• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
জানি সব শেষ হয়ে গেছে অথবা হয়নি শুরু কিছু, জীবনের নিরর্থকতা প্রেমহীন থেকে অর্থবহ হয় শুধু; তবু তহবিলে গচ্ছিত রাখি সব স্মৃতি, বিদগ্ধ জোনাক --কালো রাত শেষ, আবার শুরু হবে নতুন প্রেমের সকাল ।
মনের ভাব প্রকাশে আমি বরাবরই অক্ষম,তা তুমি ভালো করেই জানো। অথচ সে দিন কাশবনে লাল ফ্রকের এক বালিকার উচ্ছাসিত হাসির যে পবিত্রতা দেখেছিলাম তা তোমাকে বোঝাতেই পারি নি।
তুমি হেসেছিলে খুব। আসলে ওই হাসির পবিত্রতাটাই সত্য, তোমার আমার ক্যাফেতে বসে থাকায় তা নেই। হয়তো,হয়তো তোমার চোখের কৃত্রিম কাজল রেখাতেও নেই, নেই আমার শব্দের উপস্থাপনায়
জড়িয়ে রাখার চেষ্টাতেও।
আমার স্মৃতিময় শহর; আমার স্বপ্নালু চোখে এঁকে দিয়ে গেছে কত শত স্বপ্নের আঁকিবুঁকি।
কত কত পাওয়া, না পাওয়ার উপকাহিনী। বহুকাল ধরে ঐ চিলেকোঠার ধুলোজমা দেরাজে পড়ে আছে ছেঁড়া ঘুড়ি, নাটাইয়ের জীর্ণ সুতো। সেখানে এখনো স্বেচ্ছায় বন্দী আমার কৈশোর।



তাকে তবে সেখানেই থাকতে দাও। শাদা-শরত আকাশের নিচে, ছাদের রেলিং ধরে হাঁটতে হাঁটতে
বেড়ে উঠেছে আমার চিন্তারা। হয়তো সেখানে এখনো হাঁটছে তারা, কোন এক চৈতালি ভরা জোছনায়।
নিঃসঙ্গ রাখালের বাঁশির মতো গুমরে গুমরে কাঁদছে আমার ফেলে আসা ভালোবাসা, বাতাসে উড়তে থাকা তার চুল, গোলাপি ওড়না। উদাসী বিকেল আর হিরণ্ময় দুপুরের মায়ায় বাকিটা জীবন সেখানেই থাকুক তারা। বিশ্বদা’র দোকানে এখনো লুকিয়ে আছে আমার স্কুল ফাঁকির ঘণ্টাগুলো, সিগারেটের ফিল্টারে প্রথম টান, লাল চোখ আর দমকা কাশি। অপরাধী’র মতন মুখ করে সেখানেই লুকিয়ে থাকতে চায় তারা। তবে তারা সেখানেই থাকুক, তারপর নিমেষেই ভুলে যাক আর সব। সিক্ত নীলাম্বরীর মতো ভিজে সারা হোক অঝোর শ্রাবণে।

জানিনা কতটুকু সময় পার হলে অপেক্ষা খুব ভারী মনে হয়। দুচোখের পাতায় নেমে আসে ভোরের শিশির। ভালোলাগা,ভালোবাসা শব্দগুলোর কাছাকাছি যতগুলো আপন শব্দাবলী তোমাকে দেবার কথা ছিলো , সবগুলো জমিয়ে রাখি। কে জানে যদি আর না আসো যদি জীবনের একটু দেখা হওয়া আলো হয়ে জুড়ে থাকে মনের আকাশ। যদি তুমি আমার আকাশ সীমায় মেঘ হয়ে আসো খুব, বৃষ্টি হয়ে ঝরো একদিন। আমি না হয় সেই বৃষ্টিতে ভিজে হবো স্নিগ্ধ সকাল।
বৈশাখের দিন গুলোতে যখন শুনশান দুপুরগুলো দীর্ঘ হতে থাকে কেবলি ধূসর হতে থাকি। তোমার বাড়ীর ছাদ থেকে আমার আঙিনা । এক্কা দোক্কা খেলা। বাতাবী লেবুর গাছটার ছায়ায়। দুপুরের আকাশ দেখার ফাঁকে কখনো? চোখ কি আমাতে ছিলো? কে জানে বাতাবী লেবুর গন্ধ মেখে কখনো কি আমি ও তোমার দিকে?
এই বৈশাখে তোমাকে যদি কাছে পাই। খুব কাছে পাই একদিন, মনে ভাবি। এখনো সেই গন্ধময়্তা জুড়ে থাকে। শুধু অস্পষ্ট তোমার চোখ, দেখা হলো না কোনদিন। এভাবে পিছন ফিরে থাকো যদি
আকাশের দীর্ঘ মেঘের পথ হয়ে।
কখনো পাওয়া হবেনা সেই তারাকে যার খুব কাছে বসবাস ছিলো একদিন।  বৈশাখ এলে এইকথাটা ভাবনার ঘুঘু হয়ে ডাকতে থাকে সকাল দুপুর রাত।




কান্না পাচ্ছে? কাঁদো, মন ভরে কাঁদো, কালো মেঘের চেয়ে বৃষ্টি ভালো। জৈষ্ঠের খাঁ খাঁ মাঠে বৃষ্টি র বড় দরকার। কাঁদো, সময় এখন ডুকরে ওঠা কান্নার। জানি বিচিত্র ফসল ফলে তোমার  নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে। সাধনার জমিজমা তোমার, বহু প্রানের জীবিকা। তোমার সচ্ছলতার পলপুঞ্জে পড়ে বাজারির চোখ, দামাদামি করে শুধু তারা, মায়া বোঝেনা। তবুও তোমার পুঁজির লোভ, নাও দরদামে হেরে যাও অভিঞ্জ বাজারির কাছে। এইসব দরদাম, হারজিত ভুলে যাওয়া সহজ, তবু মৌসুমী শেষে জৈষ্ঠের শূন্য মাঠ দেখে  যদি ভর করে পুরোনো দিনের কোনো আবেগ, যদি পুরো আকাশ কালো হয় মেঘে মেঘে
জানি, ভীষন  কান্না পাবে তোমার,
তুমি কাঁদবে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মেলাতে চাই না আর কিছু ফেলে আসা রাস্তায় যদি পড়ে থাকে ধুলো উড়ে যাবে ধেয়ে আসা ঝড়ের বার্তায় রাত্রি খুঁজবো আজ তোর চোখে জানি আড়িপাতা ঘুমে আবার ভোর হবে। মানুষের অদ্ভুত অদ্ভুত সব ভাল লাগা থাকে। আমারও এমন একটা আছে, বলা ভাল ছিল। আমার অদ্ভুত ভাল লাগা হল কাশির শব্দ শুনে সেটা নকল করা।

ছোটবেলায় ভাঙা দালানের কোণে বসে দাদু যখন কাশতো, আমি সেটা হুবহু নকল করতাম। দাদুর কাশিকে নকলটা এত ভাল হত, সবাই আমাকে বারবার সেটাই করতে বলত। বিয়েবাড়ি, উত্সব যেখানেই যাই সবাই আমায় টেনে এনে বলত, এই বাপ্পা ওই কাশির আওয়াজটা একবার শোনা না। ছোটবেলায় কাশি আমায় একেবারে 'ফেমাস' বানিয়ে দিল।

এরপর যখন ক্লাস ফাইভে নামজাদা এক স্কুলে ভর্তি হওয়ার ইন্টারভিউতে বসি তখন আমায় বাঁচিয়ে দেয় কাশিটাই। স্কুলের অ্যাডিমিশনে টেস্টে ইংরেজি পরীক্ষাটা ভাল দিতে পারিনি। তবু তিন চারদিন পর মৌখিক পরীক্ষায় ডাকা হয়েছিল। পাঁচজন বাঘা বাঘা স্যার-ম্যাডামদের সামনে একেবারে ইঁদুর হয়ে বসলাম মৌখিক পরীক্ষায়। প্রথম প্রশ্ন উড়ে আসার আগেই দিলাম জোরে একটা কাশি, তারপর আবার, তারপর আবার...সেখানেই বাজিমাত। স্যাররা আর প্রশ্ন করার সুযোগ পাননি। শরীর খারাপ বলা ভাল কাশির সৌজন্যে অ্যাডিমিশন টেস্টে উতরে গেলাম। 

ক্লাস এইটে আবার আমার জীবনে কাশি ফিরে এল। বাংলার তাপস স্যার বললেন, আজ একটা খেলা খেলব, যে এই খেলায় জিতবে তাকে অ্যানুয়াল পরীক্ষার আমি বাংলার পুরো প্রশ্নপত্র বলে দেব। ক্ষ্যাপাটে তাপস স্যার দিলেন একটা রচনা লিখতে হবে, বিষয় শীত, যে সবচেয়ে ভাল লিখবে সে পাবে পুরস্কার। আমি লিখলাম শীতের সাইডএফেক্ট নিয়ে... হেডিংয়ে দিলাম 'কাশিতে কাশিও না'। বাকিরা লিখল নিয়মমাফিক সব রচনা। 'কাশিতে কাশিও না' পরে একেবারে গদগদ তাপস স্যার আমায় পুরস্কার দিলেন। জীবনে ওই একবার লেটার মার্কস পেলাম।

কলেজে উঠে কাশির সংজ্ঞা বদলে দিলাম। নিঝুম বলে একটা মেয়ের প্রেমে পড়লাম। কিন্তু নিঝুম এত চুপচাপ থাকত যে ওকে কোনও কথাই বলতে পারতাম না। কলেজ শেষ হব হব করছে সাহস করে মনের কথাটা ওকে বলে বসলাম অনেকটা সিনেমার কায়দায়। ক্লাসে প্রফেসার ঢুকব ঢুকব করছে সেই সময় ওকে বললাম, জানি তুমি কথা খুব কম বল, তাই সঙ্কেতে তোমার জবাব চাই। যদি তুমি আমায় ভালবাসো, তাহলে ক্লাসের মাঝে তুমি একটু জোরে কাশবে, তাহলেই বুঝে যাব তুমি আমায় ভালবাসো, আর না কাশলে আমি আর তোমায় কোনওদিন মুখ দেখাবো না।

রাশভারী চেহারার অর্থনীতির অধ্যাপক ক্লাসে ঢুকলেন। ইউনিয়ন করা ছেলেগুলো পর্যন্ত রাগী অধ্যাপকের ক্লাসে একেবারে চুপচাপ হয়ে গেছে। আমি বসে নিঝুমের কাশির অপেক্ষায়। স্যার তখন পড়াচ্ছেন চাহিদার সঙ্গে জোগানের সম্পর্কের কথা। আর আমি ভাবছি প্রেমের সঙ্গে কাশির সম্পর্কের কথা। একটু বেঞ্চ সরানোর আওয়াজ হলেই আমার বুকটা ধক করে উঠছে। এই বোধহয় কাশির আওয়াজ হল বলে। ক্লাস চলছে, মাঝে মাঝে দু একটা আওয়াজও হচ্ছে। চক পড়ে যাওয়ার শব্দটাও একেবারে বুকে এসে গাঁথছে।  ক্লাস শেষ হতে চলল, কাশির আওয়াজ আসছে না, আমার বুকটা এবার কাঁপতে শুরু করল। বুঝতে পারলাম মেয়েটাকে বড্ড ভালবেসে ফেলেছি। এই ক মিনিটের মধ্যে কাশির আওয়াজ কানে না এলে আমি ভেঙে পড়ব। ক্লাস শেষের  ঘণ্টা বেজে গেল, আমার শরীরটা কেমন করতে লাগল, জ্বর এলো বোধহয়। সেই জ্বরের জন্য আর কলেজে যাওয়া হয়নি। শরীর খারাপ নিয়েই কোনও মতে ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষাটা দিলাম। রেজাল্টের দিনে কলেজে গিয়ে নিঝুমকে খুঁজলাম পেলাম না।

তা হোক, ততদিনে আমার বিশ্বাস এসে গেছে কাশিটা আমার কাছে খুব 'লাকি সাইন'। প্রতি শীতেই একবার না একবার কাশি হয় আমার। তখন বেশ লাগে। কফ সিরাপগুলো খেতেও বেশ ভাল। মিথ্যা বলব না কাশি আমার কাছে পয়া বলে মাঝে মাঝে জোর করে ওকে ডেকেও আনি। বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হল গত বছর শীতে। বলা নেই কওয়া নেই একটা পত্রিকায় গল্প লেখার জন্য বেশ ভাল টাকার অফার পেলাম, গলায় তখন আমার কফ, মাঝে মাঝেই তখন আমি খকখক শব্দে কাশি।

ও ঘর থেকে কাশির শব্দটা শুনে এখন কানে হাত দিই। অসহ্য লাগে শব্দটা। যেখানেই যাই যেন ওটা তাড়া করে বেরোয়। সেদিনে এক বন্ধুর বাড়ি পার্টিতে রাতে খুব জোরে গান বাজাচ্ছে, আমি তখন ঘোর মাতাল, হঠাত্‍ কোত্থ থেকে এসে পড়ল আওয়াজটা। গানের সুর ছাপিয়ে ধুকো কাশির আওয়াজ..আমি দুটো হাত দিয়ে ভাল করে কান দুটো বন্ধ করে দিলাম। ঠিক ফাঁক খুঁজে ঢুকে পড়ল বেয়ারা কাশির শব্দটা। আমি ছুটে বাইকে উঠে পড়ে পালালাম..আওয়াজটাও আমায় তাড়া করে ধরে ফেলল। বাইকের ঘঁ ঘঁ আওয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাজছে কাশির শব্দটা।

অনেক টাকা দরকার এখন...বাবার কাশির সঙ্গে রক্ত বেরোচ্ছে। জানি না কী হবে...কাশির শব্দটা এখন আমায় ভেঙচি কাটে। দিনরাতে রাতবেরোতে উদয় হয়...কানে চাপা দিয়ে দিই তখন। এখন আবার ওই শব্দের সঙ্গে নতুন একটা যোগ হয়েছে। দাদুর শ্রাদ্ধের দিন মজা করে দাদুর কাশির ডাকটা অন্য ভঙ্গিমায় নকল করেছিলাম, সেই ডাকটা এখন শুনতে পাই। কাশি জিনিসটা ভয়ঙ্কর আমি আর ওকে ভালবাসি না, একদম না....
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সে যাওয়ার চলে গেছে।  কিন্তু কোথায় এই মেঘলা আকাশে দাগ রেখে গেছে।  তোকে বলেছে কেউ তোর চোখটা বড় গভীর, ওখানে একটা চাহিদা রাখা আছে।চিরকাল সরস্বতীই প্রিয় আমার, পছন্দ তনুজা, পছন্দ সুচিত্রা মিত্র। তবু কোজাগরী চাঁদ যখন সুখে ভেসে থাকে আমাদের পুরনো দীঘিটার বুকের উপর তখন তাকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির মতো লাগে, সেও তো এমনই করে বুকের সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসতো ছাদে। প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে প্রতারিত হওয়ার জন্য যখন প্রস্তুত করি সততাকে তখন মাথার মধ্যে কে জানে কেউ বলে- ‘কি দরকার? ঘরে বসে থাকো, কবিতা লেখো। বলে, মানব সভ্যতার ইতিহাস আসলে প্রতারণার ইতিহাস’।

ছোটবেলায় অঙ্কের প্রতি জোর দেওয়া হয় কেন তা ঠিক কখনই বুঝতে পারিনি, বড় হয়ে তো কোনও অঙ্কই মেলে না, মেলে না সম্পর্কের সমীকরণগুলো। প্রতিদিন সকালে উঠে বাড়ির কাজের মেয়েটির চোখের দিকে তাকিয়ে অদ্ভুত কিছু কথোপকথন হয়, নিঃশব্দে। এতদিনে জেনে গিয়েছি, বর তার প্রায় প্রতি রাতেই মদ্যপ হয়ে বাড়ি ফেরে। বিছানায় রাজি না হলে, নরম মুখে অনেক দাগ নিয়ে সকাল সকাল আসে কাজে। রাজি হতে হয়। অভ্যাসে, অনেক অভ্যাসে।
একদিন বলেছিল সে-‘তোমার ছবিগুলো খুব সুন্দর’, আরেকদিন- ‘বিয়ে করবে কবে? ‘মাঝে মাঝে যে আমারও ঘর করতে যে ইচ্ছে করে না এমন নয়। একটি শীতের বিকেলের আলো যখন ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়ে সোনা-ঝুরি গাছেদের বুকে তখন ঘরে ফিরতে ভাল লাগে।

 ইচ্ছে করে ট্রাফিকের ওই কালো মানুষটির কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করি, সংসারকেও কি আপনি একই দক্ষতায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন? পৃথিবী, গ্রহ, নক্ষত্র। আপনি কি যাদু জানেন? আপনি কি ভগবান? তবে সামনের পুরনো বাড়ির যে ষাটোর্ধ মহিলার স্নান আমি হঠাৎ দেখে ফিরিয়ে নিলাম চোখ, তাকে পরজন্মে আমার প্রিয়তমা করে নিয়ে আসুন। বলুন এই স্বল্প খিদের শরীর যেন কেবল একটাই শব্দ পায়-বিশ্বাস। যাকে খুঁজেছি আমি, তার সমান্তরাল চলেছি, ফলে মিলন হয়নি। মিলন আমাদের ক্যানসার পাওয়া আচার-কাকুর বয়ামের আচারের মতোই? যখন একজন মানুষ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন নিজেকে অপরের কাছে, তখন তারা কি দুটো শরীর থাকেন, কখনই? তখন তাদের সম্পর্কের নাম কি হয়?

পরশু স্বপ্নে এক সোনালি চুলের অপরিচিতা বালিকা হঠাৎ এসে আমার ভেঙে ফেলা বসতবাড়ির মৃত জানলা দিয়ে ফেলে দিল ধুনুচি। তাতে ধুনো ছিল না, শুধুই কাঠকয়লা। তারপর দুজনেই নিঃশব্দ ছিলাম। একটা চিলেকোঠার ঘরে বসে থাকি, যার কেবল জানলা আছে, কোনও দরজা নেই। একটি জানলা আছে, যেখান থেকে প্রিয় মানুষদের দেখা যায়, শোনা যায় মনের কথা।
পুরনো মলাট-ছেঁড়া বই, ভাঙা ক্যাসেট, রেডিও,ধুলো-ভর্তি তোষক, এলোমেলো বিছানায় কিছু রুগ্ন কোলবালিশ নিয়ে বসে থাকি। স্বপ্ন দেখি শীতকাল এলে ওই মাঠের কোনাটায়, যেখানে খেলা হয় সেখানে আসবে কোন নতুন শিশু, তার গন্ধ পাব, তার নরম পায়ের প্রতিটি চলা লিখে ফেলব খাতায়, লিখে ফেলব, জরায়ু নয়, হৃদয়কে ভালবাসা বলে। লিখে ফেলব আমার লেপের পোশাকের ভেতর এমন এক আলতামিরা আছে, কেউ খুঁজতে আসেনি, কেউ আসেনি, প্রাচীন।

কবিদের সাথে ঘর করা যায়না কক্ষনো। শিল্পীদের সঙ্গে আরও নয়। তবু কোন এক লক্ষ্মীপুজোর দুপুরে যখন আদিম শেয়ালেরা খুঁজে ফেরে বিপন্নতার সুখ, মৃত্যু-বোধ মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আমার আমি সেই বাদামি চামড়ার মেয়েটির দেখা পেতে চাই যে চার পাঁচটা স্টেশন ট্রেনের জানলার কাছে বসে হঠাৎ নেমে পড়ে এক নীরব স্টেশনে।যার ঝোলায় থাকে কোন অচেনা কবির দু-ফর্মার একটা কাঁচা কবিতার বই।আমি তার প্রেমিক হতে চেয়েছিলাম।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

We all know that statistics can lie. And these days what with fake news and all, checking your stats can be a full time job. But, just because something sounds crazy, doesn’t mean it’s not true. Today we’re going to go through some data points that might make your head spin. Here are 25 curious statistics that will mess with your view of the world.





1.80% of Soviet males born in 1923 didn’t live to see 1946

world war 2
Note: the common “Buzzfeed” statistic is 80% but this is incorrect. See the source for more information.

2.There are more people in Greater Tokyo (38 million) than in all of Canada (35 million)Tokyo





3.There are more trees on Earth than there are stars in the Milky Way. In fact, there are 30 times more! (There are 3 trillion trees and 100 billion stars)stars

4.You are more likely to be killed by a toddler with a gun than by a terroristchild




5.Although some people brag about how environmentally conscious they are because they don’t travel or fly planes, agriculture contributes significantly more to greenhouse gases than transportation.cows

6.For the past 15 years, nearly 20% of the daily searches conducted on google have been novel. In other words, every single day 20% of the search phrases people type have never been typed before (that’s about 500 million searches per day)
Google

7.The US has 3.5 million homeless people and 18.5 million empty homes.foreclosure


8.In the last 40 years, Earth has lost 50% of its wildlife
elephants

9. 2 out of every 3 Australians will get skin cancer
beach




10.If the Sun all of a sudden exploded into a supernova, it would be a billion times brighter than a hydrogen bomb exploding right in front of your face
nuclear
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কৈশোর কখনওই অপাপবিদ্ধ ছিল না। যে দিন দশম শ্রেণিতে ছেলেটি চটি বই নিয়ে গেল, ক্লাস শুরু হওয়ার আগে ভিড় উপচে পড়েছে সেই ধেবড়ে যাওয়া কালো ছবির উপর। গোকুলের দোকানে কাউকে কাউকে টিফিন পিরিয়ডে বিড়ি কিনতে দেখা যায়নি এমনও নয়। ইতিহাস পিরিয়ডে এক জন খাতায় পাতার পর পাতা ভরে লিখেছিল কোচিং ক্লাসের এক সুন্দরী কিশোরীর নাম। ফার্স্ট বেঞ্চে সে যে যখন তখন মাস্টারমশায়ের হাতে ধরা পড়ে যেতে পারে, সেই খেয়ালটুকুও ছিল না। হয়েছিলও তাই। শুধু মাস্টারমশায়ই বুঝতে পারেননি সেই নামাবলী কীর্তন এবং তার লেখককে নিয়ে করণীয় কী।




অতএব সে দিন অল্পের উপর দিয়েই ফাঁড়া কাটে। যদিও ক্লাস কেটে বন্দনায় অনিল কাপুর-শ্রীদেবী দেখতে গেলে ধরা পড়ে যাওয়ার চান্স ছিল অঢেল। যারা ধরে ফেলতেন, তারা তখনকার মতো মৌনব্রত অবলম্বন করে ঘরে ফিরে “ওদের বাড়ির ছেলেটা গোল্লায় গেল” বলে মুচকি হাসার লোক ছিলেন না। রীতিমতো তিরস্কার বাঁধা ছিল কপালে। এবং সেই শুভানুধ্যায়ী তিরস্কার করেছেন কেন, এই প্রশ্নের জবাব চেয়ে ছেলেটির বাবা-মা-পরিবারবর্গ বাড়িতে হানা দিত না।

 আমরা সকলেই জানতাম, আমাদের কেউ-কেউ হয়তো মেধার দিক থেকে এক্টু বেশি সরেস, কেউ বা মেধাবী হলেও ফাঁকিবাজ, আবার কারও পড়ার বই দেখলেই মনে হয় এভারেস্ট পর্বতের তলে বিনা অক্সিজেনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ফারাকটি মেনে নেওয়াই ছিল দস্তুর। প্রতি পরীক্ষায় একশো শতাংশের কাছে নম্বর না পেলে, তার জীবনযৌবন সব যে হয়ে গেল কালো, এমনটি ভেবে নেওয়ার কোনও কারণই ছিল না। চাকরিবাকরির বাজার তখন বেশ খারাপই, তবুও কোথাও একটা আশ্বাস ছিল, কিছু না কিছু হয়ে যাবে। সবাই মিলেজুলে ঝগড়া-হাসিতে ভালোবাসা-বাসিতে মধ্যবিত্তের দিন গুজরান, যেখানে সুখ হয়তো বিন্দুসম, কিন্তু স্বস্তি অগাধ।




আমরা কিশোর ছিলাম, টিন-এজার হতে পারিনি। কৈশোর যে কোন মুহূর্তে এসে টিন-এজ হয়ে গেল, জানতেও পারিনি। কাগজে যখন দেখি, ক্লাস এইটে উঠলেই বাধ্যতামূলক মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার নিদান দিচ্ছেন জ্ঞানী মানুষজন, তখন নিজেকেই কেমন অসম্পূর্ণ লাগে। মনে হয়, কোথাও হয়তো কোনও ভুল থেকে গেল। কোথাও হয়তো মস্ত কোনও ভুল হয়ে যাচ্ছে। সমস্যা হল, সেই ভুলটা কী, জানি না। রিপ ভ্যান উইঙ্কল-এর মতো কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হিসেবের খাতা যখনই হাতে নিয়েছি , তাতে দেখি শুধুই রক্তক্ষরন, মাঝে মাঝে হঠাৎ চমকে উঠে ভাবি, আরে, কোথায় ছিলাম আমি? কোথায় ছিলাম? সে যে এক গভীর নীল স্নিগ্ধ জগৎ। সেখানে এক অদ্ভুত আলো ছিলো। ছিল এক বিচিত্র সুন্দর শব্দ। সেই আমার জগৎ থেকে কে আমাকে এখানে আনলো? কেন আনলো এই মৃত্যুশীলতার মধ্যে, যে পথ দিয়ে আমি এসেছিলাম সেই পথের দুধারে ছিল অনেক তারা নক্ষত্র, সেই বীথিপথটি অনন্ত থেকে ঢলে গেছে অনন্তে। তার শুরু নেই, শেষও নেই। সেই পথে চলতে চলতে কেন আমি থেমে গেলাম? নেমে এলাম এইখানে?

আকাশে ঘনিয়ে আসে বর্ষার গাঢ় মেঘ। ঘন মেঘের ছায়া পড়ে চারধারে। বর্ষার ব্যাঙ ডাকে। বৃষ্টি নামে। আমি আমার দরজার চৌকাঠে বসে সেই বৃষ্টির দৃশ্য দেখি। কোন দূর থেকে বৃষ্টির ফোঁটা গুলি আসে? গাঢ় ভালোবাসায় মাখে মাটিকে, ভিজিয়ে দেয় গাছপালা। ্বৃষ্টির শব্দে যেন কোন ভালোবাসার কথা বলা হতে থাকে। ওই যে বর্ষার ব্যাঙ ডাকে, গাছপালার শব্দ হয়, আমি প্রান দিয়ে শুনি। মনে হয়, ওই ব্যাঙের ডাক মেঘকে ডেকে আনে, গাছপালা তাঁকে আকর্ষন করে, মাটিতে টেনে নামায় মেঘ থেকে জল, এরকম টান ভালোবাসার ওপরই চলছে সংসার। আমি চৌকাঠে বসে থাকি, চোখের পলক পড়েনা, আমি দেখি শীতের কুয়াশা, বৈশাখের ঝড়।




মাঝরাতে বাগানের ছায়াগুলো বেঁকে ভেঙ্গে যাচ্ছিলো। জ্যোৎস্না তীব্র হয়েছে। ফুলের গন্ধ গাঢ়, মন্থর হয়েছে বাতাস। দুঃখীদের জন্য স্বপ্নের সন্ধানে বেরিয়েছেন ঈশ্বর, আনাচে-কানাচে ঘুরে তিনি চরাচর থেকে স্বপ্নদের ধরেন নিপুন জেলের মতন। আঁজলা ভরা সেই স্বপ্ন তিনি আবার ছড়িয়ে দেন। মাঝরাতে তারার গুঁড়োর মত সেই স্বপ্নেরা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীতে।

মানুষের মধ্যে সবসময়ই একটা ইচ্ছে বরাবরই চাপা থেকে যায়। সেটা হচ্ছে সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার ইচ্ছে। কোথাও কেউ একজন বসে আছেন প্রসন্ন হাসিমুখে, তিনি আমার কিছুই চান না, তবু তাঁকে আমার সর্বস্ব দিয়ে দেওয়ার কথা। টাকা-পয়সা নয়, আমার বোধ-বুদ্ধি-লজ্জা-অপমান-জীবনমৃত্যু-সবকিছু। বদলে তিনি কিছুই দেবেন না, কিন্তু দিয়ে আমি তৃপ্তি পাব। রোজগার করতে করতে, সংসার করতে করতে মানুষ সেই দেওয়ার কথাটা ভুলে যায়। কিন্তু কখনও মানুষ মরবার সময়ে দেখে, সে দিতে চায়নি, কিন্তু নিয়তি কেড়ে নিচ্ছে, তখন মনে পড়ে, এর চেয়ে স্বেচ্ছায় দেওয়া ভালো ছিল।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3174276807"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কিছুদিন ধরেই মনটা পালাই পালাই করছে। মনে হচ্ছে, আমি একটা ভুল জায়গায় আছি, আমার অন্য কোথাও থাকার কথা ছিল।
এক-একদিন বন্ধু-বান্ধব কেউ থাকে না। যারই বাড়িতে যাই সে নেই, প্রত্যেকেরই সেদিন অন্য কোন কাজ থাকে। আমার অভিমান হয়, কেউ একবারও ভাবলো না, আমি কি করে সন্ধ্যেবেলা একা থাকব? সেই অভিমান থেকে মনখারাপ, উদ্দেশ্যহীন হয়ে ঘুরতে থাকি, আর বার বার নিজেকে বলি, আমায় কেউ মনে রাখেনি। তারপর একসময় পুরো ব্যাপারটাই যে একটা হাস্যকর ছেলেমানুষী তা বুঝতে পেরে বাড়িতে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ি।

স্যার আশুতোষ মুখার্জীর বাড়ির সামনে থেকে দুটি মেয়ে মন্থর ভাবে রাস্তা পার হয়। শীতকালীন মসৃন মাধুর্য্য লেগে আছে তাদের মুখে, সেই রুপের ঝাপটা এসে আমার গায়ে লাগে। আমি মনে মনে বলি, ওরা আমার কেউ নয়। ওরা আমাকে কোনোদিন চিনবে না।

একটা গাড়ি বারান্দার নিচে একটা ভিখিরি পরিবার কদিন ধরে বাসা বেঁধেছে। অন্যদিন লক্ষ করিনা, হঠাৎ একদিন দেখলাম, ভিখিরি মা ইটের তোলা উনুনে মাটির হাঁড়িতে খিচুরী চাপিয়েছে। অনেকখানি হলুদ মেশানো গাঢ় হলদে রঙের খিচুরীতে অনেকখানি নানা রঙের ডাল। বাচ্চাগুলো উনুনের সামনে গোল হয়ে বসা-আনন্দে চকচক করছে তাদের চোখ। আমার কষ্ট হয়, আমার মনে হয়, আমি কেন ওদের আত্মীয় হতে পারলুম না? কেন আমি ওদের পাশে বসে এইরকম খিচুরী ভোগ পেতে পারি না?

জানালা দিয়ে জলন্ত সিগারেটের টুকরো ছুঁড়ে ফেলা আমার একটা বদ অভ্যেস। যখনই মন খারাপ থাকে, তখনই মনের উপর আর কোনো অধিকার থাকেনা। সেরকম অনেকদিন বাদে, অন্য কি একটা কথা ভাবতে ভাবতে সিগারেটের শেষ অংশ ছুঁড়ে দিয়েছি জানলা দিয়ে, একটা লাল টুকটুকে লেপের উপর পড়েছে আমার সিগারেটের টুকরোটা, এবং ধোয়াচ্ছে। তুলোর আগুন সাংঘাতিক, কখনও দাউ দাউ করে জ্বলেনা, ভেতরে ভেতরে ছারখার।
প্রথমেই ভাবলাম, আমি এই মুহুর্তেই বাড়ি থেকে কেটে পড়লে কে আর বুঝবে এই দুষ্কর্মটি আমার? অন্য যার ঘাড়ে দোষ পড়ে পড়ুক। পরমুহুর্তেই মনে হল, এখনো চেষ্টা করলে লেপটাকে বাঁচানো যায়। ও বাড়ির মেয়ে দোতালার জানালার কাছে রোদে বসে পার্ট টু পরীক্ষার পড়া পড়ছিল, আমি তাঁকে বললাম, এই শোনো শোনো!
সে অবাক হয়ে আমার দিকে তাকালো। কোনো দিন তার সঙ্গে ডেকে কথা বলিনি। আমি বললাম, শিগগির একবার ছাদে এসো তো, শিগগির, এক্ষুনি।
আমার ব্যাগ্রতাকে মেয়েটি অগ্রাহ্য করতে পারল না, বই মুড়ে রেখে মেয়েটি ওপরে উঠে এলো। এরমধ্যেই সিগরেটের টুকরোটা টুপ করে খসে পড়ে গেল নিচে, লেপটার কিছুই ক্ষতি হয়নি, শুধু একটা ছোট্ট কালো দাগ পড়েছে, হয়টো কারুরই নজরে আসবে না। পুরো ব্যাপারটা চেপে গেলেই তো হয়।
কিন্তু ততক্ষনে মেয়েটি ছাদে উঠে এসেছে। ভুরু কুঁচকে িজ্ঞাসা করলো, কী?
আমার আর একটা দোষ এই, আমি ঠিক দরকারের সময় মিথ্যে বলতে পারি না। আমি তো-তো করে বললাম, এই না, মানে হঠাৎ মনে হল...। মেয়েটি এমনভাবে আমার দিকে তকালো, যেন আমি মানুষ নয়, অন্য কোন অদ্ভুত প্রানী। পরীক্ষার পড়া থেকে তুলে একটি মেয়েকে ছাদে ডেকে এনে যে কোনো কথা বলতে পারে না, সে কি মানুষ হতে পারে? জানালার কাছ থেকে সরে এসে আমি নিজের কান মুলে বললাম, স্টুপিড, জীবনে আর যদি কক্ষনো সিগরেত খেয়ে...।

কিছুদিন ধরেই এইসব ভুল ব্যাপার ঘটে যাচ্ছে পরপর, নানা লোক টুকটাক অপমান করে যাচ্ছে বিনা কারনে। একএকটা সময় আসে যখন দিনের পর দিন চলে গন্ডগোলের দিকে।

গার্হস্থ্য আশ্রম থেকে  চির বিদায় নেবার সাহস আমার নেই, তবু মাঝে মাঝে ছুটি তো নিতেই পারি। ঠিক করলাম, আজই বেরিয়ে পড়বো। কোথায় যাব জানিনা, তবু কোথাও যেতে হবে।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="5898435076"
     data-ad-format="auto">



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে। কিছু ঘটনা আমাদের অজান্তেই আমাদের হঠাৎ আলতো করে নাড়িয়ে দিয়ে যায়, বুঝতে পারি জীবনটা বড্ড বেশি ক্ষনস্থায়ী, আঙুলের ফাঁকগলে কখন যে সোনালী মুহুর্তগুলো উড়ে গেলো…
কথা ছিলো এক মেঠো পথ আর তার শেষে একটা কুঁড়ে ঘর পেলে আমরা দুজনেই শহর ছাড়বো। জানিস বকুল, আজ আমরা দুজনেই শহর ছেড়েছি, হয়তো তোর ফেলে যাওয়া পথেই হেঁটে যাচ্ছি, তোর ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসগুলো বুকপকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তবু আজও আমাদের সেই মেঠোপথ আর কুঁড়েঘর পাওয়া হয়নি।

আজ দেখি, সেই দুরন্ত মেয়েটি বারান্দায় রেলিঙে ভর দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে, বাদলশেষের ইন্দ্রধনুটি বললেই হয়। তার বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ আজ অচঞ্চল, তমালের ডালে বৃষ্টির দিনে ডানাভেজা পাখির মতো।
ওকে এমন স্তব্ধ কখনো দেখি নি। মনে হল, নদী যেন চলতে চলতে এক জায়গায় এসে থমকে সরোবর হয়েছে।

অনেকদিন পর অচিন্ত্যবাবুকে দেখলাম পাথরের মূর্তিছেড়ে স্কুলমাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনীর কথা; অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সূত্র আর রঞ্জিনী বলেছিল মৃত্যুর পর ওর দেহটা আপেল গাছ হয়ে যাবে, আমি বলেছিলাম, আমার আপেল একদমই পছন্দ না; রঞ্জিনী রেগে গিয়ে বলেছিল সেই কারনেই ও আপেল গাছ হতে চায়।
আমি জানিনা রঞ্জিনী এখন কোথায়, আদৌ সে আপেল গাছ হতে পেরেছে কি না...আমার জানা নেই অচিন্ত্যবাবু মাঠছেড়ে আবার পাথরের বেদিতে ফিরে গেছেন কি না।

আমি দেখতে পাই মাঝরাতে শহরের রাস্তাগুলো একে একে নদী হয়ে যাচ্ছে, আমার মনে পড়ে তালদিঘিটির কথা, যার জল কাকচক্ষুর মতই স্বচ্ছ ছিল…মনে পড়ে যায় ছোটোবেলার কথা।
তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। জিওগ্রাফি পড়ান অসিত বাবু।  তিনি ক্লাসে ঢুকলে চেয়ার টেবিলগুলো পর্যন্ত ভয়ে কাঁপে। মানুষটা ছোটোখাটো, কিন্তু হাতের থাবাটা বিশাল। আমাদের ধারনা ছাত্রদের গালে চড় বসানোর জন্য ভগবান স্পেশালভাবে এই হাত তৈরী করে দিয়েছেন। স্যারের চড়েরও নানা নাম ছিল-রাম চড়, শ্যাম চড়, মধু চড়।

এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে রাম চড়, আর কোমল হচ্ছে মধু চড়। স্যার সেদিন পড়াচ্ছেন বাংলার নদ নদী। ক্লাসে ঢুকেই আমার দিকে আঙুল বাড়িয়ে বললেন, এই একটা নদীর নাম বলতো। চট করে বল।
অসিত বাবু কোনো প্রশ্ন করলে কিছুক্ষনের জন্য আমার মাথাটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। কান ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। মনে হয়, মাথার খুলির ভেতর জমে থাকা কিছু বাতাস কানের পর্দা ফাটিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

কি ব্যাপার, চুপ করে আছিস কেনো? নাম বল।

আমি ক্ষীনস্বরে বললাম আড়িয়াল খাঁ।

স্যার এগিয়ে এসে প্রচন্ড চড় বসিয়ে দিলেন। খুব সম্ভব রাম চড়। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এত সুন্দর নাম থাকতে তোর মনে এলো আড়িয়াল খাঁ? সবসময় ফাজলামি? কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
আমি কান ধরে সারাটা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকলাম।

ঘন্টা পড়ার মিনিট পাঁচেক আগে পড়ানো শেষ করে স্যার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কাছে আয়।

আরেকটি রাম চড় খাওয়ার জন্য আমি ভয়ে ভয়ে স্যারের কাছে এগিয়ে গেলাম। স্যার এমন ভঙ্গিতে আমার মাথায় আর পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন যে আমার চোখে জল এসে গেল। স্যার বিব্রত গলায় বললেন, আমি তোর কাছ থেকে সুন্দর একটা নদীর নাম শুনতে চেয়েছিলাম, আর তুই বললি আড়িয়াল খাঁ। আমার মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে। আচ্ছা এখন সুন্দর  একটা নদীর নাম বল। আমি শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে বললাম ময়ুরাক্ষী।
ময়ুরাক্ষী? এই নাম তো শুনিনি। কোথাকার নদী?
জানিনা স্যার।
স্যার হাল্কা গলায় বললেন আচ্ছা থাক, না থাকলে নেই। এটা হচ্ছে তোর নদী। যা, জায়গায় গিয়ে বস। এমনিতেই তোকে স্বাস্তি দিয়ে আমার মনটা খারাপ। তুই তো দেখি কেঁদে কেঁদে আমার মনখারাপটা বাড়াচ্ছিস। আর কাঁদিস না।

আমি ফিরে যাই আমার একান্ত চিলেকোঠায়।

সিঁড়িতে লেগে থাকে অসহায় ভাবে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি চলে যাওয়া অভিমান!

ছেলেবেলার প্রেমিকারা কেমন আছো? চিলেকোঠারা ভালো নেই তোদের ছাড়া। তোমাদের ছাড়া।
তোমরাও কি আমার মতই বড়ো হয়ে গেছো!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মাঝেমধ্যে মাঝরাতেই হুট করে একটা গীটার হয়ে যাওয়ার ইচ্ছে জাগে।  আঙ্গুল,চুল, শাদা টিশার্ট আর এখানে সেখানে লেগে থাকার লোভ'টা খুব বেশি কড়া!   আজকাল কোনো কারন ছাড়াই বড্ড মন খারাপ করে, মনকেমনের পাখিরা ভীড় করে আছে পুরো আকাশ জুড়ে। যখন মনখারাপের মেঘগুলো নদীর দুকুল ছাপিয়ে যায়, তখন তোর কথা বড় বেশিই মনে পড়ে। খুব ইচ্ছে করে তোর কাছে ফিরে যাই।

বকুল, তুই হয়তো জানিস না, আমার শৈশবের নদীটাও হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে ছেলেবেলার চিলেকোঠা। এইতো গতবছর বন্যায় আমার প্রিয় আকাশমণি গাছটাও ভেসে গেলো। অনেক কিছুই হারিয়ে গেলো, সকাল, দুপুর, রাত। আজকাল আর কোনো কিছুই হারানোর ভয় কাজ করে না।

আজকাল বাবা’র জন্য খুব মনকেমন করে। কলেজের ফার্স্ট সেমিস্টারের একটা অথবা দু’টো পেপার শেষ হয়েছে, পরীক্ষা দিয়ে হস্টেলে ফিরছি, তখনই মায়ের ফোন, বাবা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। নাহ, আমার আর হস্টেলে ফেরা হয়নি, বাড়ি ফিরে বাবার শেষ কাজ সম্পন্ন করে ফিরলাম কলেজে। দু’টো পেপার দিতে পারিনি।
এই কথাগুলো কাউকেই বলতে পারিনা, বাবা’র চিতার ধোঁয়াগুলো যখন পাক খেতে খেতে আকাশে মিশে যাচ্ছিলো তখন বাবার জন্য দু:খ হয়নি, মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিলো দুটো এক্সাম পেপার মিস হয়ে যাওয়াটা। একটা মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে তাই না!

বাবাকে নিয়ে বিশেষ কোনো ঘটনা আমার মনে পড়েনা, আজও আমি স্মৃতি হাতড়ে বেড়াই, খুঁজে বেড়াই …

আমি অপেক্ষা করি, থাক বলবনা কিসের অপেক্ষা করছি। ভর সন্ধ্যেয় যখন চারিদিকে হাহাকার ধ্বনি ধ্বনিত হয়ে থাকে  তখন ব্যক্তিগত অপেক্ষার কথা বলতে হয় না।

“দুঃখ তোমার কেড়ে নিতে চায় যত
এমন একটা নাছোড়বান্দা ছেলে
সুখের দিনে নাইবা পেলে পাশে
খবর দিও হঠাৎ কান্না পেলে”

পৌনঃপুনিকতা বড্ড বাজে জিনিস; জীবনে কোনো গল্প নেই, জীবনটাকে একটা সরলরেখা হিসেবে চিন্তা করে সময়নিরপেক্ষ যে কোনো একটা অংশ তুলে নিলেই পুরো জীবনের রেপ্লিকা পাওয়া যাবে। কোনো গল্প নেই, কোনো বিশেষ ঘটনা নেই; বড্ড খারাপ।
শহরের কোনো পুকুরের পাড়ে মাটি নেই। সেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টির মাঝে আমি বসে থাকবো; একা এবং একাকী। পুকুরের পাশ দিয়ে চলে গেছে কালো পিচ মোড়ানো একটা পথ, সেই পথটাও ফাঁকা থাকবে। আমি বৃষ্টির মাঝে তাকিয়ে দেখবো নীলছাতা মাথায় দিয়ে গুটিগুটি পায়ে কে যেন এগিয়ে আসছে।

মন, অনেক বড় বড় শহর দেখেছো তুমি; সেই সব শহরের ইট পাথর, কথা কাজ আশা নিরাশার ভয়াবহ হৃত চক্ষু আমার মনের বিঃস্বাদের ভেতর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে; কিন্তু তবুও শহরের বিপুল মেঘের কিনারে সূর্য্য উঠতে দেখেছি, বন্দরের ওপারে সূর্য্যকে দেখেছি মেঘের কমলা রঙের ক্ষেতের ভিতর প্রণয়ী চাষার মত বোঝা রয়েছে তার; শহরের গ্যাসের আলো উঁচু উঁচু মিনারের উপরও দেখেছি, নক্ষত্রেরা অজস্র বুনো হাঁসের মত কোন দক্ষিন সমুদ্রের দিকে উড়ে চলেছে। হায় মেঘ, পর্যটক কুমারী মেঘ, তুমি উড়ে গেলে সবুজ কান্না ঝরবে নীলকন্ঠ পাখির চোখে।

এই শহরের কঠিন আস্তরনের উপর ঋতুচক্র তার কেরামতি দেখাতে পারে না। বুড়ো যাদুকরের মত সে ধুঁকতে ধুঁকতে আসে বটে, কিন্তু পরনের ছেঁড়া পাতলুন নোংরা জামা পথে পথে ঘুরে বেড়িয়ে ফিরে যেতে হয় তাকে। এ শহর তার জায়গা নয়। একটা মস্ত শিউলি গাছে শরৎকালে অজস্র ফুল ফোটে বটে, কিন্তু সেই গাছটার তলায় ডাই হয়ে জমে থাকে আবর্জনা, ময়লা জল। গাছ ফুল ফোটায়, ফুল ঝরায়, কেউ ফিরেও তাকায় না। শুধু আমি লোভির মত চেয়ে থেকে ভাবি এক আঁজলা যদি পাওয়া যেত।

মাঝরাতে অন্ধকার এক জংশনে গাড়ি থেকে নামি। ঘোর অন্ধকার প্লাটফর্ম পেরিয়ে ওপাশে এক অন্ধকার ট্রেনের কামরায় উঠি; একা। ট্রেন ছাড়ে, দুলে দুলে চলে। কোথায় যাচ্ছি তা প্রশ্ন করতে নেই। কেউ জবাব দেবে না। কিন্তু জানিস বকুল, জানালায় তোর মুখ ভেসে ওঠে, করুন তীব্র এক স্বরে তুই বলিস “ পৃথিবী আর সুন্দর থাকবে না যে; ফুল ফুটবে না আর, ভোর আসবে না।” আমি একটু হাসবার চেষ্টা করি, বলি, বড় মারে এরা; বড্ড ভুল বোঝে। প্রত্যাখান করে। তার চেয়ে এই লম্বা ঘুমই ভালো। অনেক দিন ধরে আমি এইরকম ঘুমিয়ে পড়তে চাইছি।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="5898435076"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমার মানিয়ে নেওয়া অবসরে বেমানান তুমি লিখেছিললে "তুই পাগল করতে পারিস এখনো।"নিজের ভেতরেই আছে অলৌকিক। কখনও কখনও তাকে টের পাওয়া যায়। তাই তুমি একবার স্বপ্নে এক জনহীন প্রান্তুরে দাঁড়িয়ে এক নীল অতি সুন্দর বর্নের উড়ন্ত সিংহকে তোমার নিকটবর্তী হতে দেখে ভয় পেয়েছিলে। অথচ ভয়ের কোনো কারন ছিল না, কেন না সেই সিংহের নীল কেশর, নীল চোখ ও নীল নখ সবই হিংস্রতা শূন্য ছিল। এবং সেই নীলবর্নের সিংহের বাসস্থান ছিল না বলে সে অতি নম্র ভাবে তোমার সামনের ভূমি স্পর্শ করে তোমার কাছে একটি বাসস্থানের সন্ধান জানতে চায়, কেননা তুমি এই পৃথিবীর আইনসম্মত বসবাসকারী।

তুমি নিজেও জানোনা কেন তুমি তাকে উপর্যুপরি গুলি করেছিলে। কেন? সেই গুলির শব্দ শুনে এবং আহত ও ক্রুদ্ধ সেই সিংহ তার ক্ষতস্থান কামড়ে ধরে তোমার দিকেই ফিরে তাকাল। তোমার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। ঘুম থেকে জাগরনের ভেতর চলে আসবার সময় তুমি যখন এক সুক্ষ্ম বাধাকে অতিক্রম করছিলে তখন তোমার এক অংশ জাগ্রত ছিল, অন্য অংশকে ভয়ে আর্তনাদ করতে শুনেছিলে।
স্বকন্ঠের সেই স্বপ্নাবিষ্ট আর্তনাদ আজও তোমার পাপাবোধকে তাড়িত করে। কিংবা একবার স্বপ্নে তুমি তোমার বন্ধু অতীশকে খুন করেছিলে বলে জাগ্রত অবস্থায় তুমি বহুদিন বিমর্ষ ছিলে। তোমার প্রশ্ন এই যে, স্বপ্নেও কেন তুমি হত্যাকারী?

কিংবা আর একদিন, যেদিন তোমার ছিমছাম শূন্য বাড়িতে অনেকদিন পর মনোরমা এসেছিল। সন্ধ্যে হয়ে গেলেও তুমি আলো জ্বালোনি, আধো অন্ধকারেই সুবিধে ছিল তোমার। মনোরমা অনেক্ষন গ্রামাফোন বাজালো, তারপর "ধ্যুত, কিছু ভালো লাগছে না" বলে পিয়ানোর কাছে উঠে গিয়ে জানালার দিকে পিঠ করে বসল। যদিও সে পিয়ানো বাজাতে জানত না, তবুও ওই জায়গাটা ছিল তার প্রিয়, কেননা ওখান থেকে পুরো ঘরটার দিকে না তাকিয়েও তোমাকে দেখা যায়। তুমি তোমার হেলেনো চেয়ারে পড়েছিলে মনোরমার মুখোমুখি। মনোরমা সারাক্ষন দেখছিল তোমাকে-চোখ না খুলেও টের পাচ্ছিলে তুমি। তুমি কেন তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছ তা জানবার কৌতুহল থাকলেও সে কোনো প্রশ্ন না করেই তা জানতে চেয়েছিল। তুমি কি করে তোমার সেদিনকার হৃদয়হীন কথাবার্তা শুরু করবে তা ভেবে পাচ্ছিলে না। কেন না কথা গুলো বলা হয়ে গেলে মনোরমা চলে যাবে-এই যাওয়াটা তাঁর পক্ষে কতটা অপমানকর তা ভেবে মনে মনে বড় কষ্ট পাচ্ছিলে তুমি। তুমি একপলক চোখ খুলে দেখলে সে অন্যমনষ্ক দৃষ্টিতে আলমারীতে সাজানো খেলাধুলোয় পাওয়া তোমার ট্রফিগুলো দেখছে। পরমুহুর্তেই উঠে গেল সে ছায়ার মত বইয়ের র‍্যাকের কাছে, টেলিফোনের কাছে, ড্রেসিং টেবিলের কাছে পরপর দেখা গেল তাকে। আবছা গলা শোনা গেল তাঁর "তুমি কি ভীষন চরিত্রহীন সুমন!" তুমি ভেবে পেলেনা-ও কি করছে। কিন্তু সুযোগ বুঝে তুমি বলতে শুরু করেছিলে ' শোনো মনোরমা...'মনোরমার ছায়াকে আবার পিয়ানোর কাছে দেখা গেল। তুমি আবার বললে, 'শোনো মনোরমা...'  পরমুহুর্তে মাথা নিচু করল মনোরমা, তাঁর ডানহাত কোলের উপর থেকে শাড়ির আঁচল তুলে নিলে তুমি অতর্কিতে বুঝতে পারলে মনোরমা কাঁদছে। তুমি তাড়াতাড়ি উঠতে যাচ্ছিলে, তুমি কিছু বলবার চেষ্টা করছিলে, কিন্তু তাঁর আগেই কান্নার ঝোঁকে ভর রাখতে গিয়েই মনোরমা বাঁ হাত বাড়িয়ে পিয়ানোর এলোমেলো রিডগুলি ছুঁয়ে গেলে তুমি তড়িতদাহের মত স্থির হয়ে গেলে। ধীর গম্ভীর স্বরে সেই পিয়ানো তোমাকে চুপ করতে বলল। তুমি আর একবার উঠবার চেষ্টা করলে। পিয়ানো গর্জন করে উঠল। যেন মনোরমার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডালা খোলা প্রকান্ড সেই অন্ধকার পিয়ানো তোমার উপর লাফিয়ে পড়বে। তুমি আবার মনরমার স্বর শুনতে পেলে, " সুমন, তুমি চরিত্রহীন-"
স্থলিতকন্ঠে তুমি আবার মনোরমার নাম ধরে ডাকলে। ঠিক সেই সময়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে ভারসাম্য রক্ষার জন্য মনোরমা আবার পিয়ানোর রিডে হাত রেখেছিল, তাঁর অশিক্ষিত অপটু হাতে পিয়ানো তীব্রভাবে বেজে উঠলে ঘরের সবকিছু প্রান পেয়ে গেল। অর্থহীন শ্বেতপাথরের টেবিল, টেলিফোন, ওয়ার্ডরোব এ সব কিছুই তোমার উপর লাফিয়ে পড়বে-তোমার মনে হল। তীব্র এবং অলৌকিক ভয় থেকে তুমি দেখলে এ ঘরের সব কিছুই মনোরমার। তোমার ট্রফিগুলো, হেলানো চেয়ার, গ্রামাফোন বইয়ের র‍্যাক সবকিছুই মনোরমার, তুমি আগন্তুক মাত্র। মুহুর্তেই হাঁটু গেড়ে এই কথা বলার অলৌকীক ইচ্ছা হয়েছিল তোমার যে "ক্ষমা করো"
তুমি নড়তে পারলে না।
মনোরমা তড়িতগতিতে তাঁর ব্যাগ কুড়িয়ে নিল, তুমি তাঁর আধাভাঙ্গা কথা শুনতে পেলে, "আমি সব জানি, কিন্তু তুমি কখনও বলো না সুমন...বোলো না..."

পিয়ানোর ভেতর অলৌকীক বলে কিছু নেই, কিন্তু কোথাও ছিল সেই ঘরে, অন্ধকারে, তোমার স্পর্শকাতরতার ভেতরে পিয়ানোর সেই অচেনা নোট -মনোরমা না জেনে কয়েক মুহুর্তের জন্যে সেইখানে তার হাত রেখেছিল।



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তবুও আমরা পাশাপাশি থেকে যাই। কোন এক বিকেলে হয়তো মেঘপিয়নকে সাক্ষী রেখে মহাকালের যাত্রায় আমিও বিলিন হয়ে যাবো। তখনও তুমি বুঝে নিয়ো - কেউ একজন ছিলো তোমার একলা মনে একলা হয়ে।শীতের শেষে বসন্তের গোড়ার দিক, তখন বাতাসে টান লেগেছে। শুকনো পাতারা টুপটাপ করে ঝরে শেষ হয়েছে। খেতে মটর শাকে পাক ধরেছে। যারা শুকনো কাঠ-পাতা কুড়োতে যেত তাদের দিন গেল।
এমনি একদিন শেষ দুপুরে অনেক দূর থেকে বাশিওয়ালা আমার দাওয়ায় বসল। আমি কখনও এই বাশিওয়ালাকে দেখিনি।
সে বলল, 'আমি বাঁশি বিক্রি করিনি, বাঁশির সুর বিক্রি করি।' এই বলে সে তার বাঁশিতে এক অদ্ভুত সুর বাজালো। আমি বললাম, 'বাঁশিতে তুমি কী সুর বাজালে আমি তার কতক বুঝলাম, কতক বুঝলাম না।

বাঁশিওয়ালা তার ঘন ভ্রুর নীচে গভীর গর্তের মত চোখ দুটো দিয়ে আমায় দেখল। বলল, " এ সুর আমি কোথাও শিখিনি। কেউ আমাকে শেখায়নি। আমি হাটে মাঠে ঘাটে যা শুনি, তাই বাজিয়ে বেড়াই। কখনও নোঙর করা নৌকায় জলের ঢেউ লাগবার সুর, কখনও শুকনো পাতায় বাতাস লাগবার সুর।"

সে আবার তাঁর বাঁশিতে ফুঁ দিল। শেষে শীতের শুকনো বাতাসে বাঁশির টান লাগল। কয়েকটা সুর তীরের মত আকাশে ছরিয়ে মিলিয়ে গেল। আমার চোখের সামনে দুপুরটা মাতালের মত টলতে লাগল। যেন অনেক দুরের পথ। আমাদের এই মৌরী ক্ষেত ডিঙিয়ে ধানের আবাদের পাশ দিয়ে পাহাড় পেরিয়ে চলেছে-চলেছে। কত গঞ্জ, কত ব্যাপারির আস্তানা, কত বন্দর, ঘাট মাঠ পেরিয়ে যাওয়া দেশ। বাঁশির সুর সেই দূর দুরান্তের আভাস মাত্র দিয়ে কোকিলের অস্পষ্ট ডাকের মত নরম, বিষণ্ণ হয়ে ফিরে ফিরে আসছে। সেই পথ ধরে অনেক আলো, অনেক অন্ধকার মাড়িয়ে কে যেন আসছে।

বাঁশিওয়ালা সুর পালটিয়ে অন্য সুর ধরল। কখন আমার চোখ ছাপিয়ে কান্না এসেছে। এ কেমন সুর যা দিনের আলোকে অন্ধকার করে দেয়। যেন এতদিন মাঠটা ছিল রোদে পোড়া, ফাটা ফাটা। একদিন পাহাড়ে মেঘ জমল। বৃষ্টি নামল। অঝোর ধারার বৃষ্টি। মাটির কোষে কোষে জল ঢুকল। বীজধান ফুলে উঠল। বুক ফাটিয়ে শীষ বার করল আকাশে।

বাঁশিওয়ালা চলতে লাগল। আমি দেখলাম শীতের ঘন রোদে রোগা দুটো পায়ে রাঙা ধুলো মেখে সে আস্তে আস্তে আমাদের পাড়া ছাড়িয়ে চলে যাচ্ছে। কেউ তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য ডাকছে না। শেষ শীতের গরম দুপুরে সেই অদ্ভুত বাঁশিওয়ালা আর তার সুর দূর থেকে দুরান্তে মিলিয়ে গেল।

বাঁশিওয়ালা তাঁর প্রথম সুরে বলেছিল ঘর বলতে তোর কোন কিছুই নেই। কোনওদিন ছিল না। বৃথাই তুই সারা বিকেল আগুন জ্বেলে পাহাড়ের দিকে চেয়ে রইলি। যারা পাহাড়ের ওপারে গেছে তারা আর কোনোদিন ফিরবে না। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
ছেলেবেলায় খুব ঘুড়ি ওড়াবার সখ ছিল। বিশ্বকর্মা পূজার দিনটাকে মনে হত বছরের শ্রেষ্ঠ দিন। দিগন্ত থেকে একটা কাঁটা ঘুড়ি উড়তে উড়তে এসে যদি আমারই ছাদে পড়ত - তবে তাঁর চেয়ে বড় উল্লাস আর কিছুতে বোধ করিনি। আকাশের একটা বদ অভ্যেস আছে, ঠিক বিশ্বকর্মা পূজার দিন একবার অন্তত বৃষ্টি ঝরানো। এ জন্য আকাশের দেবতাকে কত অভিশাপ দিয়েছি।

খুবই নীচের ক্লাসে তখন পড়ি, একটা রচনা এসেছিল- ' তোমাকে যদি একহাজার টাকা দেওয়া হয়, তুমি কি করবে? ' 
অন্য ছেলেরা খুব বুদ্ধিমান, তারা কেউ লিখলো ভিখিরিদের খাওয়াবে, কেউ লিখল নাইট স্কুল স্থাপন করবে। এমন কি একজন লিখেছিল যে, গ্রামে গ্রামে গিয়ে টিউবওয়েল বসিয়ে দিয়ে আসবে। 
আমি লিখেছিলুম, " আমি ঘুড়ির দোকান করিব, এবং কম দামে ঘুড়ি বিক্রয় করিব।" 
পরোপকারের চেয়ে বড়ো উপায় আমার জানা ছিল না। নাজির হোসেনের ঘুড়ির দোকানের সামনে আমি কতদিন করুন চোখে তাকিয়ে থেকেছি। কাল রঙা কড়ি চাদিয়ালের জন্য আমার অসম্ভব লোভ ছিল।
মাস্টারমশাই আমার রচনা পড়ে কান মুলে দিয়ে বলেছিলেন, ঘুড়ির দোকান? তোর দ্বারা ওর চেয়ে বেশি কিছু আর হবেও না জীবনে।

তারপর সত্যি সত্যিই কলেজ টলেজ ছেড়ে এসে বয়েসে বড় হয়েছি, কিন্তু আর কিছুই হইনি। কোথাও যেন একটা ভুল হয়ে গেছে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দুর্বোধ্য অনর্থক মনে হয়। যারা বারবার স্বপ্ন বদলায়, তারাই ভুল করে বোধহয়।

ছেলেবেলায় যাকে দেখেছি, তখন থেকেই ঠিক করে রেখেছে ডাক্তার হবে, সে ডাক্তারই হয়েছে। আর কিছু হতেও চায় নি। বাবলু ডাক্তার হতে চেয়েছিল। ডাক্তার হয়ে বাব্লু সত্যিই খুশি। মুরারীর ইচ্ছা ছিল লেখক হবে। ক্লাস টেনে থাকতেই মুরারী দুটি নাটক লিখে ফেলে সগর্বে ঘোষনা করেছিল, দেখিস, বড় হয়ে একদিন আমি রাইটার হব। আমি ভক্তের মত মুরারীর দিকে তাকিয়ে থাকতুম। মুরারী এখন বড় অফিসার, যথেষ্ট ডিএ বাড়ছে না, এই তাঁর দুঃখ।
আমার স্পষ্ট মনে আছে ইতিহাস ক্লাসে সুবিমল বলেছিল বড় হয়ে ও নান দেশ ঘুড়ে বেড়াবে। সুবিমলের সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা হয়। একটা ওষুধ কোম্পানি সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ। প্রায়ই দূরে নানান যায়গায় যেতে হয়। দেখা হলেই বলি, কি রে কেমন আছিস? চলি, বড় ব্যস্ত আছি। সন্ধ্যেবেলা দিল্লি এক্সপ্রেস ধরতে হবে।

কখনো কখনো খুব অদ্ভুত লাগে। জানালার সামনে ঠক করে একটা কালো চাদিয়াল ঘুড়ি এসে পড়লো। আগে এইরকম ঘুড়ি দেখলে বুকের মাঝে দুপ দাপ করতো। আজ আমি একটু উঠে হাত বাড়ালেই ওটাকে ধরতে পারি। কিন্তু কোনো ইচ্ছেই হল না। দূর থেকে কতকগুলো ছেলে ওটাকে নেবার জন্য ছুটে আসছে। আমি হাঁসি মুখে ওদের দিকে তাকিয়ে আছি। যে ছেলেটা সবথেকে আগে ছুটে আসছে, ওর মুখটা অনেকটা আমারই ছেলেবেলার মুখের মতন দেখতে না।

ছেলেবেলার এসব স্বপ্ন গুলো কোথায় যায়? ছেলেবেলায় ভাবতুম, বড় হয়ে শুধু অফিসে চাকরি করা, সংসার পেতে বাড়ি বানানো, এই শুধু জীবন নাকি? আসল জীবন অন্যরকম। কি রকম ঠিক জানি না। কিন্তু অন্য রকম। বড় হওয়া টড় হওয়া সব বাজে কথা, কোনোরকমে জীবনটা টিকিয়ে রাখাই বড় কথা। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

মাঝে মাঝে মনে হয় জীবনের এক আধটা হিসেব করে ফেলাই ভালো। একদিন ছুটি ছাটা দেখে খাতা নিয়ে বসি। একদিকে লেখি জমা, অন্যধারে খরচ। ওই যেমন একাউন্টট্যান্টরা ডেবিট ক্রেডিট লিখে আর কি।
জমার ঘরে প্রথমেই লিখি জন্ম, ওটা একটা প্লাস পয়েন্ট। কিন্তু আয়ুটাকে জমার ঘরে রাখতে পারিনা। জন্মের পর থেকে আয়ু আর জমা হয় না, ওতা খরচের খাতায় থাক।
জন্মের পর একরোখা বহুদুরে চলে এসেছি। টর্চের আলোটা একটু পেছন দিকে ঘুরিয়ে দেখি...
মগজের ব্যাটারি এখন আর তেমন জোরালো নয়, আলো একটু টিমটিমে। তবু দেখা যায়।
একটা সাইকেল দেখতে পাই, মাটির দাওয়ায় ঠেস দিয়ে দাঁড়ানো। একটা লেবু গাছ। আর ওই মস্ত সেই নদী। শীতের দুধসাদা চর জেগে ওঠে বুকের মাঝে, ভরা বর্ষায় রেলগাড়ির মত বয়ে যায়।




এগুলোকোনো খাতেই নয়, না জমানা খরচ। ওই সেই বাঘের মত রাগী লোকটা সন্ধ্যের আবছায়ায় পুবমুখো মস্ত ডেকচেয়ারে বসে আছে বারান্দায়। চেন তো? আর কারও বস মানে নি, কখনও, কেবল তোমার কাছে মেনেছিল। তোমার ইস্কুলের হাতের লেখা পর্যন্ত চুপিচুপি লিখে দিত,ভুলে গেছ? কোন খাতে ধরবে তোমার দাদুকে?
জমার ঘরে ধরলে? ভুল করলে না তো? একটু ভেবে দ্যাখো। বরং কেটে দাও।কোনো খাতেই ধরো না।

ময়ুরটার কথা লিখবে না কি? সত্যি বটে, গোলোকপুরের জমিদারবাড়ির মস্ত উঠোনে পাম গাছটার নীচে ওকে তুমি বহুবার পেখম তুলে থাকতে দেখেছো। কিন্তু বলো আমাদের মুলধনের খাতায় সৌন্দর্য্যের কোনো ভূমিকাই নেই।
বরং জমার খাতে ধরতে পারো তোমার জেঠিমার হাতের ডাল ফোড়ানোর গন্ধটাকে। ওই অসম্ভব সুন্দর ডাল দিয়ে ভাইবোন মিলে একথালায় ভাত মেখে খেতে। আর বর্ষায় ঘানিঘরের পেছনে যে কদম ফুল ফুটতো। যদি খুব ইচ্ছে হয় ওটাকেও জমার ঘরে ধরতে পারো। তবে আমি বলি জীবনে ফুলটুল খুব একটা কাজে লাগে না, তবে ওটা লেগেছিল। ওটা দিয়ে তুমি ফুটবল খেলতে।

প্রথম এরোপ্লেন দেখার কথা মনে পড়ে? টর্চটা ভালো করে ফেলো, দেখতে পাবে। ওই যে মনোহরপুকুরের দোতালার ঘর, দেশের বাড়ি, নদী, লেবু বাগান, সারাদিন মনখারাপ। এরোপ্লেনের আওয়াজ পেলেই ঘর থেকে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে তুমি।

তোমার শৈশব মাখামাখি হয়ে আছে রেলগাড়ি আর এরোপ্লেনে। তোমার ভেতরে জঙ্গল, পাহাড় নদী কুয়াশা ঢুকে পড়েছিল সেই কবে। আজও তুমি নিজের চারিদিকটা স্পষ্ট করে দেখতে পাওনা। মাঝে মাঝে ঝুম হয়ে বসে থাকো। তোমার মাথার মধ্যে রেললাইন দিয়ে গাড়ি বহুদুরে চলে যায়। আকাশ পেরোয় বিষন্ন এরপ্লেনের শব্দ। অবিরল নদী বইতে থাকে। তোমার সময় বৃথা যায়। এগুলো খরচের দিকে ধরে রাখি।




সেই কোকিলের ডাকের কথা তুমি বহুবার শুনিয়েছ লোককে। কাটিহারের সেই ভোরবেলা, শীত শেষের কুয়াশামাখা আবছায়ায় শিমুল বা মাদার গাছের মগডাল থেকে একটা কোকিল ডেকে উঠেছিল। সেই ডাকে অকস্মাৎ ভেঙ্গে পড়ল তোমার শৈশব। তুমি জেগে উঠলে। সত্যি নাকি? ঠিক এরকম হয়েছিল?
সেই কোকিলের ডাকের কথা তুমি বড় হয়ে বলেছিলে তোমার ভালোবাসার মানুষটিকে। সেই যে বিশেষ মুহুর্তে ডেকে উঠলো সেইটেই বড় কথা। শিশু বয়সের অবচেতনার ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পড়লো। আজও তুমি ঠিক করতে পারোনি কোকিলটাকে কোন খাতে ধরবে। কিন্তু কোন না কোনও খাতে ধরতেই হবে। ওটা যে তোমার জীবনটাকে দুভাগেভাগ করে দিয়েছিল। জমার খাতেই ধরো।

কোকিলের ডাকের পরেই এলো মঞ্জু। মঞ্জুই তো? মঞ্জুর মতো সুন্দর মেয়ে সেই বয়সে তুমি আর দেখোনি। ববচুল, ফরসা টুকটুকে মেয়ে, এর কথাও তুমি বহুবার বলেছ। মঞ্জুর সঙ্গে কথা বলতে লজ্জা পেতে, মঞ্জুও তোমাকে পাত্তা দিত না। কিন্তু সেই বয়সের টান কি সহজেই ছাড়ে? ওদের বাড়ির আনাচকানাচ দিয়ে ঘুরতে, বড় গাছে উঠে যেতে।
তারপর একদিন নিজেদের বাগানে খেলতে খেলতে মঞ্জু ফটকের কাছে দৌড়ে এসে ডাক দিলো রতু, এই রতু...
তুমি পালাচ্ছিলে ডাক শুনে। মঞ্জু ছাড়েনি তবু। ফটক খুলে পাথরকুচি রাস্তায় কচি পায়ের সব্দ তুলে দৌড়ে এসে হাত ধরল। বড় বড় চোখে চেয়ে রইলো তোমার মুখের দিকে অবাক হয়ে। তুমি কথা বলতেই পারো নি। মঞ্জু হাত ধরে টেনে নিয়ে গেলো তোমাকে। ওদের বাগানে। পরীর মত মেয়েরা খেলে বেড়াচ্ছে সারা বাগান জুড়ে। চোরের মত দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি। মঞ্জু দৌড়ে এসে তোমার আড়ষ্ঠ হাতে একটা পেয়ারা গুঁজে দিয়ে বললো খাও রতু।
কি যে সুগন্ধ মাখানো ছিলো পেয়ারাটার গায়ে, আজও মনে আছে তোমার? হয়তো মঞ্জুর গায়ের গন্ধ। পেয়ারাটাকে কোনখাতে ধরবে?

ইস্কুলে চোরের মত মার খেতে রোজ। মার খেতে খালাসি পট্টিতে। দুষ্টু ছিলে, দাঙ্গাবাজ ছিলে, তাই মার খেতে খেতে বড় হলে। সবচেয়ে বেশি লেগেছিল একদিন। ইস্কুল থেকে ফেরার পথে একটা লোক অকারনে তোমার পথ আটকালো, তুমি পাশ কাটাতে চেষ্টা করেছিলে। লোকটা বিনাকারনে তোমার কান ধরে একটা চড় লাগিয়ে দিল। সেই চড়টা আজও জমা আছে। শধ নেওয়া হয়নি, তুমি শোধ নিতে ভালোবাসনা, কিন্তু আজও ভাবো সেই চড়টার শোধ বোধ হুয়া দরকার। চড়টাকে কোন খাতে ধরবে?

বড় একটা শ্বাস ফেললে, ফেলো। তোমার অনেক নিশ্বাস জমা হয়ে আছে। ওই যে একটা চিঠি এলো তোমার নামে, কি সুন্দর অচেনা এক মেয়ের চিঠি। চিঠিটাকে কোন খাতে ধরবে?




বড্ড জট পাকিয়ে যাচ্ছে হিসেব। সুখ আর দুঃখ গুলোকে আলাদা করে আঁটি বেঁধে রেখেছো কিন্তু কোন খাতে যাবে ধরনি। সব সুখই তো আর জমা নয়, সব দুঃখই যেমন খরচ নয়। কাঁদছ? কাঁদো। এই জীবনে একটু আধটু কাঁদতেই হয় মানুষকে। হিসেবের সবে শুরু কি না।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হাওয়া বদলের চিঠিনকশী কাঁথার মত বিচিত্র এক পৃথিবী ছিল আমাদের শৈশবে। এখনও পায়ের তলায় পৃথিবীর মাটি,চারিদিকে গাছপালা, মাথার উপর আকাশ। বুক ভরে শ্বাস টেনে দেখি। না, শীতের সকালে কুয়াশায় ভেজা বাগান থেকে যে রহস্যময় বন্য গন্ধ পাওয়া যেত তা আর পাওয়া যায় না। সাঁওতাল মালি বিকেলের দিকে পাতা পুড়িয়ে আগুন জ্বালত, সে গন্ধ কতবার আমাকে ভিন্ন এক জন্মের স্মৃতির দিকে টেনে  নিয়ে গেছে। আর মনে আছে মায়ের গায়ের ঘ্রাণ। সে গন্ধে ঘুমের ভেতরেও টের পেতাম, মা অনেক রাতে বিছানায় এলো। মা'র দিকে পাশ ফিরে শুতাম ঠিক। নতুন ক্লাসে উঠে নতুন বই পেতাম ফি বছর। কি সুঘ্রান ছিল নতুন সেই বইয়ের পাতায়। মনে পড়ে বর্ষার প্রথম কদম ফুল, হাতে পায়ে কদমের রেণু লেগে থাকত বুঝি। কি ছিল! কী থাকে মানুশের শৈশবে! বিকেলের আলো মরে এলে অমনি পৃথিবিটা চলে যেত ভুতেদের হাতে।

নকশি কাঁথার মত বিচিত্র সুন্দর শৈশবের পৃথিবী কোথায় হারিয়ে গেছে। সেই সুন্দর গন্ধ গুলো আর পাই না। তেমন ভর আসে না। মায়ের গায়ের সুঘ্রানের জন্য মন আনচান করে। প্রিথিবী বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে ক্রমে। বুড়ো গাছের মত শুকিয়ে যাচ্ছে আমার ডালপালা। খসে যাচ্ছে পাতা। মহাকালের অন্তঃস্থলে তৈরী হচ্ছে একটা ঢেউ। একদিন সে এই পৃথিবীর তীরভূমি থেকে নিয়ে যাবে আমায়।
বুকের মধ্যে শৈশবের একটা কথা তীরের মত বিঁধে থরথর করে কাঁপছে আজও। সেই আমোঘ ঢেউটিকে যখনই প্রত্যক্ষ করি মনে মনে ওই কথাটি তখনই বুকের মধ্যে কেঁপে ওঠে। শৈশবের সব ঘ্রান, শব্দ আর স্পর্শ ফিরিয়ে আনে। মায়ের গায়ের ঘ্রাণ পেয়ে যেমন ছোটোবেলায় পাশ ফিরতাম, তেমনি আবার পৃথিবীর দিকে পাশ ফিরে শুই। মনে হয়, দেখা হবে। আবার আমাদের দেখা হবে। কোথা থেকে এসেছি, ফিরে যাবই বা কোথায়।

আমার পালে মৃত্যুর হাওয়া লেগেছে। তরতর করে ভাঁটিয়ে যাচ্ছে নৌকা। অথচ পৃথিবী কি গভীর। কত কোটি বছরের জীবন যাপনের চিহ্ন নিয়ে বয়ে যাচ্ছে। বাতাসে তার প্রাচীনতার ঘ্রাণ। সব প্রাচীন সময়, সব প্রাচীন বাতাস আজও রয়ে গেছে। এসব থেকেই জন্মেছি, এসবেই লয় পাবো। কোলে জারুলের ছায়া পড়ে, আলো দোলে। জলে চোখ ভেসে যায়, স্মৃতিভ্রংশের মত বসে থাকি। উৎকন্ঠায় অপেক্ষা করছি। আমরা দুজন উপত্যকা পেরিয়ে যাবো।  ওদিকে একটা জমি, তারপর গাছ গাছালী। যাব, ফিরব কী? কে জানে? পৃথিবীতে কেউই খুবই জরুরী নয়। সে যতই জরুরী ভাবুক নিজেকে, প্রিয়জনকে। তবু দেখো, তাকে ছাড়াও চলে যায়।

কিছু অসুবিধে নেই। ছুটি দেবে? একবার দেখি হাওয়া পাল্টাতে পারি কিনা।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
এইতো সেদিন তুমি ছুঁয়েছো হৃদয় ছুঁয়েছিলে বুকের অতল, তারপর কেটে গেছে হাজার বছর জমেছে কানায় কানায় বিষাদের জল।অনিমেষ যথেষ্ট কাজের ছেলে ছিল। বিষয়ী লোক, টাকা-পয়সার হিসেব ভালো বুঝত। ভাসানের সময় যখন সবাই সিদ্ধি খেয়ে নাচতে ব্যস্ত তখন লাইটিং-এর ভ্যান-রিক্সা ঠিক-ঠাক রাস্তা পার করানো, ট্র্যাফিক সামলানো এসবে তার আগ্রহ ও নিষ্ঠা দুটোই ছিল দেখার মত। ক্লাবের পিকনিকে মাতাল বন্ধুদের সে দায়িত্ব সহকারে বমি করাত, সামনে প্লাস্টিকের বালতি ধরত। পাড়ার ফাংশানে আর্টিস্টদের জন্য টিফিনের প্যাকেট থেকে শুরু করে ২৬শে জানুয়ারীর পতাকা-ফুলের দরদাম, অনিমেষ ছাড়া গতি ছিল না। তাই ও গাড়ী চাপা পড়ার পর আমাদের ফাইভ-এ-সাইড ফুটবল টুর্নামেন্ট ওর নামে করতে আমাদের বেশি ভাবতে হয়নি। তাছাড়া আমি হিসেব করে দেখেছিলাম ৭ নম্বর স্ট্রীটের গোপালের বাবার গায়ে আগুন লাগানোর পর অনিমেষই ছিল ফার্স্ট কেস। তার পরেও এ তল্লাটে আর কেউ অমন অপঘাতে মরেনি। সেই ৮৮’ সালেও অনিমেষের কালার ফোটো তোলানো ছিল। অতসীর জন্য। সেটা আমিই ফ্রেমে বাঁধিয়েছিলাম। চার পেয়ে কাঠের টেবিলে ফুলের মালা পরে হাসিমুখে বসে থাকে অনিমেষ প্রতি ১৫ই আগস্ট, কপালে চন্দনের ফোঁটা। ৬ বছর হয়ে গেল। এই ভাবে দুটো ওয়ার্ল্ড কাপ পার করে দিল। কে আবার ওর নামের সাথে ‘শহীদ’ জুড়ে দেওয়ায় রমরমা হয়ে যায়। ফ্রেম বাঁধানোর টাকাটা আমি অভ্যেসবশত মেরে দিয়েছিলাম। ওটা নিছকই রিফ্লেক্স। অনিমেষ ভালো বন্ধু ছিল আমার। আমি অতসীদের ভাড়াটে, আমাকে ছাড়া ওর চলত না। অতসীকে চিঠিও আমাকেই লিখতে হত। চিঠি হাত বদলও আমিই করে এসেছি বরাবর। তবে অনিমেষের মৃত্যুর খবর আমি অতসীকে দিতে পারিনি। আমি তখন দোকানে বসে। পল্টু সবার আগে অতসীর বাবাকেই খবরটা দেয়। এই একটাই সুযোগ ও পেয়েছিল অতসীদের বাড়ী ঢোকার। ওকে দোষ দিই না। আমারই কপাল খারাপ। অতসী নাকি বড়জোর সাড়ে চার সেকেন্ড হতভম্ব থেকেই কাঁদা শুরু করেছিল। পল্টুর মতে সিনেমার সাথে কিছুই মেলেনি। সিঁড়িতে ধপ করে বসেও পড়েনি অতসী। অজ্ঞান হতে হতে সন্ধ্যে হয়ে গেছিল। আমি তার বছর দুই আগে পাড়ায় আসি। আমার দোকান। অতসীর প্রেম সেবার পূজোয়। ১৯৮৮ সাল।

একটা গাছেরও নাম জানিনা। চেনা চেনা মনে হয়। কিন্তু পাতার গড়ন কেমন অচেনা। আর কত লম্বা! মাঝখানে একটা সরু নদী মত। কিন্তু জল বয় না। স্থির। নদী না খাল বলেই মনে হয়। বেশ কিছুটা হাঁটি। আমার সামনে সামনে অনিমেষ। ওর মুখ দেখা যায় না কিন্তু আমি জানি। এই জায়গায় আমি এর আগেও এসেছি। অনিমেষ এই ভাবেই আগে আগে হাঁটে। এক সময় জঙ্গল শেষ হয়ে গেলে আমরা বালিয়াড়িতে পৌঁছই। বালি বেয়ে বেয়ে উঠে আসি দুজনে। হাঁপ ধরেনি কখনো। উপরে উঠে দৃশ্যটা চেনা তবু বার বার দেখতে ভালো লাগে। চেনা চেনা গাছ। বটের মত...অশ্বত্থের মত। তারপর খাঁড়ির জল চিকচিক করে ওঠে। আবছা সমুদ্র দেখা যায়। আমার এর আগে কোনোদিন যাওয়া হয় না। এখানে অনিমেষ বসে। আমি ওর পাশে বসি। পিছনে আমাদের ফেলে আসা পায়ের ছাপগুলো আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠে। অনিমেষ হাতে ওরই ফ্রেম বাঁধানো ছবিটা নিয়ে বসে থাকে। আমার ভয় হয় এখুনি পয়সার কথাটা তুলবে। কিন্তু ও শুধু আমার দিকে তাকিয়ে বলে ‘আমাকে আর একটা চিঠি লিখে দে না...’। ঠিক এইখানে প্রতিবার আমার ঘুমটা ভেঙে যায়। একটু এদিক ওদিক হয়। কোনো দিন খাঁড়ির জল থেকে পল্টু হাতে শিল্ড নিয়ে বেরিয়ে আসে। কোনো দিন অতসীর বাবা বাজারের থলি হাতে উঠে আসে। কোনো দিন অনিমেষ একটা সাদা মোষের পিঠে চেপে খাঁড়ির দিকে চলে যায়, ‘এতে চাপা পড়ার ভয় নেই’ বলতে বলতে। অতসী আসে না।

অতসী আসে না। এই পৌষের দুপুরেও ছাদে আঁচ লাগে পায়ে। হাত দিয়ে খুঁটে খুঁটে শ্যাওলা বের করি। সামনে-পাশে-পিছনের ছাদে সারি সারি জামা-কাপড় টাঙানো। কারো কার্ণিশে পায়রা, ল্যাম্পপোস্টের তারে ছেঁড়া ঘুড়ি ঝুলতে থাকে। এখন আড়াইটে হবে। সামনের বাড়ির মিলনের মা ছাদ থেকে শুকনো কাপড় তুলে নিয়ে গেল। অতসী আসে না। পায়ের তলাগুলো আঁচে চুলকোতে থাকে। ট্যাঙ্কির উপর লাল একটা ভাঙা মগ। এখানে কি করছে? কোনো কোনো দিন দুপুরে অতসী ছাদে আসে বইকি। বই-খাতা নিয়ে শতরঞ্চি পেতে বসে। রেডিও চালায় এক একদিন। ‘গুলশন কুমার পেশ করতে হ্যাঁয়’... 'কেমন আছ অতসী?’

সে শুধু মাথাটা কাত করে স্মিত হাসি দেয়। আমাকে জিজ্ঞেস করেনা আমি কেমন আছি।
‘পড়াশোনা কেমন চলছে?’
‘ভালো, সুমনদা বাবা বলছিল বাইরের বাল্বটা চেঞ্জ করে দিতে...ফিউজ হয়ে গেছে।‘
‘আচ্ছা’
আজ অতসী কোথায়? ঘরে?
ছাদ থেকে ঝুঁকে দেখতে পাই বেড়ার ধারে রাধাচূড়া গাছটার সাথে বাঁধা নাইলনের দড়ি বেয়ে লাইন দিয়ে পিঁপড়ে ঢুকছে আমার ঘরে। দড়ি বাঁধা বলে জানলাটা খোলা রাখতে হয়। এত উপর থেকে দেখা যায় না কিন্তু আমি জানি একজন আগে আগে যায় তারপর ইশারা করে বাকিদের ডাকে। আমার চিন্তা নেই। ওরা আমার ঘরে থাকেনা। আমার রান্না-বান্না, পুজো-আচ্চার বালাই নেই। ওরা আমার ঘর দিয়ে শর্টকাট মারে (অনিমেষ বলত শর্টকার্ট, বলত সিকারেট খাবি?) পিছনে মল্লিকদের রান্নাঘরে। পিঁপড়েগুলোও আমাকে ব্যাবহার করে গেল। কোনো কোনোদিন অতসীর নাইটি-সালোয়ার কি সায়া মেলা থাকে। তখন সামনের পিঁপড়েটা একটু দিশেহারা হয়ে যায়। খেই হারিয়ে ফেলে পেরোতে পেরোতে। পিছন থেকে বাকিরা আওয়াজ দেয় ‘আর কতদূর? এ কোথায় এলাম রে বাবা!’ সামনের জন হয়ত অতসীর অনেক কিছুই পার করেছে। সে প্রথমে ঘাবড়ে গেলেও সামলে নেয় শেষমেশ। তুমি এখন কি করছ অতসী? আমার ভাবতে ভালো লাগে সে এখন বুকে বালিশ নিয়ে খাটে শুয়ে লিখছে কিছু। কিম্বা বাড়ীর কাজ করতে করতে গুনগুন করে গান গাইছে, পোষা বেড়ালটা পায়ে পায়ে ঘুরছে। কিম্বা আয়নার সামনে চুল বাঁধছে। কিন্তু অনিমেষ-অতসী রাজযোটক ছিল। সে নির্ঘাত বাবার পকেট থেকে টাকা সরাচ্ছে কিম্বা খাতায় এ মাসের দোকানের হিসেব টুকে রাখছে। ওইসব ভাবতে কার ভালো লাগে? অতসী আসে না। আজ আর আসবেনা। কোনোদিন অতসীর জামা-কাপড় মেলা থাকলে শুকনো কাপড়ের গন্ধ নিই। ডিটার্জেন্টের গন্ধ। অতসীর নয়। নিচে আমার দড়িতে সে আজকাল জামা-কাপড় মেলে না বড় একটা। সে খুব সুখের দিন ছিল। সরস্বতী পূজোর চাঁদা বাবদ অতসীর বাবা ৫ টাকা দেওয়ায় আর সাথে ফ্রি তে ‘সুমনের বন্ধু না হলে এটাও পেতে না’ শুনিয়ে দেওয়ায় চারটে দোপাটি আর গাঁদা ফুলের চারার সাথে সাথে অনিমেষ আমার দড়ি থেকে অতসীর ব্রা টি তুলে নিয়ে যায়। সাদা নিরীহ মধ্যবিত্ত ব্রা। অনিমেষ বলেছিল সে ওই থেকেই অতসীর প্রেমে পড়ে। লাভের লাভ আমার আর কোনোদিন অতসীর ব্রা দেখা হয়নি।


ওদের সেন্টার ফরওয়ার্ডটা বেঁটে হলেও বেশ কাজের। এই হাফটা গোটা দৌড়ে বেড়াচ্ছে। একবার বারে মারল। মিলন সঙ্ঘের গোলকীপারটা বাঁচালো একটা। ওহ মিলন সঙ্ঘ। আমাদের পাড়ায় এসে তিন তিন বার শীল্ড নিয়ে গেছে শালারা। এইবার হারাতেই হবে। গোলের পিছন থেকে লাগাতার খিস্তি মেরে যাচ্ছি আমি, বুবলা আর নন্দ। আয়োজক টিম বরাবরের মত এবারো গোড়াতেই কুপোকাত। তা হোক। এবার শালা বেঁটেদের ফুল সাপোর্ট। মিলন সঙ্ঘ জিতলে আজ রাতের পার্টি ক্যান্সেল। ১-১ চলছে ৫৫ মিনিট হয়ে গেল। হাড্ডাহাড্ডি চলছে। অতসীর বাবা মঞ্চে। মাঝের চেয়ারে। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট অনাদীদা আর সেক্টরের বাবুল বোসকে দু বগলে নিয়ে। অনিমেষ না মরলে আর আমি চিঠি না লিখলে আপনাকে কেউ পুছত কাকু? তবু ফি বছর ভাড়া বেড়ে যাচ্ছে। ভালোই আছে বাপ-মেয়ে। সরস্বতী-দূর্গা-কালীর চাঁদা নেই। শালপাতা ভর্তি খিচুড়ি, মিষ্টির প্যাকেট বরাদ্দ। মেয়ের দিকে কেউ নজর দেয় না। চোখ তুলে তাকায়না 'তোদের বৌদি হয় বে! আজ অনিমেষদা থাকলে'। বেঁটে গোল করল। কর্ণার থেকে জটলার মধ্যে পুক করে দিল ভরে। রেফারি বাঁশি বাজাতেই পাশের চায়ের দোকানের ডাম্বেলের মা ডেকচি মাজতে বসে গেল।

'২ টো খাম্বা নিবি আর ৪ টে বিয়ার। ৭ জন আছি...আর সতুর দোকান থেকে চিংড়ীর চপ নিয়ে নিস হিসেব মত। পোঁদটা বেরিয়ে থাকে চপের বাইরে এরকম সাইজের চিংড়ি দিতে বলবি।'
'সতু মাসিমাকে বলিস ঝাল-ফাল যেন ঠিকঠাক থাকে...'
আজ ব্যাপক মস্তি হল। চপ যা এসেছিল ২ পেগেই শেষ। তারপর কষা মাংস। জনাই মাঝখানে গিয়ে আরো ২ টো বোতল নিয়ে এলো। টুর্নামেন্টে স্পনসর যা জোটে, বছরে এই একটা দিন একদম ঝিঙ্কু বাওয়াল হয়। 'আরে গুরু সাজনের গানটা লাগাওনা... 'মেরা দিল ভি কিতনা পাগল হ্যায় যো প্যায়ার ইয়ে তুমসে করতা হ্যায়'... পল্টু মাধুরি-নাচ জুড়ে দিল। 'আহ দিল খুশ করে দিল শালা ওই গ্যাঁড়াটা...বাঘবাচ্চা পুরো'। রাত দুটোর সময় বাড়ী ফিরতে ফিরতে মাথায় এলো অতসীর বাবা বোধহয় এবার ছেলে দেখবে...অনিমেষকে আমাদের কারোরই আর মনে নেই।



পেগের পর পেগ মাল টেনে যাচ্ছি আমি আর অনিমেষ। কোনো স্বাদ নেই। জল খাচ্ছি যেন। এই দিকটায় প্রথম এলাম। সমুদ্রের ধারে শালারা এমন বার লাগিয়েছে! গোল রঙ্গীন ছাতার তলায় দুজনে বসে। পাশের টেবিলে ৪ টে পিঁপড়ে। অতসীর সায়া নিয়ে গল্প করছে। তারে টাঙানো সায়ায় ভাঁজ পড়ে গেলে ডিঙোতে নাকি দম বেরিয়ে যায়। একমাত্র অনিমেষ থাকলেই আমি স্বপ্নেও বুঝতে পারি যে স্বপ্ন দেখছি। তবু যা হওয়ার হতে দিই। জোর করে কিছু পাল্টাতে যাইনা। একবার বালিয়াড়ীতে অতসীকে আনতে গিয়ে মিলনের মা চলে এসেছিল কাপড়ের বোঁচকা নিয়ে। আমি চুপচাপ মাল খেতে থাকি।
'তুই আর একটা চিঠি লেখ...লাস্ট'
আমি সমুদ্র দেখি।
'ওর শেষ চিঠিটা আমার আর পড়া হলনা'
অনিমেষ পেগ শেষ করে ঠক করে গ্লাসটা নামিয়ে রাখে।
'গ্যাঁড়াটা কি ঢোকালো...সব দেখলাম। আমার চিঠিটা দিয়েছিলি ওকে?'
আমি পিঁপড়েগুলোকে দেখি।
'দ্যাখ সুমন। তুই ছাব্বিশ টাকা ঝেড়ে দিলি ক্লাবের...আমি কিছু বলেছি? আমি রাগ করিনি মাইরি। তুই একটা লিখে দে। ওই হলুদ ফুল...নইলে ক্যাঁত করে লাথ মারব শালা' বলে অনিমেষ আমার হাঁটুতে লাথি মারতেই ঘুম ভেঙে যায়। দেখি ডান পায়ের হাঁটুর নিচটা টনটন করছে।

হলুদ ফুল হলুদ ফুল। আমার বাড়ী... আমার বাগান...আমার রাধাচূড়ার হলুদ ফুল। জুনের রাতগুলো। বাইরে ফোল্ডিং খাট পেতে শুয়ে গায়ে একটা একটা করে হলুদ ফুল এসে লাগে। একটা একটা করে হলুদ ফুল ফুটে ওঠে বিকেল হলেই এস.এন.বোস বাস স্ট্যান্ডে। আমি আর অনিমেষ বসে থাকি। বেলতলা গার্লস ছুটি হতেই সাইকেলে চেপে একটা একটা করে হলুদ ফুল ফুটতে থাকে। নীল-সাদা ইউনিফর্ম, লাল ছোট্ট লেডিজ্‌ সাইকেলে হলুদ ফুল।
'তুই একটা চিঠি লিখে দে মাইরি...আমি আর বাঁচব না'
'প্রেম করবি তুই আর চিঠি লিখব আমি? তাও অতসী? জানতে পারলে ওর বাপ বাড়ীছাড়া করবে আমায়'
'কিচ্ছু জানতে পারবেনা। তুই তো জানিস ওইসব লেখালেখি আমার দ্বারা হবেনা। একটা ওল্ড মঙ্কের বোতল নামাচ্ছি। তুই লেখ'।

তাই জুনের রাত কলম বন্দী করতেই হয়। আমার গোটা বারান্দা রাধাচূড়ায় ভরে গেছে। আমি গেট বন্ধ করতে আসি আর উপর থেকে আওয়াজ আসে 'সুমনদা'।
হলুদ নাইটিতে অতসী। আহা কি সুন্দর হাওয়া দিত তখন। মল্লিকদের রেডিওতে 'নিখিল তোমার এসেছে ছুটিয়া...মোর মাঝে আজি পড়েছে টুটিয়া হে' আমি নিচ থেকে দেখি ঝুলবারান্দায় খোলা চুলে অতসী। হলুদ নাইটির সবুজ ছিটেগুলোও যেন দেখতে পাই। ''গেট লাগিও না...বাবা এখনো ফেরেন নি।' বাবা আদৌ ফিরেছিল কিনা মনে নেই। আমার চিঠিতে অতসীর নিত্য আনাগোনা। হলুদ ফুল।


মাসের পয়লা এলে অতসীর বাবার সাথে কথা হয়।
‘আর সব ভালো তো?’
‘এবার একটা বিয়ে করো সুমন...বয়স তো পেরিয়ে যাছে।‘
‘ঘরে এখনো ছোট বোন আছে। সবই তো জানেন কাকু। আগে ওর একটা ব্যবস্থা...’
সেই গতে বাঁধা ডায়ালগবাজি। আমি চেষ্টা করি অতসী একা থাকার সময় ভাড়া দিতে যাওয়ার। অতসীর হাতে টাকা দিয়ে বলি ‘গুনে নাও’।
সে যতক্ষণ টাকা গোনে আমি দেখি। মেয়েদের শুনেছি তৃতীয় নয়ন থাকে। তবে টাকা গোনার সময় সেটা বোজা থাকে বোধহয়। অতসী পাতলা ফিনফিনে নাইটি পরে থাকলে বালিয়াড়ি পেরিয়ে খাঁড়ি থেকে সমুদ্র অবধি ঘুরে আসা যায় ওর গোনা শেষ হওয়ার আগেই। আমার সাথে ওর কিই বা কথা থাকতে পারে কেজো ছাড়া। চিঠি দিতাম যখন তখনো অতসী বিশেষ কথা বলত না। তবে দু দিন অন্তর নিজের বানানো তরকারি দিয়ে যেতো। সাথে চিঠি। সে চিঠি পড়ে আমি চিঠি লিখতে বসতাম, বাসন ধুয়ে সাথে চিঠিও দিতাম। অনিমেষ যেদিন মারা যায় সেদিন একটা চিঠি দেওয়ার ছিল। অনিমেষকে। সেটা আর দেওয়া হয়নি বলাই বাহুল্য।

‘টুকটাক কিছু দরকার পড়লে আমার দোকান থেকে নিয়ে আসতে পারো তো’ আমি সমুদ্রের হাওয়া খেতে খেতে বলি। সে ঘাড় কাত করে মাত্র,
‘ঠিক আছে...এই নোটটা চলবে তো?’
আমার দোকানে আসেনা অতসী। কোনো দরকারে বাবাকেই পাঠায় কিম্বা ওর বাবা আনিয়ে নেয়। অথচ পাশে জনাই-এর কাছ থেকে কত মরসুমি বাঁধাকপি, কচি সজনে ডাঁটা আর লাউ সে নিয়ে গেল বছরের পর বছর। দুটো ওয়ার্ল্ড কাপ পেরিয়ে গেল। অনিমেষের মাকে পূজোর দিন পাড়ার প্যান্ডেলে জড়িয়ে ধরে কি কাঁদাটাই না কাঁদলো। পাড়ার সব ছেলে-পিলেদের সামনে। সেদিন অতসী আমার ধরা-ছোঁয়ার বাইরে চলে গেল। ‘এইভাবে সারাটা জীবন বসে থাকিস না মা। তুই ছেলেমানুষ’ আর সাথে ‘তুমি সব সময় আমাদের বৌদি থাকবে, দরকার পড়লে একবার শুধু ডেকো’ দু-হাতে দুটো গ্র্যান্ড স্ল্যাম নিয়ে অতসী ঘরে ফিরলো...পিছনে শাল পাতার ঠোঙায় খিচুড়ি নিয়ে পল্টু।


চিঠির আইডিয়াটা আমিই দিয়েছিলাম অনিমেষকে। লিখে দিতে রাজিও হয়ে গেছিলাম এক কথায়। এমনিতে কোনো দরকার ছিলনা। অতসীর তখন এগারো ক্লাস। হপ্তায় ৭ দিনই টিউশন। আলাদা করে চিঠি না দিলেও চলত অনিমেষের। কিন্তু আমার ভালো লাগত। হলুদ ফুল মোড়া প্রথম চিঠিটা পাওয়ার ২ দিন পর বড়ি-বেগুন দিয়ে পালং শাকের সাথে অতসীর প্রথম চিঠি। ‘গুলশন কুমার পেশ করতে হ্যাঁয়’। তখনো ‘সাজন’ কি ‘দিওয়ানা’ রিলিজ করেনি। চিঠিতে যারা ছিল তাদের আমার মনেও নেই। অতসীর হাতের লেখা নকল করতে আমার দু দিন লেগেছিল। বানান ভুলগুলো ঠিক-ঠাক রপ্ত করার আগেই অনিমেষ বডি ফেলে। আমিও বেঁচে যাই। অনিমেষ যখন মারা যায় তখন স্কোর ৪-৩। অনিমেষ এক চিঠিতে এগিয়ে। অতসীকে চিঠি লিখতে বড় ভালো লাগত। কারন নিজের কথাই তো লিখতাম। কিন্তু অতসীর চিঠি? কি করে ভাবি তোমার মত? তুমি যা ভাবো তা লিখলে সুন্দর একটা জনাই-এর দোকানের ফর্দ হয়। অনিমেষ না মরলেও আমি ছেড়ে দিতাম। ওই চারটে পিঁপড়ের থেকেও খারাপ অবস্থা হয়ে গেছিল আমার।

‘অতসী যে চিঠিগুলো লিখেছিল?’
‘কি জানি কোথায়। এক জায়গায় রাখা ছিল। খুঁজে পাচ্ছিনা।‘
‘আমার পড়া হল না...কি লিখেছিল অতসী?’
‘মনে নেই। তবে গুলশন কুমার তখন আসে নি। ঋষি কাপুর কি মিঠুন। আমার ঠিক মনে নেই।‘
‘আর ওই চিঠিটা?’
‘ওটা আর শেষ করিনি। দরকার পড়লনা তো আর’
‘ওটা তাও লিখে দে সুমন’
‘তার চেয়ে বরং এটা শোন। ওর বাবা কাল সকালে বলে গেল...’,বলে আমি প্রজেক্টর চালাতে বলি। অতসী মুখে আঙুল দিয়ে ‘শশ্‌শ্‌স্‌’ করে চুপ করতে বলে পিঁপড়েগুলোকে। প্রজেক্টর অন করে।


‘এই গাছটা এবার কেটে দিতে হবে সুমন’
‘কেন কাকু? বেশ তো সুন্দর ফুল হয়’
‘হা হা ফুল হয়। তা হয়। কিন্তু প্যান্ডেল বাঁধার সময় এতটা জায়গা ছাড়া যাবে না’
‘ও’

অতসী রিল পালটায়।

‘সুমনদা বারান্দাটা ঝাঁট দাও না কেন?’
‘এই সকালে উঠে দেখি বারান্দাটা ফুলে ফুলে ঢেকে গেছে অতসী’
‘শুধু শুধু নোংরা হয়। আমি মাসিকে বলে দেব। ওকে ২০ টাকা করে দিয়ে দেবে। ঘরের কিছুই তো দেখোনা। এতদিন ধরে আছ।‘
‘আচ্ছা কাল ঝাঁট দিয়ে দেব।‘
’২০ টাকা করে দিয়ে দিও...বাকি বাড়ীটা তো আমরাই করাই...’

তুই আর আসিস না অনিমেষ। কাল অনেক রাত অবধি বাইরে শুয়ে ছিলাম। টুপ টুপ করে ফুলগুলো এসে পড়ছিল এক এক করে। এই শেষবার। আমার আর ভালো লাগছে না। তুই আর আসিস না অনিমেষ। আমি মাঝে উঠে ঘর থেকে সেই আধখানা চিঠি নিয়ে এলাম। অনেকক্ষণ ধরে শুয়ে শুয়ে ছিঁড়ে কুটি কুটি করলাম। আমার গায়েই এসে পড়ল এক এক করে। আমার আর ভালো লাগেনা তোর সাথে ঘুরতে, মাল খেতে। আমি অন্য কোথাও যেতে চাই এবার। চারটে পিঁপড়ে ধরাধরি করে শীল্ডটা নিয়ে টেবিল থেকে উঠে পড়ে। আমিও জানলাটা বন্ধ করে দিই।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মানবীয় জীবন-যাপন;  এরকম কিছুই না, শুধুই গালে হাত দিয়ে ভাবছিলাম- উড়ছে যখন রেণু; উড়ছে তার শপিং ব্যাগ উড়তে থাকা সুতোয় বাঁধা চিঠিতে লিখি-  -আসন্ন শীতে ওর পরিচিত গন্ধটা আমার চাই-      আজ প্রবাসের বিজন বেলায় মেঘের আনাগুনা দেখে হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল সেই গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে যখন স্কুল থেকে ফিরতাম, তুমি প্রায় আমার বই খাতা ভিজিয়ে দিতে। সেই খাতা উনুনের কাছে দিয়ে কত শুকিয়েছি। বৃষ্টি সে সব স্মৃতি এখন থাক। ইঠ পাথরের পরবাসে তোমার নরম স্পর্শ কমই পাই বলতে গেলে। কেমন আছো বৃষ্টি? 

 নিশ্চয় তুমি তেমন ভাল নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের হাওয়ায় তুমি ও এখন মত পালটিয়েছ। আষাঢের দিন তারিখ মেপে নাকি তুমি আর আসনা আমার সুজলা বদ্বীপে? যখন তখন নাকি তুমি আর হেসে লুটোপুটি খাওনা? শ্রাবনের ভর যৌবনেও তুমি নাকি মাঝে মাঝে নিরুদ্দেশ? 

হ্যাঁ বৃষ্টি তোমাকে মিস করছি খুব। এখানে তোমার সেই জংলী ভালবাসার রূপ খুব কম। একটু একটু তুষার পাতের ন্যায়, যা মনে হয় অভিমানের কান্না তোমার । এই যা কয়েক ফোটা!!মুষলধারে যে তোমাকে আজ দেখছি না অনেক বছর। বৃষ্টি তোমার সাথে আমার যেখানে প্রথম পরিচয় সেই শ্যামলিমায় যাই এখন আবারো। জান বৃষ্টি, তুমি আসলেই আমার কদম ফুল গাছটা কেবল হাসে। 

তোমাকে সে এত পছন্দ করে কেন বুঝতাম না। মাঝে মাঝে আমি পাগলামি করে তপ্ত রোদে যখন ঘেমে যেতাম তখন তোমাকে ডাকতাম । এমনকি বৈশাখে ও। মাঝে মাঝে দেখতাম তুমি অসময়ে ও চলে আসতে। তুমি যখনই আস তোমাকে স্বাগতম জানাতে তখন আমার বাবুনিরা, তুলতুলরা বারান্দায় বসে বসে ছড়া কাটত-- আয় বৃষ্টি ঝেপে,ধান দেব মেপে, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান" আর দাদা বাবু চলে যেত "আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম........ শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম"শ্রীকান্তের গানের সুরে।

তোমার আগমনে মাছেরা ও কি খুব খুশি হয়? খায় ডিগভাজি? আচ্চা রিমঝিম, তোমাকে আমার খুব গায়ে মাখতে ইচ্ছে করে কেন খুব?শহরে যখন তুমি আসতে আমি তখন চুপি চুপি বাসার চাদে চলে যেতাম মনের সুখে ভিজব বলে। ডাঃ বাবু, মা সবার কথা তখন মনে থাকত না। কেবল তোমার সাথে ছিল মাখামাখি। আহা কি আনন্দ!!! আমার বুক যখন ফেটে চৌচির হয়,বোশেখ যখন আমাকে পাগল করে তোলে, আমার সবুজ যখন কেঁদে কেটে নুয়ে পড়ে, ধুসর হয়ে যেতে চায়,তুমি কেমনে যেন গোপনে জেনে যাও সবুজের কথা, চাতক পাখির কথা। তুমি এসে দাও তাদের মনে দোলা, প্রানে প্রানে আবার তোল জীবনের সুর। 

আচ্ছা বৃষ্টি, আকাশ তোমাকে খুব কষ্ট দেয় তাই না? তুমি একটু চন্চল হলেই তোমাকে পাঠিয়ে দেয় আবারো আমার কাছে। কিন্তু আমি যখন দেখি তুমি আকাশকেই ভালবাস, আকাশের বুকেই তুমি শুভ্র মেঘ হয়ে ভেসে থাকতে চাও, তখন আমি কেবল অভিমান করতে পারি।আমার অভিমান গুলো ও ভাসিয়ে দিই পরিযায়ী পাখির মত তোমার ভেসে বেড়ানোর সুখে। তুমি যখন পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আস আবারো আমি ও ভুলে যাই তাবৎ অভিমান। যদিও তুমি আকাশের সাথে মাঝে মাঝে খুব রাগারাগি করে অনেক দিন থেকে যাও, ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমার কিছু সম্বল তবু ও আমি প্রতীক্ষায় থাকি তোমার আগমনী পথে,আমার প্রতিটা সবুজ, দোয়েল, কোয়েল কষ্ট জেনে ও তোমাকে আহবান জানায় ডানা ঝাপটিয়ে, প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে।

 বৃষ্টি ভাল থেকো তুমি, তোমার যখন ইচ্ছে এসে পড় এই মন ভুমে, নিঃস্ব কর আপত্তি নেই, তবু ও মাঝ রাতে, খাঁ খাঁ ঘুঘু ডাকা নির্জন দুপুরে, শ্রাবন সন্ধায় আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব কয়েক গোছা কদম হাতে। ইতি তোমার কান্না টুকু যেখানে রাখ প্রতি নিয়ত যেখান থেকে তুমি সেজে গুজে চলে যাও আকাশের বাড়ী সেই আমি সর্বংসহা ধরনী।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
যে সব দুপুরগুলো হারিয়েছি __ যে সব বিকেলগুলো_ _ ফিরে পেতে চাই না আবার। বিষন্নতা, তুমি আজ আমাকে ঘিরো না__ জেনো, আমি একডজন মোমবাতি কিনে এনে নতুন জীবন শুরু করে দেব আগামী সপ্তাহে....আমার শহরখানি, বিষন্ন ভরা ল্যাম্পোস্ট, 
বটের নীচে চায়ের দোকান, ধোঁয়া ভরা চা খাওয়া... 

তোর বস্তি ঘরে হটাত শোনা পান্নালাল 
কুটি বাবুর ছেঁড়া পুঁথি, হাওয়ায় ভাসে কলের গান, 

শহর ভ'রে ক্যানভাসারের বয়ে যাওয়া ক্লান্ত বোধ 
সে সব ছিল যত প্রিয়, এখন এসব আর ছোঁবেনা। 

নগরের পুঁতি দালানের পাশে এখনো দাঁড়িয়ে প্রবীন 
ঝাউ গাছ... 

তুমি যদি আসো দেখবে পালক ঝাপটিয়ে চলে উদাসী 
বালিহাঁস 
ঘরের উঠোন ভেঙ্গে খোয়া ক্ষয়ে গেছে তবু 
তোমার স্মৃতিমাখা- 
নগরের বয়স পেরিয়েও তোমার জন্য আমার একা বসে 
থাকা। 

ছেড়েছিলে পর্ণ গৃহ, সন্ধ্যা সেঁজুতি; 
নিঃসঙ্গতা বয়ে বেড়ানোর যত অনুভুতি 
তোমাকে তাড়িয়েছে নগর থেকে নগরে;- 

যদি ঘুম না আসে তবে জোনাক বাতির উঠোনে, 
যদি আসিস, আকাশে তারার মালার আবীরে 
রাতের সুতো, নিসঙ্গতায় স্মৃতির জালবোনে, 
ঠিকই খুজে পাবি আমার মুখ,অচেনা মুখের ভিড়ে। 


তোর সাথে ঘোরা হয়নাই পদ্মা ব্রম্মপুত্র তিতাস… 
কাশবনে ফেরে কত প্রজাপতি,ঘাসের নিঃশ্বাস; 
সারা আকশ জুড়ে জ্বলে বর্ণীল যত নক্ষত্র দ্যুতি, 
দেখা হয়নাই, শুন্য কুটিরে সন্ধ্যাগাঁথা সেঁজুতি। 
তবুও রাত হলে তোকে দেখি, তুইও যদি তাকাস- 
হয়েছি তাই, চেয়েছিলি যেনো হই ঐ দূর আকাশ।। 

কোন দশকে নাই আমি, শতকেও না, 
স্মৃতিতে নাই আমি, বিস্মৃতিতেও না 
চলিষ্ণু শুন্যতা সময়ের খাতায়, 
তোমার আঁচড় টানি চোখের পাতায় 
ভিতরে কেবলই পোকার আনাগোনা।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সর্ষে ক্ষেতের ভেতর যেদিন, যেসব অসময় আমি আমাকে দিয়ে হাঁটছিলাম, আমাকে জানিয়েছিলো এক গ্রাম…  তুমি পাতা কাঁপানো দুঃখী একটি পাখি!

কবিতার কথা বললেই গ্রামের শ্যাওড়া গাছটির
স্মৃতি চোখে ভাসে।

আহা, সেই অন্ধকার
নামানো গাছ।
শীতের রাতে কুয়াশা বিলির
একমাত্র প্রতিনিধি।

মাথা উচু ডালের
থেকে বেড়িয়ে আসা স্মৃতির বিড়াল। আমি কিচ্ছুই
দেখিনি।

গ্রাম শ্যাওড়া শূন্য হয়েছে জন্মের
কতদিন আগে।
অথচ শীতের সন্ধ্যা হলেই
মনে পড়ে, একটা বুড়ো শ্যাওড়া গাছ
ভেংচি কেটেছিল আমার তরুণী মাকে।

আহা,
শ্যাওড়া গাছ! শীতের ভেজা সন্ধ্যা!

বয়সের ছাপ
কেন পড়েনা স্মৃতি কথায়!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমার পড়ার টেবিলে এক মুঠো ফাল্গুন মাস ছিলো কোথায় যেন চলে গেছে ঘরের মধ্যে, দুপুরের পরে, একজন জীবনানন্দ হাঁটাহাঁটি করতেন তিনিও এখন ব্যস্ত অন্য কাজে আলমারির শেষ তাকে কিছু স্বপ্ন এনে রেখেছিলাম ক'দিন ধরে খুঁজে পাচ্ছি না এলোমেলো হয়ে যাচ্ছি... এলোমেলোকেমন আছো তুমি আমার লেখার ঘর, কেমন আছ তুমি পুকুর, খোলা মাঠ, ফিরবই।

পরবাসে ভালো নেই। আমি ভালো নেই। তোদের ছাড়া যে ভালো থাকা যায় না। তোদের ছাড়া কিভাবে ভালো থাকতে হয় একটু শিখিয়ে দিবি!

আমার লেখার ঘর আজ ধুলোয় ভর্তি। স্বপ্নেরা যে যার নিজের মত হেঁটে যাচ্ছে ট্র্যাকে। সবাই ফিরে যাচ্ছে নিজের মত করে, শুধু আমারই আর ফেরা হয় না। আমার যে আজও ফিরে যেতে ইচ্ছে করে তালদিঘীটির কাছে; ওর জলের রঙ কেমন আমার জানা নেই; মাছেরা কি আর আগের মত ঘুরে বেড়ায়?
ঝাপসা কুয়াষায় ট্রাফিক লাইনের ওইপারে আজও কি তুই খুঁজে বেড়াস ডি-অ্যাক্টিভেটেড ভালোবাসা? তোর বৃষ্টি’রা কি আজও পথ হারিয়ে রং-রুটে হেঁটে বেড়ায়?

বকুল, তুই বল, ত্রিকোনামিতির কস থিটা বাই ট্যান থিটা শিখে কে কবে ভালোবাসা খুঁজে পেয়েছে! স্কুলের মাঠে তুই যে দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে এসেছিলি, আজ সেখানে থোকায় থোকায় জোনাকি পোকা ঘুরে বেড়ায় মাঝরাতে; মাঝে মাঝে পথ ভুল করে দু-একটা জোনাকি চলে আসে আমার খোলা জানালায়।
সব কথা বলতে নেই; সবকথা বুঝতেও নেই; “ভালোবাসি” এইটুকুন একটা শব্দ; একবার জেনে গেলে আর বলার থাকে না কিছুই। বয়স কম হল না সময়ের। নিভু নিভু টাইমলাইন ঘিরে অ্যাক্টিভেটেড বিষাদ, চৈত্রের বিকেলের রোদ মুখে ঝলসানি মারে; সাদা মোজা, হাঁটুর উপর থমকে আছে সাদা স্কার্ট; তোর আঠারো বছর বয়সটা ওখানেই লেগে আছে। আমার মানিয়ে নেওয়া অবসরে বেমানান তুই লিখেছিলি “তুই পাগল করতে পারিস এখনও।” আমার সময় এখনও ওখানেই থমকে আছে।

জানিস বকুল, একটা আকাশ লিখতে পারিনি বলে মেঘেরা সব ছেড়ে চলে গেছে; কিছু ভালোবাসার দামে কেনা ছিল স্বপ্ন আমার, অথবা স্বপ্নের দামে ভালোবাসা আমার জানা নেই; শুধু শুয়োপোকা থেকে প্রজাপতি আর রাজহাঁসের শৈশবই কেবল জানে কতটা সত্যি ছিল রূপকথা। সোনার জলে মোড়ানো রূপালি আয়নায় হারানো মনের ছায়ায় চোখ পড়তেই মনে পড়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় চুপকথা, মানুষ মাত্রেই ভুল।

জানিস বকুল, পাখির শিসের বাঁকে বাঁকে যারা জীবনটাকে মিশিয়ে দেয় তাদের কোনো ঘর থাকেনা; তাদের ঠিকানায় কোনোদিন কেউই চিঠিও পাঠায় না। আমার ঘরটা আজোও মাঝরাতে একা একা কেঁদে উঠে, আমি জানি না আমার ঘরের কান্নার কারন। সন্ধ্যে হলে আমি আজও হাঁটতে থাকি; সে কি আমার ঘরে ফেরার চেষ্টা?
প্রতি রাতে টের পাই কারোর নির্লিপ্ততায় ক্ষয়ে যাচ্ছে কিছু, মোমবাতি জ্বেলে বসে থাকি, বুঝতে পারি পাশে কেউ নেই; শুধু আমি আর ছায়া আর...সেই কান্নাটা।

জানিস বকুল, একদিন দৌড়তে দৌড়তে হঠাৎ খুব করে বুঝতে পারি বড় হয়ে গেছি; হঠাৎ করে বড় হয়ে গেলাম যখন বাড়ির বড়রা ঘুমে অথবা গল্পে মশগুল; হঠাৎ করে খুঁজে পাওয়া রংধনুটা হঠাৎ করেই যেন হারিয়ে গেল, ফিরে গেল বৃষ্টিরা কাউকে কিছুই না বলে। আজ খুব ইচ্ছে করে সেই বোকা ছেলেটাকে ফিরে পেতে, সেই বোকা ছেলেটাকে নিয়ে লিখতে; একটা বোকা ছেলের নুতন করে বেঁচে ওঠার গল্প অথবা স্বপ্ন ভঙ্গের গল্প।

আমি চোখ বুজে ভাবতে থাকি একটা মাঠের কথা, একদল দেবদারুর গাছের কথা; সেই গাছের ছায়ার ভাঁজে ভাঁজে আজও তুই লেগে আছিস; এক আনমনা সিঁদুর রঙের রোদ্দুর ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে তোকে; রং-পেনসিল নিয়ে এঁকে যাচ্ছে তোকে।
আমার খুব হিংসে লাগে, বড় ইচ্ছে ছিল ওই মুখ আঁকব, অপরূপ ভ্রুজোড়া আঁকব; ওই চোখ... এই জনমে আর পারা গেল না। তাই শেয়ালের মত পিপাসা আর তৃষ্ণা নিয়ে তাকিয়ে থাকি ওই চোখের দিকে। জানিস বকুল, যদি জন্মান্তরবাদ কথাটা সত্যি হয় তবে পরজন্মে আবার রংতুলি নিয়ে বসব। এক বিকেলে তোর হাতে ঢেলে দেব আমার অবসন্ন ফুসফুস; তোর নখে, আঙ্গুলে কপাল ছাড়িয়ে ছড়িয়ে মাখিয়ে দেব আমার বিকেল।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হঠাৎ দমকা হাওয়া –  বুঝতে না বুঝতে ভিজে গেল পর্দা, ফুলদানির ফুল।  কই , তুমি তো কখনও আমাকে ভেজাতে হঠাৎ চমকে দাও না।  আমি কিন্তু অপেক্ষা করি ৷   ১.

শ্রাবণের ঘনঘোরl ঝমঝম বৃষ্টি হয়ে গেছে ভরসন্ধেয়l কোচিং ক্লাসের ঝাঁপে লাঠিl টুকটুক করে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির গলির সামনেl পিংকাদের উঠোনে গোড়ালি-ডুব জলl পাড়া-জোড়া পাওয়ার কাটl ঝড়ে নাকি ডাল পড়েছে ইলেকট্রিক তারেl ঝড় না ছাই! মফঃস্বলে জোরে হাওয়া বইলেই গাছটাছ নুয়ে পড়েl গাছ আছে তাই নুয়ে পড়েl কোকো বাগানে কোকিল আসে, বাতাবি বাগানে বুলবুলিl দুচারটে ময়না-টিয়া, আর অনেক অনেক ডাহুক, ঝিলের ধারে ঝাঁক বেঁধে ঘোরেl অন্ধকারের মধ্যে গলির ভেতর ঢুকতেই মাথার ওপর দিয়ে ঝপ করে একটা মস্ত কেঠো ব্যাঙ পিংকাদের জানলা থেকে উঠোনের জলেl তারপরেও কত্তদিন বিশ্বাস করেছি এইভাবে একেকজন, চুপিচুপি ব্যাঙ থেকে রাজকুমার হয়ে যায়।
২.
কালীপুজো-ভাইফোঁটা শেষl ছুটি ফুরিয়েছেl স্কুল খুলেছে সবেl ক্লাব কর্তৃপক্ষও একে একে খুলে নিয়ে গেছে সব প্যান্ডেলের আলোটালোl বেলা ছোট, বিকেলগুলো অনাদরে মলিন, ফিকেl লোডশেডিং চলছে গত কয়েকদিনl দু’একটা বাড়িতে জেনারেটর এসেছে মাত্রl সে আলো পর্দা ভেদ করে গোটা কলোনির অন্ধকার কাটাতে পারে নাl ফলত মন খারাপ লাগেl মন খারাপ মন খারাপl অবিন্যস্ত খাতার শেষ পৃষ্ঠায় হিজিবিজি কৈশোরl একটা জাহাজ, একটা ফড়িং আর একটা মোহাব্বতের ম্যাপেল পাতাl আচমকা নিঃশব্দ ভেঙে একটা মোটরবাইক ক্যাঁ-চ শব্দে থামেl জোরালো আলো এসে পড়ে আবছায়ায়l ম্যাপেলের স্কেচে হলুদ রং ধরে।

৩.
শীতকাতুরেদের আর কী বা পৌষ কী বা মাঘl সকলই বাঘের গায়েl চটজলদি রাতের খাওয়া সারাl এবার আলিফ লায়লা দেখে কম্বলগামী হলেই হয়l কিন্তু ঠিক সাড়ে সাত মিনিট আগে ঝপ করে লোডশেডিংl জঘন্যl আজ আবে-জমজম ছুঁড়ে মারার কথা ছিল চিমা মস্তকে হুল হুলের গায়েl সে অবিশ্যি কাল দেখলেই বা কীl জল ছোঁড়া আর দৈত্যের মরে যাওয়ার মাঝে তো তিন-চার দিনের ব্যবধান থাকবেইl অতএব বাড়তি আধ ঘন্টা পাওয়া গেলোl দিদুন গল্প বলবেl রাপুনজেল রাপুনজেল সোনালি চুল বাইরে ফ্যালl আচ্ছা রাপুনজেল আর ডাইনিবুড়ি যদি একই মানুষ হত তবে রাজপুত্র কী করত? দুশোবার সুড়সুড়ির কন্ট্র্যাক্টে ছিয়াশির মাথায়, অন্ধকার বুকে, ঘুম এসে যায়।
৪.
নতুন ক্লাসের পড়া দস্তুরমতো শুরু হওয়ার আগেই গরমের ছুটি পড়ে গেলোl রোববারের সমস্ত দুপুর পাওয়ার-কাটl জানলার পর্দা ভিজিয়ে, মেঝেতে ভিজে গামছা পেতেও অস্বস্তি কাটে নাl পিংকা আর ওর ছোটপিসির মেয়ে বিলাই এসেছে বাড়িতেl বিলাইদিদি গান গায়l বিকেলবেলা তো তেমন কিচ্ছু করার নেইl মা, বাবা আর সরকার কাকিমা বিলাইদিদিকে গান গাইতে বলেl ছাদে বসে বিলাইদিদি প্রথমে শুকনো পাতার নুপূর পায়ে গায়l তারপর এমনি বরষা ছিল সেদিনl তখন হুড়মুড়িয়ে হাওয়া বয়l নারকেল পাতা এলোমেলোl ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে! আমি শুধানু তোমায় বলো দেখি, কোনওদিন মোরে ভুলিবে কিl কলতলায় জামাকাপড় মেলা আছে বলে মা দ্রুতপায়ে নিচে নেমে যায়l মার চোখের কোণে টলটলে বৃষ্টির ফোঁটা l কেউ দেখতে পায় না l মা তো চশমা পরে, সেই ক্লাস ইলেভেন থেকেই।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates