• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
কোনো একদিন দেখা হবে বন্ধু, বৃষ্টিতে ভিজব খুব একসাথে কোনো একদিন ভুলে যাওয়া রাস্তারা, পথ দেখাবে হাত রেখে তোর এই হাতে।
১।
আমার যাদুর ঝাঁপি, আমার জমানো পুঁজিপাটা
তাতে আর কিছু নেই, আছে শুধু মায়াবীমুকুর
আমার সে আর্শিটা চিরতরে তোমাকে দিলাম
এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো
...




২।
আমি জানি, এসব বলার মত এখনও ছোঁয়নি এসে শীত
ঝরেছে যে সব পাতা এখনও তাদের রঙ ধূসরের চিহ্নরহিত
শিকড়ে বাড়িয়ে হাত তারা শুধু জল চেয়েছিল
এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে, এক তিলও
অবসর নেই আর তোর বা আমার – কী করে মেলবো ডানা দখিনা হাওয়ায়
তবু যদি সময়ের থেকে কিছু দূরে গিয়ে আজ একবার বসে থাকা যায়...




৩।
আসলে যে ছেলেটা মরে গিয়েছিলো কিছুদিন আগে
জবানবন্দী তার  লেখা হয় নাই,
বিশ্বাস করেছে সেও দখিনা হাওয়ায়
মেনে নিয়েছিলো, এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
প্রতি দিন, অষ্ট প্রহর
এবং রাতের শেষে ভোর, প্রতি দিন নিয়মিত আসে
অটুট বিশ্বাস ছিলো তার – দখিনা বাতাসে
তবুও সে মরেছিলো
মরেছিলো, মরে যেতে হয়
মরে যাওয়া, অর্থাৎ জীবনের অপচয় করেছিলো
সুতরাং হিসেবী ছিলো না বলা চলে
তলে তলে কী যে ভেবেছিলো সে খবর নেওয়া যায় যদি
ধরা যাক, স্বীকারোক্তি, মৃত্যুকালীন।




৪।
গহন কিছু ইচ্ছে করে -
এক সমুদ্র জংলা ঘাসের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক সমুদ্র অন্ধকারে
ঝলসে নেবো যে সম্পর্ক, তার কি কোন নাম দেওয়া যায় অর্থবহ
খাতায় লিখে?
এক শালিখে আটকে গেছি। অন্যটাকেও দেখতে পাবো খানিক পরে
তেমনটা আর হচ্ছে কোথায়? শিকড় এত আলগা হল - ভালই বোধ হয়
ভরসা রাখা অস্থাবরে... এই বাজারে..




৫।
জানো - ওদিকে অনভ্যাসে আয়নাতে জমে থাকে মরচের দাগ
রুমালে জমেছে সন্দেহ
বুকপকেটের ভাঁজে চক্রান্তের গন্ধ পাই
এমনকি ঝোড়ো হাওয়া
সেও বুঝি থেমে যায় অন্ধকার রাতে
রাতের কথায় মনে হল – স্বপ্ন দেখেছি
আহা, স্বপ্ন দেখেছি কাল রাতে
স্বপ্নের কথা থাক, স্বপ্নেরা থাক অগোচরে
বরং অন্য কথা বলো।




৬।
কোনদিন দেখা হয়ে যাবে
যেমন মেলার ভিড়ে চোখে পড়ে যায় চেনা মুখ, সেইভাবে
ভদ্রতার হাসি, অমায়িক
হয়তো বা মুখোমুখি নয়, বেশ দূরে, তবু ঠিক
পাশাপাশি বসা যেন, কিছু কথা বড় আলগোছে
সময় কত কি মোছে
খাড়াই অন্ধকারে নিষ্প্রভ পাহাড়ের দাগ
খুনসুটি, ভালোবাসা, আদর – সোহাগ
নদীতে জোয়ার ছিলো, এখন ভাঙ্গন।




৭।
আমাদের নিরালা উঠোনে ঝাঁকড়াচুলের একটাই গাছ
পাগলের মত নির্বাক হিংসে করবে শুধু - কথা ছিল
নতুন গুড়ের ঘ্রাণ ঠোঁট ছুয়ে মিশে যাবে কানের লতিতে
সূর্যাস্তের আগে দীর্ঘ গোধূলি জুড়ে আমাদেরই ছায়া
ক্রমশঃ আবছা হবে আমাদেরই নিভৃত সড়কে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কবিতারা আজ হাঁটবে না
সংবাদ পত্রিকার কলাম শোকাহত
ডিকশনারির শব্দগুলো ভাসছে ক্ষরণ প্রবাহে
তুমি নেই বলে...
কথা ছিলো তোমার কাঁধের ছুলিতে ওরা
হেঁটে যাবে আরো বহুদূর...
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কিংবা সীমানা পেরিয়ে!
বলেছিলে তো নিশ্চয়ই,
আজ ওরা অভিমানে ডুকরে ওঠেছে
তুমি নেই বলে...
শহরে কংক্রিটের কান্নার আওয়াজে
খসে পড়ছে একটি একটি করে ইমারত
পথিকের পায়েচলা পথ অবরুদ্ধ
হঠাৎ দুর্যোগে ভেঙে যাচ্ছে জনতার পাঁজরের হাড়
তুমি নেই বলে...
ফেসবুকের স্ট্যাটাস ভুতুড়ে আওয়াজ তুলছে
আজ কাউকে বøক করে দিব
তারা আর খুঁজে খুঁজে কারো জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন
স্বরণ করিয়ে দেবে না নিরালস ভঙ্গিতে
তুমি নেই বলে...
সেলফে তুলে রাখা বইগুলো আহত
খাটের পাশে সাইডবক্সে, ডাইনিংয়ে পড়ে থাকা
অসমাপ্ত শব্দেরা আছড়ে পড়ছে
বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে বাহাদুরের করুণ মিঁউ শব্দে
তুমি নেই বলে...
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
বিকেল ফুরায়, কেউ তো এসো সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালো... আমিও তো কাঁদতে জানি বাসতে জানি ভালো!

ভালবাসার শীর্ষ বিন্দু জয় করার সাধ ছিল, তাই তো তোমাকে জড়িয়ে ধরা, তোমার ভালবাসা ছিল বটবৃক্ষ, আমারটা ছিল লতা। হেমন্তের এই নির্জন সাঁঝবেলায় কী যে হয়! খুব আনমনা লাগে। অতীতের কোনো এক শৈশব-কৈশোরের সাঁঝবেলার স্বপ্ন এসে আমায় আচ্ছন্ন করে। সেসব স্বপ্ন যার কিছুই জীবনে সত্যি হয়ে আসেনি। জীবনের অনেক অনেক দিনের পরিভ্রমণ শেষে সেই স্বপ্নের মাঝে কেমন বিষণ্ণতা ভর করেছে! হেমন্তের জোছনাভেজা রাত অচেনা জগতের সেই হাতছানি হয়ে কী এক মরীচিকার খেলা হয়ে দীর্ঘশ্বাসকে নিরাসক্ত করে তোলে।
নদীর অন্য প্রান্তে চাঁদের আলোয় মায়ার কুহেলিকা। সেদিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে চোখ অশ্রুতে ভরে উঠে। 

চাঁদটা এখনও রহস্যময়, যেন কানে কানে সে কিছু বলতে চায়। কিন্তু শেষরাতের জোছনায় লুকানো কুহেলিকার চেয়েও এক রহস্যময় দৃশ্য দেখি।  আহা, মৌরি, তুমি এলে এমন সময়, যখন আমার মনে হলো, এই পৃথিবীর সব জঞ্জাল পায়ে ঠেলে আমি একটা সুরের পাখি হয়ে যেতে চাই। যে ভালোবাসাকে নেওয়ার জন্য এই সমাজ প্রস্তুত নয়, তাকে মহার্ঘ্য ভাবার অপরাধে, আমার মৌরি; আমি তোমার কাছ থেকেও পালাতে চাই।
অনন্ত জীবনকে আস্বাদের জন্য নদীর পাড়ের ঝোপঝাড়টা মোক্ষম একটা জায়গা। চাঁদের আলোয় কত ছায়া সেখানে ঘোরাফেরা করে! আমার সাংকেতিক স্নায়ুতন্ত্র আমাকে বলে; ছায়াগুলো অনন্ত পরমায়ুপ্রাপ্ত।

বেহায়া বাতাস আমার পিছু ছাড়ে না। পাপ স্পর্শ করে না চোখের পাতা। এমন পৃথিবীতে ঘুম আসে না- মৃত্যু আসে না। দুঃখের দেয়াল ধাক্কা মারে-; পৃথিবীর বুকে ঘুট-ঘুটে অন্ধকার  নিয়ে অনিচ্ছায় শুয়ে থাকি কত কত বছর; জলপ্রণয়ী পাখিসাঁতারও ভালো লাগে না; লাঙলের ঘষা খাওয়া রেখাহীন হাত দেখে দেখে  মানুষ-জন্ম ভুলে  যাই।

এই জনপদে তুই ছাড়া আর কোনো নদী নেই ও কুমারী নদী দোয়েলা আমার, তুই কি জানিস, তোর চোখে ঘুমায় বৃষ্টিমাসী সকাল, ইমনরাগে সন্ধ্যা জাগে কণ্ঠে তোর। আর আমি দুলে উঠি অন্ধ জোছনায়। জান তো এই সমতলে জন্মে না দ্রাক্ষার ফুল কিংবা ন্যাংটা আঙুর। দীর্ঘ রাত্তির নেমে এলে তুই গেঁথে থাকিস পতঙ্গ শিকারী ফুলের লালায়। যখন রাত্তির নেমে আসে জংলাপাখির ঝরা পালকের লোমকূপে, রুক্ষ বনের খেয়ালী একটা বৃক্ষ হেঁটে যায় দূর চন্দ্রালোকে, মৃত নগরের ছবি বেনামী চিঠির খামে ভেসে আসে অদৃশ্য রাত্রির উড়ন্ত পাখায়। বাংলার অন্তঃপুরে ধুতরার চাষ। অন্ধ গলিতে তার ছেঁড়া দোতরার বর্ণহীন সুর এখানে ধূলায় গড়ায় সাধারণ মানুষের শব। অচল আধুলির দামে আমাদের অন্তঃপুরে বৈধব্য-সন্ধ্যা নামে, গুমোট হাওয়া, চিমনির ধোঁয়া-ভরা রাত নীরব পাঁচালি লেখে ইটের ভাটায়।

যখন রাত্তির নেমে আসে আমাদের নীলাচল পাহাড়ে, তারাবাতি কথা বলে ইলোরা জোছনায়, তুই দোয়েলা বরফ আগুনে পুড়ে মরো সাধনার ফেরে, জোড়াহীন দোয়েলা আমার, সাধনা জানো না বলে তলিয়ে যাচ্ছো ঘুমনদী-জলে। যকৃত ছিইড়া খায় নতুন ঈগল, পুড়তে চাই, পোড়ে না- তৃষ্ণা মেটে না যার আরব সাগরের সমস্ত জলে, সেই আমি সন্ধায় গোধূলিরে পাখির ডানায় বেঁধে তারাদের স্নান শেষে- দিয়াছি উড়াল... 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমিও তো একদিন এরকমই কোনও এক বাড়ির ভিতরে বারবার ঢুকতে চেয়েছি, শুধু সময় পেরিয়ে গেছে বলেই তুলসীমঞ্চে প্রণাম পড়েনি, নতুন বউয়ের শাঁখে ফুটে ওঠে অন্য কোনও ঈশ্বরের নাম...সে এক রূপকথার গল্প, টাইম মেশিনে বসে আবার যদি কৈশোরকালে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আমি নিজের অতীত জীবনের বেশ কিছু ভুল-ভ্রান্তি শুধরে নিতাম। শচীন-সৌরভের খেলা আর সুমন-নচিকেতার গান শুনতে শুনতে বেশ বড় হচ্ছিলাম কিন্তু গোল বাঁধালো ওই মেট্রো চ্যানেল। তখন সবে শুরু হয়েছে, আর আমি “সুপারহিট মুকাবিলা” তে দেখছি মাধুরীর খোলা পিঠ, ভুবনমোহিনী হাসির হাতছানিতে তিনি আমাকে বলছেন, “হাম আপকে হ্যায় কৌন?” কেমন একটা ঘোর লেগে গেছিলো, সর্বক্ষণ রণে-বনে-জলে-জঙ্গলে শুধুই মাধুরী, মাধুরী আর মাধুরী। হুসেন সাহেবের তবু ফিদা হওয়া মানায়, কিন্তু আমার তখন ভালো করে অঙ্ক করার বয়স, মাধুরী জ্বরে কুপোকাত না হয়ে যদি আরো মন দিয়ে পড়াশোনাটা করতাম….

সেই সময়টাই ছিলো আমাদের বয়:সন্ধিকালে প্রেমে পড়ার সময়। বাতাসে তখন ছড়িয়ে থাকতো চোখাচোখি মুগ্ধতা। হৃদয়ে অবাধ্য ছেলে-মেয়েদের মনে হঠাৎ করে কালবৈশাখী আসত আর তখনই নচিকেতা গান ধরতেন, “হাজার কবিতা, বেকার সবই তা, তার কথা কেউ বলে না….” । আমরা নীলাঞ্জনাকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াতাম পাড়ায় পাড়ায়, স্কুলে স্কুলে, অলিতে গলিতে, সাইকেলে রিক্সায়, টিউশনে, বইয়ের পাতায়, কবিতার খাতায়, সরস্বতী পূজোয় অঞ্জলী দেবার সময়। তখন আমাদের কাছে সেলফোন ছিলো না, ফেসবুক-টুইটার ছিলো না, হোয়াটস্‌ আপ ছিলো না কিন্তু চোখে চোখে কথা বলার সময় ছিলো, বইয়ের মধ্যে কবিতা গুঁজে দেবার ইচ্ছে ছিলো, লুকিয়ে লুকিয়ে দেখা করার সাহস ছিলো, দু টাকার ফুচকা খাওয়ার বিলাসিতা ছিলো।

এপ্রিল মাসে জটায়ুকে সঙ্গে নিয়ে চলে গেলেন সত্যজিৎ। আমার শৈশব ও কৈশোর যে মানুষটিকে ঘিরে ছিলো, গরমের ছুটির দুপুরবেলাগুলোতে মা ঘুমিয়ে পড়ার পরে যেই চরিত্র রা চুপি চুপি আমার সাথে গল্প করতে আসতো, যাদেরকে সাথে নিয়ে আমি ধীরে সুস্থে বড় হচ্ছিলাম, তাদের স্রষ্টা ঐ দীর্ঘদেহী মানুষটি, যিনি প্রায় প্রতিদিন আমার সাথে বিজনে কথা বলতেন, তিনি আমাকে কিচ্ছুটি প্রায় না জানিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আপনজন হারানোর সেই ব্যথা এখনো আমি বয়ে বেড়াচ্ছি, এখনো প্রতিটা দিন এই বিদেশ-বিঁভুয়ে আমি ওনাকে আঁকড়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি।

সত্যজিৎের শোক কাটতে না কাটতেই ঐ বছরেরই ডিসেম্বর মাসে সারা দেশজুড়ে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। কিশোর ছেলেটি তখন কিছুতেই বুঝতে পারে নি যে ‘জয় শ্রীরাম’ বলে চিৎকার করা কিছু গেরুয়াধারী মানুষ কেন ওরকম উন্মত্তভাবে একটা মসজিদ ভাঙতে শুরু করলো। টিভির পর্দায় দেখা সেই দৃশ্য ছেলেটির সরল মনের উপর গভীর প্রভাব ফেলেছিলো। আর তারপরে সারাদেশ জুড়ে যা যা ঘটেছিলো সেইসব কিছু ছেলেটিকে ভাবিয়ে তুলেছিলো আর সেই ভাবনা ছেলেটি এখনো চালিয়ে যাচ্ছে। সত্যজিৎের মৃত্যু আর বাবরি মসজিদ ধ্বংস সেই কিশোরকে শিখিয়ে দিয়েছিলো যে জীবন সবসময় ফুরফুরে কাটবে না, আস্তে আস্তে যত সে বড় হবে, যত বুঝতে শিখবে, যত এই পৃথিবীটাকে জানতে থাকবে, নতুন নতুন ঘটনা ঘটতে দেখবে ততই এই চিন্তা-ভাবনার সময়টা আর মনে আঘাত লাগার পরিমানটা চক্রবৃদ্ধিসুদের হাড়ে বাড়তে থাকবে। তাই কৈশোর শেষ হতে থাকার সময়কালে অবধারিতভাবে প্রথম প্রেমে ব্যর্থ হবার আকস্মিকতাটা সে খুব তাড়াতাড়ি সামলে নিতে পেরেছিলো।

নব্বইয়ের দশক আমাকে যেমন অনেক কিছু দিয়েছিলো, শিখিয়েছিলো, ঠিক তেমনই আমার থেকে আস্তে আস্তে অনেক কিছু ছিনিয়ে নিয়েছিলো। আমার কৈশোর হারিয়ে গিয়েছে এই দশকে, আমার সরলতা আটকা পড়েছে এই দশকে, আমার বিস্ময়বোধ লুকিয়ে আছে এই দশকে। এখন এই ২০১৫ সালে, আমার নিজের বাড়ি, নিজের পাড়া, নিজের শহর, নিজের রাজ্য, নিজের দেশের থেকে অনেক অনেক দূরে বসে আমি স্বপ্ন দেখি যে একদিন আমি সেই টাইম মেশিনটা ঠিক খুঁজে পাবো আর তাতে করে পাড়ি জমাব সেই দিনগুলিতে। না, তখন যা যা ভুল করেছিলাম, এবার সেগুলো আর কিচ্ছু শুধরোবো না, সেগুলো ঠিক যেমন যেমনটি ছিলো সব তেমন তেমনটিই থাকবে, শুধু আমি আর সেই সময় থেকে ফিরে আসবো না। আগের মতই, প্রতিদিন বিকেলবেলা পাড়ার মাঠে ক্রিকেট খেলে, নর্দমা থেকে বলতোলা হাতে, এবারেও বাড়ি ফিরে চিৎকার করে বলবো, “মা, খুব খিদে পেয়েছে, তাড়াতাড়ি কিছু খেতে দাও না….।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পৃথিবীর কোথাও দুঃখরা থাকে, তা অস্বীকার করার দীপ্ত সাহস, অথচ তুমি আমি ভালো করেই জানি, শহরের দুঃখভার অধিক হলে বৃষ্টিরা নামে, মেঘেরা ধারণ করে গভীর যত কালো।   কাপাস থেকে কিভাবে সুতো হয় জেনেছিলাম সেই ভোরবেলায়, তখন হাতের নীলগোলাপ ভালোবেসে অনায়াসে মূর্খের মত দিয়েছি প্রেয়সীকে। খেলাচ্ছলে সে একটা একটা পাঁপড়ি ছিঁড়েছে, গোলাপের রক্তে হাত ভরে গেছে তার অলীক গোপনে। সহজেই ছোট্ট রুমালে হাত মুছে সে চলে গেছে ড্রয়িং ক্লাসে, বিমুর্ত শিল্পের মত সে কারনেই শিখতে পারিনি সুতো থেকে আস্ত কাপড় তৈরীর কুট কৌশল। স্টিল শট জুড়ে জুড়ে সে বুঝি কোলাজ করবে সময়ের।
অতঃপর ভোরবেলা উঠোন জুড়ে এলো গাছের নীচে দাঁড়িয়ে থাকার নিঃস্বতা। কিছু কান্না আমি রেখে যাবো হৃদয়ের অলিন্দে, হয়তো সুর বলে ভুল করবে, সে এমন এক সুর যা কেউ স্পর্শ করেনি কখনও। যে মোচড়ে ব্রম্ভান্ড থেকে তারিফ ঝরে পড়ে, তাকিয়ে দেখো...রূপালি আলো, আমার চূর্নবিচূর্ন স্বপ্নপাত। গভীর ধ্যানের শেষে বড় বাস্তব হয়ে থাকে যেসব প্রশ্নের উত্তর কেউ কখনও পায়নি।

আমাকে ইচ্ছে দাও, তোমার হাতের নরম স্পর্শ, এক অনাবিল সুখ, যত গান পড়ে রয়েছে অবহেলায়, এক সুদীর্ঘ্য রাত আমাকে ইচ্ছে দাও, এই নির্মল বাতাসের কিছু ছোঁয়া, রাত থেমে যাবে তোমার শাড়ীর আঁচলে। কথাগুলি ফুরিয়ে যাবে এক বিস্তৃত আকাশে, জোনাকীর আলোয় দেখা যাবে তোমার মৃত্যুমুখ চেহারা। আমি আবার ফিরে পাবো আমাকে, এক নতুন ছায়ায়। আমাকে ইচ্ছে দাও, যা দেবার ছিল আমাকে, তুমি দিয়ে দাও জলফড়িঙের কন্ঠে।

 এখানে নিখোঁজ হতে হবে এটাই কথা, এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় একদিন জীবনের সবকিছু। বাতাসের আস্তিনে আগুনের ফুলকিরা যেমন নিখোঁজ একদিন নিজে, দেখোনা, আকাশের অবতলে আলোর রেখা বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে হেরে যাচ্ছে নিয়নের কাছে। এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় জীবনের সবকিছু একদিন সব। তবুও কখনো হারানো বিজ্ঞপ্তির মলিন ফলক দেখি পৃথিবীর কোনায় কোনায় সার বেঁধে অনায়াসে নিয়তি যুঝে। এখানে কেউ কেউ ভালোবাসে নিখোঁজ হতে, এখানে কেউ কেউ ভালোবাসে জীবনের ভ্রম, অথবা ভুলগুলো ধরে রাখে সুখের মতো, তারপর টের পায় আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে কখন হারিয়ে গেছে সবকিছুই।
এখানে নিখোঁজ হতেই হবে এটাই প্রথা। এখানে নিখোঁজ হয়ে যায় জীবনের সবকিছু সব, না রাখা কথারা। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে।



বিষন্নতা, তুমি আজ আর আমাকে ঘিরে থেকো না। জেনো, আমি একডজন মোমবাতি কিনে এনে নতুন জীবন শুরু করে দেব আগামী সপ্তাহে। স্নিগ্ধ তুমি এখনও কি কাক ডাকা ভোরে ধোঁয়া ওঠা কফির মগে আমার জন্য উষ্ণতা ছড়াও? খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমার কবিতারা এখনও কি আলশেমিতে ভরা দুপুরে তোমার মনের জানালায় উঁকি দেয়।
মেলা থেকে ফেরা পথে কোনএকদিন আমি নিশ্চিত দেখেছি বিপরীত মুখি মনহারা এক একলা মানুষ, সপ্তম দিগন্ত পার হয়ে যেন সে চলেছে অষ্টম দিগন্তের দিকে। আমি কতদূরে যাব কিছুই জানি না।
আর কেউ দেখুক বাঁ না দেখুক, আমি ঠিক টের পাই, অভিমান আমার ওষ্ঠে এনে দেয় মৃদু হাঁসি, আমি এমন ভাবে পা ফেলি যেন মাটির বুকেও আঘাত না লাগে। আমার তো কারুকে দুঃখ দেওয়ার কথা নয়।
পুরোনো বাড়ির অন্ধকার ঘরে শূন্যতার মধ্যেও এক বিশাল হাঁ-করা শূন্যতা চেয়ে থাকে,  আকাশ মিলিয়ে যায়, জোয়ারে ভেসে যায় বন্ধুত্ব, আয়ু।এরই মধ্যে এক দমকা হাওয়া এসে সান্ধ্য ভাষায় প্রশ্ন করে, মনে আছে?
তখনই ছটপটিয়ে ওঠে বুক, সমস্ত বিচ্ছেদের দুঃখ মনে পড়ে যায়। এদিক ওদিক তাকাই। আমার দিক মেলে না,কুল মেলে না। খরচ হল এক আধুলি খাতায় লেখা রাজ্যের দেনা। একটা মাত্র জীবন, তার হাজার রকম দুনিয়াদারি।

আজ বহুদুর এসে, কংক্রিট ছাদের নীচে, সামনে খোলা কবিতার খাতা, আমি সেই কিশোরকে দেখি, বসে আছে নদীর ঢালুতে। আমি দেখি নদীটির পাশ ফেরা, বাতাস দ্বিখন্ড করে ডেকে ওঠে চিল। একটু একটু মন খারাপ, কবিতার খাতা মুড়ে উঠে আসি বারান্দায়। আকাশ অচেনা লাগে, মায়াময় গাঢ় চোখে মনে হয় দিগন্তও খুব কাছে এগিয়ে এসেছে। কি সুন্দর আবছায়া নদীটি। চারিদিকে আধো আলো, আধো অন্ধকার। নদীটি বয়ে যায় অবিরল। স্মৃতি বিস্মৃতিময় তার স্রোত। ক্লান্তি আসে না। বকুলের গাছ থেকে পাতা খসে পড়ে, কখনও ফুল, বৃষ্টি আসে, ঝড় বয়ে যায়। আবার দেখা দেয় রোদ। তবু আবছায়া নদীটি বয়ে যায়,বয়ে যায়।

দূর গঙ্গায় বেজে ওঠে জাহাজের ভোঁ। মাথার উপরে উড়োজাহাজের বিষন্ন শব্দ। দুঃশীল রত্নাকর বসে আছেন গাছতলায়। পথিকের অপেক্ষায়। এ পথে আর কোনও পথিক আসে না। সম্ভবত ঈশ্বর তাদের নিরাপদ ঘুরপথ চিনিয়ে দিয়েছেন। তবু অপেক্ষায় বেলা যায়। জীর্ন হয়ে আসে ঘরদুয়ার, বয়স বাড়ে, ক্ষুধা বাড়ে। রত্নাকর বসে থাকে গাছতলায়, পথিকের অপেক্ষায়। বহুকাল কেটে যায়। অভ্যাসবশত রত্নাকর বসে আছে , পাশে রাখা বশংবদ খাড়া। হঠাৎ দূরে শোনা গেল পথিকের গান। রত্নাকর খর্গ তুলে নেয় শুন্যে, দৌড়ে যায়, তারপর ঢলে পড়ে। ভয়ংকর ভারী খর্গ তাঁকে টেনে রাখে। ঝাপসা চোখে রত্নাকর চেয়ে দেখে অদুরে পথিক, তরুন, ঐশ্চর্য্যবান। রত্নাকর কেঁদে ওঠে। পথিক সামনে এসে দাঁড়ায়, কি চাও রত্নাকর?
রত্নাকর হাত জোড় করে বলে, "আমার পরিবার উপোস করে আছে, দয়াময়, দয়া করো। ভগবান তোমার মঙ্গল করবেন।"
মাঝে মাঝে তাঁকে ডাক দিই, 'রত্নাকর, ওহে রত্নাকর।' বুড়ো ভিখিরিটা জানালার কাছে চলে আসে, আমি তাঁকে একটা দুটো পয়সা দিই। জিজ্ঞেস করি, 'কখনও কি ডাকাত ছিলে?' সে মাথা নাড়ে। হাসে। চলে যায়।

দেখি ভাঙ্গা ছেঁড়া অবান্তর সব দৃশ্য ভেসে যায়। কিছুতেই মেলানো যায় না। কখনও দেখি একটা বল গড়িয়ে যাচ্ছে ঘাসের উপর। খেলুড়ির দেখা নেই। তবু বল গড়িয়ে যাচ্ছে। একা, সাদা,রৌদ্রের ভেতর। কখনও দেখি প্রকান্ড ভাঙ্গা একটা মসজিদবাড়ি। আগাছায় ভরা, পরিত্যাক্ত, দেউলিয়া। তবু পড়ন্ত বেলায় তার উঠোনে কে একজন নীরবে নামাজ পড়ছে। দেখি আল্লা বুড়ো দরজি। আল্লার বুকের ভেতর হঠাৎ জেগে উঠেছে ধান ভাঙার তোলপাড় শব্দ। ফসলের মত উঠে আসছে ভালোবাসা। আল্লা বুড়ো দরজি আনমনে চেয়ে আছে। কিছুই মেলানো যায় না। কিছুতেই মেলানো যায় না। তবু চেয়ে দেখি আমার ছেলেবেলার হারানো বল তার কোলের কাছে পরে আছে।
একদিন সুসময়ে তিনি সব ফিরিয়ে দেবেন।।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
   
           ১।
তবু আমার ইচ্ছে হয়,
তোমার সাথে এক বিকেলে হঠাৎ করে দেখা হবে।
তখন বোধহয় গরমকাল, আর
তুমি বৃষ্টি ভেবে ভুল করবে।




                ২।
একফালি কবিতায় অস্তিত্ব ভেসে যাক,
প্রকাশ্য গোপন হোক,
গোপন তুই নিষিদ্ধ থাক।




                 ৩।
বৃষ্টি হলেই ভিজব এবার
ভিজব না আর কথায়;
বৃক্ষ হতে গিয়ে দেখি
জড়িয়ে আছি  লতায়।

                   ৪।
এই খানে এসে প্রেম শেষ হল,
রাখালি মেঠোপথ ধরে কষ্টেরা হেঁটে গেল,
তুমিও চলে গেলে দৃষ্টির আড়ালে।
আবেশের খেয়াঘাটে বসে মধ্যবয়স্ক মাঝি,
ভাটিয়ালী সুরের পাল ওড়ানো...
চুপি চুপি বললাম, " তোমার যেখানে সাধ চলে যাও।"
আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব।




                   ৫।
তারা সকলেই কষ্টে আছে,
তারা সকলেই অনটনে আছে,
তারা সকলেই রাতভর
হাত তুলেছে।

                    ৬।
পাতার প্রস্থান দৃশ্যগুলো
 চোখের আড়ালে চলে গেলে
শেষ হয় কালের কম্পন।
বিনিদ্র রাতের মোহনায় সবুজ নোঙর ফেলে
জাগে বসন্ত।
বন এবং মন জুড়ে আলোর বসন্ত
পড়ে থাকে কিশোরী পাখির পালক।

                     ৭।
নষ্ট জীবন
নষ্ট ভাবা
কষ্ট পাওয়া শুধু,
স্পষ্ট করে যায়না বলা
কোথায় সুখের বিধু;
কোথায় আছে সুখের আকাশ
কোথায় সুখের হাওয়া,
হঠাৎ মাঝে দেখা গেলেও
যায়না তাকে ছোঁওয়া।।




                   ৮।
খালি খাম দেখে মনে হয় ত্রিমাত্রিক বাক্স।
এই নাও,
খালি খামে ভরে দিয়েছি সম্ভাবনা,
যা ছিল এবং যা ছিল না সবকিছু।
কাগজে মুড়ে তোমায় দিলাম
স্পেসটাইম।।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
 মেয়ে তোমার ঘোর কাটেনি, এলোমেলো চুল নিয়ে কাঁপছে তোমার ছায়াশরীর, শিহরনে। তুমি এসেছিলে, শুক্লপক্ষের চাঁদ ছিল কার্ণিশের উপর, তারপর যখন তোমার নিঃশ্বাস গাঢ় হতে লাগলো, আমি দেখলাম সব নক্ষত্রগুলো সাদা কাক হয়ে উড়ে যাচ্ছে একে একে। আর তোমার  নাভীতে জমা দুঃখগুলো তখন সুখ নিয়ে মিশে যায় সুদুর অন্তঃরীক্ষে। এদিকে আমার শয্যাপাশে এখনও ভোর হয় নি। কিন্তু মেয়ে, তোমার চোখে জমে আছে একরাশ নিঃশব্দ ধূসর ঘোর।
আমি তারাদের রোদন, ঠিক যেন অবিরাম নষ্ঠ হতে থাকা রাতগুলোর কুন্ডলী। একটি অখন্ড আকাশ আমার শৈশব লিখে রেখেছিল তার বায়বীয় আগুনের বুকে। এখনও আমি চলতে ফিরতে দেখি আমার শৈশব জন্ম নিচ্ছে আলোর কোটরে; বেড়ে উঠেছে বৃষ্টির আবরনে। আগুনে পুড়ে আয়নাতে ভেসে উঠেছে একজন ঘুমিয়ে পড়া যাদুকর, এই অবয়ব আমি কখনও ভুলিনি।

তোমার ভেতর শুকনো নদীর পাড় ঘেঁসে বেড়ে উঠেছে সবুজ ক্ষত, ট্রাক এসে বোঝাই করে নিয়ে যায় উপচে পড়া নিল, ঘামে ভেজা গামছার তলে মুখ মোছা ঘ্রাণের শক্তিই তোমাকে জাগিয়ে রাখে। ভোরের সরল আলো এখনও চোখের তারায়। বিশুদ্ধ বাতাস চুলের মেঘ থেকে ঝরিয়ে নেয় বৃষ্টি। মৃত্তিকার অবয়বে ফুটিয়ে তোলে আলতা ছাপ, যে রঙের মাঝে তোমার হাত বাড়ানো পাপড়ি থেকে ঝরে পড়ে খেয়াঘাট।
মেয়ে, তুমি বৃষ্টি হয়ে ঝরো, খোলা আকাশ আর এলোমেলো হাওয়া, অদ্ভুত কিছু ভালোলাগা আর কিছু টুকরো মেঘ নিয়ে এসো। আমার আকাশ আজ ভিন্নভাবে শ্বাস ফেলতে চাইছে। রোজ দু'টোর সময় আমি একটা দুচাকার দুপুরকে হারিয়ে ফেলতে দেখি তার মনখারাপের হাতল। আমি চমকে উঠি, ছুটে গিয়ে জাপটে ধরি তার নির্জনতার হাতল। আমার সেলফোন দুপুরে ঠিক সাইকেলের বেলের মতই বেজে ওঠে।  ঝকঝকে আকাশ থেকে অলক্ষ্যে ঝরে পড়তে থাকে অন্ধকারের অদৃশ্য কনাগুলো রোদের ফাঁক দিয়ে। রোজ দু'টোর সময় এক সন্ধ্যে আমার বিছানায় ঘুমোতে আসে। আমার কবিতাগুলো ছন্দহীন হয়ে পড়ে তারপর।

তারপর আমি ফিরে যাই তোর আকাশে, আমি দেখি আমার হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি সুতো কেটে উড়ে বেড়ায়। আমি ফেরাতে পারিনা, আমার মন খারাপ করে। ফাঁকা ঘরে জানালার ওপারে দূর নীলাকাশ থেকে ফিসফিসিয়ে ভেসে আসে প্রিয়তম হাওয়া। কান্নায় আমার গলা ভিজে যায়, আমি ফুঁপিয়ে উঠি। আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক নির্জন তালগাছ। তালগাছটার শিখরে দুলছে মৌসুমী সমুদ্রের হাওয়া। আমি দেখি এক পিঙ্গল অশ্বারোহী, দিগন্তের ওপারে ওই দেখো থেমে আছে সময়, ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে তেপান্তরের মাঠ, মাঝখানে থমকে আছে আমাদের প্রিয়তম মুহুর্তেরা। যবনিকা সরে যায়, দেখি দূর অন্ধকার স্রোতের ওপারে এক আমোঘ সত্য। ফিরে যাই দিগন্তের কিনারে, দেখি শিশির ভেজা মাঠে শুয়ে আছে কিছু সুখী মাথা।
অন্ধকার নেমে এলে আমি বেঁচে থাকি এক অন্য পৃথিবীতে, চিরকাল আকাশ বলেছি যাকে, চোখ তুলে দেখে নিই, আজ সে হয়ে আছে মহাকাশ।

এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সচেতন কবিতারা, বন্ধ আছে অন্ধ অভিষেক; কিশোর এসে প্রতিদিন হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে। তবুতো জ্যোৎস্নারাতে ঘরে ফিরতে হয় বুকে চেপে রেখে কিছু বেওয়ারিশ ভয়। এই অলীক পৃথিবীতে আমিও একজন অতিথি, আমিও একজন পথিক মাত্র। সকলের মাঝে আমি চিরদিন থাকবনা। ধূমল কুয়াশা কেটে গেছে। স্বর্ণময় শিশির কনাও নীরস। নদীর ঢেউয়ের সাথে দুপুর গড়িয়ে গেল নিঃশব্দে বহুদুর। শ্রাবনের ঝরো ঝরো বর্ষন বয়ে গেল, তবু মনে মরুভূমি।
পিছনে পড়ে ছিল কাতর নদী, কারো কংকালে লেখা থাকে মৃত নদীর নাম। যে যায় সে ফেরে না, তবু কোন কোন রাতে তৃষিত নদীরা ঘুম চোখে জল চায়। ভুল করে আমিও নদীর মত তৃষিত হই, হাত রাখি অর্পিত চাঁদে। ফোঁটা ফোঁটা জ্যোৎস্নারা কাঁদে নিরুপায়, তবুও কেউ মিষ্টি করে বলে না আকাশের ছাদে বসে থাকা পাখির পালকের নাম কবিতা।

তুমি তৈরী থেকো, এবার আমি এসে যাবো। যে কোন দিন, যে কোন জুঁই ঝরবার আগে। বুঝলে নীলা, পথে যদি সন্ধ্যা লাগে পাঁজর খুলে আগুন দেব অন্ধকারে। শান ধরানো তীক্ষ্ণ ফলার লাঙ্গল টেনে সবুজ মাটি চষে বীজ ছড়াবো আবার। সত্যি রক্তে এবার তোমার নীল মেশাবো। ইদেন বনের নিষিদ্ধ ফল ছিঁড়ে খাবো। র‍্যাবের চাকায় পিষ্ট হয়ে যে কোন খুন ঝরার আগেই মাটির কাছে, তোমার কাছে যে কোন দিন এসে যাবো।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
যে শহরে ভালোবাসা হলুদ গল্প হয়, গোধূলিতে মিশে থাকে অন্ধকার, সামাজিকতা-আমাকে চোখের নিচে নিচে রেখো, ভরদুপুরে চুপি চুপি আমি ফিরে যাই আমার কাছে। শরৎকালের পুরোনো এয়ারপোর্টে আমি যখন রাস্তাগুলোকে নিজের মতই নামকরন করি, তখন মেঘ ভাসে কিছু শহরের গায়ে।
তোমার সাথে দেখা আমার হতেই পারে, তোমার সুপুরুষ সাথীকে কুর্ণিশ, আজ তুমি ভালো আছো, ওকে বোলো আমার কথা...বোলো একদিন বসা যাবে। কোনো একদিন তরল আগুন হাতে বলা যাবে সব ইতিহাস। ওকে বোলো আমার কথা, কখনও কবিতায়, কখনও মিশ্ররাগে, কখনও খাপখোলা শরীরে, যে কোন অজুহাতে নাহয় রূপাকেই বলে দিও সব।
আমি এখন তোমার কথা অন্যভাবে বলি; দূর থেকে দেখলেই কবিতায় ছুঁয়ে দিই ঠোঁট কান চোখ। আজকাল আমার বড্ড ঘুম পায় যখন তখন, আর পেছন থেকে একটা শব্দ শুনতে পাই এলোমেলো বৃষ্টি হলে। জবরদখল হয়ে যাওয়া মাথায় তখন শেষ বিকেলের প্রশ্ন লেগে থাকে, যেভাবে নিলচে জিন্সের মত  fade হয়ে আসে দিগন্তের নগরায়ন। জামার আস্তিনে লুকিয়ে রাখা গল্পের প্লট নড়ে চড়ে ওঠে নিজের ত্যাগিদে কিছু বলার অপেক্ষায় আর মাঝে মাঝে কিছু ফাঁকা পাতা ছেড়ে রাখে।
তবুতো কিছু বলা হল, পোয়াতী বিকেল সাক্ষী থাকলো তার। এরপর আর কিছুই বলার থাকেনা, শুধু ফিরে ফিরে দেখা ছাড়া। মাঝখানে অনেকটা সময় বাকি থেকে যায়।




হিসেব মেলেনি আজও ঘড়িয়াল দিনটির। বিভাজিকা রেখা যার ছায়াপথে আঁকে সিলুলয়েট, সেও ফিরে পাক বাঁচার আশ্বাস। মেট্রোর সেই খাঁ খাঁ সুড়ঙ্গ গুলোর কথা তো আমরা ভুলেই গিয়েছিলাম। একপশলা রোদ্দুর এসে ছিনিয়ে নেয় সকাল। আজও আমাদের ঘুম ঘুম চোখে সকাল দেখা হলনা। প্রতিদিন ভাবি কাঁচাবাজার থেকে সকাল কিনে আনব। কিন্তু হায়, প্রতিদিন সকালগুলো দূরে আরো দূরে চলে যায় তাদের বাড়িতে, যারা প্রতিদিন সকাল মাথায় করে পসরা সাজায়।

 এইখানে অরণ্য, এইখানে হাত ডুবে যায় নীলের মধ্যে। আমাদের গল্পেরা ফিকে হয়ে আসে ক্রমশ। কুয়াশার ভেতর শিশিরের শব্দেরা হারিয়ে যায়। দিক ভুল করে ফিরে যায় সুন্দর। একে একে নিভে যায় তোমার সরাইখানার আলো। আমি ভুলে যাই ফিরতি পথ।
এখন সময় ভাঙ্গার। বাড়তি কি-শুকনো সাদা দাঁড়ি। তবু নিজেকে ভয় করে। এখনও নিজেকে ভয় করে, কাটিয়ে উঠতে চাই, গ্যারান্টি চাই-যা হয়েছে আর হবে না।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে। কিছু ঘটনা আমাদের অজান্তেই আমাদের হঠাৎ আলতো করে নাড়িয়ে দিয়ে যায়, বুঝতে পারি জীবনটা বড্ড বেশি ক্ষনস্থায়ী, আঙুলের ফাঁকগলে কখন যে সোনালী মুহুর্তগুলো উড়ে গেলো…
কথা ছিলো এক মেঠো পথ আর তার শেষে একটা কুঁড়ে ঘর পেলে আমরা দুজনেই শহর ছাড়বো। জানিস বকুল, আজ আমরা দুজনেই শহর ছেড়েছি, হয়তো তোর ফেলে যাওয়া পথেই হেঁটে যাচ্ছি, তোর ছেড়ে যাওয়া দীর্ঘশ্বাসগুলো বুকপকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, তবু আজও আমাদের সেই মেঠোপথ আর কুঁড়েঘর পাওয়া হয়নি।

আজ দেখি, সেই দুরন্ত মেয়েটি বারান্দায় রেলিঙে ভর দিয়ে চুপ করে দাঁড়িয়ে, বাদলশেষের ইন্দ্রধনুটি বললেই হয়। তার বড়ো বড়ো দুটি কালো চোখ আজ অচঞ্চল, তমালের ডালে বৃষ্টির দিনে ডানাভেজা পাখির মতো।
ওকে এমন স্তব্ধ কখনো দেখি নি। মনে হল, নদী যেন চলতে চলতে এক জায়গায় এসে থমকে সরোবর হয়েছে।

অনেকদিন পর অচিন্ত্যবাবুকে দেখলাম পাথরের মূর্তিছেড়ে স্কুলমাঠে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনীর কথা; অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সূত্র আর রঞ্জিনী বলেছিল মৃত্যুর পর ওর দেহটা আপেল গাছ হয়ে যাবে, আমি বলেছিলাম, আমার আপেল একদমই পছন্দ না; রঞ্জিনী রেগে গিয়ে বলেছিল সেই কারনেই ও আপেল গাছ হতে চায়।
আমি জানিনা রঞ্জিনী এখন কোথায়, আদৌ সে আপেল গাছ হতে পেরেছে কি না...আমার জানা নেই অচিন্ত্যবাবু মাঠছেড়ে আবার পাথরের বেদিতে ফিরে গেছেন কি না।

আমি দেখতে পাই মাঝরাতে শহরের রাস্তাগুলো একে একে নদী হয়ে যাচ্ছে, আমার মনে পড়ে তালদিঘিটির কথা, যার জল কাকচক্ষুর মতই স্বচ্ছ ছিল…মনে পড়ে যায় ছোটোবেলার কথা।
তখন ক্লাস সিক্সে পড়ি। জিওগ্রাফি পড়ান অসিত বাবু।  তিনি ক্লাসে ঢুকলে চেয়ার টেবিলগুলো পর্যন্ত ভয়ে কাঁপে। মানুষটা ছোটোখাটো, কিন্তু হাতের থাবাটা বিশাল। আমাদের ধারনা ছাত্রদের গালে চড় বসানোর জন্য ভগবান স্পেশালভাবে এই হাত তৈরী করে দিয়েছেন। স্যারের চড়েরও নানা নাম ছিল-রাম চড়, শ্যাম চড়, মধু চড়।

এর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন হচ্ছে রাম চড়, আর কোমল হচ্ছে মধু চড়। স্যার সেদিন পড়াচ্ছেন বাংলার নদ নদী। ক্লাসে ঢুকেই আমার দিকে আঙুল বাড়িয়ে বললেন, এই একটা নদীর নাম বলতো। চট করে বল।
অসিত বাবু কোনো প্রশ্ন করলে কিছুক্ষনের জন্য আমার মাথাটা পুরোপুরি ফাঁকা হয়ে যায়। কান ভোঁ ভোঁ করতে থাকে। মনে হয়, মাথার খুলির ভেতর জমে থাকা কিছু বাতাস কানের পর্দা ফাটিয়ে বের হয়ে যাচ্ছে।

কি ব্যাপার, চুপ করে আছিস কেনো? নাম বল।

আমি ক্ষীনস্বরে বললাম আড়িয়াল খাঁ।

স্যার এগিয়ে এসে প্রচন্ড চড় বসিয়ে দিলেন। খুব সম্ভব রাম চড়। হুঙ্কার দিয়ে বললেন, এত সুন্দর নাম থাকতে তোর মনে এলো আড়িয়াল খাঁ? সবসময় ফাজলামি? কান ধরে দাঁড়িয়ে থাক।
আমি কান ধরে সারাটা ক্লাস দাঁড়িয়ে থাকলাম।

ঘন্টা পড়ার মিনিট পাঁচেক আগে পড়ানো শেষ করে স্যার চেয়ারে গিয়ে বসলেন। আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, কাছে আয়।

আরেকটি রাম চড় খাওয়ার জন্য আমি ভয়ে ভয়ে স্যারের কাছে এগিয়ে গেলাম। স্যার এমন ভঙ্গিতে আমার মাথায় আর পিঠে হাত বুলাতে লাগলেন যে আমার চোখে জল এসে গেল। স্যার বিব্রত গলায় বললেন, আমি তোর কাছ থেকে সুন্দর একটা নদীর নাম শুনতে চেয়েছিলাম, আর তুই বললি আড়িয়াল খাঁ। আমার মেজাজটা গেল খারাপ হয়ে। আচ্ছা এখন সুন্দর  একটা নদীর নাম বল। আমি শার্টের হাতায় চোখ মুছতে মুছতে বললাম ময়ুরাক্ষী।
ময়ুরাক্ষী? এই নাম তো শুনিনি। কোথাকার নদী?
জানিনা স্যার।
স্যার হাল্কা গলায় বললেন আচ্ছা থাক, না থাকলে নেই। এটা হচ্ছে তোর নদী। যা, জায়গায় গিয়ে বস। এমনিতেই তোকে স্বাস্তি দিয়ে আমার মনটা খারাপ। তুই তো দেখি কেঁদে কেঁদে আমার মনখারাপটা বাড়াচ্ছিস। আর কাঁদিস না।

আমি ফিরে যাই আমার একান্ত চিলেকোঠায়।

সিঁড়িতে লেগে থাকে অসহায় ভাবে চোখ মুছতে মুছতে বাড়ি চলে যাওয়া অভিমান!

ছেলেবেলার প্রেমিকারা কেমন আছো? চিলেকোঠারা ভালো নেই তোদের ছাড়া। তোমাদের ছাড়া।
তোমরাও কি আমার মতই বড়ো হয়ে গেছো!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমার মানিয়ে নেওয়া অবসরে বেমানান তুমি লিখেছিললে "তুই পাগল করতে পারিস এখনো।"নিজের ভেতরেই আছে অলৌকিক। কখনও কখনও তাকে টের পাওয়া যায়। তাই তুমি একবার স্বপ্নে এক জনহীন প্রান্তুরে দাঁড়িয়ে এক নীল অতি সুন্দর বর্নের উড়ন্ত সিংহকে তোমার নিকটবর্তী হতে দেখে ভয় পেয়েছিলে। অথচ ভয়ের কোনো কারন ছিল না, কেন না সেই সিংহের নীল কেশর, নীল চোখ ও নীল নখ সবই হিংস্রতা শূন্য ছিল। এবং সেই নীলবর্নের সিংহের বাসস্থান ছিল না বলে সে অতি নম্র ভাবে তোমার সামনের ভূমি স্পর্শ করে তোমার কাছে একটি বাসস্থানের সন্ধান জানতে চায়, কেননা তুমি এই পৃথিবীর আইনসম্মত বসবাসকারী।

তুমি নিজেও জানোনা কেন তুমি তাকে উপর্যুপরি গুলি করেছিলে। কেন? সেই গুলির শব্দ শুনে এবং আহত ও ক্রুদ্ধ সেই সিংহ তার ক্ষতস্থান কামড়ে ধরে তোমার দিকেই ফিরে তাকাল। তোমার ঘুম ভেঙ্গে গিয়েছিল। ঘুম থেকে জাগরনের ভেতর চলে আসবার সময় তুমি যখন এক সুক্ষ্ম বাধাকে অতিক্রম করছিলে তখন তোমার এক অংশ জাগ্রত ছিল, অন্য অংশকে ভয়ে আর্তনাদ করতে শুনেছিলে।
স্বকন্ঠের সেই স্বপ্নাবিষ্ট আর্তনাদ আজও তোমার পাপাবোধকে তাড়িত করে। কিংবা একবার স্বপ্নে তুমি তোমার বন্ধু অতীশকে খুন করেছিলে বলে জাগ্রত অবস্থায় তুমি বহুদিন বিমর্ষ ছিলে। তোমার প্রশ্ন এই যে, স্বপ্নেও কেন তুমি হত্যাকারী?

কিংবা আর একদিন, যেদিন তোমার ছিমছাম শূন্য বাড়িতে অনেকদিন পর মনোরমা এসেছিল। সন্ধ্যে হয়ে গেলেও তুমি আলো জ্বালোনি, আধো অন্ধকারেই সুবিধে ছিল তোমার। মনোরমা অনেক্ষন গ্রামাফোন বাজালো, তারপর "ধ্যুত, কিছু ভালো লাগছে না" বলে পিয়ানোর কাছে উঠে গিয়ে জানালার দিকে পিঠ করে বসল। যদিও সে পিয়ানো বাজাতে জানত না, তবুও ওই জায়গাটা ছিল তার প্রিয়, কেননা ওখান থেকে পুরো ঘরটার দিকে না তাকিয়েও তোমাকে দেখা যায়। তুমি তোমার হেলেনো চেয়ারে পড়েছিলে মনোরমার মুখোমুখি। মনোরমা সারাক্ষন দেখছিল তোমাকে-চোখ না খুলেও টের পাচ্ছিলে তুমি। তুমি কেন তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছ তা জানবার কৌতুহল থাকলেও সে কোনো প্রশ্ন না করেই তা জানতে চেয়েছিল। তুমি কি করে তোমার সেদিনকার হৃদয়হীন কথাবার্তা শুরু করবে তা ভেবে পাচ্ছিলে না। কেন না কথা গুলো বলা হয়ে গেলে মনোরমা চলে যাবে-এই যাওয়াটা তাঁর পক্ষে কতটা অপমানকর তা ভেবে মনে মনে বড় কষ্ট পাচ্ছিলে তুমি। তুমি একপলক চোখ খুলে দেখলে সে অন্যমনষ্ক দৃষ্টিতে আলমারীতে সাজানো খেলাধুলোয় পাওয়া তোমার ট্রফিগুলো দেখছে। পরমুহুর্তেই উঠে গেল সে ছায়ার মত বইয়ের র‍্যাকের কাছে, টেলিফোনের কাছে, ড্রেসিং টেবিলের কাছে পরপর দেখা গেল তাকে। আবছা গলা শোনা গেল তাঁর "তুমি কি ভীষন চরিত্রহীন সুমন!" তুমি ভেবে পেলেনা-ও কি করছে। কিন্তু সুযোগ বুঝে তুমি বলতে শুরু করেছিলে ' শোনো মনোরমা...'মনোরমার ছায়াকে আবার পিয়ানোর কাছে দেখা গেল। তুমি আবার বললে, 'শোনো মনোরমা...'  পরমুহুর্তে মাথা নিচু করল মনোরমা, তাঁর ডানহাত কোলের উপর থেকে শাড়ির আঁচল তুলে নিলে তুমি অতর্কিতে বুঝতে পারলে মনোরমা কাঁদছে। তুমি তাড়াতাড়ি উঠতে যাচ্ছিলে, তুমি কিছু বলবার চেষ্টা করছিলে, কিন্তু তাঁর আগেই কান্নার ঝোঁকে ভর রাখতে গিয়েই মনোরমা বাঁ হাত বাড়িয়ে পিয়ানোর এলোমেলো রিডগুলি ছুঁয়ে গেলে তুমি তড়িতদাহের মত স্থির হয়ে গেলে। ধীর গম্ভীর স্বরে সেই পিয়ানো তোমাকে চুপ করতে বলল। তুমি আর একবার উঠবার চেষ্টা করলে। পিয়ানো গর্জন করে উঠল। যেন মনোরমার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করলে ডালা খোলা প্রকান্ড সেই অন্ধকার পিয়ানো তোমার উপর লাফিয়ে পড়বে। তুমি আবার মনরমার স্বর শুনতে পেলে, " সুমন, তুমি চরিত্রহীন-"
স্থলিতকন্ঠে তুমি আবার মনোরমার নাম ধরে ডাকলে। ঠিক সেই সময়ে উঠে দাঁড়াতে গিয়ে ভারসাম্য রক্ষার জন্য মনোরমা আবার পিয়ানোর রিডে হাত রেখেছিল, তাঁর অশিক্ষিত অপটু হাতে পিয়ানো তীব্রভাবে বেজে উঠলে ঘরের সবকিছু প্রান পেয়ে গেল। অর্থহীন শ্বেতপাথরের টেবিল, টেলিফোন, ওয়ার্ডরোব এ সব কিছুই তোমার উপর লাফিয়ে পড়বে-তোমার মনে হল। তীব্র এবং অলৌকিক ভয় থেকে তুমি দেখলে এ ঘরের সব কিছুই মনোরমার। তোমার ট্রফিগুলো, হেলানো চেয়ার, গ্রামাফোন বইয়ের র‍্যাক সবকিছুই মনোরমার, তুমি আগন্তুক মাত্র। মুহুর্তেই হাঁটু গেড়ে এই কথা বলার অলৌকীক ইচ্ছা হয়েছিল তোমার যে "ক্ষমা করো"
তুমি নড়তে পারলে না।
মনোরমা তড়িতগতিতে তাঁর ব্যাগ কুড়িয়ে নিল, তুমি তাঁর আধাভাঙ্গা কথা শুনতে পেলে, "আমি সব জানি, কিন্তু তুমি কখনও বলো না সুমন...বোলো না..."

পিয়ানোর ভেতর অলৌকীক বলে কিছু নেই, কিন্তু কোথাও ছিল সেই ঘরে, অন্ধকারে, তোমার স্পর্শকাতরতার ভেতরে পিয়ানোর সেই অচেনা নোট -মনোরমা না জেনে কয়েক মুহুর্তের জন্যে সেইখানে তার হাত রেখেছিল।



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
একটা অসময়ের খুব দরকার,  যখন চুল এলোমেলো করা হাওয়া সময়ের হিসেব রাখবেনা।  পুরোনো আড্ডা সবই ভেঙ্গে গেছে। বাইরের পৃথিবীটা আর আগের মত নেই। বড্ড পর হয়ে গেছে সব। বেলা গড়িয়ে যায়। রৌদ্রতপ্ত ঘাসে নিবিড় গাছপালায় বনের গন্ধ ঘনিয়ে ওঠে। তাপ মরে আসে। ঘামে ভেজা শরীরে শীতের বাতাস এসে লাগে। বুঝতে পারি ফেরার সময় হল।

হারিয়ে যাব? হঠাত আমাকে ঘিরে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। নিজেকেই প্রশ্ন করি, হারিয়ে যাব? মুন্নি পিছিয়ে পড়ে। তার জুতোয় কাঁকর ঢুকেছে। জুতো খুলে কাঁকরটা বের করছে সে। আমি একটু এগিয়ে গিয়ে দাঁড়াই। পিছু ফিরে দেখি, শূন্য রাস্তার মাঝখানে আমার শিশু মেয়ে একা। ঝাঁকরা চুল মুখের উপর ফেলে উবু হয়ে বসে জুতো পরিষ্কার করছে। দৃশ্যটা থেকে চোখ ফেরাতে পারিনা।
নিশুতিরাতে এসেছিল এক ডাকপিয়ন। আমার সারাজীবনের সব স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে গেছে। বোধহয় আমার আর কোনো চিঠি আসবে না। আমি যেন মোহানার কাছে পৌঁছানো এক নদী, যার স্রোতের আর কোনো ঢল নেই। সামনে মহা সমুদ্র।
আমি মুন্নির জন্য অপেক্ষা করি। কিন্তু আমার দিকে তার কোনো মনোযোগ নেই। আমি একটু হাসি, তারপর এগিয়ে যেতে থাকি। মুন্নি একা আসতে পারবে। আমি যখন থাকবোনা, তখনওতো মুন্নিকে একাই হাঁটতে হবে।


দিনগুলি কেটে যায়। কিন্তু কিভাবে যায় কেউ কি তা জানে? বুকের মাঝে উড়ন্ত প্রজাপতির মত একটুখানি সুখ বা ছোট্ট কাঁটার মত একটুখানি দুঃখ-এ তো থাকবেই। তবু দিন যায়। কথাগুলো থেকেই যায়।
অলক্ষ্যে হাওয়া বন্দুক নামিয়ে পরাজিত এক অচেনা পুরুষ ফিরে যায়। তার লক্ষ্যভেদ হয় না। কোনওদিন আবার সেই বন্দুকবাজ ফিরে আসবে। লক্ষ্যভেদ করার চেষ্টা করবে বারবার। হয়তো লক্ষ্যভেদ করবেও সে। ততদিন পর্যন্ত পৃথিবীর এই রঙ্গীন মেলায় আনন্দিত বাতাস বয়ে যাক এই কথা বলে-ঠিক আছে, সব ঠিক আছে। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমাদের সেই সব সুখের দিন কোথায় গেল? তখন আকাশে কাঁঠালি চাঁপা ফুলের মত চাঁদ উঠতো। জ্যোৎস্না রাতে ছিল আমাদের নদীর ধারে সাদা বালির উপর চড়ুইভাতি। আকাশ তখন কত নিভৃতে নেমে আসতো।

ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন টের পেতুম তুমি এসেছিলে। প্রতিদিন দুহাত ভরে পেতুম নতুন একখানা জগত। তখন রোজ ছিল আমাদের জন্মদিন। কড়াইশুঁটি ছাড়াতে বসলেই ঠাকুরমার মনে পড়ত পূর্বজন্মের কথা। কে না জানে কড়াইশুটির খোলের মধ্যে থাকে আমাদের সব পূর্বজন্মের কাহিনী। সবুজ মুক্তোদানার মত সেই কড়াইশুঁটি ভরে থাকত গল্পে গল্পে। কাঁচের বাটি উপচে পড়ত মুক্তোদানায়। কি সুন্দর যে দেখাত। কি যে বলবো তোমাকে, তার চেয়েও সুন্দর ছিল আমাদের ঠাকুমার ভাঙ্গাচোরা মুখখানা। তখন কারও মরন ছিল না। যে জন্মাত পৃথিবীতে তারই ছিল অমরত্বের বর।
কোথায় গেল সেইসব সুখের দিন?




তখন ফুলের ছিল ফুটবার নেশা। ফলের ছিল ফলবার আকুলতা।  আমাদের বাগান ছিল তাই ভরভরন্ত। একদিন ভোরবেলা আমাদের সাদা খরগোশ গিয়েছিল বাগানে, ফিরলো সবুজ হয়ে। আমরা দৌড়ে বাগানে গিয়ে দেখি পাথরের আসনে বসে আছেন আমাদের এক প্রবৃদ্ধ প্রপিতামহ। পৃথিবীর ধুলোখেলা শেষ করে তিনি চলে গেছেন কবে। আমাদের দেখে বড় মায়া ভরে চেয়ে রইলেন, বললেন কিছু চাইবে?
তখন কি বা চাওয়ার ছিল? তখন প্রতিদিন আমাদের ছোট পাত্র উপচে পড়ত আনন্দে। আর কি চাইব?
আমরা বললুম-আমাদের সবকিছু নতুন রঙে রঙ্গীন করে দাও।

তেমন গল্প আর কখনও শুনিনি আমরা। সে হল এক আকাশ নদীর গল্প, সে নদী সমুদ্রের মত বিশাল। তার প্রবাহ অন্তহীন। তা আকাশের এক অনন্ত থেকে আর এক অনন্তের দিকে চলেগেছে। একদিন দেখতে পাবে সেই উজ্জ্বল নদী। খুব কাছে, তবু অত সহজ নয় তার কাছে যাওয়া।
আমাদের ঘরের কাছেই ছিল পৃথিবীর ছোট্ট নদী। তার তীরে সাদা ধপধপে বালিয়াড়ি। ছিল বালিয়াড়িতে জ্যোতস্না রাতে চড়ুইভাতি। নদী কেমন তা আমরা জানি। তবু সেদিন আকাশ নদীর গল্প শুনে আমাদের জীবনে অল্প একতু দুঃখ এলো।




কে আমাদের পোষা ময়নাকে শিখিয়েছিল বেলা যে যায়। বেলা যায়। ময়না দিনরাত আমাদের ডাকত-ওঠো ওঠো, ভোর হোল, বেলা যে যায়। বলতে বলতে দাড় বেয়ে সার্কাসের খেলুড়ির মত ঘুরপাক খেত। মুক্তি চাইত কি?

আমাদের পথে কোনও দোকান ছিলনা, আমরা কখনও ফেরিওয়ালা দেখিনি। কি ভাবে কেনাকাটা করতে হয় শেখায়নি কেউ। পাটশালার পাশেই ছিল হরিণের চারনভূমি। রোজকার ঘাস খেয়ে বনের হরিনরা ফিরে যেত বনে। সে কি তুমি, রোজ রাতে এসে গোপনে মাঠের ফুরোনো ঘাস আবার পুরন করে দিয়ে যেতে? বুনো হরিণদের কখনও ভয় পেতে দেখিনি। কিন্তু একদিন ফাঁদ নিয়ে এল বাইরের মানুষ। দিনের পর দিন তারা সেইসব মায়া হরিণ ধরতে আসে, ফাঁদ পাতে, আর রোজ শূন্যহাতে ইরে যায়। তারপর তারা একদিন আমাদের বলল-ধরে দাও। হরিণ প্রতি এক মোহর।
আমাদের এই প্রথম পাপ। আমরা প্রত্যেকেই পেয়েছিলাম একটা দুটো মোহর। আর সেই রাতে কে বলতো, আকাশকে ওই অত উঁচুতে উড়িয়ে নিয়ে গেল? আর তো কই কাঁঠালি চাঁপার মত দেখালনা চাঁদকে। হাতের নাগালে ছিল ঝাড়বাতির মত নক্ষত্রেরা। সেদিন থেকে হয়ে গেল ভিনদেশে দিওয়ালির আলো না কি জোনাকি পোকা।
সেই রাতেই দেখলুম চাঁদের বুক জুড়ে বসে আছে এক পেটমোটা মাকড়সা। বহুদুর পর্যন্ত ছড়ানো তার জাল। মোহর পকেটে নিয়ে পরদিন পাঠশালায় গিয়ে দেখি এক বাদামওয়ালা বসে আছে ফটকের ধারে। আমাদের পথে পথে দোকানের সারি গজিয়ে উঠলো। মোহর খরচ হয়ে গেল। পকেটে এল আরও মোহরের লোভ।
সুখের দিন কি গেল আমাদের?

তখনও ভোর বেলাতুমি ঠিক রঙ দিয়ে যেতে চারধারে। প্রতিদিন আমাদের জন্মদিন ছিল। তখনও আমাদের ন্যাংটো হতে লজ্জা ছিল না। কবেযেন আমাদের সঙ্গী এক মেয়ে নদী থেকে উঠে এলো স্নান সেরে। ক্ষমা করো তুমি, বিদ্যুৎ খেলেছিল দেহে। সুখের দিন তুমি কেড়ে নাওনি কিছু। সব ভরে দিতে। প্রতিদিন ছিল তোমার অক্লান্ত ক্ষতিপূরন। কিন্তু সেই থেকে নিলে।

নদীর ধারে ছিল কাশবন, সাদা মেঘ আর নীলাকাশ। ঋতু আসে যায়। ছবির পর ছবি আঁকা হয়। একদিন শরীর ভরে মেঘ করল। মেঘ ডাকল মুহমুর্হ। কাশবনে কিশোরীর চুম্বনের স্বাদ বাটির মত তুমিই কি এগিয়ে দাওনি? দিয়েছিলে। আর সেই সঙ্গে কেড়ে নিলে অন্ন আর জলের স্বাদ। ভোরবেলা চারধারে রোজ রঙ করতে ভুলে যেতে তুমি। উঠে দেখতুম নতুন রঙে পুরোনো পৃথিবী আলো হয়ে আছে। কেন ন্যাংটো হতে লজ্জা এলো? কেন আর দূরগামী ট্রেন রেলপোলে আর নুপুরের মত বাজে না?
একদিন তাই আমরা শীতের শীর্ন নদী হেঁটে পেরিয়ে চলে গেলুম। স্বচ্ছ সরোবর, উপবন তারপর তোমার বাড়ি। দেউড়িতে কেউ পথ আটকালো না। বিস্ময়ভরে দেখি তোমার ঐশ্চর্য্য থরে থরে সাজানো। ছোট্ট একটা বাগানে হাঁটু গেড়ে বসে তুমি আদর করছিলে এক হরিণকে।




আমাদের দিকে তাকিয়ে তুমি দীর্ঘ্যশ্বাস ফেলে উঠে এলে। তুমি বললে এরকমই হয়।
সুখের দিন ছিল আমাদের।
তুমি বড় স্নেহে কাছে এলে। প্রত্যেকের চোখে তুমি রেখেছিলে গভীর দুখানি চোখ। প্রত্যেকের প্রতি আলাদা ভালোবাসা তোমার।
তুমি মাথা নুইয়ে বললে-আমার কিছু করার ছিল না। আমরা বললুম-ফিরিয়ে দাও। তোমার কন্ঠস্বর কোমল হয়ে এলো। তুমি বললে চারণের মাঠে আর হরিনেরা ফিরবে না। মাটির উর্বরতা কিছু কমে যাবে। তবু জেনো, আমি তোমাদেরই আছি।
আমরা বললুম - ফিরিয়ে দাও।
তুমি হাত নাড়লে, মিলিয়ে গেলে তুমি।
সেই থেকে সুখের দিন গেল। এখন তোমার আর আমাদের মাঝে এক আকাশ নদীর তফাৎ।। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সর্ষে ক্ষেতের ভেতর যেদিন, যেসব অসময় আমি আমাকে দিয়ে হাঁটছিলাম, আমাকে জানিয়েছিলো এক গ্রাম…  তুমি পাতা কাঁপানো দুঃখী একটি পাখি!

কবিতার কথা বললেই গ্রামের শ্যাওড়া গাছটির
স্মৃতি চোখে ভাসে।

আহা, সেই অন্ধকার
নামানো গাছ।
শীতের রাতে কুয়াশা বিলির
একমাত্র প্রতিনিধি।

মাথা উচু ডালের
থেকে বেড়িয়ে আসা স্মৃতির বিড়াল। আমি কিচ্ছুই
দেখিনি।

গ্রাম শ্যাওড়া শূন্য হয়েছে জন্মের
কতদিন আগে।
অথচ শীতের সন্ধ্যা হলেই
মনে পড়ে, একটা বুড়ো শ্যাওড়া গাছ
ভেংচি কেটেছিল আমার তরুণী মাকে।

আহা,
শ্যাওড়া গাছ! শীতের ভেজা সন্ধ্যা!

বয়সের ছাপ
কেন পড়েনা স্মৃতি কথায়!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
হঠাৎ দমকা হাওয়া –  বুঝতে না বুঝতে ভিজে গেল পর্দা, ফুলদানির ফুল।  কই , তুমি তো কখনও আমাকে ভেজাতে হঠাৎ চমকে দাও না।  আমি কিন্তু অপেক্ষা করি ৷   আকাশ দেখার স্বপ্ন ছিল মেয়েটার
ছোট থেকেই আকাশে পাখি হয়ে ওড়ার
সাধ ছিল তার
মফঃস্বল থেকে শহরে এলো যেদিন
জীবনে প্রথমবার কলেজ ক্যাম্পাসের
সোনালী রোদ গায়ে এসে পড়েছিল
সে বুঝতে পারল আকাশের অনেক কাছাকাছি আছে
কলেজ ক্যান্টিনে একটা ঝাঁকড়া চুলের ছেলে
একদিন এসে বলল, হাই!
সেই থেকে আলাপ।
তারও নাকি স্বপ্ন আকাশ হওয়ার
মুখে রবীন্দ্রনাথ, দিনবদলের গান,
চোখে একরাশ বিপ্লব, সমাজ বদলের স্বপ্ন…
মফঃস্বলের মেয়ের ঘোর কাটে না
সে ভাবল এই বুঝি তার এক আকাশ
এই আকাশেই ডানা মেলে দেয়া যায় নিশ্চিন্তে
উদ্দাম উড়তে পারা যায় যত্রতত্র
একদিন সন্ধেবেলায় ছেলেটি এসে বলল
‘চল তোকে আজ আকাশ দেখাব আমার ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে’
‘তোর ফ্ল্যাটের ছাদের আকাশ বুঝি আমার থেকে আলাদা?’
খিলখিলিয়ে হেসে সানন্দে রাজি হল সে
শহরের সবচেয়ে উঁচু ফ্ল্যাটের ছাদে নিয়ে গেল তাকে
সেখানে ছেলেটির আরও দুজন বন্ধু অপেক্ষা করছে
তারপর সারারাত
মেয়েটি চিত হয়ে শুয়ে আকাশ দেখল
ভোরবেলা যখন তাকে ছাদ থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিল তিনজন
সে শেষ চেষ্টা করেছিল পাখি হওয়ার
একবার উড়ে আকাশ ছোঁয়ার
পারেনি।
তার বদলে পরদিন খবরের কাগজের
প্রথম পাতার খবর হয়ে গেল
আর পরের কয়েকদিন শহর ভেঙে পড়ল রাস্তায়
মিটিং মিছিল পথ অবরোধ লাঠিচার্জ টিয়ার গ্যাস
রাজনীতির কচকচানি, পোশাকের দোষ, চরিত্রের দোষ
সব দেখা হল
তারপর একসময়
খবরের পাতা জুড়ে এলো আইপিএল
পুজো পার্বণ ইদ মহরম সান্তাক্লজ ভোট ভাষণ
ফেসবুক জুড়ে সেলফি, নতুন পোশাকের বাহারী লাইক!
দামিনী, নির্ভয়া নাকি অন্য কেউ?
কি নাম ছিল তাঁর?
মনে নেই!
আইনের দরজায় দরজায় ঘুরে ক্লান্ত মেয়েটির বাবা
একদিন সেই ছাদ থেকে উড়িয়ে দিল
ধুলো পড়ে যাওয়া সমস্ত খবরের কাগজ
আর লজ্জাহীন এক শহর দেখল
বেঁচে থাকতে যে মেয়েটা পাখি হয়ে আকাশে উড়তে পারেনি
আজ আশ্চর্যরকম খবর হয়ে উড়ছে ভীষণ ভাবে…
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
সমস্ত হারিয়ে ফেলবার মধ্যে এক পাওয়া আছে, সব ফেলে আসবার মধ্যে কিছু নিয়ে আসা আছে, ঠিক বোঝানো যায় না।  এই যে সারা আকাশময় ছড়িয়ে আছে তোমার চোখের জল, আর আমরা বাড়িয়ে দিচ্ছি আমাদের হাত এক প্রাপ্তি ঘটে যাচ্ছে কোথাও …  হ্যারিকেনের মায়াবী আলোয় শুরু হয়েছিল শৈশব। বাড়িতে রেডিও এলো যখন আমার চোদ্দ বছর বয়স। গ্যাসের উনুন, সে এক ইতিহাস। এক জীবনের মধ্যে আমার কয়েকবার জন্মান্তর ঘটে গেলো। টেলিভিষন, মাইক্রোওয়েভ, কম্পিউটারের ঘেরটোপের মধ্যে বসেও কেন যেন ভ্রমবেশে চমকে উঠি, জীবনের কন্ডাক্টর কেউ কি কেবলই চেঁচিয়ে বলছে , পিছনের দিকে বড্ড এগিয়ে গেছেন স্যার।”

আমি আমার চিলেকোঠার জানালা বন্ধ করে রেখেছি সেই কবে থেকেই; কারন কান্নার শব্দ আমার পছন্দ নয়, তবু ধূসর দেওয়ালের আড়াল থেকে কান্না ছাড়া আর কোনো কিছুরই শব্দ শোনা যায়না। আমি দেখতে পাই মাঝরাতে বাড়ির পাশের পিচঢালা রাস্তাগুলো একে একে নদী হয়ে যাচ্ছে; সেই নদীর ঢেউ গুলো আছড়ে পড়ে আমার শৈশবের চিলেকোঠায়; আমি নেমে পড়ি নদীতে; দেখতে পাই আমাদের স্কুলের হেডমাস্টার অচিন্ত্যবাবু পাথরের মূর্তি থেকে নেমে এসে হেঁটে বেড়াচ্ছেন স্কুলের মাঠে।

“আমি ছেড়ে যাবো একদিন – আমার চেয়ার থেকে নিঃশব্দে উঠে, একদিন
আমি অদ্ভুত নির্বাসনে চলে যাবো; গ্রীষ্মের দুপুরে
কুকুরগুলো ঝিমোতে ঝিমোতে অতীতের কথা ভাবে; আমি জানি না
জানি না আমি, অর্থহীন বারান্দা
শুধু শুধুই জেগে উঠে আমার বুকের ভেতর; হায়, জীবন
আর কিছুই মনে পড়ে না আমার; আমার আর কিছুই মনে পড়ে না...”

আমার মনখারাপ করে অকারনে। ঘুমেরা উড়ে যায় পরিযায়ী পাখি হয়ে দূর পাড়া থেকে আরো দূর বেপাড়ায়; দেখি, একফালি ধানের অজুহাতে খুনসুটি করছে চড়ুই, অচেনা চোখের কোনে জল; আমি খুঁজে বেড়াই আমার না পাওয়া চিঠি। রানারের ঝুমঝুম ঘন্টা বাজা তো সেই কবেই থেমে গেছে; আমি আমার উত্তরের জানালা খুলে দিই, এক দমকা হাওয়া ফিসফিসিয়ে বলে এখনো সময় হয় নি, আমি অপেক্ষা করি, আমাকে পেতেই হবে সেই চিঠি। ভালোবাসা ভরাট করে তোমার শহরে সন্ধ্যে আসে, পৃথিবীর হৃদয় রোমন্থন করে আকাঙ্খার পরিবার পাড়ি দেয় তোমার শহরে; আলোয় লুটোপুটি খায় গোপন স্বপ্নেরা; পৃথিবী ছিদ্র করে বৃষ্টি নামে তোমার শহরে; আমি ভিজলে শুধু আমিই ভিজি, কিন্তু তুমি ভিজলে পুরো শহর ভিজে যায়।

“কেরোসিনের গন্ধে, আবার মনে পড়লো তোমাদের অন্ধকার উঠোন,
কোথায় ট্রেন চলে যাচ্ছে দূরে, আর এই সন্ধ্যেবেলা
আমি একা একা বসে আছি; চেয়ে দেখছি
আমার জানালা, আস্তে আস্তে খুলে যাচ্ছে দু’দিকে,
তোমাদের কাপড়কাচা শেষ হয়েছে এখন?
অনেক বছরের পর, আরও অনেক বছর কীরকম পার হয়ে গেলো,
মনে পড়ছে আজ তোমাদের সাদা বিড়াল ছানাটার কথা, মনে পড়ছে
তোমাদের হাসি, চোখের জল আর তোমাদের।”

দিগন্তে আজও কেউ ঢেউ বুনে যাচ্ছে বিষাদে, প্রবালের পাশে সেই নির্জনতা, নির্বাসনে মেঘ; উপকুলে ক্লান্ত সে নাবিক খুঁজে যায় ফেরার ঠিকানা, পথ ভুল করে ফিরে যায় সুন্দর, কোথা যায় জানা যায় না কিছুতেই। ভারি অচেনা লাগে, মনে হয় পরাজিত, মনে হয় ফতুর! মনে হয় হরতনে নিবেদিত গোলাম, সমুদ্র অচেনা লাগে...একটা ঢেউ কুল পেতে তার কতদিন লাগে?

“ হে ভুতের বাড়ি, তুমি কার জন্যে দাঁড়িয়ে রয়েছো?
কেউ আর আসবে না, কোনোদিন, আসবে না কেঊ।
হে নদী, একলা নদী, একা একা কোথায় চলেছো?
আমি আরো একা, তুমি সঙ্গে নেবে পুজোর ছুটিতে?
হে প্রিয় শহর, তুমি কেন চিঠি লিখোনা প্রত্যহ?
একা একা একা একা কেঁপে উঠি মানুষের দেশে...”

এই সব চিরচেনা দৃশ্যবলি কিছুই দেখবনা আর, ঝুলবারান্দার টবে ফুলের কোলাহল, পাশেরর বাড়ির ছাদ আর সেই ছাদে দাঁড়িয়ে থাকা কিশোরী, আটপৌরে জীবনের সমস্ত বিষন্নতা ঠোঁটে করে উড়ে যায় বিষন্ন চিল; ওর কাছে জমা রাখি আমার জমা খরচ আর পাপ পূন্যের হিসেব; বুঝতে পারি খরচের খাতাটা বড্ড বেশি ভারি, জমা খরচের হিসেব মেলেনা কিছুতেই, কিন্তু এ হিসেব তো মেলবার কথা! ক্রস চেক করি জমার খাতা, দেখতে পাই পাতার এক কোনে লেগে আছে কয়েক ফোঁটা চোখের জল; জমা খরচ সব মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়...
ধিরে ধিরে নদীগুলো আবার পিচঢালা রাস্তা হয়ে যায়, অচিন্ত্যবাবু চশমা হাতে ফিরে যান মাঠ ছেড়ে পাথরের মূর্তিতে; আমার মনে পড়ে যায় রঞ্জিনীর কথা। অচিন্ত্যবাবু সেদিনই শিখিয়েছিলেন ভরের নিত্যতা সূত্র, আমি রঞ্জিনীকে বলেছিলাম আমার আপেল খেতে একদমই ভালোলাগেনা; রঞ্জিনী রেগে গিয়ে বলেছিল সে কারনেই ও আপেল গাছ হবে।

“ সত্যি কি কেউ কষ্ট পায় কারুর জন্য? এই চাপা কান্নার পৃথিবীতে
আমি তোমার সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাই।
ভালো করেছো, তুমি নখ আর মুখোশ থেকে সরে গেছো।
তোমার দুচোখের জল হয়তো এখন নিমন্ত্রন করছে মুক্তোকে;
তুমি বেঁচে আছো না মরে গেছো? আদৌ যদি
বেঁচে থাকো, বন্ধু আমার, তুমি কোনোদিন আর ফিরে এসোনা বাড়িতে।”

আমার জানা নেই রঞ্জিনী আপেল গাছ হতে পেরেছে কি না; ট্রাফিক সিগন্যালের লাল আলো আমায় দেখে হাত নাড়ে, আমার বিদায়ী হাত নাড়া দেখে ওরা চোখ বড় বড় করে তাকায়, বুঝতে পারি আমাকে সাথে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে ওদের নেই; টেবিল ল্যাম্পের সরলরেখায় আমি আঁকতে বসি ময়ুরাক্ষী নদীর গতিপথ, নদি যে আমায় কোনোদিন ফেরায়নি।।
“ শেষ হল সময়, এবং আমার জীবন।
তেমন কিছু আফশোষ নেই আর।
যদিও দু’চারটে সামান্য কাজ বাকি ছিলো-
যেমন ও পাড়ার সন্ত্রস্ত ছেলেটিকে
একটু ভরসা দিয়ে আসা – ‘ ভয় কিসের?’
যেমন চিঠি লেখা নতুন বন্ধুকে
‘ভুতের বাড়িতে , বেড়াতে আসুন একিদিন।”

কবিতা-ভাস্কর চক্রবর্তী
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
শেষ বিকেলে শীতের চাদর গায়ে বসে আছে বিষণ্ণ সূর্য  তাকে একটা ঝিলের গল্প শোনাব বলতেই  আকাশে খুশির আভা ;  আমার গল্পে একটা দুঃখী বালিহাঁসও আছে,  বালিহাঁসের গল্প শুনে সূর্যের ম্লান চোখ থেকে  অন্ধকার ঝরে পড়লো ।  প্রেম" আর "ভালোবাসার" মধ্যে একটা সুক্ষ পার্থক্য আছে।যেমন কোনো কাঠের রাস্তা যতক্ষণ "সাঁকো",সে ততক্ষণ একটা ছবি।সেটা যেই না "ব্রিজ" হল,অমনি কেমন যেন প্রয়োজন হয়ে গেল...

আমি তাই প্রেমের গল্প লিখতে পারিনা।কদিন আগে একবার চেষ্টা করেছিলাম।একটা ছেলে এলো,একটা মেয়ে এলো,কলেজ এলো,কলেজের সাথে নিয়ম মেনে ক্যান্টিন,তার সাথে নিয়ম মেনে গিটার,সিগারেট,হাত ধরা,এলো চুল,নীল আকাশ...গল্প শেষ হওয়ার পরে দেখলাম পুরো পৃষ্ঠাটা একগাদা নিয়ম হয়ে গেছে।বিরক্তি তে সবকিছু ছিঁড়ে ফেললাম।তারপর মনে হল,এটাও তো একটা অভ্যেস!

আমি মাঝে মাঝেই গল্প লেখার সময় এক একটা বিরাট স্ট্যানজা ধরে ঘচাং করে কেটে দেই।তারপর জায়গাটাকে একটা বর্ডার দিয়ে ঘিরে আলাদা করে ফেলি।আজ ভাবলাম নিয়ম ভাঙবো,তাই খাঁচার দরজাটা খুলে দিলাম।সাথে সাথে একঝাঁক শব্দ একসঙ্গে ফুড়ুৎ করে উড়ে গেল।তারপর তাদের সে কি হুটোপুটি!একটা "কেন" ধাক্কা দিল "তোমাকে"র গায়ে।সে ছিটকে এসে ধাক্কা দিল "আদর" কে-এরা আমার বাতিল অনুভুতি।এদের কোনো নিয়ম নেই কারন এরা বাতিল;বা হয়তো নিয়ম নেই বলেই বাতিল!

সে আজ থেকে দু-তিন বছর আগের কথা।একদিন এমন কয়েকটা বাতিল শব্দ,একমুঠো বৃষ্টি,তিনটে গাছের ছায়া আর একটা পোড়া দেশলাই দিয়ে আমি ঝালমুড়ি বানিয়েছিলাম।সঙ্গীতা ঝালমুড়ি খেতে খুব ভালোবাসত বলে।
সঙ্গীতা-আমার কলেজের প্রেমিকা।

এই লাইনটা লেখার পর আমি আরো এক দোকান ঝালমুড়ি লিখতে পারি।কিন্তু ভাঙ্গা প্রেম নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করলে লোকে হয় "ফ্রাসট্রেটেড" বলবে,নয় "আঁতেল" বলবে।তাই থেমে গেলাম।ট্যাগ জিনিসটায় আমার বরাবরের ভয়!সঙ্গীতা যতদিন আমার কেউ ছিলনা,ততদিন আমার সব ছিল,যেই "প্রেমিকা" ট্যাগ লাগালাম,ক'দিন বাদেই মেয়েটা কেমন যেন ফুরিয়ে গেল...

আমিও কি ফুরাইনি বলো!কি লিখছি এসব ছাইপাশ?পোড়া দেশলাই কাঠি কেউ কোনোদিন বাক্সে ভরে রাখে বলে জানা নেই।পোড়া গল্প তবে রাখবে কেন?আর রাখেও যদি,তারা তো আমার বাক্সবন্দি অনুভুতি!গল্প হল কৈ?

সব সালা নিয়ম...সব!আমার বাথরুমে গান শুনতে শুনতে মাথা দোলানো নিয়ম,ফ্রেঞ্চকাট দাড়ি রেখে বারবার নিজেকে আয়নায় দেখা নিয়ম,প্রেম করা নিয়ম,প্রেম ভাঙা নিয়ম।এসব তো তোমরাও করেছ,করনি,বলো?তুমি-আমি তবে স্পেশাল হলাম কোথায়?

আমি হলপ করে বলতে পারি জীবনের প্রথম সিগারেট খেয়ে তুমি খুব কেশেছিলে,নীল চুড়িদারের অ্যাটেনশন পাওয়ার জন্যে হেয়ারস্টাইল পাল্টেছিলে,সাইকেল চালিয়ে স্কুল থেকে ফেরার সময় নিজেকে সুপারম্যান ভেবেছিলে,প্রথমদিন বড় হওয়ার পর কুলকুল করে ঘেমেছিলে-দেখো আমি সব জানি।কারন তুমি নিয়মে থাকতে বাধ্য।হাত-পা বাঁধা,আমার মত।


বেনিয়মে চলত আমাদের পুরোনো বাড়ির ছাদের অ্যান্টেনা।আর সেই কাকটা যে তার মাথায় বসবে।কাকটা জানত না ওর দু-ফুট উপর দিয়ে খতরনাক ইলেকট্রিক তার চলে গেছে।আর অ্যান্টেনাও জানত না যে,সে আর দু ফুট লম্বা হলে তার প্রেমিক মারা যেত।


আর একজন ছিল।বৌ।আমার পাড়ার এক ঠাকুমা।আমি ডাকতাম "বৌ" আর বৌ আমায় ডাকত "সোয়ামি"।বছর তিনেক আগে বৌয়ের একটা অ্যাকসিডেন্ট হল।বৌয়ের কথা বলার ক্ষমতা চলে গেল,সর্বাঙ্গ প্যারালাইজড হয়ে গেল।আমার বৌ নিয়মের বাইরে চলে গেল।

ক'দিন আগে বৌকে দেখতে গেছি।তখন বিকেলবেলা।বৌ খাটে শোয়া,মাথার বালিশের পাশে একগাদা সাদা ট্যাবলেট,তার পরে একটা জানলা,বৌয়ের পায়ের কাছে আমি।বোকার মত জিজ্ঞেস করলাম,

"কেমন আছো বৌ?আমি তোমার সোয়ামি গো!"

ঘোলাটে চোখ দিয়ে বৌ বেশ কিছুক্ষন ধরে আমায় চিনল।তারপর কিছুক্ষন ঠোঁট কাঁপালো।হয়তো কিছু বলার জন্য।আর তারপর...হাসতে শুরু করল।পাগলের মত হাসি!চোখ দিয়ে জল ঝরছে,হাসির চোটে গোটা খাট থরথর করে কাঁপছে,বৌয়ের হাসি আর থামেনা।

সেদিন আমি অনুভব করেছিলাম,নিয়মের বাইরে বেরোতে হলে পরিহাস করতে জানতে হয়।হাসো...শুধু হাসো।প্রেম জাহান্নমে যাক,গল্পের শেষ জাহান্নমে যাক,সাঁকো জাহান্নমে যাক...

আমরা,অপদার্থরা শুধু ওই অনুভবটুকুই করতে পারি।নিয়মের মধ্যে থেকে অনিয়ম মাপা খুব সহজ!আসল কষ্ট জানে আমার বৌ,যার কান্না পেলেও হাসতে হয়...আর জানে সেই অ্যান্টেনা,যার দু ফুট উপরে এখন একটা মরা কাক ঝুলে আছে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
একপশলা বৃষ্টি খেয়ে বেড়াতে বেরুলো ছটফটে কিশোরী নদীটি, সামনে অনন্ত কিংবা দিগন্ত থাকার কথা ছিলো, অথচ কিছুটা গিয়ে দেখি কানাগলি।।আমাকে একটি কথা দাও, যা আকাশের মত সহজ মহৎ বিশাল, গভীর;
মলিন ইতিহাসের অন্তর ধুয়ে চেনা হাতের মতন,
আমি যাকে আবহমান কাল ধরে ভালোবেসে এসেছি সেই নারীর।
সেই রাত্রির নক্ষত্রালোকিত নিবিড় বাতাসের মতো।”

এই ক্ষনস্থায়ী জীবনের অনুভুতি কতই না বিচিত্র। মলিন কবিতাগুলো রঙ্গিন করে দেবো, কতজন কত কথা দিল, অথচ দিনের শেষে সবার উপর বোষ্টুমি অথবা বরুনা নয়তো নদের আলির প্রেতাত্মা ভর করলো। তুমি কি জানো কেন বৃষ্টি নামে প্রতিরাতে? তুমি বললে ভূগোল আমার বিষয় নয়। ভ্রু কুঁচকিয়ে তাকালে দূরে , আর তখনই বৃষ্টি নামলো আমার শহরে।

স্বপ্নডানায় ভর করে উড়ে চলা এ জীবন, তবুও সকলের অগোচরে কোনো এক অজানা পিছুটানে থেমে যেতে মন চায়; জানো বকুল একদিন ঠিক হেঁটে যাবো সেই রাঙ্গামাটির পথে খালিপায়ে; তোমার আঁকড়ে ধরা হাতে রাখবো হাত, তারপর সেই তেপান্তরের মাঠে সবুজ গাছের গালিচায় শুয়ে থাকা পাশাপাশি, আর আকাশের ক্যানভাসে উড়ে যাওয়া ধবল বক দেখে উল্লাসিত তোমার সেই ডাক ‘পাগল’। এমন একটা শ্বাস আর ডাকের জন্য জীবনটা বড্ড বেশি বোহেমিয়ান হয়ে গেলো।

জানিস বকুল,
গ্রীষ্মের দুপুরে ক্লান্ত পথিকের মত যখন
অনামিকার দ্বারে এসে এক গ্লাস জল চেয়েছিলাম তখন
ঝড়ের কবলে পড়া নৌকার মাঝির মত অনামিকা
মাটির গ্লাসে করে জল এনে দিয়েছিলে,
সাথে দিয়েছিলে উওপবাস ভাঙা দুটো বাতাসা।
অচেনে পথে চলতে চলতে তখন নিজের কাছেই অচেনা,
তবুও অনামিকা আমার বহুদিনের চেনা পরিচিত।
চেনে স্বর নিয়ে যখন সে জিজ্ঞেস করেছিল
‘পথিক তোমার বাড়ি কোথায়? যাচ্ছো কোথায় ?’
আমি উত্তর দিতে পারিনি;
আমি তাকে বলতে পারিনি
পথিকের বাড়ি হয় না, গন্তব্য হয়না;
উত্তরে শুধু বলেছিলাম ‘জানিনা।‘
দিগন্ত খোঁজা চোখ নিয়ে হতবাক হয়ে চেয়েছিল অনামিকা। তারপর
চোখ নামি
য়ে বলেছিল “ দু’মুঠো চিড়ে আর জল দিলেম, পথে খেয়ে নিও।”
দু’পা এগোতে পিছু ডেকে বলেছিল “ফেরার পথে পারলে আবার এসো।”
আরপর বহুদিন হয়ে গেছে...
অনামিকা হয়তো এতোদিনে বুঝেগেছে
পথিকের কোনো বাড়ি হয়না, পিছুটান হয় না, গন্তব্য হয়না, আর
ফিরে আসা বলে কিছু হয় না।।

জানিস বকুল, এক এক দিনের রং এক এক রকম; এক এক দিনের ঘ্রান এক একরকম; এক একদিনের স্পর্শ এক একরকম; জীবন যদি হয় নানা রকম দিনের মেলা, তবে তার থেকে আমি বাদ দেব সমস্ত ছাই রঙা ফুল। শুভ্রতার দিগন্ত মাড়িয়ে একদিন তুমি এসো আমার ছোট ঘরে; আমার আছে জল, আমার আছে ছায়া আর আমার চোখে আছে প্রতীক্ষা। একদিন ভুল করেই না হয় এসে দেখে যেও কেউ একজন দিনরাতকে তুচ্ছ করে বেঁচে থাকে শুধুই অকারনে।

তবুও নিরবতার খুব কাছে গিয়ে প্রশ্ন করি, ভিতরে এত তোলপাড় কিসের তোমার? কখনও ভালোবেসেছিলে কাউকে? অথবা বিষাদ হয়ে জানালা ঘেঁসে দাঁড়িয়েছিল কেউ? তুমি যাকে আকাশ ভেবে দিগন্তরেখায় মিশিয়েছিলে সেটা আসলে পাহাড় ছিল।

জানো বকুল, আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় তোমায় এক পাহাড়ের গল্প বলি; এক অদ্ভুত নির্বাসিত পাহাড় আর এক একলা গাছের গল্প। আমার খুব ইচ্ছে করে ওই পাহাড়টাকে জিজ্ঞেস করি ওর এই নির্বাসন কিসের! ওর কি ইচ্ছে করে না সেই গাছটির কাছে ফিরে যেতে? আজ আবার স্বপ্নে দেখলাম সেই অদ্ভুত নিঃসঙ্গ পাহাড় ধীরে ধীরে সূর্যাস্তের শেষ রক্তিম আভাটুকু শুষে নিচ্ছে। আজও স্বপ্নের সন্ধানে বেরোবেন ঈশ্বর; মাঝরাতে তারার গুঁড়োর মত ঝরে পড়ে লাল নীল স্বপ্নেরা, একমুঠো স্বপ্ন কুড়িয়ে নিয়ে বুকপকেটে ভরে নিই; তারপর ফিরে যাই পাহাড়ের কাছে, বলি “ হে মহান পাহাড়, এবার তোমার নির্বাসন জীবনের শেষ হোক, তুমি ফিরে যাও তোমার ওই একলা গাছের কাছে, আর হ্যাঁ, কোনোদিন আর আমার স্বপ্নে এসো না।”

জানিস বকুল, আমাদের স্বপ্নগুলো কষ্টগুলো ঠিক আমাদের মতই অদ্ভুত। কত ছোটো ছোটো করনেই আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়, আবার কিছু কষ্টগুলোকে ইচ্ছে করেই মনের এককোনে রেখেদিই খুব যত্ন করে। আমার অনেক দিনের ইচ্ছে একটা নদী কেনার, নদীর নামটাও ঠিক করে রেখেছি- ময়ুরাক্ষী; সেই নদী আমার আজো কেনা হয় নি। আজ মাথার চুলো দু’একটা রুপোলী ঝিলিক দেখলাম, বুঝতে পারছি বুড়ো হয়ে যাচ্ছি, সেই ময়ুরাক্ষী নদী আমার কোনোদিন কেনা হবে না। এমন দু’একটা ইচ্ছে পূরন না হওয়াই ভালো।
জ্বরের দুপুরে চোখে নেমে এলো এক অদ্ভুত স্বপ্ন, ভয়ার্ত ভয়ংকর!
একটা পাতলা চাদর গায়ে ল্যাপটপের পাশে বালিশ পেতে
ঘুমিয়ে ছিল আমার ভাবনা,
কিন্তু বড় অশান্ত ছটফটে লাল চোখে ভেবে চলেছিল এক গল্পের পট;
হঠাৎ সেক্ষনে অনধিকার প্রবেশ জটিলতার, আর তারপরেই
ভারী বাতাসে বয়ে চলা কিছু আপত্তিকর জলছবির ঝলক।
আমার কুঁকড়ে থাকা মন আবার চমকে ওঠে,
মায়ের গলা শুনি “কখন এলি?”
সিড়ির উপরের চিলেকোঠার ঘরে মৃত মানুষের প্রতিবিম্ব
নাড়িয়ে দেয় আমার সিক্সথ সেন্স কে।
ধড়ফড় করা ধমণী নাড়িয়ে দেয় আমার ভাবনা কে।
ঘর্মাক্ত শরীরে অসম্ভব ক্লান্তি বুজিয়ে দেয় চোখের পাতা...
স্বপ্ন তুমি এসেছিলে কি??

হেটে গেছি অবিরাম;পৃথিবীর ভুল অরণ্যে পথ খুঁজে পাইনি তবু। দিকভ্রান্ত দ্বিধাগ্রস্ত দাঁড়িয়েছি একা বিদঘুটে অন্ধকারে, যে অন্ধকার আকাশের নক্ষত্র চুরি হয়ে গেছে...!
বুকের ভেতর অভিমানের জমাট বরফ, এত ভুল মানুষ কড়া নেড়ে গেছে সময়ের দরজায়।
প্রমত্ততা! এত বিভ্রান্তি ছড়িয়ে আছে মনুষ্য সমাজে;রূপের নেশা কেটে গেলে প্রান্তরের জলাশয়ে জল পাইনি তৃষ্ণায়!
বকুল, মানুষের চেয়ে একা কোন দৃষ্টান্ত নেই পৃথিবীতে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আহ!এ সড়কে কোথাও  কোন জীবন নেই তবু শরতের সন্ধ্যা আসে....আমি যখন আকাশ হয়ে যাবো
তোর ঘরের পশ্চিমের জানালাটা দিয়ে যখন একফালি মিষ্টি রোদ এসে পরবে,
তখন জানবি, সেই রোদ্দুরটাই হবে আমার চিঠি!
আর রাতের বেলায় তোর বাড়ির সামনের সাদা বেলী ফুলের গাছটায় যখন শিশির জমবে,
জানবি, সেই শিশিরটাই হবে আমার চিঠি!
আর তোর মনে আছে, আমরা যে কলেজের সবুজ মাঠে কানামাছি খেলতাম!
সেখানে গোধূলি বেলায় দাঁড়ালে দেখবি, একটা দমকা হাওয়া তোর শরীরে আনন্দের ঢেউ বইয়ে দিচ্ছে।
জানবি, সেই দমকা হাওয়াই হবে আমার চিঠি!
আর হ্যাঁ, ময়না পাখিটার কথাতো ভুলেই গেলাম!
সকাল বেলা তোকে না দেখে ময়না পাখিটা যে ময়না, ময়না বলে ডেকে তোকে অস্থির করে দেবে,
জানবি, সেই অস্থির করা ডাকটাই আমার চিঠি!
সেখানে তোদের সব্বার কথা লেখা থাকবে।
আচ্ছা বেশ, তোর কাছেই না হয় প্রথম চিঠিটা লিখবো।
লিখবো--
আমার প্রিয় কবিতা......
আশা করি তুই ভাল আছিস। তোর কথা খুব মনে পরছে। আমি যেখানেই থাকি আমার শুভ কামনা তোর সাথেই আছে। তাই আমাকে কথা দিতে হবে যে তুই ভাল থাকবি। আমার কথা একদম ভাববিনা। কারন, আমি যেখানেই থাকি তুইতো আমার সাথেই আছিস তাইনা?
খুব রাগ হচ্ছেতো? ঠিক আছে আর কিছু বলবনা,তুই ভাল থাকিস।
ইতি,
তোর কুড়িয়ে পাওয়া চিঠি।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমিও তো একদিন এরকমই কোনও এক বাড়ির ভিতরে বারবার ঢুকতে চেয়েছি, শুধু সময় পেরিয়ে গেছে বলেই তুলসীমঞ্চে প্রণাম পড়েনি, নতুন বউয়ের শাঁখে ফুটে ওঠে অন্য কোনও ঈশ্বরের নাম...কালো চশমার ভেতর দিয়ে আমি কালচে শহরটাকে দেখি।
তোর্সার বন্যায় সেবার কোমর জল উঠেছিল মিশনারি হাইস্কুলে। কিন্তু বন্যার  কথা থাক বন্ধুগন। বরং বলি, মেদিনিপুরের আকাশে বাতাসে আজও মালবিকা রায়ে'র ডান গালের আঁচিলটা উড়ে উড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে পড়ি।
শীতের সকালে এক রূপমুগ্ধ বালক এই ইস্কুলের পাশের মাঠে কুয়াশা জড়ানো অদ্ভুত সকালে কেডস পায়ে দৌড়াতে আসতো। আর দৌড়াতে দৌড়াতে সে সেই আধো ভেজা গাছের গন্ধমাখা আলো আঁধারে কি করে যেন জিন পরীদের রাজ্যে চলে যেতে পারতো।

একটা বয়সের পর সে আবার এসে শরীরের ভার নিয়ে বসে আছে সাগরদিঘীর পাড়ে।
রোদে উত্তপ্ত কাঠের বেঞ্চ, সেই পুরোনো। তবুও সে নয়।

এইতো কাছেই মালবিকাদের বাড়ি। কোন লতায়-পাতায় আত্মীয়তা ছিল বলে তাদের বাড়িতে যেতাম গল্পের বই আনতে। মালবিকা কোনোদিনও কথা বলে নি। তার ডানগালে এক আশ্চর্য্য আঁচিল ছিল, কত নির্জনে, একাকিত্বে সেই আঁচিলটার কথা ভেবেছি। সে এখনও আমার স্মৃতিতে কিশোরীই রয়ে গেছে, কেননা আর কখনও দেখা হয়নি। যাব একবার? চেনা দিলে ঠিক চিনবে, বলব তখন লজ্জায় যা বলতে পারিনি, আজ বলতে এসেছি। আমার সমস্ত শৈশব হারিয়ে গেছে। তুমি সেটা আমাকে অল্প একটু ফিরিয়ে দেবে?
হিসেব করে বুঝতে পারি-বোকা! বেঁচে থাকলে তারও এখন না হোক পঁচিশের উপর বয়স। এতদিনে সে কি কুমারী হয়ে বসে আছে! আপনমনে একটু হাসি।

বন্ধুগন, বন্ধুগন, আজ বুঝতে পারি সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর কিছুই নেই।
সব পুরোনো মাঠ প্রান্তর হারিয়ে গেছে। চেনা যায়গার সব চিহ্ন মুছে নিয়ে গেছে এক অদৃশ্য বান। শৈশবে যেমন আলো দেখেছি, অন্ধকার দেখেছি, তার আর কিছুই অবশিষ্ঠ নেই। বুড়ি নদী, তুমি আর কী ভাসিয়ে নিয়ে গেছ?
নদী উত্তর দেয়, "পাগল ছেলে, যা, ঘরে ফিরে যা। একদিন সব ফিরিয়ে দেব। তখন বলবি এত জঞ্জাল কোথা থেকে এলো।"

দুপুর বেলায় যখন বাস স্টপেজে নামছি, তখনও পেছন থেকে কে যেন কোমর জড়িয়ে ধরে টেনে বলে, নামছিস কেন? এই বাসটাই তোকে কাটিহারে নিয়ে যাবে। একবার দেখবিনা সেই মাদার গাছটা? যেখানে সেই আশ্চর্য্য কোকিল ডেকেছিল একবার। চলো যাই।
আমি মাথা নেড়ে বললাম, না থাক।হয়তো সেই মাদার গাছটা আর নেই।
আমি সেই আমার নাছোড়বান্দা আমিকে মিনতি করে বলি-না থাক। ওই একটা যায়গায় আমার আর কোনোওদিন না যাওয়াই ভাল। গেলেই চিরকালের মত যায়গাটা হারিয়ে যাবে।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates