• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin

এখন আর তোর জন্য দুম করে কিছু লিখতে পারি না আগের মতন। এখন আর তোর জন্য ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ কত্তে পারি না আগের মতন। এখনও মন খারাপ হয়, কিন্তু মন কেমন থাকে না আগের মতন। কিন্তু আজ হঠাত্ই অন্ধকারের বৃষ্টি হঠাত্ বৃষ্টি, আগের মতন। সেই রকম ভেজা ভেজা, মনকেমনের গন্ধওয়ালা, একনাগারে টুপটাপ, ঠিক তোর মতন। এক্কেবারে তোরই মতন।
অফিস থেকে ফেরার পথে আজ বৃষ্টি ভিজলাম খুব। আগের মতোই। অনেকদিন পর। আমার চোখে মুখে বৃষ্টির বড় বড় ফোঁটা, শান্ত ভাবে দাঁড়ালে মনে হয়, পিয়ানোর রিডে কারোর আঙুল বোলানোর মতো, আমার চোখে মুখে টিপটিপ সুর তুলছে কেউ। এলোমেলো, কিন্তু সুন্দর।
বৃষ্টি পড়লেই শক্তির একটা লাইন বার বার মনে পড়ে আমার। প্রথম যা শুনেছিলাম, তিতলি সিনেমাটায়। পেয়েও না পাওয়ার একটা মুহূর্তে অপর্ণা সেনের গলায়, অদ্ভুত মনখারাপিয়া সে লাইন, একটাই লাইন, তাতে যেন আমার বৃষ্টি মন খারাপের সবকিছু সাজানো গোছানো অদ্ভুত ভাবে,
“এখানে বৃষ্টি পড়ে বারো মাস, এখানে মেঘ গাভীর মতো চড়ে, পরাঙমুখ সবুজ নালীঘাস, দুয়ার চেপে ধরে”।
দেখছিস, লিখতে লিখতে আরও ঝেঁপ্পে বৃষ্টি। আচ্ছা? তোর ওখানেও কি একইরকম বৃষ্টি পড়ছে আজ, এই মুহূর্তে? কি করছিস তুই? ঘুমোচ্ছিস? নাকি কথা বলছিস অন্য কারো সাথে? নাকি আমার মতোই মনকেমন তোর? কে জানে..
আমার ঘরের খোলা জানলা দিয়ে আলো ছিটকে পড়েছে বাইরের অন্ধকারে। আমার কার্নিস বেয়ে টুপটাপ জল, পড়ার আগে মাঝপথে, চোখে ধরা দিচ্ছে ঘরের আলো লেগে।  চকচক করে উঠছে সে সব একলা অন্ধকারের মধ্যেও। আর আসছে শব্দ। ছাদের পাইপ বেয়ে বৃষ্টি জল পড়ার শব্দ। ঝেঁপে বৃষ্টির ঝমঝম শব্দ। একভাবে সে শব্দে নিজেকে সঁপে দিলে মনে হয়, জীবনের শেষ কিছু মুহূর্তে, শেষতম শব্দ এসব। এরপরেই গলে যাব, ভেসে যাব আমি। রাস্তার নোংরা জলে হবে আমার শেষকৃত্য। ভুত হয়ে থেকে যাব জমা জলে, কবে তোর পা ভেজাব, মুক্তি আমার সে সময়েই।
“আমার সর্ব অঙ্গে জল, সর্ব অঙ্গ ভেজা হবে
এই বৃষ্টি শেষে আমার তোমার সঙ্গে দেখা হবে..”
আমার ঘরের সামনের ছাদের পাঁচিলে সার সার টব। তাতে ফুল, কিছু গাছ। আপাদমস্তক ভিজবে ওরা সারারাত। ওদের বলি, আমার হয়ে খানিকটা বৃষ্টি ভিজে নিতে। বৃষ্টি হলে চারপাশে কিরকম আলো আলো হয়ে যায় দেখেছিস কখনও ভালো করে? তোর মুখে সেই আলো দেখতাম। আজ সেই আলোতে তোকে দেখলাম। আগের মতোই আছিস। একইরকম।
“আমি বৃষ্টি ভালোবাসি, তাই মেঘের কাছে ফিরে ফিরে আসি,
আমি বৃষ্টি জলে শুদ্ধ হতে চাই, আমি তোমার প্রেমে শুদ্ধ হতে চাই”
আবার কখনও এভাবেই বৃষ্টি নামবে একদিন। ভেজা রাস্তায়, জংলা গাছের ভিড়ে এক্কেবারে একলা থাকব দুজন। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বৃষ্টি মানুষ হওয়ার আগে জাপটে ধরবো তোকে। আদরে আদরে বৃষ্টি মাখব জিভে। তোকে বৃষ্টি চুমু খাব। প্রাণপনে..
চুমুর দিব্যি আমার, তোকে বৃষ্টি চুমু খাবো….


Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কোলাহলে কিংবা নির্জনে, নৈঃশব্দে কিংবা গর্জনে, স্বপ্নে কিংবা জাগরণে, প্রলয়ে কিংবা সৃজনে, খুঁজি ফিরি নিজেকে একান্ত আমার আমি-কে। নীল জলের টানে দিগন্তের দিকে ঝুঁকে পড়েছিস তুই। জীবন ধেয়ে বেড়ায় তোমাকে আর আমায়। অতঃপর কিছু রঙ নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়নি গাছেদের নিজস্ব ক্যানভাসে। নরম আলোর বৃত্তে আমরা পরস্পর ছায়া এবং দৃশ্যাবলি... বৃত্তের বাইরে আছি আমরা, চালাঘর আর রংচটা চায়ের কাপ, চুমুর জায়গায় চুমুক রেখে পোড়ামাটির জীবনশৈলী লিখে রাখি সেরামিক্সের কথকথায়।
ট্রেন চলে গেছে ছেড়ে। ফিরে আসবেনা আর বৃষ্টির মরসুমে। কেউ ফিরে যায় বাস্তবে আর কেউ ওয়েটিংরুমে। চশমার ফাঁকে কবেকার জল, আজও থেকে গেছে একা। নদীতে গাছের ছায়া,
শেওলা পড়া পাঁচিল… সব ছিল একা, তোর মত একা।

ঢের ভাল ছিল আমার বিষণ্ণতা… বিষ বুকে এখন আমি স্বপ্নের মত বোকা… নীলের আভায় রক্ত মাখিয়ে রোজ ছবি আঁকি মানুষের ভীড়ে। ভাঙ্গা পাঁচিল,শকুন,অন্ধকার আর তার মাঝখানে আমি রঙহীন-একা। এর চেয়ে ঢের ভাল ছিল তোর মত বিষণ্ণতা।
আসবে যত পাতার কথাও - কে কখন চেয়েছিলো শীতের কবিতা - বলেছিলো - কথা দাও-
আজও সে কথামালা আছে তোলা অবাক খাতার 'পরে - আজ আবার হয়তো হবে খোলা।
হয়তো হবেনা - আহা - না ঝর্ণা - না বর্ষাবেলা - পদচিহ্নময় বাংলার রূপোলি খেলা - খেলা ফেলে চলে যাওয়ার নৌকো জীবনে ফেরেনা। নোঙরের দাগ পড়ে রয় ঘাটে - তবু সে অচেনা।



দেখি - ঝকঝকে সব মুখ - চকচকে স্নানঘর - অর্ধচেনা - অর্ধজানা - আশপাশের নতুন কলস্বর।
ওই মুখ, ওই ঘরদোর আমাদেরই পাড়ায় ছিলো -
আগে তা তেমন করে নজর পড়েনি - আজ হঠাত পড়লো। এইমাত্র রাস্তায় দেখা নতুন মুখকে মনে করে - হয়তো কবিতা হবে - কিংবা গল্প। পাতারা রাখবে ধরে।

রাতের অন্ধকারেও নাকি লুকিয়ে থাকে কিছু গল্প। আমি তাই চোখ মেলে অন্ধকারের উপস্থিতি মেপে অপেক্ষায় আছি। দাও, তোমার গল্পের কিছু প্রান, তা দিয়েই আমি রচনা করবো অসহায় আত্নসমপর্ণে হারিয়ে যাওয়া কোন গানের শেষ দু'লাইন।
একঝাঁক মানুষের মধ্যে খুব একা হয়েছিলাম আজ বিকেলেই। শেষ বিকালের সূর্যটা কারন। এই রকম সূর্যাস্তের কাছে গেলে মন যে কেমন করে।
একটা ছোট্ট মেয়ে বালিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। আমি প্রজাপতির মত সেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। জীবনের সুখগুলো ওর ফ্রকের ভাজে ভাজে দোল খাচ্ছিল। অস্ত যাওয়া সুর্যের আলোতে
ওকে কি দারুণ যে দেখাচ্ছিল। ডিজিটাল ক্যামেরার ক্লিক এ সেই বিকেলের সূর্যটা আমার
কাছে বন্দী হলো।
এক রাশ কলকাকলির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার নিজস্বতায় সূর্যকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।
কি আশ্চর্য এক অনুভব, এখানের অস্ত যাওয়াটা সূর্যটা ওখানে মায়ের চোখে আলো দিচ্ছে।

কেউ চলে যাবে,হয়তো কেউ- অনেক কাছে থেকেই ভুলে যাবে। তবু ধরে রাখতে ইচ্ছে করে,
তবু পাশে থাকতে ইচ্ছে করে… রাশি, রাশি গল্প বলা রাত- হয়তো একদিন ভোর হবে,
জানি আর কখনোই ফিরবে না সেই রাতের-ই টানে।
আমার এই ছোট শহরে যারা ছিল-সবাই আছে, এখনো পদ্যে খুঁজি,গদ্যে আঁকি, ভুল করে হলেও তোমাতে হারাই। একলা ঘর,কিছু পুরনো স্মৃতি এলোমেলো তোমার প্রিয় বই- একলা জ্বলা মোমবাতি,



ধুলো জমা সেই গিটারে- বিষাদী সূর বাজে।
এখনো আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি পড়ে, এখনো আমি ভিজি…

বৃষ্টির শহরে বিষন্ন বিকেলের রঙ পালটে দিয়েছিল সে চায়ের টেবিল। লুচি-ডালের অদ্ভূতুরে সময়ের আড্ডাবাজি আর গতিপথে উড়ে আসা সহস্র বৃষ্টিকণার 
ভেতর পূণর্বার জেগে উঠা অতীত দিনের বিচ্ছিন্ন সব সুরের আকস্মিক খোঁজ। 
আমাদের বেঁচে থাকা জলমগ্ন দুঃস্বপ্নের মত অথচ বৃষ্টি জল ফেরায় নিখোজ হয়ে যাওয়া মগ্নতার দিন। মায়ের আচলের সেই সে ওম। মাকড়শার জালের ভেতর থেকে কবিতা বুনার আশ্চর্য সব সূত্র আর 




পৃথিবীর কোথাও দুঃখরা থাকে, তা অস্বীকার করার দীপ্ত সাহস। 
অথচ তুমি আমি ভালো করেই জানি, শহরের দুঃখভার অধিক হলে বৃষ্টিরা নামে, মেঘেরা ধারণ করে গভীর যত কালো। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

হলুদ জীবনের ধারাপাত শেষে ডেকেছ আমায়, বকুল শুভ্র দিনগুলো কি ফের পাওয়া যায় ?


এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও,
মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায়।
 হয়তো আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া,
তাও রেখেছিলে ফেলে ;
খামটুকু ও হয়ত খোলার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো।
 হয়তো বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল,
না পড়া- ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি পড়েছিলে কী না;
 জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে ।
হয়তো বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে-
আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে,
কী ফুল হতো জানিনা তাতো তুমিও জানোনি।
 তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা।
হয়তো একটা কবিতা জন্মেছিলো একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে
 কোন একদিন তুমি পড়বে বলে কুয়াশায় মগ্ন রাতে।
ভিজেছে রাতভর বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও পড়া হয়নি ।
এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে –
 যা-ই গত বর্ষায় পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি দুজনে হাতে হাত রেখে,
গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে–
 তার সবটুকু হয়ে বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা হেমন্তের খোলা আকাশে –
সেখানেই হয়ত কিছু রেখেছিলে,
 যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও।

শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে আমি বুঝে নেবো …. একদিন এখানেই তুমি ছিলে
কোন এক আড্ডায় ;
গানের আসরে কিংবা মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায়।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3174276807"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments



তোমার সেই উজ্জ্বল অপরূপ মুখ। দ্যাখো, দ্যাখো , কেমন নীল এই আকাশ, আর তোমার চোখে কাঁপছে কত আকাশ, কত মৃত্যু, কত নতুন জন্ম...কেমন করে বলি? 

আমি যাকে কষ্ট বলেছি, তুমি তাকে কল্পিত বোলোনা। কল্পিত কষ্টের চুড়া কখনোই এতটা আকাশ ছুঁতে পারে না। যতটা দীর্ঘ্য হবে হিমালয়,  ছুঁয়ে ফেলে আমার ভেতরে জমা কষ্ট নিষাদ। 
তবুও বলি, ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো। যে দিকে দুচোখ যায়...যেতে তার খুশি লাগে খুব। ভালোবাসা পেলে কেন আমি পায়েসান্ন খাবো? যা খায় গরীবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে। 
আমি ফিরে যাব আমার মায়ের কাছে, সেই ছোট্ট পিঁড়িটার কাছে। অনেক অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে সে। আমি ফিরে যাবো সেই ছোট্ট থালার কাছে। বহুদিন ভাত বাড়া হয় না তাতে। সেই ছোট্ট গেলাস'টাও ফিরে গেছে কাউকে ফিরে না পেয়ে। আমি জানিনা, উঠোনের সেই চাঁপা গাছটা আজোও ফুল ফোটায় কি না, আমার জানা নেই, আমার খুব জানতে ইছে করে সেই রূপকথার ইতিহাস। শুয়োপোকা থেকে রাজহাঁসের শৈশব জানে কতটা সত্যি ছিল রূপকথা। 
চিলেকোঠারা আজোও জানে কৃষ্ণচুড়ার রঙ পালটে যাওয়ার ইতিহাস, চিলেকোঠার কোনায় কোনায় লেখা আছে দখিনা বাতাসের গতিপথ। 

আমার মনে পড়ে যায় অনেক কাজ বাকি থেকে গেল, অনেক কথা না-বলা থেকে গেল। হয়তো আর কখনোই বলা হবে না, তবু  বলতে ইচ্ছে করে, শুনতে ইচ্ছে করে, লিখতে ইচ্ছে করে সেই শুয়োপোকার গল্প, যার প্রজাপতি হতে ভীষন ভয়। আমি ভুলে যাই আমার অবকাশের  কথা, বুঝতে পারি অবকাশ নেই আমার, অভ্যেসে মিশে গেছিস তুই আমার। তারপর একদিন তুমি জানতে পারবে না বলা গল্পেরা খুঁজে নিয়েছে নতুন মোড়, পেছনে পড়ে রইলো পুরনো ঘরের সেই হাঁসি কান্নারা...একা এবং একা...।।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
ভূতটাকে আমি দেখেছিলাম পুরোনো পোস্ট অফিসের
সামনে। সেই থেকে ভূতের গল্পটা সবাইকে বলে আসছি, কেউ বিশ্বাস করছে, কেউ কেউ করছে না।
নদীর একটা দিক ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে শহরের উত্তর দিকটা অনেকখানি গিলে ফেলল। পুরোনো পোস্ট অফিসের বাড়িটা থেকে যখন আর মাত্র বিশ গজ দূরে জল, তখনই সরকার তরফ অফিসটাকে শহরের মাঝখানে তুলে আনে। পুরোনো বাড়িটা নদীগর্ভে যাওয়ার জন্য মৃত্যুদ্বন্ডাদেশ পেয়ে একা পোড়ো বাড়ির মত দাঁড়িয়ে রইলো। তার বিশ গজ দূরে নদীর পাড় আরও খানিকটা ভাঙ্গল। ভাঙ্গতে ভাঙ্গতে সেই জল এসে একদিন বাড়ির ভীত ছুঁয়ে ফেললো। তলা থেকে ধুয়ে নিয়ে গেল মাটি। কিন্তু সে সময় বর্ষার পর জলে মন্দা লেগে যাওয়ায় সেবছরের মত পুরোনো বাড়িটা বেঁচে যায়। কেবল নদীর দিকটায় একটু কাত হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

ওই ভাবেই রয়ে গেল বাড়িটা, কেউ এসে দখল নেয়নি। কেবল তার জানালা দরজা গুলো গরীব-গুর্বোরা খুলে নিয়ে গেল, কিছু আলগা ইট নিয়ে গেল লোকজন। কিন্তু পিসার হেলানো স্তম্ভের মত সেই হেলা বাড়িতে কেবল নদীর বাতাস বইতো দীর্ঘ্যশ্বাসের মত, আর ছিল বাদুড়, ইঁদুর, চামচিকে, সাপখোপ আর উদ্ভিদ। গাছের জান বড় সাংঘাতিক, তারা ভিত ফাটিয়ে গজায়। তা এরা সবই ছিল, আর কেউ নয়।

তখন আমি ছোট। বছর সাত আটেক বয়স হবে। সে বয়সটার ধর্মই এই যে, পৃথিবীর সবকিছুই হাঁ করে দেখা। সব কথা হাঁ করে শুনি। কিছু বোকাসোকাও ছিলাম। বড়রা কেউ সঙ্গে না থাকলে যেখানে সেখানে যাওয়া ছিল বারন। যাওয়ার সাহসও ছিলনা। 

তখন দাদু বিকেলবেলায় প্রতিদিন একহাতে আমার হাত অন্য হাতে লাঠি নিয়ে বেড়াতে বেরোত। সবদিন একদিকে বেড়ানো হত না। তবে প্রতিদিনই আমরা নদীর পাড়ে যেতাম। নদী শহরের ভেতর ঢুকে এসেছে। কাজেই বেশি দূর যেতে হয় না। একটু হাঁটলেই নদী।শীতকাল তখন, বিশাল বিস্তির্ন চর ফেলে নদী আবারও খানিকটা উত্তরে সরে এসেছে। সে চরের মাটি চন্দনের মত নরম। তার উর্বরতা খুব। 
আমি আর দাদু সেই নদীর পাড়ে দাঁড়াতাম, দাদু লাঠিটা তুলে দুরের দিকে দেখাতেন। বলতেন-ওই যে কাকতাড়ুয়া, কেলো হাঁড়ি দেখছো ওইখানে ছিল একটা বহু পুরোনো ডুমুর গাছ। ওর তলায় পঞ্চাশ ষাট বছর আগেও রাম পন্ডিতের পাঠশালা ছিল। আর ওই যে ডালের খেত খড়ের ঘর, ও ছিল ডাকাতে কালীবাড়ি। এখন দেখে বোঝাই যায় না। 

শহরের অনেকটাই হারিয়ে গেছে। সেই অংশ টুকুতে ছিল বসত বাড়ী, ইস্কুল, মন্দীর রাস্তা। সেটুকুই সব নয়, তার সাথে অনেকের বাল্য-কৈশোরের নানা স্মৃতিচিহ্নও। কত পুরোনো গাছ, পাথর, ঘাট আঘাটা। 
দাদু নদীর ধারে এলেই আমাকে উপলক্ষ্য করে সেই সব পুরোনো স্মৃতির চিহ্নগুলোর স্থান নির্দেশ করার চেষ্টা করতেন। তারপর চুপকরে দাঁড়িয়ে থাকতেন। নতুন ঘাট তৈরী হয়েছে, সেখানে নৌকা বাঁধা। দাদু কখনও সেই ঘাটের ধারে গিয়ে ঝিম হয়ে বসে থাকতেন। তাঁর একদিকে আমি, অন্য দিকে লাঠি।

বাঁ ধারে, অনেকটা দূরে পুরোনো পোস্ট অফিসের রহস্যময় হেলে পড়া বাড়ি দেখা যেত। জানালা দরজার প্রকান্ড হাঁ-গুলো শোকার্ত চোখের মত চেয়ে আছে সজীব পৃথিবীর দিকে। সামনের বর্ষায় যদি বাঁধ ভাঙ্গে তো তার পৃথিবীর মেয়াদ শেষ হবে। মুমুর্ষ বাড়িটা এই সত্যটা বুঝতে পেরেছিল। সে তাই অজানা মানুষের কাছে তার মৃত্যুসংবাদ পাঠাতো ওইসব অন্ধকার চোখের ভাষায়। 

বিকেল ফুরিয়ে গেলে আমরা নিঃশব্দে উঠে আসতাম। 

একদিন দাদু ওই ভাবে ধ্যানস্থ। নদীর উপর শীতের শেষবেলায় একটা অদ্ভুত আবছা আলো পড়েছে। ফসলের ক্ষেত নিস্তব্ধ নিঃসাড়। একটা কুয়াশার গোলা নদীজল থেকে উঠে আসছে। ঘাটে জনহীন নৌকা বাঁধা। জলে স্রোত নেই, শব্দ নেই। 
সেই বয়সের যা স্বভাব। আমি উঠে কিছুদুর একা হাঁটলাম। জলের একটা পচাটে গন্ধ শীতের বাতাসকে ভারী করে তুলছিল। এওকটা লাল বল গড়িয়ে গড়িয়ে পায়ে পায়ে নিয়ে আমি আস্তে আস্তে ছুটছি। কখনও দাঁড়াচ্ছি। দাদুর দিকে ফিরে দেখি তিনি তখনও একইরকম বসে আছেন। সাদা লাঠিটা দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।

কোথাও একটা ঈশারা ছিল। একটা ইঙ্গিতময় ষড়যন্ত্র। নদীর ভাঙ্গা পাড় বেয়ে নেমে গিয়ে জল ছুঁয়ে শীতভাব টের পাই। বলটায় নোংরা লেগেছিল।সেটা জলে ধুয়ে উঠে আসছি, ঠিক সে সময় মুখ তুলে দেখি ঠিক মাথার উপরে হেলানো বাড়িটা ঝুলছে। ভিতের থেকে মাটি ক্ষয়ে গিয়ে একটা ঝুল বারান্দার মত ঝুঁকে আমাকে দেখছে। 

এত কাছ থেকে ওভাবে বাড়িটাকে দেখিনি কখনও। দাদুকে তখনও দেখা যাচ্ছিলো, বিকেলের হালকা অন্ধকার তখনও ঢেকে ফেলেনি তাঁকে। সাদা লাঠিটা তখনও ঝলকাচ্ছে। মুখ তুলে বাড়িটা আবার দেখি। বাড়িটার মাথার ওপরে ফ্যাকাসে চাঁদ। 

ভুতটাকে তখনই দেখতে পেলাম।
কথাটা কিছুটা ভুল হল। ভুতটাকে আসলে আমি দেখেছি কি? বোধহয় না। দেখা নয়, ভুতটাকে আমি তখনই টের পেলাম। 
নদীর দিক থেকে কখনও কখনও হাওয়া দেয়। দমকা হাওয়া। একবার শ্বাস ফেলে চুপ করে যায়। চাঁদের আলোটাকে তক্ষুনি ঢেকে দিল কুয়াশা এসে। ঘোমটা খুলে বাড়িটা তখন চারধার চেয়ে দেখে নিল একটু। 
পায়ে পায়ে আমি খাড়া পাড় বেয়ে উঠতে লাগলাম। কোনও কারন ছিলনা, কেবলই মনে হল একটু বাড়ীটা দেখে আসি তো।
কিন্তু দেখার কিছুই ছিল না। চারধারে ভাট আর শ্যাওড়ার জঙ্গল। বিছুটি পাতা ছোঁয়ার জন্য হাত বাড়িয়ে আছে। দুএকটা বড় নিম গাছ, এসব পার হয়ে অন্ধকার দরজার কাছে গেলে দেখা যায়, ভিতরে গভীর অন্ধকার, ধুলোর ধূসরতা, চামচিকে ডেকে উঠে। একটা বাদুর ডানা ভাসিয়ে শূন্যে ঝুলে পড়ে আচম্বিতে। দাঁড়িয়ে থাকি। অন্ধকার সয়ে আসে চোখে। তাকিয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ দেখতে পাই, বড় ঘরটার মেঝেতে একটা চিঠি পড়ে আছে। একটা চিঠি, আর কিছু নয়।

কার চিঠি? কে ফেলে গেছে?
একসঙ্গে অনেকগুলি শব্দ ভেসে উঠে মনের ভেতর। নিমগাছে ফিসফিসিয়ে হাওয়ারা কথা কয়। তক্ষক ডেকে ওঠে নিজস্ব ভাষায়। বাড়িটার ভেতরে অদৃশ্য জলের শব্দ। 
দাঁড়িয়ে থাকি। চিঠিটা পড়ে আছে ধুলোয়। সাদা চৌকো।
সন্ধ্যে হয়ে এল। আলো জল থেকে তুলে নেয় তাঁর শরীর। নদীর পরপারে ঘোরলাগা অন্ধকার। বেলা যায়।

কথা হয়, সে কেমন কথা কে জানে। কিন্তু তবু জানি, চারধারে কথা হয়। গাছে, জলের, বাতাসের, কীট-পতঙ্গের। প্রানপনে তারা বার্তা বিনিময় করে। সেরকমই একটা কথা চারধারে তৈরী হতে থাকে। 

হঠাৎ উত্তর পাই - তোমার, নাও।
প্রকান্ড ঘরের অন্ধকার মেঝেয় চিঠিখানা পড়ে আছে। তুলে নাও। ও চিঠি তোমার জন্যই পড়ে আছে। 
আমার চারধার অপেক্ষা করছে, দেখছে। চিঠিটা আমি তুলে নিই কিনা।
আমি নিলাম না।
দাদু দূর থেকে ডেকেছিল - কোথায় গেলি ভাই?
আমি মুখ ফিরিয়ে নিলাম, মাথা নেড়ে বললাম - না, নেবো না।
উত্তর পেলাম - যেখানেই থাকো, পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকো, একদিন না একদিন এই চিঠি ঠিক তোমার ঠিকানা খুঁজে যাবে। চিঠি পাবে, চিঠি পাবে।
ভুতটাকে আমি দেখেছিলাম সেই প্রথম ও শেষবার। পুরোনো পোস্ট অফিসের বাড়িতে। ঠিক দেখা বলে না। অনুভব করা। 

ভয় করে না, তবে চোখে জল আসে কখনও কখনও। বয়স হল। কবে সেই শহর ছেড়ে চলে এসেছি। কতদুরে। কিন্তু ঠিক জানি, চিঠি পাব, চিঠি পাব।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
মানবীয় জীবন-যাপন;  এরকম কিছুই না, শুধুই গালে হাত দিয়ে ভাবছিলাম- উড়ছে যখন রেণু; উড়ছে তার শপিং ব্যাগ উড়তে থাকা সুতোয় বাঁধা চিঠিতে লিখি-  -আসন্ন শীতে ওর পরিচিত গন্ধটা আমার চাই-      আজ প্রবাসের বিজন বেলায় মেঘের আনাগুনা দেখে হঠাৎ তোমার কথা মনে পড়ল। মনে পড়ল সেই গ্রামের মেঠো পথ দিয়ে যখন স্কুল থেকে ফিরতাম, তুমি প্রায় আমার বই খাতা ভিজিয়ে দিতে। সেই খাতা উনুনের কাছে দিয়ে কত শুকিয়েছি। বৃষ্টি সে সব স্মৃতি এখন থাক। ইঠ পাথরের পরবাসে তোমার নরম স্পর্শ কমই পাই বলতে গেলে। কেমন আছো বৃষ্টি? 

 নিশ্চয় তুমি তেমন ভাল নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের হাওয়ায় তুমি ও এখন মত পালটিয়েছ। আষাঢের দিন তারিখ মেপে নাকি তুমি আর আসনা আমার সুজলা বদ্বীপে? যখন তখন নাকি তুমি আর হেসে লুটোপুটি খাওনা? শ্রাবনের ভর যৌবনেও তুমি নাকি মাঝে মাঝে নিরুদ্দেশ? 

হ্যাঁ বৃষ্টি তোমাকে মিস করছি খুব। এখানে তোমার সেই জংলী ভালবাসার রূপ খুব কম। একটু একটু তুষার পাতের ন্যায়, যা মনে হয় অভিমানের কান্না তোমার । এই যা কয়েক ফোটা!!মুষলধারে যে তোমাকে আজ দেখছি না অনেক বছর। বৃষ্টি তোমার সাথে আমার যেখানে প্রথম পরিচয় সেই শ্যামলিমায় যাই এখন আবারো। জান বৃষ্টি, তুমি আসলেই আমার কদম ফুল গাছটা কেবল হাসে। 

তোমাকে সে এত পছন্দ করে কেন বুঝতাম না। মাঝে মাঝে আমি পাগলামি করে তপ্ত রোদে যখন ঘেমে যেতাম তখন তোমাকে ডাকতাম । এমনকি বৈশাখে ও। মাঝে মাঝে দেখতাম তুমি অসময়ে ও চলে আসতে। তুমি যখনই আস তোমাকে স্বাগতম জানাতে তখন আমার বাবুনিরা, তুলতুলরা বারান্দায় বসে বসে ছড়া কাটত-- আয় বৃষ্টি ঝেপে,ধান দেব মেপে, বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর নদে এল বান" আর দাদা বাবু চলে যেত "আমার সারাটা দিন, মেঘলা আকাশ, বৃষ্টি তোমাকে দিলাম........ শুধু শ্রাবণ সন্ধ্যাটুকু তোমার কাছে চেয়ে নিলাম"শ্রীকান্তের গানের সুরে।

তোমার আগমনে মাছেরা ও কি খুব খুশি হয়? খায় ডিগভাজি? আচ্চা রিমঝিম, তোমাকে আমার খুব গায়ে মাখতে ইচ্ছে করে কেন খুব?শহরে যখন তুমি আসতে আমি তখন চুপি চুপি বাসার চাদে চলে যেতাম মনের সুখে ভিজব বলে। ডাঃ বাবু, মা সবার কথা তখন মনে থাকত না। কেবল তোমার সাথে ছিল মাখামাখি। আহা কি আনন্দ!!! আমার বুক যখন ফেটে চৌচির হয়,বোশেখ যখন আমাকে পাগল করে তোলে, আমার সবুজ যখন কেঁদে কেটে নুয়ে পড়ে, ধুসর হয়ে যেতে চায়,তুমি কেমনে যেন গোপনে জেনে যাও সবুজের কথা, চাতক পাখির কথা। তুমি এসে দাও তাদের মনে দোলা, প্রানে প্রানে আবার তোল জীবনের সুর। 

আচ্ছা বৃষ্টি, আকাশ তোমাকে খুব কষ্ট দেয় তাই না? তুমি একটু চন্চল হলেই তোমাকে পাঠিয়ে দেয় আবারো আমার কাছে। কিন্তু আমি যখন দেখি তুমি আকাশকেই ভালবাস, আকাশের বুকেই তুমি শুভ্র মেঘ হয়ে ভেসে থাকতে চাও, তখন আমি কেবল অভিমান করতে পারি।আমার অভিমান গুলো ও ভাসিয়ে দিই পরিযায়ী পাখির মত তোমার ভেসে বেড়ানোর সুখে। তুমি যখন পরিশুদ্ধ হয়ে ফিরে আস আবারো আমি ও ভুলে যাই তাবৎ অভিমান। যদিও তুমি আকাশের সাথে মাঝে মাঝে খুব রাগারাগি করে অনেক দিন থেকে যাও, ভাসিয়ে নিয়ে যাও আমার কিছু সম্বল তবু ও আমি প্রতীক্ষায় থাকি তোমার আগমনী পথে,আমার প্রতিটা সবুজ, দোয়েল, কোয়েল কষ্ট জেনে ও তোমাকে আহবান জানায় ডানা ঝাপটিয়ে, প্রতীক্ষার প্রহর গুনে গুনে।

 বৃষ্টি ভাল থেকো তুমি, তোমার যখন ইচ্ছে এসে পড় এই মন ভুমে, নিঃস্ব কর আপত্তি নেই, তবু ও মাঝ রাতে, খাঁ খাঁ ঘুঘু ডাকা নির্জন দুপুরে, শ্রাবন সন্ধায় আমি তোমার অপেক্ষায় থাকব কয়েক গোছা কদম হাতে। ইতি তোমার কান্না টুকু যেখানে রাখ প্রতি নিয়ত যেখান থেকে তুমি সেজে গুজে চলে যাও আকাশের বাড়ী সেই আমি সর্বংসহা ধরনী।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তোমার আমার এই জীবন বয়ে নিয়ে বেড়ানোই যদি আসল কথা হয় তবে চলো ভুল করি..... তবে চলো নষ্ট হয়ে যাই.......অনেক দিন পর আজ এই শহরে বৃষ্টি নামল। আমার মন শহরে রোজই তো বৃষ্টি হয়! এই দুই বৃষ্টির মাঝে পার্থক্যটা অনেক।

ভোর রাতে বৃষ্টির শব্দে ঘুম ভেঙেছিল। অন্যদিন হলে ঘুম ভাঙলে আর ঘুম আসত না। আজ এই বৃষ্টির শব্দ আমাকে আরও গভীর ঘুমে নিয়ে যাচ্ছে।

চারিদিকে যখন সকালের আলো ফুটে উঠেছে তখনও বৃষ্টি ঝরেই চলেছে।আজ বুঝি বৃষ্টি থামবার কোন লক্ষনই নেই।

অনেক দিন বাদে যখন বৃষ্টি নামে তখন মন যে কত কি করতে চায়।

সবার আগে অবশ্যই প্রিয় কারও সান্যিধ্য পেতে চাইব।সেই প্রিয় মানুষটার সাথে খুব গল্প হবে। নইলে তার হাত দুটি ধরে বৃষ্টির শব্দ শুনব।

আরও অনেক কিছু.....

আগে যখন বৃষ্টি হত তখন আমি খাতা কলম সামনে নিয়ে কবিতা লিখতে বসে যেতাম। এখন আর কেন জানি মনে কবিতা আসে না।

মনটা মনে হয় কাটখোট্টা হয়ে গেছে।কাটখোট্টা মন নিয়ে কি আর কবিতা লেখা যায়?

আমার একটা কথা খুব জানতে ইচ্ছে করে, কবিদের মন কি তার কবিতার মতই সুন্দর?

অনেক দিন পরে এই শহরটা বৃষ্টিতে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে যাবে। আমিও শহরটার মত বৃষ্টিতে ভিজে আমার মনের যত ময়লা ধুয়ে মুছে সাফ করেতে চাই।

মন কি আসলেই বৃষ্টিতে ধুয়ে পরিষ্কার হয়?

বৃষ্টি হলে খুব ছুয়ে দেখতে চাই মন। তাই বৃষ্টি হলেই হাত বাড়িয়ে ছুয়ে দেই....

খুব চেষ্টা করছি বৃষ্টি নিয়ে একটা কবিতা লিখতে কিন্তু পারছি না.....

তবু ছুয়ে দেখি বৃষ্টি

মন ভেজায় না শরীর

দেখেনি কেউ

না তুমিও.....
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তারপর আরো, কত চন্দ্রাহত রাত ফিরে গেছে, দিকশূন্য নাবিকের মত ভেসে গেছি তরঙ্গাভিযানে, অবিন্যাস্ত জলধারায় অনেক অক্ষমতার ভারী বোঝা কাঁধে বয়ে, অনেক অসমাপ্ত বালিয়ারি পায়ে দলে এসে দাঁড়িয়েছি, তোমারই এঁকে দেয়া সীমান্ত রেখায় অনাবৃত বসন্তের প্রান্তে।কল্পনায় ছুঁয়ে যায়,হাতছানি দিয়ে যায়,
আমাকে শূন্যতায় ভাসায়, তবুও ভুলে যাওয়া,
বারে বারে ফিরে পাওয়া, পেয়েও আবার হারিয়ে যাওয়া;
একটা স্বপ্নের মাঝামাঝি, আমি যে তারে খুঁজি,
কল্পনায় শুধু চোখ বুজি।


আজ অনেকদিন পর লিখতে বসলাম, কি নিয়ে লিখি ভাবতে ভাবতে তোর কথাই মনে পড়ল, অথচ আমি চেয়েছিলাম আমার শৈশবের নদীর কথা, আমার ময়ুরাক্ষী নদীর কথা। এক একটা দিন কাটে নিঃসঙ্গ হাওয়া হয়ে জনশূন্য পথে একলা একেলা। সিগারেট ছাই হয়, বিষাদ উড়ে উড়ে বিবাগী মেঘের মত দুরদেশে ভেসে যায়। আমার বাড়ির চিলেকোঠায় বসে থাকে এক নিঃসঙ্গ চিল, আমি তাকে বলে দিই আমার হাওয়া হয়ে যাওয়ার খবর। বুকের উপর জড় হয় কঠিন সব অসুখ, এক পালতোলা নৌকোয় তাদের পাঠিয়ে দিই নির্বাসনে, অব্যক্ত কথাগুলো হাতড়ে ফেরে ফেরার ঠিকানা।

আজ সারাদিন  ঘরে আটকা পড়ে আছি। আটকা পড়ে আছি - বলছি এইজন্যে যে খুব 
একটা দরকার না থাকলে এই বৃষ্টিতে বোকারাই বাড়ি থেকে বেরোয়। এখনো ঝরে যাচ্ছে অবিরাম। রাত একটু বেশি হলে দৌড়ে আসি আধাঘন্টা ময়লা নদীটার পাশ দিয়ে। গুগল ম্যাপে খুঁজে দেখি সেই নদী ধরে চার-পাঁচ ঘন্টা দৌড়ে গেলে নদীর সাথে সাগরে মেলার জায়গাটায় পৌঁছুনো যাবে। 
দৌড়ে এসে শাওয়ার নিয়ে শুয়ে পড়ি। রোজকার রুটিন। 
ছাদের দিকে তাকিয়ে থাকি। অনেকটা সময় পেরিয়ে এলাম এইভাবে ছাদের দিকে তাকিয়ে।ছেলেবেলায় খাটের নিচে ঢুকে শুয়ে গল্পের বই পড়তাম, তিন গোয়েন্দা, সুনীল 
অথবা সমরেশ। ছাদটা অনেক কাছাকাছি ছিলো। 
এখন যে ছাদের দিকে তাকিয়ে আছে সেটা বড্ড দূরে। 
অনেকদিন কোন ভালো লেখাও লিখতে পারি না। কয়েকটা লেখা পড়ে আছে গুগলডকে, বের হবে না কোনদিনই মনে হয়। সৃষ্টিশীল চিন্তা করার অংশটুকু সম্পূর্ণ অচল হবার পথে। রাত বারোটায় বাড়ি ফিরি। কেটে যায় দিন, কেটে যায় পথ। নিজে থেমে গেলেও দিনগুলো যাবে। যেন ছুটে যায় ট্রেন, হুইসেল দিয়ে। আমি থেমে থাকলেও ট্রেনের কিছু যায় আসে না। ট্রেনের সাথে তাল রেখে আমাকেও দৌড়ুতে হয়। 
রোজ এক গান শুনি, লতা মঙ্গেশকর অথবা নুসরাত ফতেহ আলী খান, রোজ ভাবি - আইপডের 
গানগুলো বদলাতে হবে, করা আর হয়ে ওঠে না। রোজ একপথে একই জায়গায়  পায়ের ছাপ রেখে যাই। রোজ এক জায়গায় একই পথচলতি মানুষের সাথে দেখা হয়ে যায়, হেসে ফেলি। 
উড়ে যায় পুরো সপ্তাহটা এইভাবে। আর এইরকম বৃষ্টিবন্দী দিনে সারা সপ্তাহ গলায় চেপে রাখা ক্কান্নাটুকু বেরিয়ে আসতে চায় । ঈশ্বরের সাথে এমন কোন বন্ধুতা নেই যে, 
তাকে ডাকবো প্রাণভরে। তবু মাঝে মাঝে তার সাথেও বন্ধুতা করতে ইচ্ছে করে । 
ভাবি, বলি, 

"
এতকাল নদীকূলে 
যাহা লয়ে ছিনু ভুলে 
সকলি দিলাম তুলে 
থরে বিথরে--- 
এখন আমারে লহো করুণা ক'রে ॥

প্রতি সন্ধ্যায় একবার করে আবিষ্কার করি। আমি এখনও কারো কাছেই প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারলাম না। 


নিয়ম বলে, এই আবিষ্কার আমারে কষ্ট দেবে,আমার মন খারাপ হবে, গান শুনতে শুনতে বালিশ ভিজবে। কি অদ্ভুত, কিচ্ছুই হয় না, আমি স্ট্যাটাস লিখতে বসি। 



তবে এখনও কোন এক কারণে ঘুমাতে পারি না, টবে নয়নতারা নাই,রাস্তার ল্যাম্পোস্ট গুলো আগের মতই রয়ে গেছে। জড় পদার্থের এই সুবিধা, তাঁদের বদলাতে হয় না। বদলে যাওয়া এক বিচ্ছিরী প্রক্রিয়া ।গাছটা মারা গেছে অনেক দিন হল।নতুন একটা নয়নতারা কিনব কিনব করে আর কিনা হল 
না। আমি তো চলেই যাব, নয়নতারা'রা একলা একলা করবে কি সারারাত আকাশের নিচে ? 



কত লাল,নীল কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকি। কালো মেঘ দেখে আর্তনাদ লুকাতে চাই মেঘের ভাজে। তেমন কোন লাভ হয় না,মেঘ নিষ্ঠুরের মতই বৃষ্টি হয়ে মাটিতে লুটাতে থাকে। 



পৌনঃপুনিকতার তালিকায় অনেকদিন আগে নাম লিখিয়ে ফেলা জীবনের এই ছোট্ট ঠিকানায় তাও আকাশ ছিলো, ছিলো জানলা খুলে দিলে ওপারে দাড়িয়ে থাকা কয়েকটা অচিন বৃক্ষ। 
আমার এই বসার জায়গাটুকুর পেছনে তাকালে দেখতাম কখনো আকাশ নীল, কখনো কালো। 
কখনো আকাশের মন ভালো, কখনো কটমটে রাগ করা মা মেঘেরা বাচ্চা মেঘেদের নিয়ে উড়ে যেতো ওই অচিন বৃক্ষের ওপর দিয়ে। পাখি। টিয়া। ঝাঁকে ঝাঁকে, সন্ধ্যায় ওদের ডানা ঝাপটানি ওই অচিন বৃক্ষের পাতায়- ডালে। 
সব হারিয়ে যাবে, খুব তাড়াতাড়ি হলে কাল, অথবা সামনের সপ্তায়। বাড়ছে কনক্রিটের কাঠামো, হয়ে গেছে একতলা। আমার বিদ্যালয় বানাচ্ছে নতুন ভবন, যেনো ফুঁড়ে উঠছে অশ্লীলভাবে। একেবারে আমার জানলা ঘেঁষে। পুরনো কিছু ভবন ভেঙে ফেলা হবে, তার প্রস্তুতি হিসেবে এখানে গড়ে উঠছে নতুন। 
আমাদের আকাশকে বিসর্জন দেবার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠান দেবে চকচকে নতুন ল্যাব, শ্রেনীকক্ষ এমনকি একতলায় কনভেনিয়েন্স স্টোর। বেচবে প্যাকেট লাঞ্চ থেকে শুরু করে স্লিপিং পিল। 
আমি জানলা দিয়ে তাকালে আর আকাশ আমায় ডাকবে না। মায়াভরা বৃষ্টিমাখা আকাশ অথবা দুধ-সাদা মেঘ মাখানো আকাশ। দেখবো সেখানে কনক্রিটের কালো অথবা ধূসর দেয়াল। অথবাএয়ারকুলারের বেড়ে যাওয়া বাইরে থাকা অংশ। 
স্ট্রেসময় জীবনের বন্ধু এই ছোট্ট আকাশটুকু, তোমার সাথে বিদায়ের এই বেলায় নাগরিক মানুষ হবার দায় ও দুঃখে আমি বিব্রত। অসহায়।

আমি জানিনা, আমার জানা নেই  কতটুকু সময় পার হলেঅপেক্ষা খুব ভারী মনে হয়। দুচোখের পাতায় নেমে আসে ভোরের শিশির। ভালোলাগা,ভালোবাসা শব্দগুলোর কাছাকাছি যতগুলো আপন শব্দাবলী তোমাকে দেবার কথা ছিলো , সবগুলো জমিয়ে রাখি। কে জানে যদি আর না আসো, যদি জীবনের একটু দেখা হওয়া আলো হয়ে জুড়ে থাকে মনের আকাশ। যদি তুমি আমার আকাশ সীমায় মেঘ হয়ে আসো, খুব বৃষ্টি হয়ে ঝরো একদিন। আমি না হয় সেই বৃষ্টিতে ভিজে হবো স্নিগ্ধ সকাল। বৈশাখের দিন গুলোতে যখন শুনশান দুপুরগুলো দীর্ঘ হতে থাকে কেবলি ধূসর হতে থাকি। তোমার বাড়ীর ছাদ থেকে আমার আঙিনা । এক্কা দোক্কা খেলা। বাতাবী লেবুর গাছটার ছায়ায়। দুপুরের আকাশ দেখার ফাঁকে কখনো? চোখ কি আমাতে ছিলো? কে জানে বাতাবী লেবুর গন্ধ মেখে কখনো কি আমি ও তোমার দিকে? এই বৈশাখে তোমাকে যদি কাছে পাই। খুব কাছে পাই একদিন মনে ভাবি। এখনো সেই গন্ধময়্তা জুড়ে থাকে। শুধু অস্পষ্ট তোমার চোখ দেখা হলো না কোনদিন। এভাবে পিছন ফিরে থাকো যদি আকাশের দীর্ঘ মেঘের পথ হয়ে।কখনো পাওয়া হবেনা সেই তারাকে যার খুব কাছে বসবাস ছিলো একদিন। বৈশাখ এলে এইকথাটা ভাবনার ঘুঘু হয়ে ডাকতে থাকে সকাল দুপুর রাত।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
এই রাত আর এই অন্ধকার তুমি তার মুখোমুখি একা শান্ত একটা হাওয়া আর রেডিয়ো চালিয়ে কেউ ঘুমিয়ে পড়েছে। যে জীবন পেলে তুমি কেমন লাগছে সে জীবন? কষ্টকর? খুব একা? খুব বেশি একা? যেখানে পায়ের ছাপ পড়ে দেখি সেখানেই রক্ত ফুটে ওঠে।জানিস তো চিঠি আমার বড্ডো প্রিয় আজও। যদিও জানি সমস্ত প্রিয় জিনিস, প্রিয় মানুষ হাতের মুঠি থেকে বেড়িয়ে গেছে তাদের পছন্দ মতো। একা আমি দাঁড়িয়ে থাকি আর তাদের চলে যাওয়া দেখি। তবুও এই আধো আলো ভোরে, মনে মনে চিঠি লিখি তোকে। তোকেই ইচ্ছে করে লিখতে।
ভীষণ ইচ্ছে এই চিঠি খুঁজে পেতে হাওয়ার নদী পথ সাঁতরিয়ে শুধু যাক তোর কাছে। অন্তত এই চিঠি পাক তোর ছোঁয়া। আমার এই এলোমেলো আবদারে আলো বেশে ভালোবেসে কাছে টেনে নিস এইতো, এইটুকুই তো চাওয়া। আর আমার চোখ আঁকুক জলছবি মনে মনে।
যখন হঠাৎ ঝড়ে গুটিয়ে নিয়েছি নিজেকে, তুই এলি একরাশ রামধনু রোদ হয়ে। বর্ষায় ঝিমঝিম গুঁড়ো গুঁড়ো মেঘ চুরি করে রাখি তোর জন্য। আয়নারে তুই, একবার আয়, দেখি তোকে, ছুঁই তোকে। এক বুক সকাল যদি পাই, জড়ো করে নেবো এক মাঠ কাশ ফুল। পূর্ণিমার রাতে চাঁদ থেকে চুঁয়ে পড়ে দুধ নদী পেরিয়ে একবার আয়, আমার স্বপ্নদেখা তারা গুনি তোর চোখে। আমার হাত রেখে দেখ দেখি। এ হাত বড় জেদি, ছাড়বোনা, বুঝে নিস ছোঁয়াতে।
ছোঁয়াছুঁয়ি-কানামাছি, কুমির ডাঙ্গা বিকেল। কত দিন হয়ে গেল, খেলি না। দূর থেকে ডাক আসে ঝিরঝির জলনদী মেঘেদের, আয় তুই, আজ ভিজে যাই দুজনেই। বৃষ্টিরা বড়বেশি আপন আমার। আর কারো সাথে তার ভাগ নেই। এইটুকু, এই সব ফোঁটা ফোঁটা জল-আদর শুধু থাক তোর আর আমারই। এই স্নিগ্ধ সকাল থেকে গাঢ় নীল সন্ধ্যেতে আলো মেখে, ভালো থাক।
স্বপ্নে তো রোজই আসিস, বাস্তবে যেদিন আসবি একখানা পাতা আনিস লুকিয়ে। আমি নেবো এক মুঠো রঙ। পাতা সেই হয়ে যাবে নৌকা, বুদবুদে রঙ জমে রামধনু। রামধনু যেই হবে মেঘ, জলে ভাসিয়ে দেবো দুজনেই। তোর পাতা আমার রং নাহয় থাকুক এক সাথে, পাথ চলুক হাতে হাত রেখে। আকাশের গায়ে শুধু তোর হাসি। আলো হয়ে-ভালো থাক তুই।
রাতের তারাদের বুনে বুনে তোকে দেবো ঝিলিমিলি মাফলার, জড়িমড়ি করে রেখে দিস গলাতে। বর্ষার জোলো হাওয়া ছুঁয়ে যাক আমাকে। আয় তুই একবার স্বপ্ন দেখি দুজনেই, সুদিনের, সেদিনের। তুই শুধু আলো মেখে ভালো থাক, ভালো রাখ, ভালো ভাব,আর একটু ভালোবাস আমায়।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হঠাৎ দমকা হাওয়া –  বুঝতে না বুঝতে ভিজে গেল পর্দা, ফুলদানির ফুল।  কই , তুমি তো কখনও আমাকে ভেজাতে হঠাৎ চমকে দাও না।  আমি কিন্তু অপেক্ষা করি ৷   তোর কথা ভাবলেই
বুকের মধ্যে কুলুকুলু বইতে থাকে নীল ময়ুরাক্ষী, 
নীলজলে নীল ময়ূরপঙ্খী নাও,
ভাসতে ভাসতে একলা চলে অচিনপুরে।
স্পষ্ট দেখতে পাই নদীর জলে ফুটে উঠেছে
হাজার হাজার সুগন্ধী নীলপদ্ম।
নদীর পাড়ে একা নীল তমাল গাছটাকে দেখতে পাই,
গহনে বেজে ওঠে বাঁশিতে নীল নীল বিরহের সুর
একমুঠো নীল মেঘ আদুরে বৃষ্টি ঝরায়,
শুধু তোর নামটুকু উচ্চারণ করলেই।

তোকে ভাবলেই ভিজে যাই
বর্ষায় বা অভিমানে, প্রেমে অথবা ঘামে।
একঘেঁয়ে দিনগুলো নিমেষে আকাশের মত উজ্জ্বল নীল,
না বলা কথাগুলো কবিতা লিখে ফেলে নীল কালিতে একখাতা... 

শুধু তোকে ভাবলেই প্রেম শিখে ফেলা,
যুদ্ধসাজ ছিঁড়ে ফেলে আচমকা প্রেম লিখে ফেলা।।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সীমানারও একটা সীমানা থকে। তাই জীবনে বারবার সীমানা পেরিয়েও দেখা যায় আমরা নির্দিষ্ট একটা সীমানায় আটকে পড়ে আছি। হায় জীবন, তুমি কেন বারবার দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকাও?“আমাকে একটি কথা দাও, যা আকাশের মত সহজ মহৎ বিশাল, গভীর;
মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন,
আমি যাকে আবহমান কাল ধরে ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর।
সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো।”

এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের অনুভুতি কতই না বিচিত্র। মলিন কবিতাগুলো রঙ্গিন করে দেবো, কতজন কত কথা দিল, অথচ দিনের শেষে সবার উপর বোষ্টুমি অথবা বরুনা নয়তো নদের আলির প্রেতাত্মা ভর করলো। তুমি কি জানো কেন বৃষ্টি নামে প্রতিরাতে? তুমি বললে ভূগোল আমার বিষয় নয়। ভ্রু কুঁচকিয়ে তাকালে দূরে , আর তখনই বৃষ্টি নামলো আমার শহরে।
স্বপ্নডানায় ভর করে উড়ে চলা এ জীবন, তবুও সকলের অগোচরে কোনো এক অজানা পিছুটানে থেমে যেতে মন চায়; জানো বকুল একদিন ঠিক হেঁটে যাবো সেই রাঙ্গামাটির পথে খালিপায়ে; তোমার আঁকড়ে ধরা হাতে রাখবো হাত, তারপর সেই তেপান্তরের মাঠে সবুজ গাছের গালিচায় শুয়ে থাকা পাশাপাশি, আর আকাশের ক্যানভাসে উড়ে যাওয়া ধবল বক দেখে উল্লাসিত তোমার সেই ডাক ‘পাগল’। এমন একটা শ্বাস আর ডাকের জন্য জীবনটা বড্ড বেশি বোহেমিয়ান হয়ে গেলো।
জানিস বকুল,
গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্ত পথিকের মত যখন
অনামিকার দ্বারে এসে এক গ্লাস জল চেয়েছিলাম তখন
ঝড়ের কবলে পড়া নৌকার মাঝির মত অনামিকা
মাটির গ্লাসে করে জল এনে দিয়েছিলে,
সাথে দিয়েছিলে উওপবাস ভাঙা দুটো বাতাসা।
অচেনে পথে চলতে চলতে তখন নিজের কাছেই অচেনা,
তবুও অনামিকা আমার বহুদিনের চেনা পরিচিত।
চেনে স্বর নিয়ে যখন সে জিজ্ঞেস করেছিল
‘পথিক তোমার বাড়ি কোথায়? যাচ্ছো কোথায় ?’
আমি উত্তর দিতে পারিনি;
আমি তাকে বলতে পারিনি
পথিকের বাড়ি হয় না, গন্তব্য হয়না;
উত্তরে শুধু বলেছিলাম ‘জানিনা।‘
দিগন্ত খোঁজা চোখ নিয়ে হতবাক হয়ে চেয়েছিল অনামিকা। তারপর
চোখ নামি
য়ে বলেছিল “ দু’মুঠো চিড়ে আর জিল দিলেম, পথে খেয়ে নিও।”
দু’পা এগোতে পিছু ডেকে বলেছিল “ফেরার পথে পারলে আবার এসো।”
আরপর বহুদিন হয়ে গেছে...
অনামিকা হয়তো এতোদিনে বুঝেগেছে
পথিকের কোনো বাড়ি হয়না, পিছুটান হয় না, গন্তব্য হয়না, আর
ফিরে আসা বলে কিছু হয় না।।

জানিস বকুল, এক এক দিনের রং এক এক রকম; এক এক দিনের ঘ্রান এক একরকম; এক একদিনের স্পর্শ এক একরকম; জীবন যদি হয় নানা রকম দিনের মেলা, তবে তার থেকে আমি বাদ দেব সমস্ত ছাই রঙা ফুল। শুভ্রতার দিগন্ত মাড়িয়ে একদিন তুমি এসো আমার ছোট ঘরে; আমার আছে জল, আমার আছে ছায়া আর আমার চোখে আছে প্রতীক্ষা। একদিন ভুল করেই না হয় এসে দেখে যেও কেউ একজন দিনরাতকে তুচ্ছ করে বেঁচে থাকে শুধুই অকারনে।

তবুও নিরবতার খুব কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি, ভিতরে এত তোলপাড় কিসের তোমার? কখনও ভালোবেসেছিলে কাউকে? অথবা বিষাদ হয়ে জানালা ঘেঁসে দাঁড়িয়েছিল কেউ? তুমি যাকে আকাশ ভেবে দিগন্তরেখায় মিশিয়েছিলে সেটা আসলে পাহাড় ছিল। জানো বকুল, আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় তোমায় এক পাহাড়ের গল্প বলি; এক অদ্ভুত নির্বাসিত পাহাড় আর এক একলা গাছের গল্প। আমার খুব ইচ্ছে করে ওই পাহাড়টাকে জিজ্ঞেস করি ওর এই নির্বাসন কিসের! ওর কি ইচ্ছে করে না সেই গাছটির কাছে ফিরে যেতে? আজ আবার স্বপ্নে দেখলাম সেই অদ্ভুত নিঃসঙ্গ পাহাড় ধীরে ধীরে সূর্যাস্তের শেষ রক্তিম আভাটুকু শুষে নিচ্ছে। আজও স্বপ্নের সন্ধানে বেরোবেন ঈশ্বর; মাঝরাতে তারার গুঁড়োর মত ঝরে পড়ে লাল নীল স্বপ্নেরা, একমুঠো স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে বুকপকেটে ভরে নিই; তারপর ফিরে যাই পাহাড়ের কাছে, বলি “ হে মহান পাহাড়, এবার তোমার নির্বাসন জীবনের শেষ হোক, তুমি ফিরে যাও তোমার ওই একলা গাছের কাছে, আর হ্যাঁ, কোনোদিন আর আমার স্বপ্নে এসো না।”

জানিস বকুল, আমাদের স্বপ্নগুলো কষ্টগুলো ঠিক আমাদের মতই অদ্ভুত। কত ছোটো ছোটো করনেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়, আবার কিছু কষ্টগুলোকে ইচ্ছে করেই মনের এককোনে রেখেদিই খুব যত্ন করে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে একটা নদী কেনার, নদীর নামটাও ঠিক করে রেখেছি- ময়ুরাক্ষী; সেই নদী আমার আজো কেনা হয় নি। আজ মাথার চুলো দু’একটা রুপোলী ঝিলিক দেখলাম, বুঝতে পারছি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, সেই ময়ুরাক্ষী নদী আমার কোনোদিন কেনা হবে না। এমন দু’একটা ইচ্ছে পূরন না হওয়াই ভালো।

জ্বরের দুপুরে চোখে নেমে এলো এক অদ্ভুত স্বপ্ন, ভয়ার্ত ভয়ংকর!
একটা পাতলা চাদর গায়ে ল্যাপটপের পাশে বালিশ পেতে
ঘুমিয়ে ছিল আমার ভাবনা,
কিন্তু বড় অশান্ত ছটফটে লাল চোখে ভেবে চলেছিল এক গল্পের পট;
হঠাৎ সেক্ষনে অনধিকার প্রবেশ জটিলতার, আর তারপরেই
ভারী বাতাসে বয়ে চলা কিছু আপত্তিকর জলছবির ঝলক।
আমার কুঁকড়ে থাকা মন আবার চমকে ওঠে,
মায়ের গলা শুনি “কখন এলি?”
সিড়ির উপরের চিলেকোঠার ঘরে মৃত মানুষের প্রতিবিম্ব
নাড়িয়ে দেয় আমার সিক্সথ সেন্স কে।
ধড়ফড় করা ধমণী নাড়িয়ে দেয় আমার ভাবনা কে।
ঘর্মাক্ত শরীরে অসম্ভব ক্লান্তি বুজিয়ে দেয় চোখের পাতা...
স্বপ্ন তুমি এসেছিলে কি??

আমার স্বপ্নে আজও উত্তুরে বাতাস করা নেড়ে যায় পূবের জানালাগুলিতে; আমি ফিরে যাই সেই ফিরে না পাওয়া সময়ে। আমার মনে পড়ে তেপান্তরের মাঠ, অচেনা চোখের কোনে জল, কথা না রাখা কথারা জাগিয়ে রাখে রাতের পর রাত, আমার ঘুম আসে না, আমি ফিরে যাই বকুল তোর কাছে। বকুল, আমায় ফিরিয়ে দিস না, এই অচেনা অজানা শহরে আমার কোনো অলি গলি জানা নেই, আমি চেনা পথ বার বার ভুল করে ফিরে যাই তোর উঠোনে আর ভিজে যাই তোর বৃষ্টিতে।

জানিস বকুল, শেষ কবে বৃষ্টিতে ভিজেছিলাম আমার মনে নেই; অনেকদিন পর আজ আবার ভিজলাম বৃষ্টিতে। জানিস বকুল, বৃষ্টিকে নিয়ে আমার কোনো বিশেষ স্মৃতি মনে নেই, বিশেষ কোনো ঘটনা নেই যা আমাকে নাড়িয়ে দেয়, আমার মনে পড়ে যায় ছেলেবেলার বৃষ্টি; আমার কান্না পায়, কাঁদতে পারিনা, বৃষ্টি প্লিস একটু ফিরে আয়, তোর জলে ভিজে একটু কাঁদতে দে আমায়।। 

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates