• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
হঠাৎ দমকা হাওয়া –  বুঝতে না বুঝতে ভিজে গেল পর্দা, ফুলদানির ফুল।  কই , তুমি তো কখনও আমাকে ভেজাতে হঠাৎ চমকে দাও না।  আমি কিন্তু অপেক্ষা করি ৷   ১.

শ্রাবণের ঘনঘোরl ঝমঝম বৃষ্টি হয়ে গেছে ভরসন্ধেয়l কোচিং ক্লাসের ঝাঁপে লাঠিl টুকটুক করে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ির গলির সামনেl পিংকাদের উঠোনে গোড়ালি-ডুব জলl পাড়া-জোড়া পাওয়ার কাটl ঝড়ে নাকি ডাল পড়েছে ইলেকট্রিক তারেl ঝড় না ছাই! মফঃস্বলে জোরে হাওয়া বইলেই গাছটাছ নুয়ে পড়েl গাছ আছে তাই নুয়ে পড়েl কোকো বাগানে কোকিল আসে, বাতাবি বাগানে বুলবুলিl দুচারটে ময়না-টিয়া, আর অনেক অনেক ডাহুক, ঝিলের ধারে ঝাঁক বেঁধে ঘোরেl অন্ধকারের মধ্যে গলির ভেতর ঢুকতেই মাথার ওপর দিয়ে ঝপ করে একটা মস্ত কেঠো ব্যাঙ পিংকাদের জানলা থেকে উঠোনের জলেl তারপরেও কত্তদিন বিশ্বাস করেছি এইভাবে একেকজন, চুপিচুপি ব্যাঙ থেকে রাজকুমার হয়ে যায়।
২.
কালীপুজো-ভাইফোঁটা শেষl ছুটি ফুরিয়েছেl স্কুল খুলেছে সবেl ক্লাব কর্তৃপক্ষও একে একে খুলে নিয়ে গেছে সব প্যান্ডেলের আলোটালোl বেলা ছোট, বিকেলগুলো অনাদরে মলিন, ফিকেl লোডশেডিং চলছে গত কয়েকদিনl দু’একটা বাড়িতে জেনারেটর এসেছে মাত্রl সে আলো পর্দা ভেদ করে গোটা কলোনির অন্ধকার কাটাতে পারে নাl ফলত মন খারাপ লাগেl মন খারাপ মন খারাপl অবিন্যস্ত খাতার শেষ পৃষ্ঠায় হিজিবিজি কৈশোরl একটা জাহাজ, একটা ফড়িং আর একটা মোহাব্বতের ম্যাপেল পাতাl আচমকা নিঃশব্দ ভেঙে একটা মোটরবাইক ক্যাঁ-চ শব্দে থামেl জোরালো আলো এসে পড়ে আবছায়ায়l ম্যাপেলের স্কেচে হলুদ রং ধরে।

৩.
শীতকাতুরেদের আর কী বা পৌষ কী বা মাঘl সকলই বাঘের গায়েl চটজলদি রাতের খাওয়া সারাl এবার আলিফ লায়লা দেখে কম্বলগামী হলেই হয়l কিন্তু ঠিক সাড়ে সাত মিনিট আগে ঝপ করে লোডশেডিংl জঘন্যl আজ আবে-জমজম ছুঁড়ে মারার কথা ছিল চিমা মস্তকে হুল হুলের গায়েl সে অবিশ্যি কাল দেখলেই বা কীl জল ছোঁড়া আর দৈত্যের মরে যাওয়ার মাঝে তো তিন-চার দিনের ব্যবধান থাকবেইl অতএব বাড়তি আধ ঘন্টা পাওয়া গেলোl দিদুন গল্প বলবেl রাপুনজেল রাপুনজেল সোনালি চুল বাইরে ফ্যালl আচ্ছা রাপুনজেল আর ডাইনিবুড়ি যদি একই মানুষ হত তবে রাজপুত্র কী করত? দুশোবার সুড়সুড়ির কন্ট্র্যাক্টে ছিয়াশির মাথায়, অন্ধকার বুকে, ঘুম এসে যায়।
৪.
নতুন ক্লাসের পড়া দস্তুরমতো শুরু হওয়ার আগেই গরমের ছুটি পড়ে গেলোl রোববারের সমস্ত দুপুর পাওয়ার-কাটl জানলার পর্দা ভিজিয়ে, মেঝেতে ভিজে গামছা পেতেও অস্বস্তি কাটে নাl পিংকা আর ওর ছোটপিসির মেয়ে বিলাই এসেছে বাড়িতেl বিলাইদিদি গান গায়l বিকেলবেলা তো তেমন কিচ্ছু করার নেইl মা, বাবা আর সরকার কাকিমা বিলাইদিদিকে গান গাইতে বলেl ছাদে বসে বিলাইদিদি প্রথমে শুকনো পাতার নুপূর পায়ে গায়l তারপর এমনি বরষা ছিল সেদিনl তখন হুড়মুড়িয়ে হাওয়া বয়l নারকেল পাতা এলোমেলোl ঝড় এসেছে ঝড় এসেছে! আমি শুধানু তোমায় বলো দেখি, কোনওদিন মোরে ভুলিবে কিl কলতলায় জামাকাপড় মেলা আছে বলে মা দ্রুতপায়ে নিচে নেমে যায়l মার চোখের কোণে টলটলে বৃষ্টির ফোঁটা l কেউ দেখতে পায় না l মা তো চশমা পরে, সেই ক্লাস ইলেভেন থেকেই।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
গুগুল ড্রাইভ থেকে খুঁজে পাওয়া আমার প্রিয় সেই হারিয়ে যাওয়া লিচু গাছ

সরীসৃপ আমি অপছন্দ করি। ছোটবেলার একটা স্মৃতি এখনো আমাকে ভয়ানুভূতিতে আন্দোলিত করে ।

আমি আমাদের লিচু গাছটার নীচে একটা জলচৌকিতে শুয়ে আছি, পাশে তিনি।
একটা সাপ উপর থেকে আমাদের জলচৌকিতে প্রায় আমার গায়ে এসে পড়ে, কিছুক্ষণ পর তাঁর কোলে নিজেকে আবিষ্কার করি।
সাপটাকে পরে মারা হয়।

তিন-চার বছর বয়সের স্মৃতি কারও মনে থাকে?
কেন যেন আমার মনে আছে।
সেবার আমার ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়ার অসুখ হয়েছিল। তিন অথবা চার তখন। বাড়িতে দিদি পাড়ার ছেলে মমেয়েদের পড়াতো, তাঁর কাছে আমিও বসে যেতাম পড়তে।
অক্ষরজ্ঞান রপ্ত হয়নি তখনো।

বাচ্চার মেনিনজাইটিস - ডাক্তার বলে। তিনি চাকুরিতে লম্বা ছুটি নিয়ে আমাকে কোলে নিয়ে বসে থাকেন লিচু গাছটার নীচে।
একগাদা ইনজেকশন, সন্ধ্যাবেলায় দিতে আসতো এক ডাক্তার।

সন্ধ্যাবেলা, অন্ধকারটা যখন একটু জড়িয়ে আসে, লিচু গাছটার ওপাশে খড়ের গাদাগুলোকে আবছা অন্ধকারে ভৌতিক কোন মূর্তির মতো মনে হয়, কুকুরে কামড়ে দেয়া আম গাছটার ওপারের ধুলো ওড়ানো রাস্তাটা ধরে হাটে যাওয়া মানুষগুলো ফিরতে শুরু করে যখন - সেই সময়ে।
বাবার কোলে বসে আমি, ধমনী খুঁজে না পেয়ে ডাক্তার ব্যাটা নাকানি-চুবানি খায়।

লিচু গাছটা এখনো আছে, চাঁপা গাছটার পাশে, ওপাড়ার বামুনদের শশ্মানটার ঠিক সামনে।
সেই গাছটা দেখলে আমি এখনো ভয় পাই। সরীসৃপের স্মৃতি মনে পড়ে আমার।


শহর বললেও সে এক মফস্বল - করতোয়া নদী আর একটা ছোট ব্রীজ, চিরে ফেলেছে মফস্বল শহরটাকে - মায়ের আঙুল ধরে ছোট আমি হাঁটি,  শীতে জনকের কোলে চড়ে হিমালয় দেখার চেষ্টা করে।
দুপুরে বাড়িতে খেতে আসা গুরুগম্ভীর বাবার পাশে গুটিসুটি মেরে অপ্রিয় দুপুরি-ঘুম দিয়ে দেয় এক প্রস্থ। বাবাটা যেন কেমন, বাইরে কতো মজা, দুপুরে না ঘুমুলেই হয়না?

-----------------------

তারপরের গল্প যেরকম হয়, সেরকমই।
আমি, আমি বড় হয়ে যাই অন্য সবার মতো। জীবনের প্রয়োজনে বাড়ি ছাড়ি, মফস্বল ছাড়ি।
বছরে এক-আধবার যাই বাড়িতে।

প্রতিবছরই বাবাকে দেখি - অনুভব করি - বুড়ো হয়ে গেছেন আগের বারের থেকে আরেকটু ।
গুরুগম্ভীর বাবা, যাকে আমার বন্ধুরাও ভীষণ ভয় পেতো, আমরা ভাই-বোনেরা পড়াশুনো না করে টিভি দেখতাম বলে যিনি এক আছড়ে ভেঙে ফেলেছিলেন যন্ত্রবাক্সটা - নিজের জন্যে অনুভব করি তাঁর আকুলতা।

ফোনে মায়ের কন্ঠ শুনি - কবে আসবি?
রেগেমেগে উল্টোপাল্টা বলি - সামারে ইন্টার্ন করবো, হ্যান করবো - সময় নাই আসার ।
এপারে বৃষ্টি ঢাকি, "মা, আসতে তো চাই সবসময় - কতো শেকল" ।

মা, জানো, আমি এখনো সরীসৃপের স্বপ্ন দেখি, ঘেমে উঠে ঘর ঠান্ডা করতে সুইচ টিপি।
পঞ্চগড়ে আমরা যখন থাকতাম, তখন প্রচন্ড ভূমিকম্পে কোন এক ভোরে তুমি পাঁচ-ছয়বছরের একটা ভারী বাচ্চাকে কোলে নিয়ে বাড়ির বাইরে ছুটে গিয়েছিলে, মনে পড়ে?
আমার মনে পড়ে।
এখন যে মাঝেমধ্যেই ভূমিকম্প হয় মাঝরাতে।

বহুদিন ইচ্ছে করে, জিজ্ঞেস করি - মা,এই অক্ষম সন্তানকে নিয়ে কোন স্বপ্ন করেছিলে কি রচন?
করা হয়না, করতে পারিনা।
মায়ের সাথে দূরত্ব অনেক এখন।
কয়েক হাজার কিলোমিটার অথবা কয়েকটা দেয়াল।

দূরত্ব অথবা সে দেয়াল অতিক্রমের সাধ্য আমার নেই।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সীমানারও একটা সীমানা থকে। তাই জীবনে বারবার সীমানা পেরিয়েও দেখা যায় আমরা নির্দিষ্ট একটা সীমানায় আটকে পড়ে আছি। হায় জীবন, তুমি কেন বারবার দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাও?“আমাকে একটি কথা দাও, যা আকাশের মত সহজ মহৎ বিশাল, গভীর;
মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন,
আমি যাকে আবহমান কাল ধরে ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর।
সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো।”

এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের অনুভুতি কতই না বিচিত্র। মলিন কবিতাগুলো রঙ্গিন করে দেবো, কতজন কত কথা দিল, অথচ দিনের শেষে সবার উপর বোষ্টুমি অথবা বরুনা নয়তো নদের আলির প্রেতাত্মা ভর করলো। তুমি কি জানো কেন বৃষ্টি নামে প্রতিরাতে? তুমি বললে ভূগোল আমার বিষয় নয়। ভ্রু কুঁচকিয়ে তাকালে দূরে , আর তখনই বৃষ্টি নামলো আমার শহরে।
স্বপ্নডানায় ভর করে উড়ে চলা এ জীবন, তবুও সকলের অগোচরে কোনো এক অজানা পিছুটানে থেমে যেতে মন চায়; জানো বকুল একদিন ঠিক হেঁটে যাবো সেই রাঙ্গামাটির পথে খালিপায়ে; তোমার আঁকড়ে ধরা হাতে রাখবো হাত, তারপর সেই তেপান্তরের মাঠে সবুজ গাছের গালিচায় শুয়ে থাকা পাশাপাশি, আর আকাশের ক্যানভাসে উড়ে যাওয়া ধবল বক দেখে উল্লাসিত তোমার সেই ডাক ‘পাগল’। এমন একটা শ্বাস আর ডাকের জন্য জীবনটা বড্ড বেশি বোহেমিয়ান হয়ে গেলো।
জানিস বকুল,
গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্ত পথিকের মত যখন
অনামিকার দ্বারে এসে এক গ্লাস জল চেয়েছিলাম তখন
ঝড়ের কবলে পড়া নৌকার মাঝির মত অনামিকা
মাটির গ্লাসে করে জল এনে দিয়েছিলে,
সাথে দিয়েছিলে উওপবাস ভাঙা দুটো বাতাসা।
অচেনে পথে চলতে চলতে তখন নিজের কাছেই অচেনা,
তবুও অনামিকা আমার বহুদিনের চেনা পরিচিত।
চেনে স্বর নিয়ে যখন সে জিজ্ঞেস করেছিল
‘পথিক তোমার বাড়ি কোথায়? যাচ্ছো কোথায় ?’
আমি উত্তর দিতে পারিনি;
আমি তাকে বলতে পারিনি
পথিকের বাড়ি হয় না, গন্তব্য হয়না;
উত্তরে শুধু বলেছিলাম ‘জানিনা।‘
দিগন্ত খোঁজা চোখ নিয়ে হতবাক হয়ে চেয়েছিল অনামিকা। তারপর
চোখ নামি
য়ে বলেছিল “ দু’মুঠো চিড়ে আর জিল দিলেম, পথে খেয়ে নিও।”
দু’পা এগোতে পিছু ডেকে বলেছিল “ফেরার পথে পারলে আবার এসো।”
আরপর বহুদিন হয়ে গেছে...
অনামিকা হয়তো এতোদিনে বুঝেগেছে
পথিকের কোনো বাড়ি হয়না, পিছুটান হয় না, গন্তব্য হয়না, আর
ফিরে আসা বলে কিছু হয় না।।

জানিস বকুল, এক এক দিনের রং এক এক রকম; এক এক দিনের ঘ্রান এক একরকম; এক একদিনের স্পর্শ এক একরকম; জীবন যদি হয় নানা রকম দিনের মেলা, তবে তার থেকে আমি বাদ দেব সমস্ত ছাই রঙা ফুল। শুভ্রতার দিগন্ত মাড়িয়ে একদিন তুমি এসো আমার ছোট ঘরে; আমার আছে জল, আমার আছে ছায়া আর আমার চোখে আছে প্রতীক্ষা। একদিন ভুল করেই না হয় এসে দেখে যেও কেউ একজন দিনরাতকে তুচ্ছ করে বেঁচে থাকে শুধুই অকারনে।

তবুও নিরবতার খুব কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি, ভিতরে এত তোলপাড় কিসের তোমার? কখনও ভালোবেসেছিলে কাউকে? অথবা বিষাদ হয়ে জানালা ঘেঁসে দাঁড়িয়েছিল কেউ? তুমি যাকে আকাশ ভেবে দিগন্তরেখায় মিশিয়েছিলে সেটা আসলে পাহাড় ছিল। জানো বকুল, আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় তোমায় এক পাহাড়ের গল্প বলি; এক অদ্ভুত নির্বাসিত পাহাড় আর এক একলা গাছের গল্প। আমার খুব ইচ্ছে করে ওই পাহাড়টাকে জিজ্ঞেস করি ওর এই নির্বাসন কিসের! ওর কি ইচ্ছে করে না সেই গাছটির কাছে ফিরে যেতে? আজ আবার স্বপ্নে দেখলাম সেই অদ্ভুত নিঃসঙ্গ পাহাড় ধীরে ধীরে সূর্যাস্তের শেষ রক্তিম আভাটুকু শুষে নিচ্ছে। আজও স্বপ্নের সন্ধানে বেরোবেন ঈশ্বর; মাঝরাতে তারার গুঁড়োর মত ঝরে পড়ে লাল নীল স্বপ্নেরা, একমুঠো স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে বুকপকেটে ভরে নিই; তারপর ফিরে যাই পাহাড়ের কাছে, বলি “ হে মহান পাহাড়, এবার তোমার নির্বাসন জীবনের শেষ হোক, তুমি ফিরে যাও তোমার ওই একলা গাছের কাছে, আর হ্যাঁ, কোনোদিন আর আমার স্বপ্নে এসো না।”

জানিস বকুল, আমাদের স্বপ্নগুলো কষ্টগুলো ঠিক আমাদের মতই অদ্ভুত। কত ছোটো ছোটো করনেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়, আবার কিছু কষ্টগুলোকে ইচ্ছে করেই মনের এককোনে রেখেদিই খুব যত্ন করে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে একটা নদী কেনার, নদীর নামটাও ঠিক করে রেখেছি- ময়ুরাক্ষী; সেই নদী আমার আজো কেনা হয় নি। আজ মাথার চুলো দু’একটা রুপোলী ঝিলিক দেখলাম, বুঝতে পারছি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, সেই ময়ুরাক্ষী নদী আমার কোনোদিন কেনা হবে না। এমন দু’একটা ইচ্ছে পূরন না হওয়াই ভালো।

জ্বরের দুপুরে চোখে নেমে এলো এক অদ্ভুত স্বপ্ন, ভয়ার্ত ভয়ংকর!
একটা পাতলা চাদর গায়ে ল্যাপটপের পাশে বালিশ পেতে
ঘুমিয়ে ছিল আমার ভাবনা,
কিন্তু বড় অশান্ত ছটফটে লাল চোখে ভেবে চলেছিল এক গল্পের পট;
হঠাৎ সেক্ষনে অনধিকার প্রবেশ জটিলতার, আর তারপরেই
ভারী বাতাসে বয়ে চলা কিছু আপত্তিকর জলছবির ঝলক।
আমার কুঁকড়ে থাকা মন আবার চমকে ওঠে,
মায়ের গলা শুনি “কখন এলি?”
সিড়ির উপরের চিলেকোঠার ঘরে মৃত মানুষের প্রতিবিম্ব
নাড়িয়ে দেয় আমার সিক্সথ সেন্স কে।
ধড়ফড় করা ধমণী নাড়িয়ে দেয় আমার ভাবনা কে।
ঘর্মাক্ত শরীরে অসম্ভব ক্লান্তি বুজিয়ে দেয় চোখের পাতা...
স্বপ্ন তুমি এসেছিলে কি??

আমার স্বপ্নে আজও উত্তুরে বাতাস করা নেড়ে যায় পূবের জানালাগুলিতে; আমি ফিরে যাই সেই ফিরে না পাওয়া সময়ে। আমার মনে পড়ে তেপান্তরের মাঠ, অচেনা চোখের কোনে জল, কথা না রাখা কথারা জাগিয়ে রাখে রাতের পর রাত, আমার ঘুম আসে না, আমি ফিরে যাই বকুল তোর কাছে। বকুল, আমায় ফিরিয়ে দিস না, এই অচেনা অজানা শহরে আমার কোনো অলি গলি জানা নেই, আমি চেনা পথ বার বার ভুল করে ফিরে যাই তোর উঠোনে আর ভিজে যাই তোর বৃষ্টিতে।

জানিস বকুল, শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম আমার মনে নেই; অনেকদিন পর আজ আবার ভিজলাম বৃষ্টিতে। জানিস বকুল, বৃষ্টিকে নিয়ে আমার কোনো বিশেষ স্মৃতি মনে নেই, বিশেষ কোনো ঘটনা নেই যা আমাকে নাড়িয়ে দেয়, আমার মনে পড়ে যায় ছেলেবেলার বৃষ্টি; আমার কান্না পায়, কাঁদতে পারিনা, বৃষ্টি প্লিস একটু ফিরে আয়, তোর জলে ভিজে একটু কাঁদতে দে আমায়।। 

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
নারায়ণের ঘাটে গিয়েছি কতদিন
তবু আজও মনে হয়, আমি কি দেখেছি
তোমায় মাঝি, হে নারায়ণ, দেখেছি কি
কোনো জন্মে, তিতাস পাড়ে?

কত কৈশোরসন্ধে ও কুমারী সদৃশ ভোর
গোধূলিবিকেল আর
ঘরেফেরা পাখিসন্ধ্যায়
আমি হেঁটেছি, হেঁটে হেঁটে
চলে গেছি তিতাস হিজলছায়া মেখে...

আর অনেক অনেক রাতে সৌরজ্যোৎস্না
মেখেছি তিতাস হাওয়ায় আর গভীর
গভীর শুনেছি দূরগামী দাঁড়িদের
নিশি-জাগার শব্দ, পাখিডানার গান...

তবু, আজ, এই নির্ঘুম, শাহরিক রাতে
মনে হয়, তিতাস
দেখিনি আমি কোনোদিন
দেখিনি তিতাসছায়া, সেই নারায়ণ
মাঝিকে
কখনো দেখিনি আমি এই জন্মে,
দেখেছি কেবল নদীর শব আর রক্ত
আর ধূলিদীর্ণ এক নারায়ণ-মুখ।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মল চত্বরটা তেমনিই আছে জানো-
অল্প বৃষ্টিতেই কাদা কাদা ভেজা।

ঘাসগুলো ঠিক আগের মতোই ঝকঝকে সবুজ-
ধূলা ধোয়া!

ক্যাম্পাসের ঘাসগুলো,
আমাদের ফেলে আসা বয়সেরই মতো-
বেড়ে ওঠে প্রবল স্বাধীনতায়!
বেয়াড়া বেড়ে ওঠা
বৃষ্টির প্রগাঢ় প্রেমে!


ইনকোর্স ফেলে, বৃষ্টির দিনে-
আমাদের কাকভেজা!
ভরা বর্ষায় আমাদের  ক্যাম্পাস ভ্রমণ,
আমরা পারতামও!


মল চত্বরের ঘাসের মতোই-
আমাদের বেয়াড়া বেড়ে ওঠা!
ক্যাম্পাসের দিনগুলোতে....

শুধু ঘাসগুলো  আমাদের মতো আপোষ শেখেনি আজোও।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কিছুই দেখবনা,
এই চিরচেনা দৃশ্যবলি
ঝুল বারান্দার টবে ফুলের কোলাহল,
সুপারি গাছের সারির বুকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা
কৃষ্ণচূড়ার সবুজ মায়া,
ইলেক্ট্রিকের তারে ডিগবাজি খাওয়া
ঝুলে থাকা তিনটে ফিঙ্গে,
ক'টি কাক উড়ে উড়ে আসে, যায় ,
ঝুল বারান্দার রেলিঙে বসে;




কিছুই দেখবনা,
দেখবনা আর পাশের বাড়ির ছাদ,
একটি শালিক আমার খুব বন্ধু
রোজ বসে পাশের বাড়ির কার্নিশে,
কোনোদিন না এলে কষ্ট হয়;
তাকেও দেখবোনা,
রোজ বিকেলের মত
সারাদিন নিঃসঙ্গ বারান্দায়
শুধুই নির্জীব বসে থাকা।

শরতের তীব্র নীল আকাশময়
শুভ্র মেঘপরীদের নেচে নেচে যাওয়া ,
কিশোরের লাল ও সাদা ঘুড়ির প্রখর শত্রুতা
যেসব বালকের কোলাহলের আয়নায়
নিমেষেই নস্টালজিক শৈশবের মুখ ভেসে ওঠে।

আটপৌরে জীবনের সমস্ত বিষন্নতা কোলে করে
ঘরে ফেরা কর্মজিবীর দল
এঁচোড়েপাকা কিশোরের
বিড়িটানা বখাটে রৈ রৈ হল্লা
এ শহরের এই পরিচিত ছুটে চলা
ফিরেও দেখবনা;

মন ভালো নেই আজ।। 



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
জানি না, ভরা জোছনায় আবার কবে ফিরবো আমার সেই গাঁয়ে।
পুকুরপাড়ের কাদামাটিতে খালিপায়ে হেঁটে বেড়াবো কবে।
জানি না আমি আবার কোনদিন সুস্থ হবো কিনা।
দীঘির পাড়ে বসে আবার কোনদিন বকুলের পাতা ছিঁড়তে ছিঁড়তে
আর গুনগুন গাইতে গাইতে রাত পেরিয়ে যাবে কিনা।
অপবিত্র নোংরা এই আত্মাকে সঙ্গে করে
প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকাকে
আমার আর আশাপ্রদ কিছু মনে হয়না।
আজ আমি শহরের অধিবাসী তাই
সকালে সন্ধ্যায় নগরের ঘাম-ধুলো-গন্ধের সাথে মিশে যাই,
মিশে যায় নগরবাসীর পাপগুলো আমার দেহে।
তারপর তাদের আলিঙ্গন করে আপন করে নিই অজান্তেই।

ক্রমাগত পাপের মাঝে ডুবে চলেছি আত্মাকে গলা টিপে ধরে,
রাতের নৈঃশব্দে শয়তানের আহবানে সচকিত হই।
বিমর্ষ বিবেক আকুল নয়নে চেয়ে থাকে আমার শ্বদন্তগুলোর দিকে
আমি স্মিত হেসে তাকে নখরবিদ্ধ করি উপর্যুপুরি কয়েকবার।
তারপর নিশ্চিন্তে আবিষ্কার করি পশুত্বকে।
আমাকে কেউ রক্ষা করতে আসেনা, আসেনা স্তব্ধ করতে।
পথে বেরিয়ে আমার চাইতে ভীষণ কদাকার হিংস্র শ্বাপদদের দেখে নিশ্চিন্ত হই।
আমার পথ তো বহুদূর!
গলার গোড়ায় তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দিনের আলোতে ঘুরে বেড়াই আবার
মিশে যেতে থাকি পাপের রাজত্বে, বদলে যেতে থাকি।
অশান্তির গ্রাসে হারিয়ে যেতে থাকি প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ
প্রবল থেকে প্রবলতর হতে থাকে দুঃখবোধ, অসহায়ত্ব।

আমার খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ছেলেবেলায়।
মুক্তির অপাংক্তেয় স্বপ্নে তাই ভেসে যাই।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates