• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
কোনো একদিন দেখা হবে বন্ধু, বৃষ্টিতে ভিজব খুব একসাথে কোনো একদিন ভুলে যাওয়া রাস্তারা, পথ দেখাবে হাত রেখে তোর এই হাতে।
১।
আমার যাদুর ঝাঁপি, আমার জমানো পুঁজিপাটা
তাতে আর কিছু নেই, আছে শুধু মায়াবীমুকুর
আমার সে আর্শিটা চিরতরে তোমাকে দিলাম
এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো
...




২।
আমি জানি, এসব বলার মত এখনও ছোঁয়নি এসে শীত
ঝরেছে যে সব পাতা এখনও তাদের রঙ ধূসরের চিহ্নরহিত
শিকড়ে বাড়িয়ে হাত তারা শুধু জল চেয়েছিল
এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে, এক তিলও
অবসর নেই আর তোর বা আমার – কী করে মেলবো ডানা দখিনা হাওয়ায়
তবু যদি সময়ের থেকে কিছু দূরে গিয়ে আজ একবার বসে থাকা যায়...




৩।
আসলে যে ছেলেটা মরে গিয়েছিলো কিছুদিন আগে
জবানবন্দী তার  লেখা হয় নাই,
বিশ্বাস করেছে সেও দখিনা হাওয়ায়
মেনে নিয়েছিলো, এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
প্রতি দিন, অষ্ট প্রহর
এবং রাতের শেষে ভোর, প্রতি দিন নিয়মিত আসে
অটুট বিশ্বাস ছিলো তার – দখিনা বাতাসে
তবুও সে মরেছিলো
মরেছিলো, মরে যেতে হয়
মরে যাওয়া, অর্থাৎ জীবনের অপচয় করেছিলো
সুতরাং হিসেবী ছিলো না বলা চলে
তলে তলে কী যে ভেবেছিলো সে খবর নেওয়া যায় যদি
ধরা যাক, স্বীকারোক্তি, মৃত্যুকালীন।




৪।
গহন কিছু ইচ্ছে করে -
এক সমুদ্র জংলা ঘাসের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক সমুদ্র অন্ধকারে
ঝলসে নেবো যে সম্পর্ক, তার কি কোন নাম দেওয়া যায় অর্থবহ
খাতায় লিখে?
এক শালিখে আটকে গেছি। অন্যটাকেও দেখতে পাবো খানিক পরে
তেমনটা আর হচ্ছে কোথায়? শিকড় এত আলগা হল - ভালই বোধ হয়
ভরসা রাখা অস্থাবরে... এই বাজারে..




৫।
জানো - ওদিকে অনভ্যাসে আয়নাতে জমে থাকে মরচের দাগ
রুমালে জমেছে সন্দেহ
বুকপকেটের ভাঁজে চক্রান্তের গন্ধ পাই
এমনকি ঝোড়ো হাওয়া
সেও বুঝি থেমে যায় অন্ধকার রাতে
রাতের কথায় মনে হল – স্বপ্ন দেখেছি
আহা, স্বপ্ন দেখেছি কাল রাতে
স্বপ্নের কথা থাক, স্বপ্নেরা থাক অগোচরে
বরং অন্য কথা বলো।




৬।
কোনদিন দেখা হয়ে যাবে
যেমন মেলার ভিড়ে চোখে পড়ে যায় চেনা মুখ, সেইভাবে
ভদ্রতার হাসি, অমায়িক
হয়তো বা মুখোমুখি নয়, বেশ দূরে, তবু ঠিক
পাশাপাশি বসা যেন, কিছু কথা বড় আলগোছে
সময় কত কি মোছে
খাড়াই অন্ধকারে নিষ্প্রভ পাহাড়ের দাগ
খুনসুটি, ভালোবাসা, আদর – সোহাগ
নদীতে জোয়ার ছিলো, এখন ভাঙ্গন।




৭।
আমাদের নিরালা উঠোনে ঝাঁকড়াচুলের একটাই গাছ
পাগলের মত নির্বাক হিংসে করবে শুধু - কথা ছিল
নতুন গুড়ের ঘ্রাণ ঠোঁট ছুয়ে মিশে যাবে কানের লতিতে
সূর্যাস্তের আগে দীর্ঘ গোধূলি জুড়ে আমাদেরই ছায়া
ক্রমশঃ আবছা হবে আমাদেরই নিভৃত সড়কে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কবিতারা আজ হাঁটবে না
সংবাদ পত্রিকার কলাম শোকাহত
ডিকশনারির শব্দগুলো ভাসছে ক্ষরণ প্রবাহে
তুমি নেই বলে...
কথা ছিলো তোমার কাঁধের ছুলিতে ওরা
হেঁটে যাবে আরো বহুদূর...
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কিংবা সীমানা পেরিয়ে!
বলেছিলে তো নিশ্চয়ই,
আজ ওরা অভিমানে ডুকরে ওঠেছে
তুমি নেই বলে...
শহরে কংক্রিটের কান্নার আওয়াজে
খসে পড়ছে একটি একটি করে ইমারত
পথিকের পায়েচলা পথ অবরুদ্ধ
হঠাৎ দুর্যোগে ভেঙে যাচ্ছে জনতার পাঁজরের হাড়
তুমি নেই বলে...
ফেসবুকের স্ট্যাটাস ভুতুড়ে আওয়াজ তুলছে
আজ কাউকে বøক করে দিব
তারা আর খুঁজে খুঁজে কারো জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন
স্বরণ করিয়ে দেবে না নিরালস ভঙ্গিতে
তুমি নেই বলে...
সেলফে তুলে রাখা বইগুলো আহত
খাটের পাশে সাইডবক্সে, ডাইনিংয়ে পড়ে থাকা
অসমাপ্ত শব্দেরা আছড়ে পড়ছে
বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে বাহাদুরের করুণ মিঁউ শব্দে
তুমি নেই বলে...
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
বিকেল ফুরায়, কেউ তো এসো সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালো... আমিও তো কাঁদতে জানি বাসতে জানি ভালো!

ভালবাসার শীর্ষ বিন্দু জয় করার সাধ ছিল, তাই তো তোমাকে জড়িয়ে ধরা, তোমার ভালবাসা ছিল বটবৃক্ষ, আমারটা ছিল লতা। হেমন্তের এই নির্জন সাঁঝবেলায় কী যে হয়! খুব আনমনা লাগে। অতীতের কোনো এক শৈশব-কৈশোরের সাঁঝবেলার স্বপ্ন এসে আমায় আচ্ছন্ন করে। সেসব স্বপ্ন যার কিছুই জীবনে সত্যি হয়ে আসেনি। জীবনের অনেক অনেক দিনের পরিভ্রমণ শেষে সেই স্বপ্নের মাঝে কেমন বিষণ্ণতা ভর করেছে! হেমন্তের জোছনাভেজা রাত অচেনা জগতের সেই হাতছানি হয়ে কী এক মরীচিকার খেলা হয়ে দীর্ঘশ্বাসকে নিরাসক্ত করে তোলে।
নদীর অন্য প্রান্তে চাঁদের আলোয় মায়ার কুহেলিকা। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ অশ্রুতে ভরে উঠে। 

চাঁদটা এখনও রহস্যময়, যেন কানে কানে সে কিছু বলতে চায়। কিন্তু শেষরাতের জোছনায় লুকানো কুহেলিকার চেয়েও এক রহস্যময় দৃশ্য দেখি।  আহা, মৌরি, তুমি এলে এমন সময়, যখন আমার মনে হলো, এই পৃথিবীর সব জঞ্জাল পায়ে ঠেলে আমি একটা সুরের পাখি হয়ে যেতে চাই। যে ভালোবাসাকে নেওয়ার জন্য এই সমাজ প্রস্তুত নয়, তাকে মহার্ঘ্য ভাবার অপরাধে, আমার মৌরি; আমি তোমার কাছ থেকেও পালাতে চাই।
অনন্ত জীবনকে আস্বাদের জন্য নদীর পাড়ের ঝোপঝাড়টা মোক্ষম একটা জায়গা। চাঁদের আলোয় কত ছায়া সেখানে ঘোরাফেরা করে! আমার সাংকেতিক স্নায়ুতন্ত্র আমাকে বলে; ছায়াগুলো অনন্ত পরমায়ুপ্রাপ্ত।

বেহায়া বাতাস আমার পিছু ছাড়ে না। পাপ স্পর্শ করে না চোখের পাতা। এমন পৃথিবীতে ঘুম আসে না- মৃত্যু আসে না। দুঃখের দেয়াল ধাক্কা মারে-; পৃথিবীর বুকে ঘুট-ঘুটে অন্ধকার  নিয়ে অনিচ্ছায় শুয়ে থাকি কত কত বছর; জলপ্রণয়ী পাখিসাঁতারও ভালো লাগে না; লাঙলের ঘষা খাওয়া রেখাহীন হাত দেখে দেখে  মানুষ-জন্ম ভুলে  যাই।

এই জনপদে তুই ছাড়া আর কোনো নদী নেই ও কুমারী নদী দোয়েলা আমার, তুই কি জানিস, তোর চোখে ঘুমায় বৃষ্টিমাসী সকাল, ইমনরাগে সন্ধ্যা জাগে কণ্ঠে তোর। আর আমি দুলে উঠি অন্ধ জোছনায়। জান তো এই সমতলে জন্মে না দ্রাক্ষার ফুল কিংবা ন্যাংটা আঙুর। দীর্ঘ রাত্তির নেমে এলে তুই গেঁথে থাকিস পতঙ্গ শিকারী ফুলের লালায়। যখন রাত্তির নেমে আসে জংলাপাখির ঝরা পালকের লোমকূপে, রুক্ষ বনের খেয়ালী একটা বৃক্ষ হেঁটে যায় দূর চন্দ্রালোকে, মৃত নগরের ছবি বেনামী চিঠির খামে ভেসে আসে অদৃশ্য রাত্রির উড়ন্ত পাখায়। বাংলার অন্তঃপুরে ধুতরার চাষ। অন্ধ গলিতে তার ছেঁড়া দোতরার বর্ণহীন সুর এখানে ধূলায় গড়ায় সাধারণ মানুষের শব। অচল আধুলির দামে আমাদের অন্তঃপুরে বৈধব্য-সন্ধ্যা নামে, গুমোট হাওয়া, চিমনির ধোঁয়া-ভরা রাত নীরব পাঁচালি লেখে ইটের ভাটায়।

যখন রাত্তির নেমে আসে আমাদের নীলাচল পাহাড়ে, তারাবাতি কথা বলে ইলোরা জোছনায়, তুই দোয়েলা বরফ আগুনে পুড়ে মরো সাধনার ফেরে, জোড়াহীন দোয়েলা আমার, সাধনা জানো না বলে তলিয়ে যাচ্ছো ঘুমনদী-জলে। যকৃত ছিইড়া খায় নতুন ঈগল, পুড়তে চাই, পোড়ে না- তৃষ্ণা মেটে না যার আরব সাগরের সমস্ত জলে, সেই আমি সন্ধায় গোধূলিরে পাখির ডানায় বেঁধে তারাদের স্নান শেষে- দিয়াছি উড়াল... 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমিও তো একদিন এরকমই কোনও এক বাড়ির ভিতরে বারবার ঢুকতে চেয়েছি, শুধু সময় পেরিয়ে গেছে বলেই তুলসীমঞ্চে প্রণাম পড়েনি, নতুন বউয়ের শাঁখে ফুটে ওঠে অন্য কোনও ঈশ্বরের নাম...সে এক রূপকথার গল্প, টাইম মেশিনে বসে আবার যদি কৈশোরকালে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমি নিজের অতীত জীবনের বেশ কিছু ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নিতাম। শচীন-সৌরভের খেলা আর সুমন-নচিকেতার গান শুনতে শুনতে বেশ বড় হচ্ছিলাম কিন্তু গোল বাঁধালো ওই মেট্রো চ্যানেল। তখন সবে শুরু হয়েছে, আর আমি “সুপারহিট মুকাবিলা” তে দেখছি মাধুরীর খোলা পিঠ, ভুবনমোহিনী হাসির হাতছানিতে তিনি আমাকে বলছেন, “হাম আপকে হ্যায় কৌন?” কেমন একটা ঘোর লেগে গেছিলো, সর্বক্ষণ রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে শুধুই মাধুরী, মাধুরী আর মাধুরী। হুসেন সাহেবের তবু ফিদা হওয়া মানায়, কিন্তু আমার তখন ভালো করে অঙ্ক করার বয়স, মাধুরী জ্বরে কুপোকাত না হয়ে যদি আরো মন দিয়ে পড়াশোনাটা করতাম….

সেই সময়টাই ছিলো আমাদের বয়:সন্ধিকালে প্রেমে পড়ার সময়। বাতাসে তখন ছড়িয়ে থাকতো চোখাচোখি মুগ্ধতা। হৃদয়ে অবাধ্য ছেলে-মেয়েদের মনে হঠাৎ করে কালবৈশাখী আসত আর তখনই নচিকেতা গান ধরতেন, “হাজার কবিতা, বেকার সবই তা, তার কথা কেউ বলে না….” । আমরা নীলাঞ্জনাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াতাম পাড়ায় পাড়ায়, স্কুলে স্কুলে, অলিতে গলিতে, সাইকেলে রিক্সায়, টিউশনে, বইয়ের পাতায়, কবিতার খাতায়, সরস্বতী পূজোয় অঞ্জলী দেবার সময়। তখন আমাদের কাছে সেলফোন ছিলো না, ফেসবুক-টুইটার ছিলো না, হোয়াটস্‌ আপ ছিলো না কিন্তু চোখে চোখে কথা বলার সময় ছিলো, বইয়ের মধ্যে কবিতা গুঁজে দেবার ইচ্ছে ছিলো, লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করার সাহস ছিলো, দু টাকার ফুচকা খাওয়ার বিলাসিতা ছিলো।

এপ্রিল মাসে জটায়ুকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন সত্যজিৎ। আমার শৈশব ও কৈশোর যে মানুষটিকে ঘিরে ছিলো, গরমের ছুটির দুপুরবেলাগুলোতে মা ঘুমিয়ে পড়ার পরে যেই চরিত্র রা চুপি চুপি আমার সাথে গল্প করতে আসতো, যাদেরকে সাথে নিয়ে আমি ধীরে সুস্থে বড় হচ্ছিলাম, তাদের স্রষ্টা ঐ দীর্ঘদেহী মানুষটি, যিনি প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে বিজনে কথা বলতেন, তিনি আমাকে কিচ্ছুটি প্রায় না জানিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আপনজন হারানোর সেই ব্যথা এখনো আমি বয়ে বেড়াচ্ছি, এখনো প্রতিটা দিন এই বিদেশ-বিঁভুয়ে আমি ওনাকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।

সত্যজিৎের শোক কাটতে না কাটতেই ঐ বছরেরই ডিসেম্বর মাসে সারা দেশজুড়ে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। কিশোর ছেলেটি তখন কিছুতেই বুঝতে পারে নি যে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে চিৎকার করা কিছু গেরুয়াধারী মানুষ কেন ওরকম উন্মত্তভাবে একটা মসজিদ ভাঙতে শুরু করলো। টিভির পর্দায় দেখা সেই দৃশ্য ছেলেটির সরল মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলো। আর তারপরে সারাদেশ জুড়ে যা যা ঘটেছিলো সেইসব কিছু ছেলেটিকে ভাবিয়ে তুলেছিলো আর সেই ভাবনা ছেলেটি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। সত্যজিৎের মৃত্যু আর বাবরি মসজিদ ধ্বংস সেই কিশোরকে শিখিয়ে দিয়েছিলো যে জীবন সবসময় ফুরফুরে কাটবে না, আস্তে আস্তে যত সে বড় হবে, যত বুঝতে শিখবে, যত এই পৃথিবীটাকে জানতে থাকবে, নতুন নতুন ঘটনা ঘটতে দেখবে ততই এই চিন্তা-ভাবনার সময়টা আর মনে আঘাত লাগার পরিমানটা চক্রবৃদ্ধিসুদের হাড়ে বাড়তে থাকবে। তাই কৈশোর শেষ হতে থাকার সময়কালে অবধারিতভাবে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হবার আকস্মিকতাটা সে খুব তাড়াতাড়ি সামলে নিতে পেরেছিলো।

নব্বইয়ের দশক আমাকে যেমন অনেক কিছু দিয়েছিলো, শিখিয়েছিলো, ঠিক তেমনই আমার থেকে আস্তে আস্তে অনেক কিছু ছিনিয়ে নিয়েছিলো। আমার কৈশোর হারিয়ে গিয়েছে এই দশকে, আমার সরলতা আটকা পড়েছে এই দশকে, আমার বিস্ময়বোধ লুকিয়ে আছে এই দশকে। এখন এই ২০১৫ সালে, আমার নিজের বাড়ি, নিজের পাড়া, নিজের শহর, নিজের রাজ্য, নিজের দেশের থেকে অনেক অনেক দূরে বসে আমি স্বপ্ন দেখি যে একদিন আমি সেই টাইম মেশিনটা ঠিক খুঁজে পাবো আর তাতে করে পাড়ি জমাব সেই দিনগুলিতে। না, তখন যা যা ভুল করেছিলাম, এবার সেগুলো আর কিচ্ছু শুধরোবো না, সেগুলো ঠিক যেমন যেমনটি ছিলো সব তেমন তেমনটিই থাকবে, শুধু আমি আর সেই সময় থেকে ফিরে আসবো না। আগের মতই, প্রতিদিন বিকেলবেলা পাড়ার মাঠে ক্রিকেট খেলে, নর্দমা থেকে বলতোলা হাতে, এবারেও বাড়ি ফিরে চিৎকার করে বলবো, “মা, খুব খিদে পেয়েছে, তাড়াতাড়ি কিছু খেতে দাও না….।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পৃথিবীর কোথাও দুঃখরা থাকে, তা অস্বীকার করার দীপ্ত সাহস, অথচ তুমি আমি ভালো করেই জানি, শহরের দুঃখভার অধিক হলে বৃষ্টিরা নামে, মেঘেরা ধারণ করে গভীর যত কালো।   কাপাস থেকে কিভাবে সুতো হয় জেনেছিলাম সেই ভোরবেলায়, তখন হাতের নীলগোলাপ ভালোবেসে অনায়াসে মূর্খের মত দিয়েছি প্রেয়সীকে। খেলাচ্ছলে সে একটা একটা পাঁপড়ি ছিঁড়েছে, গোলাপের রক্তে হাত ভরে গেছে তার অলীক গোপনে। সহজেই ছোট্ট রুমালে হাত মুছে সে চলে গেছে ড্রয়িং ক্লাসে, বিমুর্ত শিল্পের মত সে কারনেই শিখতে পারিনি সুতো থেকে আস্ত কাপড় তৈরীর কুট কৌশল। স্টিল শট জুড়ে জুড়ে সে বুঝি কোলাজ করবে সময়ের।
অতঃপর ভোরবেলা উঠোন জুড়ে এলো গাছের নীচে দাঁড়িয়ে থাকার নিঃস্বতা। কিছু কান্না আমি রেখে যাবো হৃদয়ের অলিন্দে, হয়তো সুর বলে ভুল করবে, সে এমন এক সুর যা কেউ স্পর্শ করেনি কখনও। যে মোচড়ে ব্রম্ভান্ড থেকে তারিফ ঝরে পড়ে, তাকিয়ে দেখো...রূপালি আলো, আমার চূর্নবিচূর্ন স্বপ্নপাত। গভীর ধ্যানের শেষে বড় বাস্তব হয়ে থাকে যেসব প্রশ্নের উত্তর কেউ কখনও পায়নি।

আমাকে ইচ্ছে দাও, তোমার হাতের নরম স্পর্শ, এক অনাবিল সুখ, যত গান পড়ে রয়েছে অবহেলায়, এক সুদীর্ঘ্য রাত আমাকে ইচ্ছে দাও, এই নির্মল বাতাসের কিছু ছোঁয়া, রাত থেমে যাবে তোমার শাড়ীর আঁচলে। কথাগুলি ফুরিয়ে যাবে এক বিস্তৃত আকাশে, জোনাকীর আলোয় দেখা যাবে তোমার মৃত্যুমুখ চেহারা। আমি আবার ফিরে পাবো আমাকে, এক নতুন ছায়ায়। আমাকে ইচ্ছে দাও, যা দেবার ছিল আমাকে, তুমি দিয়ে দাও জলফড়িঙের কন্ঠে।

 এখানে নিখোঁজ হতে হবে এটাই কথা, এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় একদিন জীবনের সবকিছু। বাতাসের আস্তিনে আগুনের ফুলকিরা যেমন নিখোঁজ একদিন নিজে, দেখোনা, আকাশের অবতলে আলোর রেখা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হেরে যাচ্ছে নিয়নের কাছে। এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় জীবনের সবকিছু একদিন সব। তবুও কখনো হারানো বিজ্ঞপ্তির মলিন ফলক দেখি পৃথিবীর কোনায় কোনায় সার বেঁধে অনায়াসে নিয়তি যুঝে। এখানে কেউ কেউ ভালোবাসে নিখোঁজ হতে, এখানে কেউ কেউ ভালোবাসে জীবনের ভ্রম, অথবা ভুলগুলো ধরে রাখে সুখের মতো, তারপর টের পায় আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে কখন হারিয়ে গেছে সবকিছুই।
এখানে নিখোঁজ হতেই হবে এটাই প্রথা। এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় জীবনের সবকিছু সব, না রাখা কথারা। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে।



বিষন্নতা, তুমি আজ আর আমাকে ঘিরে থেকো না। জেনো, আমি একডজন মোমবাতি কিনে এনে নতুন জীবন শুরু করে দেব আগামী সপ্তাহে। স্নিগ্ধ তুমি এখনও কি কাক ডাকা ভোরে ধোঁয়া ওঠা কফির মগে আমার জন্য উষ্ণতা ছড়াও? খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমার কবিতারা এখনও কি আলশেমিতে ভরা দুপুরে তোমার মনের জানালায় উঁকি দেয়।
মেলা থেকে ফেরা পথে কোনএকদিন আমি নিশ্চিত দেখেছি বিপরীত মুখি মনহারা এক একলা মানুষ, সপ্তম দিগন্ত পার হয়ে যেন সে চলেছে অষ্টম দিগন্তের দিকে। আমি কতদূরে যাব কিছুই জানি না।
আর কেউ দেখুক বাঁ না দেখুক, আমি ঠিক টের পাই, অভিমান আমার ওষ্ঠে এনে দেয় মৃদু হাঁসি, আমি এমন ভাবে পা ফেলি যেন মাটির বুকেও আঘাত না লাগে। আমার তো কারুকে দুঃখ দেওয়ার কথা নয়।
পুরোনো বাড়ির অন্ধকার ঘরে শূন্যতার মধ্যেও এক বিশাল হাঁ-করা শূন্যতা চেয়ে থাকে,  আকাশ মিলিয়ে যায়, জোয়ারে ভেসে যায় বন্ধুত্ব, আয়ু।এরই মধ্যে এক দমকা হাওয়া এসে সান্ধ্য ভাষায় প্রশ্ন করে, মনে আছে?
তখনই ছটপটিয়ে ওঠে বুক, সমস্ত বিচ্ছেদের দুঃখ মনে পড়ে যায়। এদিক ওদিক তাকাই। আমার দিক মেলে না,কুল মেলে না। খরচ হল এক আধুলি খাতায় লেখা রাজ্যের দেনা। একটা মাত্র জীবন, তার হাজার রকম দুনিয়াদারি।

আজ বহুদুর এসে, কংক্রিট ছাদের নীচে, সামনে খোলা কবিতার খাতা, আমি সেই কিশোরকে দেখি, বসে আছে নদীর ঢালুতে। আমি দেখি নদীটির পাশ ফেরা, বাতাস দ্বিখন্ড করে ডেকে ওঠে চিল। একটু একটু মন খারাপ, কবিতার খাতা মুড়ে উঠে আসি বারান্দায়। আকাশ অচেনা লাগে, মায়াময় গাঢ় চোখে মনে হয় দিগন্তও খুব কাছে এগিয়ে এসেছে। কি সুন্দর আবছায়া নদীটি। চারিদিকে আধো আলো, আধো অন্ধকার। নদীটি বয়ে যায় অবিরল। স্মৃতি বিস্মৃতিময় তার স্রোত। ক্লান্তি আসে না। বকুলের গাছ থেকে পাতা খসে পড়ে, কখনও ফুল, বৃষ্টি আসে, ঝড় বয়ে যায়। আবার দেখা দেয় রোদ। তবু আবছায়া নদীটি বয়ে যায়,বয়ে যায়।

দূর গঙ্গায় বেজে ওঠে জাহাজের ভোঁ। মাথার উপরে উড়োজাহাজের বিষন্ন শব্দ। দুঃশীল রত্নাকর বসে আছেন গাছতলায়। পথিকের অপেক্ষায়। এ পথে আর কোনও পথিক আসে না। সম্ভবত ঈশ্বর তাদের নিরাপদ ঘুরপথ চিনিয়ে দিয়েছেন। তবু অপেক্ষায় বেলা যায়। জীর্ন হয়ে আসে ঘরদুয়ার, বয়স বাড়ে, ক্ষুধা বাড়ে। রত্নাকর বসে থাকে গাছতলায়, পথিকের অপেক্ষায়। বহুকাল কেটে যায়। অভ্যাসবশত রত্নাকর বসে আছে , পাশে রাখা বশংবদ খাড়া। হঠাৎ দূরে শোনা গেল পথিকের গান। রত্নাকর খর্গ তুলে নেয় শুন্যে, দৌড়ে যায়, তারপর ঢলে পড়ে। ভয়ংকর ভারী খর্গ তাঁকে টেনে রাখে। ঝাপসা চোখে রত্নাকর চেয়ে দেখে অদুরে পথিক, তরুন, ঐশ্চর্য্যবান। রত্নাকর কেঁদে ওঠে। পথিক সামনে এসে দাঁড়ায়, কি চাও রত্নাকর?
রত্নাকর হাত জোড় করে বলে, "আমার পরিবার উপোস করে আছে, দয়াময়, দয়া করো। ভগবান তোমার মঙ্গল করবেন।"
মাঝে মাঝে তাঁকে ডাক দিই, 'রত্নাকর, ওহে রত্নাকর।' বুড়ো ভিখিরিটা জানালার কাছে চলে আসে, আমি তাঁকে একটা দুটো পয়সা দিই। জিজ্ঞেস করি, 'কখনও কি ডাকাত ছিলে?' সে মাথা নাড়ে। হাসে। চলে যায়।

দেখি ভাঙ্গা ছেঁড়া অবান্তর সব দৃশ্য ভেসে যায়। কিছুতেই মেলানো যায় না। কখনও দেখি একটা বল গড়িয়ে যাচ্ছে ঘাসের উপর। খেলুড়ির দেখা নেই। তবু বল গড়িয়ে যাচ্ছে। একা, সাদা,রৌদ্রের ভেতর। কখনও দেখি প্রকান্ড ভাঙ্গা একটা মসজিদবাড়ি। আগাছায় ভরা, পরিত্যাক্ত, দেউলিয়া। তবু পড়ন্ত বেলায় তার উঠোনে কে একজন নীরবে নামাজ পড়ছে। দেখি আল্লা বুড়ো দরজি। আল্লার বুকের ভেতর হঠাৎ জেগে উঠেছে ধান ভাঙার তোলপাড় শব্দ। ফসলের মত উঠে আসছে ভালোবাসা। আল্লা বুড়ো দরজি আনমনে চেয়ে আছে। কিছুই মেলানো যায় না। কিছুতেই মেলানো যায় না। তবু চেয়ে দেখি আমার ছেলেবেলার হারানো বল তার কোলের কাছে পরে আছে।
একদিন সুসময়ে তিনি সব ফিরিয়ে দেবেন।।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates