবাসা? তোর বৃষ্টি’রা কি আজও পথ হারিয়ে রং-রুটে হেঁটে বেড়ায়?

বকুল, তুই বল, ত্রিকোনামিতির কস থিটা বাই ট্যান থিটা শিখে কে কবে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে! স্কুলের মাঠে তুই যে দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে এসেছিলি, আজ সেখানে থোকায় থোকায় জোনাকি পোকা ঘুরে বেড়ায় মাঝরাতে; মাঝে মাঝে পথ ভুল করে দু-একটা জোনাকি চলে আসে আমার খোলা জানালায়।
সব কথা বলতে নেই; সবকথা বুঝতেও নেই; “ভালোবাসি” এইটুকুন একটা শব্দ; একবার জেনে গেলে আর বলার থাকে না কিছুই। বয়স কম হল না সময়ের। নিভু নিভু টাইমলাইন ঘিরে অ্যাক্টিভেটেড বিষাদ, চৈত্রের বিকেলের রোদ মুখে ঝলসানি মারে; সাদা মোজা, হাঁটুর উপর থমকে আছে সাদা স্কার্ট; তোর আঠারো বছর বয়সটা ওখানেই লেগে আছে। আমার মানিয়ে নেওয়া অবসরে বেমানান তুই লিখেছিলি “তুই পাগল করতে পারিস এখনও।” আমার সময় এখনও ওখানেই থমকে আছে।

জানিস বকুল, একটা আকাশ লিখতে পারিনি বলে মেঘেরা সব ছেড়ে চলে গেছে; কিছু ভালোবাসার দামে কেনা ছিল স্বপ্ন আমার, অথবা স্বপ্নের দামে ভালোবাসা আমার জানা নেই; শুধু শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি আর রাজহাঁসের শৈশবই কেবল জানে কতটা সত্যি ছিল রূপকথা। সোনার জলে মোড়ানো রূপালি আয়নায় হারানো মনের ছায়ায় চোখ পড়তেই মনে পড়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় চুপকথা, মানুষ মাত্রেই ভুল।

জানিস বকুল, পাখির শিসের বাঁকে বাঁকে যারা জীবনটাকে মিশিয়ে দেয় তাদের কোনো ঘর থাকেনা; তাদের ঠিকানায় কোনোদিন কেউই চিঠিও পাঠায় না। আমার ঘরটা আজোও মাঝরাতে একা একা কেঁদে উঠে, আমি জানি না আমার ঘরের কান্নার কারন। সন্ধ্যে হলে আমি আজও হাঁটতে থাকি; সে কি আমার ঘরে ফেরার চেষ্টা?
প্রতি রাতে টের পাই কারোর নির্লিপ্ততায় ক্ষয়ে যাচ্ছে কিছু, মোমবাতি জ্বেলে বসে থাকি, বুঝতে পারি পাশে কেউ নেই; শুধু আমি আর ছায়া আর...সেই কান্নাটা।

জানিস বকুল, একদিন দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ খুব করে বুঝতে পারি বড় হয়ে গেছি; হঠাৎ করে বড় হয়ে গেলাম যখন বাড়ির বড়রা ঘুমে অথবা গল্পে মশগুল; হঠাৎ করে খুঁজে পাওয়া রংধনুটা হঠাৎ করেই যেন হারিয়ে গেল, ফিরে গেল বৃষ্টিরা কাউকে কিছুই না বলে। আজ খুব ইচ্ছে করে সেই বোকা ছেলেটাকে ফিরে পেতে, সেই বোকা ছেলেটাকে নিয়ে লিখতে; একটা বোকা ছেলের নুতন করে বেঁচে ওঠার গল্প অথবা স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প।

আমি চোখ বুজে ভাবতে থাকি একটা মাঠের কথা, একদল দেবদারুর গাছের কথা; সেই গাছের ছায়ার ভাঁজে ভাঁজে আজও তুই লেগে আছিস; এক আনমনা সিঁদুর রঙের রোদ্দুর ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তোকে; রং-পেনসিল নিয়ে এঁকে যাচ্ছে তোকে।
আমার খুব হিংসে লাগে, বড় ইচ্ছে ছিল ওই মুখ আঁকব, অপরূপ ভ্রুজোড়া আঁকব; ওই চোখ... এই জনমে আর পারা গেল না। তাই শেয়ালের মত পিপাসা আর তৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে থাকি ওই চোখের দিকে। জানিস বকুল, যদি জন্মান্তরবাদ কথাটা সত্যি হয় তবে পরজন্মে আবার রংতুলি নিয়ে বসব। এক বিকেলে তোর হাতে ঢেলে দেব আমার অবসন্ন ফুসফুস; তোর নখে, আঙ্গুলে কপাল ছাড়িয়ে ছড়িয়ে মাখিয়ে দেব আমার বিকেল।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সমস্ত হারিয়ে ফেলবার মধ্যে এক পাওয়া আছে, সব ফেলে আসবার মধ্যে কিছু নিয়ে আসা আছে, ঠিক বোঝানো যায় না।  এই যে সারা আকাশময় ছড়িয়ে আছে তোমার চোখের জল, আর আমরা বাড়িয়ে দিচ্ছি আমাদের হাত এক প্রাপ্তি ঘটে যাচ্ছে কোথাও …  হ্যারিকেনের মায়াবী আলোয় শুরু হয়েছিল শৈশব। বাড়িতে রেডিও এলো যখন আমার চোদ্দ বছর বয়স। গ্যাসের উনুন, সে এক ইতিহাস। এক জীবনের মধ্যে আমার কয়েকবার জন্মান্তর ঘটে গেলো। টেলিভিষন, মাইক্রোওয়েভ, কম্পিউটারের ঘেরটোপের মধ্যে বসেও কেন যেন ভ্রমবেশে চমকে উঠি, জীবনের কন্ডাক্টর কেউ কি কেবলই চেঁচিয়ে বলছে , পিছনের দিকে বড্ড এগিয়ে গেছেন স্যার।”

আমি আমার চিলেকোঠার জানালা বন্ধ করে রেখেছি সেই কবে থেকেই; কারন কান্নার শব্দ আমার পছন্দ নয়, তবু ধূসর দেওয়ালের আড়াল থেকে কান্না ছাড়া আর কোনো কিছুরই শব্দ শোনা যায়না। আমি দেখতে পাই মাঝরাতে বাড়ির পাশের পিচঢালা রাস্তাগুলো একে একে নদী হয়ে যাচ্ছে; সেই নদীর ঢেউ গুলো আছড়ে পড়ে আমার শৈশবের চিলেকোঠায়; আমি নেমে পড়ি নদীতে; দেখতে পাই আমাদের স্কুলের হেডমাস্টার অচিন্ত্যবাবু পাথরের মূর্তি থেকে নেমে এসে হেঁটে বেড়াচ্ছেন স্কুলের মাঠে।

“আমি ছেড়ে যাবো একদিন – আমার চেয়ার থেকে নিঃশব্দে উঠে, একদিন
আমি অদ্ভুত নির্বাসনে চলে যাবো; গ্রীষ্মের দুপুরে
কুকুরগুলো ঝিমোতে ঝিমোতে অতীতের কথা ভাবে; আমি জানি না
জানি না আমি, অর্থহীন বারান্দা
শুধু শুধুই জেগে উঠে আমার বুকের ভেতর; হায়, জীবন
আর কিছুই মনে পড়ে না আমার; আমার আর কিছুই মনে পড়ে না...”

আমার মনখারাপ করে অকারনে। ঘুমেরা উড়ে যায় পরিযায়ী পাখি হয়ে দূর পাড়া থেকে আরো দূর বেপাড়ায়; দেখি, একফালি ধানের অজুহাতে খুনসুটি করছে চড়ুই, অচেনা চোখের কোনে জল; আমি খুঁজে বেড়াই আমার না পাওয়া চিঠি। রানারের ঝুমঝুম ঘন্টা বাজা তো সেই কবেই থেমে গেছে; আমি আমার উত্তরের জানালা খুলে দিই, এক দমকা হাওয়া ফিসফিসিয়ে বলে এখনো সময় হয় নি, আমি অপেক্ষা করি, আমাকে পেতেই হবে সেই চিঠি। ভালোবাসা ভরাট করে তোমার শহরে সন্ধ্যে আসে, পৃথিবীর হৃদয় রোমন্থন করে আকাঙ্খার পরিবার পাড়ি দেয় তোমার শহরে; আলোয় লুটোপুটি খায় গোপন স্বপ্নেরা; পৃথিবী ছিদ্র করে বৃষ্টি নামে তোমার শহরে; আমি ভিজলে শুধু আমিই ভিজি, কিন্তু তুমি ভিজলে পুরো শহর ভিজে যায়।

“কেরোসিনের গন্ধে, আবার মনে পড়লো তোমাদের অন্ধকার উঠোন,
কোথায় ট্রেন চলে যাচ্ছে দূরে, আর এই সন্ধ্যেবেলা
আমি একা একা বসে আছি; চেয়ে দেখছি
আমার জানালা, আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে দু’দিকে,
তোমাদের কাপড়কাচা শেষ হয়েছে এখন?
অনেক বছরের পর, আরও অনেক বছর কীরকম পার হয়ে গেলো,
মনে পড়ছে আজ তোমাদের সাদা বিড়াল ছানাটার কথা, মনে পড়ছে
তোমাদের হাসি, চোখের জল আর তোমাদের।”

দিগন্তে আজও কেউ ঢেউ বুনে যাচ্ছে বিষাদে, প্রবালের পাশে সেই নির্জনতা, নির্বাসনে মেঘ; উপকুলে ক্লান্ত সে নাবিক খুঁজে যায় ফেরার ঠিকানা, পথ ভুল করে ফিরে যায় সুন্দর, কোথা যায় জানা যায় না কিছুতেই। ভারি অচেনা লাগে, মনে হয় পরাজিত, মনে হয় ফতুর! মনে হয় হরতনে নিবেদিত গোলাম, সমুদ্র অচেনা লাগে...একটা ঢেউ কুল পেতে তার কতদিন লাগে?

“ হে ভুতের বাড়ি, তুমি কার জন্যে দাঁড়িয়ে রয়েছো?
কেউ আর আসবে না, কোনোদিন, আসবে না কেঊ।
হে নদী, একলা নদী, একা একা কোথায় চলেছো?
আমি আরো একা, তুমি সঙ্গে নেবে পুজোর ছুটিতে?
হে প্রিয় শহর, তুমি কেন চিঠি লিখোনা প্রত্যহ?
একা একা একা একা কেঁপে উঠি মানুষের দেশে...”

এই সব চিরচেনা দৃশ্যবলি কিছুই দেখবনা আর, ঝুলবারান্দার টবে ফুলের কোলাহল, পাশেরর বাড়ির ছাদ আর সেই ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী, আটপৌরে জীবনের সমস্ত বিষন্নতা ঠোঁটে করে উড়ে যায় বিষন্ন চিল; ওর কাছে জমা রাখি আমার জমা খরচ আর পাপ পূন্যের হিসেব; বুঝতে পারি খরচের খাতাটা বড্ড বেশি ভারি, জমা খরচের হিসেব মেলেনা কিছুতেই, কিন্তু এ হিসেব তো মেলবার কথা! ক্রস চেক করি জমার খাতা, দেখতে পাই পাতার এক কোনে লেগে আছে কয়েক ফোঁটা চোখের জল; জমা খরচ সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়...
ধিরে ধিরে নদীগুলো আবার পিচঢালা রাস্তা হয়ে যায়, অচিন্ত্যবাবু চশমা হাতে ফিরে যান মাঠ ছেড়ে পাথরের মূর্তিতে; আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনীর কথা। অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সূত্র, আমি রঞ্জিনীকে বলেছিলাম আমার আপেল খেতে একদমই ভালোলাগেনা; রঞ্জিনী রেগে গিয়ে বলেছিল সে কারনেই ও আপেল গাছ হবে।

“ সত্যি কি কেউ কষ্ট পায় কারুর জন্য? এই চাপা কান্নার পৃথিবীতে
আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই।
ভালো করেছো, তুমি নখ আর মুখোশ থেকে সরে গেছো।
তোমার দুচোখের জল হয়তো এখন নিমন্ত্রন করছে মুক্তোকে;
তুমি বেঁচে আছো না মরে গেছো? আদৌ যদি
বেঁচে থাকো, বন্ধু আমার, তুমি কোনোদিন আর ফিরে এসোনা বাড়িতে।”

আমার জানা নেই রঞ্জিনী আপেল গাছ হতে পেরেছে কি না; ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলো আমায় দেখে হাত নাড়ে, আমার বিদায়ী হাত নাড়া দেখে ওরা চোখ বড় বড় করে তাকায়, বুঝতে পারি আমাকে সাথে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে ওদের নেই; টেবিল ল্যাম্পের সরলরেখায় আমি আঁকতে বসি ময়ুরাক্ষী নদীর গতিপথ, নদি যে আমায় কোনোদিন ফেরায়নি।।
“ শেষ হল সময়, এবং আমার জীবন।
তেমন কিছু আফশোষ নেই আর।
যদিও দু’চারটে সামান্য কাজ বাকি ছিলো-
যেমন ও পাড়ার সন্ত্রস্ত ছেলেটিকে
একটু ভরসা দিয়ে আসা – ‘ ভয় কিসের?’
যেমন চিঠি লেখা নতুন বন্ধুকে
‘ভুতের বাড়িতে , বেড়াতে আসুন একিদিন।”

কবিতা-ভাস্কর চক্রবর্তী
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আহ!এ সড়কে কোথাও  কোন জীবন নেই তবু শরতের সন্ধ্যা আসে....আমি যখন আকাশ হয়ে যাবো
তোর ঘরের পশ্চিমের জানালাটা দিয়ে যখন একফালি মিষ্টি রোদ এসে পরবে,
তখন জানবি, সেই রোদ্দুরটাই হবে আমার চিঠি!
আর রাতের বেলায় তোর বাড়ির সামনের সাদা বেলী ফুলের গাছটায় যখন শিশির জমবে,
জানবি, সেই শিশিরটাই হবে আমার চিঠি!
আর তোর মনে আছে, আমরা যে কলেজের সবুজ মাঠে কানামাছি খেলতাম!
সেখানে গোধূলি বেলায় দাঁড়ালে দেখবি, একটা দমকা হাওয়া তোর শরীরে আনন্দের ঢেউ বইয়ে দিচ্ছে।
জানবি, সেই দমকা হাওয়াই হবে আমার চিঠি!
আর হ্যাঁ, ময়না পাখিটার কথাতো ভুলেই গেলাম!
সকাল বেলা তোকে না দেখে ময়না পাখিটা যে ময়না, ময়না বলে ডেকে তোকে অস্থির করে দেবে,
জানবি, সেই অস্থির করা ডাকটাই আমার চিঠি!
সেখানে তোদের সব্বার কথা লেখা থাকবে।
আচ্ছা বেশ, তোর কাছেই না হয় প্রথম চিঠিটা লিখবো।
লিখবো--
আমার প্রিয় কবিতা......
আশা করি তুই ভাল আছিস। তোর কথা খুব মনে পরছে। আমি যেখানেই থাকি আমার শুভ কামনা তোর সাথেই আছে। তাই আমাকে কথা দিতে হবে যে তুই ভাল থাকবি। আমার কথা একদম ভাববিনা। কারন, আমি যেখানেই থাকি তুইতো আমার সাথেই আছিস তাইনা?
খুব রাগ হচ্ছেতো? ঠিক আছে আর কিছু বলবনা,তুই ভাল থাকিস।
ইতি,
তোর কুড়িয়ে পাওয়া চিঠি।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমার কিছু গল্প ছিলো, বুকের পাঁজর খাঁমচে ধরে আটকে থাকা শ্বাসের মত গল্পগুলো বলার ছিলো।  সময় হবে? এক চিমটে সুর্য মাখা একটা দুটো বিকেল হবে? ??  গত আশ্বিনে আমি আমার পঁচিশতম জন্মদিন পার হয়ে এলুম। আমি জানি আমি খুব দীর্ঘ্যজীবি হব-আমার কুষ্ঠিতে এমনই লেখা আছে। পঁচিশের ঘরে বসে আমি তাই সামনের দীর্ঘ্য জীবনের দিকে চেয়ে অলস অ ধিরস্থির হয়ে বসে আছি। বিছানায় শুয়ে হাত বাড়ালেই যেমন টেবিলের উপর সিগারেট প্যাকেট, দেশালাই, জলের গ্লাস কিংবা ঘড়ি ছোঁয়া যায় মৃত্যু আমার কাছে ততটা ছোঁয়ার নয়। মাঝে মাঝে জোৎস্নারাতে আমার জানলা খুলে চুপচাপ বসে থাকি। হালকা বিশুদ্ধ চাঁদের আলো আমার কোলে পড়ে। ক্রমে ক্রমে আমার রক্তের মধ্যে ডানা নেড়ে জেগে ওঠে একটি মাছ। শরীর ও চেতনা জুড়ে তাঁর অবিরল খেলা শুরু হয়। আমার চেতনার মধ্যে জেগে উঠে একটি বোধ, আমারই ভেতর থেকে কে যেন বড় মৃদু এবং মায়ার সুরে ডাক দেয়, "সুমন, আমার সুমন।" অকারনে চোখের জল ভেসে যায়। আস্তে আস্তে জানালার চৌকাঠের উপর মাথা নামিয়ে রাখি। মায়ের হাতের মত মৃদু বাতাস মাথা থেকে পিঠ পর্যন্ত স্পর্শ করে যায়। তখন মনে পড়ে- সুমন, তোমার জীবন খুব একার হবে।

তুমি কিছু আশা করেছিলে?
এবার মিটেছে
সেই সব?
তেত্রিশ বছর শেষ হয়ে এলো!
তাহলে এবার?
উদবন্ধন ভালো নয়,
ভালো নয় রেলে মাথা অথবা
ছ'তলা থেকে লাফ;
এসো ধরি টেলিফোন,
হেসে বলো দেখা হবে 
রাস্তায় আবার।

বাদলা দিনে ছোট পৃথিবীটা যেন আদিগন্ত দেখা যায়। মনে পড়ে। বড্ড মনে পড়ে। মনে পড়ে বেঁটে লিচু গাছের বন, পাকা সড়কের উপর ইস্কুল বাড়ি। কিন্তু কি যে যন্ত্রনার ঝড় ওঠে বুকের মধ্যে। হাহাকারের এক বাতাস বয়ে যায়। কী হয়েছিল তারপর? অতীতের বৃষ্টি মাতালের মত টলে টলে পড়ে। দোল খায়। মনে পড়ে লাল ইস্টিশান...

তোমাকে অঞ্জাত দেশে দেখি প্রায়
একটি নির্জন ছাদে দাঁড়িয়ে রয়েছো,
সব কথা 
শেষ হয়ে গেছে।
আর কোনো কথা নেই-স্বপ্ন নেই;
শুধু কিছু দিন আর রাত্রি পড়ে আছে। 

চেনা রাস্তাঘাট আজ আর চেনা যাচ্ছিল না। বিবর্ন দেওয়াল, ছেঁড়া পোস্টার...আমার পায়ের তলা দিয়ে অন্ধকার রেলগাড়ির মত বয়ে চলেছে জল। কাছে আসবার এইতো সুসময়। বর্ষায় বা ঝড়ে বা কুয়াষায়। ভালোবাসায় একাকার হয়ে যায় পৃথিবী, আমাদের চেনা শহরে ফুটে ওঠে অচেনা বিদেশের ছবি। 
আজ রাতে তুমি তোমাদের খোলা জানালার পাশে এসে দাঁড়াবে কি? যদি দাঁড়াও তবে আমার মনে হয়, তুমি টের পাবে তোমাদের বাড়ির চূড়ার শ্বেতপাথরের পরীটা কুয়াশার আড়ালে তাঁর মার্বেলের ভিত ছেড়ে উড়ে গেছে মোড়ের ওই লাল রঙের বেঁটে ডাকবাক্সটার কাছে। এখন পায়ের কোনো শব্দ না করে যদি তুমি ছাদে উঠে যেতে পারো তবে দেখবে-পরীটা সত্যিই নেই।
নাকি রাতের ডাকে চিঠিপত্র চলেগেছে বলে হালকা সেই ডাক বাক্সটা বেলুনের মত উড়ে এসেছে তোমাদের ছাদে। এখন তাই পুরোনো ডাক বাক্সটা খুঁজে না পেয়ে পৃথিবীর মানুষেরা ভাবছে কোথায় গেল এতকালের আমাদের চেনা ডাকবাক্স। না কি আমাদেরই রাস্তা ভুল!

এই সেই ঘর যেখানে তোমার গন্ধ এখনও ভেসে আছে,
সবকিছুই আজ রূপকথা বলে মনে হয়,
রংমশাল, তুমি যা শখ করে জ্বালিয়েছিলে  করে দু'চারদিন
এখনও জ্বলছে-সারাজীবন জ্বলবে, শুধু
আমাকে পুড়িয়ে মারার জন্য।। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
অমলটা কবি হতে পারেনি, "প্রতিভা" বাক্সে তালাবদ্ধ করে রেখেছিল এবং রমা রায়, ভালোবেসে কারাবাসী হয়েছিল। আর আমাদের হরিপদ... জীবনের গল্পটা দু'পাতাতেই শেষ করে দিলো..জীবনে কিছু কিছু ঋন আছে যা কোনদিনই শোধ করা যায়না, শুধু স্বীকার করা যায় মাত্র। তোর কাছে               আমি তেমনই একটা ঋনে ঋণি।
একটু সুযোগ দিবি, আমার যে ভীষন মন কেমন করে। কেন এভাবে ঋণি করে দিয়ে গেলি? আজও গাছের ছায়ার ফাঁকে ফাঁকে তোর হারিয়ে যাওয়া ছায়া খুঁজে বেড়াই। আমি যে তোর আকাশটাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তোর চলে যাওয়া পথ আজও যে হাতছানি দিয়ে ডাকে। যদি কোনোদিন সুসময় দেখা দেখা দেয়, একদিন ঠিক দেখিস তোর ফেলে যাওয়া পথে আকাশটা কে মিশিয়ে দেবো।
আমার দিগন্ত যে এখনো ভীষন ভীষন ফ্যাকাসে, আমার আকাশটাকে কেন এমন একলা করে দিয়ে গেলি! তোর স্বপ্নেরা কি এখনও সবুজ আছে? কখনো কখনো আমার খুব ইচ্ছে করে তোর স্বপ্নে হানা দিই, মিশিয়ে দিই ইট, কাঠ আর পাথরের শুষ্কতা, কিন্তু আমি পারিনা। তোর স্বপ্নগুলো যে একদিন আমারই ছিল।

চল না একবার তেপান্তরের মাঠে ফিরে যাই, সেখানে আকাশটা কিন্তু আজও নীল আছে। আমায় বলতে পারিস তোর আকাশের রং কেমন?  আমার আকাশটা ভীষন রকম কালো। আমার খুব খুব ভয় করে আজকাল। এই ভয়ের কোনো কারন নেই, কারন ছাড়া ভয় গুলো বুঝি সব থেকে বেশি ভয়ের।

পৃথিবীটা গোল, একদিন দেখা হতে পারেই, তুই কি জানতে চাইবি আমি কেমন আছি? প্লিজ এমন কথা জিজ্ঞেস করিস না। এগুলো ভীষন ভীষন পুরোনো রে। কখনও ভাবিস নি তো! কখনও সময় করে রাতের তারা গুলোর দিকে তাকাস। মিটি মিটি করে ওরা জ্বলছে বুঝি! মোটেই না। ওই গুলিই প্রশ্ন।
ওরা আজকাল আমায় দেখে খুব হাসে; তোর কি আর ফিরতে ভালো লাগেনা? জানিস ফিরে যাওয়ার মাঝে এক অদ্ভুত বিষন্নতা থাকে রে। এই বিষন্নতা কেমন বলা যায় না, শুধুই অনুভব করা যায়। এ এক অদ্ভুত কষ্ট। এই কষ্ট বার বার পেতে ভাল লাগে, তাই তো এই ফিরে আসা।

এই ফিরে আসার মাঝে এক অদ্ভুত মাদকতা আছে। সবাই পারে না।  তুমি ফিরে এসে দেখবে এখানে অনেক গল্প জমে আছে; এই গল্প গুলো তোমার নয়, তারপরেও তুমি ভাববে এই গল্পতো আমারই। এই গল্প তোমার তোমার না। তোমার গল্প চারদেওয়ালের মধ্যে বন্দি। তোমার গল্পে আকাশ কখনই ছিলোনা। বৃষ্টি নেই তোমার গল্পে। নেই জোনাকি। তোর ফেলে যাওয়া পথে নেই কৃষ্ণচূড়ার লাল; আসলে তোর কোনো গল্পই নেই। তোর গল্পেরা হারিয়ে গেছে।
আচ্ছা, একটা গল্প শুনবি? এক বিষন্ন বালকের গল্প। মাঝরাতে নেমে আসতো পরীরা।  জানালা দিয়ে ঢুকে পড়তো বৃষ্টি। মাঝরাতে তার উঠোনে ঝরে পড়তো কুয়াশা। সে এক অদ্ভুত কুয়াশা। সে অদ্ভুত কুয়াশারা রেখে যেত একমুঠো বিষন্নতা তার শিয়রে। তুই দেখিস আজও বুকপকেটে সযত্নে পেলেও পেয়ে যেতে পারিস তোর হারিয়ে যাওয়া গল্প, হারানো বৃষ্টি, হারিয়ে যাওয়া আকাশ।

একবার ফিরে আসিস, তোকে ছাড়া যে আকাশ ভাগ করা যায় না।।  
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কোনোদিন সুসময় দেখা দিলে দেখিস একদিন ঠিক ফিরে যাবো তোর মায়াবী চিলেকোঠায়।
জানিস, আমার খুব ইচ্ছে করে একবার দেখতে তোর যত্নে সাজানো ছোটোবেলার পুতুলগুলো, ওরা যে কতটা ভাগ্যবান ওরা জানেনা; আমি কিন্তু বুঝতে পারি।

তোর চিলেকোঠায় আর কি কি আছে আমায় দেখাবি?

শুনলাম তুই নাকি তোর সমস্ত স্থাবর অস্থাবর কষ্ট, মনখারাপ, বিষন্ন বিকেল আর একলা রাত আমার নামে লিখে দিয়েছিস।

তুই কি জানিস তোর দেওয়া কষ্টগুলো আজও জমিয়ে রেখেছি বুকপকেটে। ওরা কিন্তু তোর মত নয় একদমই। পিছু ছাড়তে চায়না মোটেই।

তুই কিন্তু অনেক কিছুই দিয়ে গেলি। বিষন্ন বিকেল, একলা আকাশ আর কিছু উদাস দুপুর। তোর দেওয়া দুপুরটাকে একবার উড়িয়েছিলাম অনেক অনেক উঁচুতে, তুই যতটা ভাবতে পারিস তার থেকেও বেশি। কিন্তু জানিস, ওই দুপুরটা লাট খেতে খেতে আবার ফিরে এলো আরও অনেক অনেক মনখারাপ নিয়ে; সেই থেকে ওকে জমিয়ে রেখেছি আমার লেখার টেবিলে। তুই বল, তোর দেওয়া কিছুই কি আমি ফেলতে পারি?

তোর বাড়ির সামনে যে নীল রঙের ডাকবাক্সটা দঁড়িয়ে থাকে ওকে একবার চিঠি লিখেছিলাম, সেই চিঠিতে ছিল আমার হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবর।


আচ্ছা বলতে পারিস আমার আকাশটার রঙ বারবার পালটে যায় কেন? একসময় আমারও একটা আকাশ ছিল, ঠিক সমুদ্রের মতই নীল। সেই আকাশটাও কেমন যেন ফ্যাকাসে হয়ে গেল। আচ্ছা আমায় বলতে পারিস তোর আকাশের রঙ কেমন? তোর আকাশে কি আজও বুনো হাঁসেরা পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়?


একবার পেছনে ফিরে দেখ, চাদরে নেমেছে কুয়াষা, মেঘেদের কাছে জমা রেখেছি অনেক অনেক ঘুম। তবুও তুই থাকিস আদরে আর নালিশে, তুই মিশে থাক ভেজা ভেজা শীতে, অচেনা নদীতে। আর হ্যাঁ, কখনো ফেরার ঠিকানা খুঁজিস না। বরফিলি ঘাসে মেঘ নেমে এলে,  বৃষ্টি ভেজা বিকেলে আঙ্গুল ছুঁলে ঠিক দেখিস, তোর শ্রাবনে হারাবো ঠিকানা।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমিও তো একদিন এরকমই কোনও এক বাড়ির ভিতরে বারবার ঢুকতে চেয়েছি, শুধু সময় পেরিয়ে গেছে বলেই তুলসীমঞ্চে প্রণাম পড়েনি, নতুন বউয়ের শাঁখে ফুটে ওঠে অন্য কোনও ঈশ্বরের নাম...কালো চশমার ভেতর দিয়ে আমি কালচে শহরটাকে দেখি।
তোর্সার বন্যায় সেবার কোমর জল উঠেছিল মিশনারি হাইস্কুলে। কিন্তু বন্যার  কথা থাক বন্ধুগন। বরং বলি, মেদিনিপুরের আকাশে বাতাসে আজও মালবিকা রায়ে'র ডান গালের আঁচিলটা উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
শীতের সকালে এক রূপমুগ্ধ বালক এই ইস্কুলের পাশের মাঠে কুয়াশা জড়ানো অদ্ভুত সকালে কেডস পায়ে দৌড়াতে আসতো। আর দৌড়াতে দৌড়াতে সে সেই আধো ভেজা গাছের গন্ধমাখা আলো আঁধারে কি করে যেন জিন পরীদের রাজ্যে চলে যেতে পারতো।

একটা বয়সের পর সে আবার এসে শরীরের ভার নিয়ে বসে আছে সাগরদিঘীর পাড়ে।
রোদে উত্তপ্ত কাঠের বেঞ্চ, সেই পুরোনো। তবুও সে নয়।

এইতো কাছেই মালবিকাদের বাড়ি। কোন লতায়-পাতায় আত্মীয়তা ছিল বলে তাদের বাড়িতে যেতাম গল্পের বই আনতে। মালবিকা কোনোদিনও কথা বলে নি। তার ডানগালে এক আশ্চর্য্য আঁচিল ছিল, কত নির্জনে, একাকিত্বে সেই আঁচিলটার কথা ভেবেছি। সে এখনও আমার স্মৃতিতে কিশোরীই রয়ে গেছে, কেননা আর কখনও দেখা হয়নি। যাব একবার? চেনা দিলে ঠিক চিনবে, বলব তখন লজ্জায় যা বলতে পারিনি, আজ বলতে এসেছি। আমার সমস্ত শৈশব হারিয়ে গেছে। তুমি সেটা আমাকে অল্প একটু ফিরিয়ে দেবে?
হিসেব করে বুঝতে পারি-বোকা! বেঁচে থাকলে তারও এখন না হোক পঁচিশের উপর বয়স। এতদিনে সে কি কুমারী হয়ে বসে আছে! আপনমনে একটু হাসি।

বন্ধুগন, বন্ধুগন, আজ বুঝতে পারি সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর কিছুই নেই।
সব পুরোনো মাঠ প্রান্তর হারিয়ে গেছে। চেনা যায়গার সব চিহ্ন মুছে নিয়ে গেছে এক অদৃশ্য বান। শৈশবে যেমন আলো দেখেছি, অন্ধকার দেখেছি, তার আর কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। বুড়ি নদী, তুমি আর কী ভাসিয়ে নিয়ে গেছ?
নদী উত্তর দেয়, "পাগল ছেলে, যা, ঘরে ফিরে যা। একদিন সব ফিরিয়ে দেব। তখন বলবি এত জঞ্জাল কোথা থেকে এলো।"

দুপুর বেলায় যখন বাস স্টপেজে নামছি, তখনও পেছন থেকে কে যেন কোমর জড়িয়ে ধরে টেনে বলে, নামছিস কেন? এই বাসটাই তোকে কাটিহারে নিয়ে যাবে। একবার দেখবিনা সেই মাদার গাছটা? যেখানে সেই আশ্চর্য্য কোকিল ডেকেছিল একবার। চলো যাই।
আমি মাথা নেড়ে বললাম, না থাক।হয়তো সেই মাদার গাছটা আর নেই।
আমি সেই আমার নাছোড়বান্দা আমিকে মিনতি করে বলি-না থাক। ওই একটা যায়গায় আমার আর কোনোওদিন না যাওয়াই ভাল। গেলেই চিরকালের মত যায়গাটা হারিয়ে যাবে।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

এইসব সময়ে রাস্তার দৈর্ঘ্যে ছোঁয়ানো আংগুলের ধুসর আবেগী অসুখ করে। আমাদের কত ফুটপাথে সেরে ফেলা জীবনের গল্প! ইশ! এইগুলো কখনোও স্টিভেন স্পিলবার্গ কিংবা টমাস হার্ডির মোটিভেশনাল গল্প হয়ে লাইমলাইটে আসবে না। থাকবে না নক্ষত্রের ফিউসানে আটা ভরত্রুটির রিলেটিভিটি।

হয়তো আমাদের ফুটপাথে কয় লক্ষ বছর ধরে কিছু একটার অভাব জমে আছে। এপ্রিলের মলাটে বৃষ্টির জলের মত। হোস্টেল জীবনে আমরা বা হাতের নিচে ছারপোকা পিষে মেরে ফেলে দিয়ে ছারপোকার মত বেঁচে থাকি। যথাযত নিরুদ্দেশ হয়ে চার পাঁচ বছর। তারপর আমরা চিরাচরিত যন্ত্র হয়ে বেঁচে থাকা সত্তায় হৃদপিন্ডের সিউডো পর্যায়বৃত্ত আন্দোলন। বছর কুড়ির বছরের হিসেবে আমাদের থাকে কিছু হাস্যকর মুখের জলছবি। হাসিখুশি মুহুর্তে বন্দি পড়া সময়ের আলোকীয় অপবর্তন। অথচ সবকিছুর মাঝে কি যেন একটা নাই নাই। ভোরের ওঠা সূর্যটার অস্তমিত হওয়া সন্ধ্যার পরে কি যেন একটা দুপুরের রোদে হারিয়ে যাওয়া। কেমন যেন একটা হাহাকার রকমের ভরত্রুটিতে আটকানো ফিউসানের গল্প! মধ্যরাত্তিরে বারান্দার দেয়ালের উপরটায় বসে অত:পর আমরা জীবনের হিসেব নিকেশ মিটাই।
.
কি সস্তা একটা জীবন! দু আংগুলে ফুটপাথে সেরে ফেলা।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কোন সন্ধ্যে সন্ধ্যে রাতে রাস্তারা বুঝি অদ্ভুত প্রনয়ে খুন হয়! খুন হয় কতশত খেয়ালের অগোচরে আটকে পড়া দীর্ঘ নি:শ্বাসেরা! ইশ! আমাদের খেয়ালগুলো যদি একটা আকাশ রকমের নীলচে না হতো!
 কোন ইট পাথরের মত কষ্ট প্রতিসরন করে বাঁকিয়ে নীলচে না করে দিতো আমাদের শরতের মত অনুভূতিগুলোকে! 

তিস্তানের শব্দের অভাব পড়লে, প্রলুব্ধ রাতের নৈশভোজ মহাজাগতিক ইতিহাস হয়ে থাকে। রাতের তারারাও নিশ্চুপ করে কাঁদতে জানে সবাইকে এক অদ্ভুত সৌন্দর্য উপহার দিয়ে। অথচ সেইসব তারাগুলো আসলে বহুবছর আগেকার ইতিহাস রকমের পুরনো হয়ে মরে গেছে। ইতিহাস কি আর এক দুইদিনের সস্তা সভ্যতায় তৈরি হয়? ইতিহাস তো এক স্বরচিত এপিটাফের হাইফেন। দুপাশের চার অংকের সংখ্যাটার মাঝে গোটা আস্ত একটা পৃথিবীর গল্প! সেই পৃথিবীর গল্পগুলো এমন করে সুখ সুখ অনুভূতি কিভাবে দিতে পারে?

আমাদের জ্যোৎস্নাবেলায় আমরা কত অদ্ভুতরকম উপায়েই না মরে যাই! মৃয়মান আলোতে যখন আমাদের কবিতা গিলে ফেলার কথা তখন আমরা হাজিরা খাতা খুলে উপস্থিতির হিসেব নিকেশ খুঁজে টুজে মরি। অথচ আমাদের সব চুলচেরা অনুপস্থিতির কারনগুলোকে আমাদের আত্মানুসন্ধান খুব সুন্দর করে মিটিয়ে দিতে পারতো!


মহাজাগতিক ইতিহাসে আমাদের এপিটাফের গল্প।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates