• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
কোনো একদিন দেখা হবে বন্ধু, বৃষ্টিতে ভিজব খুব একসাথে কোনো একদিন ভুলে যাওয়া রাস্তারা, পথ দেখাবে হাত রেখে তোর এই হাতে।
১।
আমার যাদুর ঝাঁপি, আমার জমানো পুঁজিপাটা
তাতে আর কিছু নেই, আছে শুধু মায়াবীমুকুর
আমার সে আর্শিটা চিরতরে তোমাকে দিলাম
এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো
...




২।
আমি জানি, এসব বলার মত এখনও ছোঁয়নি এসে শীত
ঝরেছে যে সব পাতা এখনও তাদের রঙ ধূসরের চিহ্নরহিত
শিকড়ে বাড়িয়ে হাত তারা শুধু জল চেয়েছিল
এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে, এক তিলও
অবসর নেই আর তোর বা আমার – কী করে মেলবো ডানা দখিনা হাওয়ায়
তবু যদি সময়ের থেকে কিছু দূরে গিয়ে আজ একবার বসে থাকা যায়...




৩।
আসলে যে ছেলেটা মরে গিয়েছিলো কিছুদিন আগে
জবানবন্দী তার  লেখা হয় নাই,
বিশ্বাস করেছে সেও দখিনা হাওয়ায়
মেনে নিয়েছিলো, এভাবেও বেঁচে থাকা যায়
প্রতি দিন, অষ্ট প্রহর
এবং রাতের শেষে ভোর, প্রতি দিন নিয়মিত আসে
অটুট বিশ্বাস ছিলো তার – দখিনা বাতাসে
তবুও সে মরেছিলো
মরেছিলো, মরে যেতে হয়
মরে যাওয়া, অর্থাৎ জীবনের অপচয় করেছিলো
সুতরাং হিসেবী ছিলো না বলা চলে
তলে তলে কী যে ভেবেছিলো সে খবর নেওয়া যায় যদি
ধরা যাক, স্বীকারোক্তি, মৃত্যুকালীন।




৪।
গহন কিছু ইচ্ছে করে -
এক সমুদ্র জংলা ঘাসের মধ্যে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে এক সমুদ্র অন্ধকারে
ঝলসে নেবো যে সম্পর্ক, তার কি কোন নাম দেওয়া যায় অর্থবহ
খাতায় লিখে?
এক শালিখে আটকে গেছি। অন্যটাকেও দেখতে পাবো খানিক পরে
তেমনটা আর হচ্ছে কোথায়? শিকড় এত আলগা হল - ভালই বোধ হয়
ভরসা রাখা অস্থাবরে... এই বাজারে..




৫।
জানো - ওদিকে অনভ্যাসে আয়নাতে জমে থাকে মরচের দাগ
রুমালে জমেছে সন্দেহ
বুকপকেটের ভাঁজে চক্রান্তের গন্ধ পাই
এমনকি ঝোড়ো হাওয়া
সেও বুঝি থেমে যায় অন্ধকার রাতে
রাতের কথায় মনে হল – স্বপ্ন দেখেছি
আহা, স্বপ্ন দেখেছি কাল রাতে
স্বপ্নের কথা থাক, স্বপ্নেরা থাক অগোচরে
বরং অন্য কথা বলো।




৬।
কোনদিন দেখা হয়ে যাবে
যেমন মেলার ভিড়ে চোখে পড়ে যায় চেনা মুখ, সেইভাবে
ভদ্রতার হাসি, অমায়িক
হয়তো বা মুখোমুখি নয়, বেশ দূরে, তবু ঠিক
পাশাপাশি বসা যেন, কিছু কথা বড় আলগোছে
সময় কত কি মোছে
খাড়াই অন্ধকারে নিষ্প্রভ পাহাড়ের দাগ
খুনসুটি, ভালোবাসা, আদর – সোহাগ
নদীতে জোয়ার ছিলো, এখন ভাঙ্গন।




৭।
আমাদের নিরালা উঠোনে ঝাঁকড়াচুলের একটাই গাছ
পাগলের মত নির্বাক হিংসে করবে শুধু - কথা ছিল
নতুন গুড়ের ঘ্রাণ ঠোঁট ছুয়ে মিশে যাবে কানের লতিতে
সূর্যাস্তের আগে দীর্ঘ গোধূলি জুড়ে আমাদেরই ছায়া
ক্রমশঃ আবছা হবে আমাদেরই নিভৃত সড়কে।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

হন্তারক গুলিবিদ্ধ হিস্পানি প্রান্তরে পড়ে-থাকা
লোর্কা, তাঁর কবিতার পঙ্‌ক্তিমালা স্তব্ধ মধ্যরাতে
মাথার ভেতরে ডালিমের দানার মতন লাল,
হল্‌দে চকোলেট,
ফিরোজা, বেগুনি গুঞ্জরণ; যেন কেউ কী বিভোর
বাজিয়ে চলেছে এক চন্দ্রিল সিস্ফনি
সত্তা জুড়ে; জানালার কাছে যাই, একটি ব্যাকুল গাছ হাত
বাড়ায় আমার দিকে, বুঝি সখ্য দিতে চায় এই
প্রীতির কাঙালটিকে। মশারির ভেতরে গৃহিণী
ঘুমে কাদা, তার মৃদু নিঃশ্বাস পতনে অতীতের
তরুণীর শরীরের দিলরুবা আর মরূদ্যানের হাওয়ার
ধ্বনি, ঠোঁটে কিছু
স্বপ্নকণা ঝরে, ব্লাউজের বেড়া টপকিয়ে বের
হয়ে আসে স্বপ্নভ্রষ্টতায়
যমজ চাঁদের মতো স্তন, ওর খোলা চুল নিয়ে
খেলা করি, সৌন্দর্য এসেছে যেন ফিরে বেখবর অবয়বে।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।





রক্তভেজা হিস্পানি প্রান্তর থেকে উঠে
তিনি, লোর্কা, চলেছেন হেঁটে একা দেশদেশান্তরে
দুয়েন্দোর ঘূর্ণিনাচে। মুখের ভেতর থেকে তাঁর
কেবলি বেরিয়ে আসে রঙিন বুদ্বুদ
অবিরত, যায়
দিগন্তের দিকে বাধাবন্ধহীন। ফুটন্তে জিপসি
রমণীর নৃত্যপর ঘাগরা এবং অগ্নি গোলকের মতো
ষাঁড়, বুকে গোলাপ-প্রোথিত মাতাদোর, বৃষ্টিপায়ী
স্তব্ধ ঠোঁটে মৃত্যুর প্রসূন, কাসিদার
স্মৃতি নিয়ে চলেছেন হেঁটে বড় একা।




যদি কাল ভোরবেলা আমার চোখের পাতা দুটো
পাখির গুটিয়ে-রাখা ডানার মতন
হয়ে যায়, যদি মৃত্যু আমার সত্তার তন্তুজালে
সকালে ফলিয়ে যায় নিরুত্তর হিম, তবে আমি
রোদ্দুরের রেণুমাখা ডুমুর গাছের পাতা, ডালে দোল-খাওয়া
পাখি দেখব না আর; এবং যেসব
কবিতার, দর্শনের বই কিনে সাজিয়ে রেখেছি
থরে থরে বুক-শেলফে, সেগুলো হবে না পড়া আর
কোনো দিন, যার মুখ বার বার দেখেও মেটে না
দৃষ্টি-তৃষ্ণা, তার
মুখশ্রী অদৃশ্য হবে আবছায়া হয়ে চিরদিনকার মতো।

রাত আড়াইটা বাজে, চৌকিদার হেঁকে যায় কখনো-সখনো,
ঘুম কি আসবে আজ? আমার চিন্তার
গা বেয়ে ক্রমশ নামে মাকড়সা, অষ্টবক্র মুণি,
তীরবিদ্ধ দুলদুল, কবরের মাটি-চেরা হাত, বৃষ্টিধারা,
আমার চিন্তার মোহনায় সদ্যমৃতা
সিমোন দ্য বোভোয়া দাঁড়ান, অস্তরাগে মুখ তাঁর
জরাকে তাচ্ছিল্য করে অপরূপ দীপান্বিতা, যেন
তাঁকে কোনো শহরতলিতে
দেখেছি কখনো হেঁটে যেতে চুপিসারে, টুপি-পরা
ক্ষেতে জংধরা কিছু রাইফেল পড়ে আছে কংকালের মতো,
দীর্ঘ ঘাসে ঢাকা হরিণেরা সবুজ রঙের ত্বক পেয়ে যায়,
ডান দিকে কবর খুঁড়ছে কারা ক্রমাগত এবং বাঁদিকে
কণ্ঠে এনে সমুদ্র কল্লোল কী প্রবল
গান গেয়ে হেঁটে যান পল রবসন।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments




যখন তোর সাথে আমার তুমুল ঝগড়া চলে --
তুই অফিস থেকে ফিরে, মাথার মধ্যে হলকা আগুন,
বেশ কয়েকটা কবিতা লিখে, আমি ব'সে আছি একরাশ
মনখারাপ নিয়ে...
দু'- চারটে সাংসারিক কথার পর চড়তে থাকে গলা।
ঘরের দেয়ালগুলো কাঁপতে থাকে ভয়ে --
যখন তোর সাথে আমার তুমুল ঝগড়া চলে,
হয়তো, তুই রাগের চোটে একটানে খুলিস মাথায় সাজানো
চুলের ক্লিপ,
আর ছুঁড়ে ফেলে দিস তাকে বিছানার ওপর !
আমিও হয়তো দারুণ রেগে চশমা দিই ছুঁড়ে ওই বিছানায়...
ঠিক যেসময় আমাদের তুমুল ঝগড়া চলে,
বিছানায় নিশ্চিন্তে তোর ক্লিপ আমার চশমা তখন নতুন
প্রেমের গল্প লিখতে ব্যস্ত --
স্বার্থপরের মতন !




Share
Tweet
Pin
Share
No comments

হৃদয় অরণ্য শ্রাবণ ধারায় ভেসে যায় প্রতি রাতে,
টুপটাপ শব্দের মোহে রচিত যে পংতিমালা
জন্মের আগেই মৃত্যুমুখে পতিত হয় বলে;
কদম বিলাসী হয়ে ওঠেনা ভাবুক, খেয়ালি মন।




ডায়েরীর পাতাগুলো হাহাকার করে
প্রতিনিয়ত শূণ্যতাকে উপজীব্য করে,
বেচেঁ থাকে, বাচঁবে বলেই………………
শুভ্র কিংবা সাদাই থেকে যায় সারাক্ষণ,
ভয়ংকর একাকীত্ব গ্রাস করে চারপাশ;
কালির আচঁরে আকাঁ হয়না কারো স্কেচ।




বর্ষণ হয় চারিপাশে, হৃদে….. নয়নে
সবুজ আভা ফুটে ওয়ে অবনী জুড়ে
প্রেয়সীর হাসিতে নতুন মহাকাব্য রচিত হয়;
এই শ্রাবনে,
কারো কারো ভগ্ন হৃদয় কাটিয়ে উঠতে চায় শোক,
অথবা
অশ্রুবিলাসী কেউ চোখ মোছে,
পেছনে রেখে যায় শূণ্য ডায়েরীটাকে
ঘুট ঘুটে অন্ধকারে রাত্রিবাস, হয়ে শ্রাবণ সঙ্গী
ভিজব শ্রাবন ধারায়…..ভিজব আমি,
কেন জানি;
বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ।




Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমি ভিজলে আমিই ভিজি কিন্তু তুমি ভিজলে শহর ভিজে যায়।।



বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি, আমি দেখি
শান্ত বাড়ি ফিরে যাওয়া মেয়েটির মুখ, একভিড় বাসের মধ্যে একা মুখে শতাব্দীর বেদনা
একটি শান্ত রাস্তা বেঁকে গেছে, মুখ নয়, মুখের ছায়ায় দেখছি ভারতবর্ষ
মৃত্যু নয়, জীবনের মধ্যে দেখছি সাবধানী চোখের সন্ত্রাসের কান্না
রাস্তার উপরে পড়ে থাকা একটি বাচ্চা, তাকে টপকে যাচ্ছে আশাবাদ
আগুনের উপর দিয়ে, চুনমাখা মুখে
ভবিষ্যতের দিকে লাফ মারছে আমাদের ধর্ম
ঘরের দেওয়ালে দেওয়ালে আলপনা, ছেঁড়া জামা, স্বাধীনতার বিষাদ
আমাদের শহুরে গাড়ির ভিতর দিয়ে আমরা
লালমাটির গন্ধের কাছে শুঁকে দেখছি:
হাসির সবুজ রং, নীল রং, আর বেগুনী দুঃখের ভারে নুয়ে থাকা শালুক ফুল
আকাশের দিকে সর্বস্ব দিয়ে জলের উপর অপেক্ষা করছে পদ্মপাতা
আমি শীতের বিকেলে গঙ্গার ঘাটের দিকে চলে যাই
কী এর রহস্য নিয়ে নেমে গেছে আশ্চর্য সিঁড়ি
জলের উপর নেমে গেছে আমাদের জীবন
আমরা ফিরে আসছি, ফিরে আসতে আসতে ভুলে যাচ্ছি সেই সব হাসি
সেই সব আশ্চর্য বাচ্চারা, — যারা আমাদের দিকে এগিয়ে দিয়েছিল
কয়েকশো, কয়েকলক্ষ বছরের দীর্ঘনিঃশ্বাস



আমরা ফিরে আসছি, ফিরে আসতে আসতে জড়িয়ে ধরছি আমাদের মৃত্যুভয়
চাকার ধুলোয় সর্বাঙ্গ ভরে গেছে আমাদের স্মৃতির
বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি, — আমি জানি সুজান
আমি জানি তার সঙ্গে অন্ধের বিশ্বাস নিয়ে ছুটে যেতে হবে
জানি কোথাও শান্তি অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য
আর ভুলে যাচ্ছি আমাদের কথা ছিল অন্যকিছু
রেললাইনের ওপারে আমাদের ঘর,- আমরা জলের উপর দিয়ে
হাঁটতে পারি না, আমরা নৌকা নিয়ে ভেসে পড়তে পারি না ।যীশুর কাছে
আমাদের একটি আঙুল আগুন, একটি বিষ, একটিতে অবিশ্বাস
আর আমাদের শহর, — আমাদের থমথমে টেবল, মেপে নেওয়া মুখ
কথার ভিতর দিয়ে কথার দিকে এগিয়ে দেওয়া ছুরি
ছুরির ভিতর অসংখ্য গলিপথ
মৃত্যুর ভিতরেও জমে থাকা আমাদের নগরকীর্তন
— শান্ত হচ্ছে না কোনওকিছুই, –নিভে যাচ্ছে না কোনও মোমবাতি
আমাদের বিশ্বাসগুলো ভাঙা বাল্বের মতো ছড়িয়ে পড়েছে
নার্সিংহোমের ভিতর ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখ
হাসপাতালের ভিতর দিয়ে ছুট্টে ছুট্টে যাওয়া মৃতের স্ট্রেচারের পাশে
সন্ধ্যার আলোর ভিতরে জন্ম নিচ্ছে ছোট ছোট বাচ্চাদের মুখ
ছুরি কাঁচির উপর দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে আমরা ক্রমশ ভালোবাসতে শিখছি
ওহ কোহেন ভালোবাসার শেষের দিকে আমাদের নাচ
কালু ডোমের ঘাট থেকে ভাসিয়ে দিয়েছি আমাদের প্রদীপ
পুড়তে থাকা চিতার গন্ধ নিয়ে সেই সব প্রদীপ
তোমার দিকে যাচ্ছে না সুজান
তোমার দিকে যাচ্ছে না পুরুলিয়া
আমাদের প্রার্থনা
নোনা সমুদ্রের কাছে আরও নোনা শব্দে শুনছি পাড় ভেঙে এগিয়ে আসছে
অচেনা নৌকো, যার আরোহীর মুখের রঙ শীত




Share
Tweet
Pin
Share
No comments


আদর করিসনি অনেকদিন হলো
আজকাল বৃষ্টি দেখতে দেখতে নোনতা জলে গা গরম
হয়।
সকালের পোড়া বাসি রুটি ,
রোজকার রোজগার।
বাড়তে থাকা জ্বরে থার্মোমিটার ডোবালেই
আমার চোখে পারদ বাড়তে থাকে।
ভাগ্যিস সংখ্যা ছিল ,ছিল শূন্য ম্যাথামেটিক্সের পাতায় পাতায়
প্রবলেম ছিল আছে থাকবে।
সল্ভড ও আসবে,
কিন্তু শূন্য বুকের বায়ুমন্ডলে জমতে থাকা নিকোটিন
অপ্রয়োজনীয় হবে না কখনো।
শূন্য শূন্য শূন্য রিং ছেড়ে উড়ে যাবে সুপার জেট মাঝ
আকাশে।
শব্দ হবে প্রচন্ড জোরে।
আরো জোরে মাথার ভিতর আগামী রাত
জানলার বাইরে খোলা আকাশ থাকবে।
কিন্তু সেই জেট তেপান্তরে ,হয়তো আরো দূরে
তোর সালোয়ারের নীল ওড়না উড়িয়ে যাবে।
আদর করিসনি অনেকদিন হলো
আজকাল বৃষ্টি দেখতে দেখতে জলের ফোঁটাগুলো
বন্য হয়ে যায়।
অফিস ফেরৎ বাসেদের জানলায় দাঁড়িয়ে থাকে চোখ
রোজ স্টপেজ আসে স্টপেজ যায়।
কিন্তু বুকের স্টপেজে বাড়তে থাকা স্যাকারিনে
বারংবার ফুল স্টপ ,ফুল স্টপ ,ফুল স্টপ।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কার প্রতীক্ষায় আছো হে আমার দুঃখী শব্দাবলি
আমার ভেতরে নিশিদিন অগণিত শিশু
পাঠশালা যায় আসে, বানায় রঙিন স্বপ্ন কবিতার বই
নিপুণ বাঁধাই জরিমোড়া।
নিশিদিন আমার ভেতরে শব্দ নিয়ে লুফোলুফি হয়
কৌতুক জলসায় মাতে গ্রাম্যবধূরা লোকালয়ে
পারিনি তাদের আমি পরাতে এখনো
সুনিপুণ পোশাকআশাক, পারিনি দোলাতে আজও
কর্ণমূলে লোভনীয় কোনো মণিহার।
কার প্রতীক্ষায় কাটে বেলা? আমার আকাশে ফোটে
অগণিত জ্বলজ্বলে তারা, ওঠে চাঁদ মধ্যরজনীতে
কী ব্যাকুল দেয় ঢেলে বিপুল জ্যোৎস্না ঘরময়
কুয়াশায় ভিজে বুক নাভিমূলে কোমল-কোমল পেলবতা
আড়ষ্ট কপোলজোড় ভেজায় আদরে
পারিনি বুলাতে আজও শিয়রে তাদের
কোনোদিন মোমের আঙুল।
বলো, কার প্রতীক্ষায় হে আমার শব্দাবলি গনগনে
জাগ্রত শিশুর কান্না শুনে কাটাও রজনী অবিশ্রাম?
ভেতরে আমার নিশিদিন পদধ্বনি বেজে ওঠে কার
কার নিত্য আগমন আমাকে ভুলিয়ে রেখে বেশ
নিয়মিত ঘর-গেরস্থালি সাজায় আহ্লাদে
বলো, কার প্রতীক্ষায় আছো
হে আমার দুঃখী শব্দাবলি ঘুমহীন?
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কবিতারা আজ হাঁটবে না
সংবাদ পত্রিকার কলাম শোকাহত
ডিকশনারির শব্দগুলো ভাসছে ক্ষরণ প্রবাহে
তুমি নেই বলে...
কথা ছিলো তোমার কাঁধের ছুলিতে ওরা
হেঁটে যাবে আরো বহুদূর...
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া কিংবা সীমানা পেরিয়ে!
বলেছিলে তো নিশ্চয়ই,
আজ ওরা অভিমানে ডুকরে ওঠেছে
তুমি নেই বলে...
শহরে কংক্রিটের কান্নার আওয়াজে
খসে পড়ছে একটি একটি করে ইমারত
পথিকের পায়েচলা পথ অবরুদ্ধ
হঠাৎ দুর্যোগে ভেঙে যাচ্ছে জনতার পাঁজরের হাড়
তুমি নেই বলে...
ফেসবুকের স্ট্যাটাস ভুতুড়ে আওয়াজ তুলছে
আজ কাউকে বøক করে দিব
তারা আর খুঁজে খুঁজে কারো জন্মদিন কিংবা মৃত্যুদিন
স্বরণ করিয়ে দেবে না নিরালস ভঙ্গিতে
তুমি নেই বলে...
সেলফে তুলে রাখা বইগুলো আহত
খাটের পাশে সাইডবক্সে, ডাইনিংয়ে পড়ে থাকা
অসমাপ্ত শব্দেরা আছড়ে পড়ছে
বাতাস ভারি হয়ে যাচ্ছে বাহাদুরের করুণ মিঁউ শব্দে
তুমি নেই বলে...
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
রাতের কাছে আছে আমার পূর্বজন্মের দায়!

একদিন দিনের কাছে একটা দিন ধার চেয়েছিলাম নিজের কাছে রাখবো বলে। কিন্তু দিন, দিনমান দিনের পিছে ঘুরে বলে আমাকে দিতে পারেনি কিছু। তাই বৃথা মনোরথে পথের ধারে বসার ক্ষণে অভিসম্পাত ছুঁড়ি বাতাসে যেন তার গায়ে গিয়ে বিঁধে! বোকারূপি হাসি ফোটে ঠোঁটের কোণে। সব পাবার খানিক তৃপ্তিতে হাঁটা ধরি পথ; বাড়ির পথ!

একদিন একটা দিন আমাকে দিনের সময়টুকু একান্ত করে দেবে বলে বের করে নিয়ে এসেছিলো তার ঘর থেকে। কিন্তু দিনমান অপেক্ষারূপী ক্লান্তি নিয়ে ফিরেছিলাম ঘরে। দিনের কাছে কিছু পাইনি বলে তাকে আনমনে নাম দিয়েছিলাম ব্যস্ততম দিন। তাই অদ্য তার কাছে কিছু চাওয়ার খতিয়ানটা তুলে রেখেছি সিন্দুকে জন্মের মতো করে। যার মুখে ঝুলে পড়ছে এক বিশালাকার তালা; খুলবার নয় মোটেও!

তাই দিনের কাছে চাওয়ার কালে একটা দিন চুপিসারে বলেছিলো কোন এক রাতের কথা। যার বুকে জ্বলজ্বল আঁকা দিনের ধ্বংসাবশেষ। চাঁদ বলে নাম দেয় যাকে আর সবে। আমিও তাকে চিনেছি অদ্য।

আমার দিনগুলো দিন থেকে রাতে যায়। আমিও যাই তার পিছু পিছু। বিশ্বেস করো, এ আমার আরাধ্য রাত। দিনের সবটুকু উষ্ণতা জড়ানো রাত। কাছে এসে কাছে ডাকার রাত!
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
আমি চলে যাবো
পড়ন্ত বিকেলের এই রোদ ছেড়ে।
এই পুকুর, মাছ, মাছরাঙা,
আম, জাম, গাব আর
সুপুরীগাছ গুলোও পড়ে থাকবে।

পুকুরের জলে তখনও বিকেলের রোদ এসে খেলা করবে, আর
খুঁজবে আমাকে।
আমারও খুব মনখারাপ করবে।
তবুও বনচাড়ালের পাতারা নেচে চলবে
তার নিজের খেয়ালে।




পৃথিবীর আর পাঁচটা কাজকর্মও
একই থাকবে।
জামরুল গাছে জামরুল হবে, আর
পাখিরা খাবে এবং নষ্ঠ হবে।
কেউ আর উঠবে না জামরুল গাছে।

জামরুল গাছ, তোমার মনখারাপ হবে?




Share
Tweet
Pin
Share
No comments
ছায়াপথ পেরিয়ে গ্রহ নক্ষত্র পেরিয়ে পৃথিবীতে এসে থমকে দাঁড়ালো আলো— একটি সবুজ পাতা ফ্রক বদলাচ্ছে।বিচ্ছিন্নতা কখনই দ্বীপের মত হতে পারে না। দ্বীপের চারপাশে জল থাকে...সেখানে নৌকো ভাসানোর স্বপ্ন থাকে। হারিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে, পেরিয়ে যাওয়ার বিশ্বাস থাকে...
জানিস প্রিয়তি, ধীরে ধীরে আমার নদীটার জল কালো হয়ে যাচ্ছে। তবুও তুই যখন নদীটার পাশে এসে দাঁড়াস, তোর চোখটা আগের থেকেও বেশি নীল লাগে।

জানিস প্রিয়তি, সবুজ পাতারা কাঁদলে বোঝা যায়না, বোঝা যায় যখন ঝরাপাতারা ভিজে থাকে। আমার পাতাগুলো ধীরে ধীরে ঝরে গেছে। প্রিয়তি, তুই কল্পতরু নোস, তবুও সবাই তোর কাছে চায়, সে রুটি হোক বা শরীর। তোকে আমি একটা উদ্ভিদ বলেই ভাবি। তোরও আলো চাই, জল চাই, দাঁড়িয়ে থাকার জন্য একটু মাটি চাই...
ঠিকানার সাথে আড়ি করে মেঠো পথে আমাদের হাতে ধরা দেয়নি চাঁদ। প্রিয়তি, আমাদের আজও পথভোলা পথিক হওয়া হলোনা।
মাঠের ধারে মেহগিনি গাছটা অনেকটা বড় হয়ে গেছে। চোখেই পড়েনি, ওর মাথাটা আজ আর হাত দিয়ে ছোঁয়া যায়না। গোলপোস্ট গুলো আজও একই জায়গায় রয়েছে, শুধু পোস্টের জালগুলো আজ ছেঁড়া।



আমার মনে পড়ে – আমি যখন বিশের কোঠায়,তখন গ্রীষ্মের শেষের পুরনো চাঁদ, কানের দুলে
পাথরের রূপ নিয়েছে , বাতাস এল চাঁদের থেকেআর সহসা আক্রান্ত হল বৃক্ষরাজি,এবং একটি পাতা ঘুরতে ঘুরতে ঝরার সময়ে পথ খুঁজলো। লণ্ঠনের মৃদু আলোর মধ্য দিয়ে বহুদূরের গাঢ় কৃষ্ণ নিসর্গ-জোর করে প্রবেশ করলো সিদ্ধান্তহীন শহরের ভিতর।
নিরুদ্দেশ হয়ো না… মুহূর্তেই নিরুদ্দেশ হতে পারো তাহলে শতক শতক পেরিয়ে আমাদের দেখা হবে কেমন করে? তোমার দ্বৈত কারো কি পৃথিবীতে থাকা সম্ভব কিংবা আমার সত্তার? আমি বৈকাল হ্রদের গভীরে ডুবে গিয়ে অন্য কোথাও ফোঁস করে ভেসে উঠতে চাই, মিসিসিপিতে নয় কেন,আমার দারুণ ভালোবাসার এই মহাবিশ্বে আমি নিঃসঙ্গ আগাছা হয়ে থাকতে চাই।




দুই তিন অথবা আরও বেশি দিন ধরে যারা বসে আছে পৃথিবীর তাপে তাপে,
ট্রেনে ঝাকুনির গতিময় দূরে - শেষরাতে বৃষ্টির অপেক্ষায় ; যারা জেনেছে ,
ঝড়-বৃষ্টি কিম্বা সে সব প্লাবনের গল্প -- নূহের নৌকা -- জোড়ায় জোড়ায় প্রাণীসকল -- প্লাবন প্লাবন ;
প্লাবনের শেষে ছড়িয়ে ছিটিয়ে জগতময় সিঁড়িপথে মাকড়সার জালে পতঙ্গের আজন্ম আতঙ্কে...

এমন এক মাকড়সার জালের ছবি আঁকতে আঁকতে আমার সমস্ত আষাঢ়ের দুপুর।

জানিস, এখন আমার একমাত্র সঙ্গী নৈ:শব্দ, আমার সাথে কথা বলে, কষ্ট পেলে আমাকে ভোলায়, বলে এবার তাহলে "একলা একলা পথ চলা"। আমি তো কোনদিন বন্ধুত্বের দাবী রাখিনি,
শুধু রাত্রির কাছে চেয়েছিলাম - একটা সুন্দর ঘুম আর পরিযায়ী পাখিদের কাছে একটা রঙীন স্বপ্ন; তবু কেন উচ্ছাসের নদী শুধু একটানা বয়ে যায় দু-পাড়ের ছায়াছবি স্থির-নির্বাক হয়ে যায় ?
 আর আমি, এখনও ঘড়ির কাঁটার লেজ ধরে প্রাণহীন চর হয়ে পড়ে আছি তার অপেক্ষায়। বুঝলাম হারিয়ে যাওয়া কোন কিছুই ফিরে আসে না, শরীরের নিঃশ্বাসের মতো হারিয়ে যায় চিরতরে। আজ আমার কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা নেই, সবই সয়, উচ্ছাসে ভরা প্রানোজ্জল তোমার লেখাগুলোর জন্যেও নয় । কে জানে বিকেলের কাছে ঝলসে যাওয়া দুপুরের কান্না তোমার ছোঁয়ায় কাগুজে নৌকায় ভেসে আসবে কিনা আমার কাছে ...




শুয়ে শুয়ে তাই ভাবি - সময় মানেই এগিয়ে চলা, পাহাড় যেমন মিশে যায় নীলে দুই বাহু প্রসারিত করে,
দুর্গম খাদ বেয়ে যেমন গড়িয়ে নামে উন্মত্ত ঝর্না রূপের অঝোর ধারায় আমার সবকিছু তছনচ করে;
জানিস পাগলী, সেই ঝর্ণার বুকের মাঝে আছে একটা কষ্ট জমা পাথর, সময়ের সাথে একদিন রাশি রাশি বালিকণা হয়ে ভেঙে পড়বে তোর চোখের কোনে, তখন নাহয় ফেলে দিস ঠিকানা না রেখে ।
আজ শহরের নির্জন রাস্তায় হাঁটছে আমার সব ভুল মনের অন্তর্বাস ছুঁয়ে আছে জমে থাকা যত জল,
প্রতিটি অঙ্গে আজ শুধু অপেক্ষা -- দূরের বিলাসী, হে মহিয়সী, আমি যে তার সুদুরের পিয়াসী।
জানি সব শেষ হয়ে গেছে অথবা হয়নি শুরু কিছু, জীবনের নিরর্থকতা প্রেমহীন থেকে অর্থবহ হয় শুধু; তবু তহবিলে গচ্ছিত রাখি সব স্মৃতি, বিদগ্ধ জোনাক --কালো রাত শেষ, আবার শুরু হবে নতুন প্রেমের সকাল ।




Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কোলাহলে কিংবা নির্জনে, নৈঃশব্দে কিংবা গর্জনে, স্বপ্নে কিংবা জাগরণে, প্রলয়ে কিংবা সৃজনে, খুঁজি ফিরি নিজেকে একান্ত আমার আমি-কে। নীল জলের টানে দিগন্তের দিকে ঝুঁকে পড়েছিস তুই। জীবন ধেয়ে বেড়ায় তোমাকে আর আমায়। অতঃপর কিছু রঙ নিয়ন্ত্রনে রাখা হয়নি গাছেদের নিজস্ব ক্যানভাসে। নরম আলোর বৃত্তে আমরা পরস্পর ছায়া এবং দৃশ্যাবলি... বৃত্তের বাইরে আছি আমরা, চালাঘর আর রংচটা চায়ের কাপ, চুমুর জায়গায় চুমুক রেখে পোড়ামাটির জীবনশৈলী লিখে রাখি সেরামিক্সের কথকথায়।
ট্রেন চলে গেছে ছেড়ে। ফিরে আসবেনা আর বৃষ্টির মরসুমে। কেউ ফিরে যায় বাস্তবে আর কেউ ওয়েটিংরুমে। চশমার ফাঁকে কবেকার জল, আজও থেকে গেছে একা। নদীতে গাছের ছায়া,
শেওলা পড়া পাঁচিল… সব ছিল একা, তোর মত একা।

ঢের ভাল ছিল আমার বিষণ্ণতা… বিষ বুকে এখন আমি স্বপ্নের মত বোকা… নীলের আভায় রক্ত মাখিয়ে রোজ ছবি আঁকি মানুষের ভীড়ে। ভাঙ্গা পাঁচিল,শকুন,অন্ধকার আর তার মাঝখানে আমি রঙহীন-একা। এর চেয়ে ঢের ভাল ছিল তোর মত বিষণ্ণতা।
আসবে যত পাতার কথাও - কে কখন চেয়েছিলো শীতের কবিতা - বলেছিলো - কথা দাও-
আজও সে কথামালা আছে তোলা অবাক খাতার 'পরে - আজ আবার হয়তো হবে খোলা।
হয়তো হবেনা - আহা - না ঝর্ণা - না বর্ষাবেলা - পদচিহ্নময় বাংলার রূপোলি খেলা - খেলা ফেলে চলে যাওয়ার নৌকো জীবনে ফেরেনা। নোঙরের দাগ পড়ে রয় ঘাটে - তবু সে অচেনা।



দেখি - ঝকঝকে সব মুখ - চকচকে স্নানঘর - অর্ধচেনা - অর্ধজানা - আশপাশের নতুন কলস্বর।
ওই মুখ, ওই ঘরদোর আমাদেরই পাড়ায় ছিলো -
আগে তা তেমন করে নজর পড়েনি - আজ হঠাত পড়লো। এইমাত্র রাস্তায় দেখা নতুন মুখকে মনে করে - হয়তো কবিতা হবে - কিংবা গল্প। পাতারা রাখবে ধরে।

রাতের অন্ধকারেও নাকি লুকিয়ে থাকে কিছু গল্প। আমি তাই চোখ মেলে অন্ধকারের উপস্থিতি মেপে অপেক্ষায় আছি। দাও, তোমার গল্পের কিছু প্রান, তা দিয়েই আমি রচনা করবো অসহায় আত্নসমপর্ণে হারিয়ে যাওয়া কোন গানের শেষ দু'লাইন।
একঝাঁক মানুষের মধ্যে খুব একা হয়েছিলাম আজ বিকেলেই। শেষ বিকালের সূর্যটা কারন। এই রকম সূর্যাস্তের কাছে গেলে মন যে কেমন করে।
একটা ছোট্ট মেয়ে বালিতে গড়াগড়ি দিচ্ছিল। আমি প্রজাপতির মত সেই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। জীবনের সুখগুলো ওর ফ্রকের ভাজে ভাজে দোল খাচ্ছিল। অস্ত যাওয়া সুর্যের আলোতে
ওকে কি দারুণ যে দেখাচ্ছিল। ডিজিটাল ক্যামেরার ক্লিক এ সেই বিকেলের সূর্যটা আমার
কাছে বন্দী হলো।
এক রাশ কলকাকলির মধ্যে দাঁড়িয়ে আমার নিজস্বতায় সূর্যকে আমার মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিলাম।
কি আশ্চর্য এক অনুভব, এখানের অস্ত যাওয়াটা সূর্যটা ওখানে মায়ের চোখে আলো দিচ্ছে।

কেউ চলে যাবে,হয়তো কেউ- অনেক কাছে থেকেই ভুলে যাবে। তবু ধরে রাখতে ইচ্ছে করে,
তবু পাশে থাকতে ইচ্ছে করে… রাশি, রাশি গল্প বলা রাত- হয়তো একদিন ভোর হবে,
জানি আর কখনোই ফিরবে না সেই রাতের-ই টানে।
আমার এই ছোট শহরে যারা ছিল-সবাই আছে, এখনো পদ্যে খুঁজি,গদ্যে আঁকি, ভুল করে হলেও তোমাতে হারাই। একলা ঘর,কিছু পুরনো স্মৃতি এলোমেলো তোমার প্রিয় বই- একলা জ্বলা মোমবাতি,



ধুলো জমা সেই গিটারে- বিষাদী সূর বাজে।
এখনো আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি পড়ে, এখনো আমি ভিজি…

বৃষ্টির শহরে বিষন্ন বিকেলের রঙ পালটে দিয়েছিল সে চায়ের টেবিল। লুচি-ডালের অদ্ভূতুরে সময়ের আড্ডাবাজি আর গতিপথে উড়ে আসা সহস্র বৃষ্টিকণার 
ভেতর পূণর্বার জেগে উঠা অতীত দিনের বিচ্ছিন্ন সব সুরের আকস্মিক খোঁজ। 
আমাদের বেঁচে থাকা জলমগ্ন দুঃস্বপ্নের মত অথচ বৃষ্টি জল ফেরায় নিখোজ হয়ে যাওয়া মগ্নতার দিন। মায়ের আচলের সেই সে ওম। মাকড়শার জালের ভেতর থেকে কবিতা বুনার আশ্চর্য সব সূত্র আর 




পৃথিবীর কোথাও দুঃখরা থাকে, তা অস্বীকার করার দীপ্ত সাহস। 
অথচ তুমি আমি ভালো করেই জানি, শহরের দুঃখভার অধিক হলে বৃষ্টিরা নামে, মেঘেরা ধারণ করে গভীর যত কালো। 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
যদি কোন দিন তোমার সময় হয় তবে ঘুরে যেও আমার পৃথিবীটা , দেখে যেও এখনও সাজিয়ে রেখেছি আমার পৃথিবী তোমার স্মৃতি গুলো দিয়েই । যেখানে এখনও কোন স্পর্শ লাগে নি । বদলে দেয় নি আমার পৃথিবী কেউ ।

আবার জীবন পেলে দেখাতাম কাশ ভাঙা ঢেউ।
বেরঙ দেওয়ালে চাপা পড়ে গেছে জীবনের সোঁত...
আবার কখনও যদি হয়ে আসি আমি আরও কেউ,
তোমায় দেখাবো ফের পরিশেষে বড় হয়ে ওঠা!




শুকনো শিরায় জল কেঁদে যায় সারারাত ভর
টুপটাপ করে আয়ু খসে গেছে সন্ধ্যার মত,
মরে যাওয়া খোয়াইটা আজও কি রেখেছে বালুচর
জলের স্মৃতিরা আজও ঘুরে মরে বুকে অবিরত?




যদিও দেওয়ালে চাপা পড়ে গেছে জীবনের সোঁতা...
আমায় বরং কালো বেদনার মত মনে রেখো,
তোমায় দেখাবো ফের পরিশেষে বড় হয়ে ওঠা!
আমিই নাহয় যাই...
প্রিয়তমা, তবু তুমি থেকো......!



Share
Tweet
Pin
Share
No comments


তোমার হলদে জানলা খুলে রেখো-
পৃথিবীর অনেক আমোদে রোদ মেখে গায়ে
আমি প্রবাসী হয়ে আসবো, মুখোমুখি
তোমার চোখ ভরে দিয়ে যাবো একান্ত পলাতক গল্প।
শোনাব গল্প, পথের চঞ্চল দোতলা বাসগুলোর
যে বাসগুলো থামবে বলেও থামেনি কোন স্টপেজে
যেগুলোতে ঘুরে ফিরে বড্ড দুলনি হয়। বাম্পারে বাম্পারে ঝাঁকি লাগে-
আর আমার শ্বাসকষ্টে জড়িয়ে আসে মুখভর্তি বিষন্ন শব্দ-
এর মাঝে, মাঝে মাঝেই রাতের যৌবনে
ঠিক সাড়ে বারোটায় নিরপেক্ষ চায়ের দোকানে
চার মেইল হেঁটে আসা পায়ের শব্দ মিলিয়ে যাওয়ার আগেই
এক কাঁপ চা খাওয়া হতো-
এ গল্পও
আমি বলে দেবো,
শুধু আমার জন্য পথ চেয়ে
তোমার হলদে জানলা খুলে রেখো-
আমি প্রবাসী হয়ে
মাইলের পর মাইলে হেঁটে এসে বলে দেবো সব-
তোমার চোখ ভরে দিয়ে যাবো আমার একান্ত পলাতক গল্প।


     style="display:block"

     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="5898435076"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

হলুদ জীবনের ধারাপাত শেষে ডেকেছ আমায়, বকুল শুভ্র দিনগুলো কি ফের পাওয়া যায় ?


এবার এই শীত গেলে ফিরিয়ে দিও,
মান-অভিমান আর রাগ-অনুরাগ গত বর্ষায় যা দিয়েছি সবটুকু তোমায়।
 হয়তো আমার একটা চিঠি ছিল না পড়া,
তাও রেখেছিলে ফেলে ;
খামটুকু ও হয়ত খোলার সময় হয়ে ওঠে নি কখনো।
 হয়তো বুকশেল্ফে একাকী একটা বই ছিল,
না পড়া- ফিরে আসার সময় জানতে পারিনি পড়েছিলে কী না;
 জেনেছিলে কী গল্প লেখা ছিলো তাতে ।
হয়তো বারান্দায় পড়ে থাকা কোন টবে-
আমার ছুঁয়ে দেয়া কোন চারা গাছ অযতনে কিছুদিন বেড়েছিল আনমনে,
কী ফুল হতো জানিনা তাতো তুমিও জানোনি।
 তার আগেই যে শুকিয়েছে তার ডালপালা।
হয়তো একটা কবিতা জন্মেছিলো একাকী হয়ে থাকা চার দেয়ালে
 কোন একদিন তুমি পড়বে বলে কুয়াশায় মগ্ন রাতে।
ভিজেছে রাতভর বাতাসে উড়ে যাওয়া সেই কবিতাও পড়া হয়নি ।
এত কিছু হয়ত হয়ে, একদিন পাতাঝরা শীত ফিরে গেলে –
 যা-ই গত বর্ষায় পাশাপাশি হেঁটে কুড়িয়েছি দুজনে হাতে হাত রেখে,
গত বর্ষায় যতটা ভিজেছিল আমাদের সর্বস্ব অশ্রুজলে–
 তার সবটুকু হয়ে বর্ষার পরে শরৎ পেরিয়ে কিংবা হেমন্তের খোলা আকাশে –
সেখানেই হয়ত কিছু রেখেছিলে,
 যদি পারো ফিরিয়ে দিও তাও।

শুদ্ধ ভালো বাসার ডাকটিকেট লাগানো খামে মৌনতার দস্তাবেজ ভেবে আমি বুঝে নেবো …. একদিন এখানেই তুমি ছিলে
কোন এক আড্ডায় ;
গানের আসরে কিংবা মিতবাক হয়ে থাকা জোছনায়।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3174276807"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

এইতো সেদিন তুমি ছুঁয়েছো হৃদয় ছুঁয়েছিলে বুকের অতল, তারপর কেটে গেছে হাজার বছর জমেছে কানায় কানায় বিষাদের জল।একটি আশ্চর্য্য এপিটাফের জন্মপূর্বে




বহুদিন আগে ফেলে যাওয়া এপিটাফ জুড়ে
নিস্তেজ মাতম হবে জেনেও
প্রচন্ড ইচ্ছে হয় ক্রমশ ধ্বংস করে ফেলি
নিজের ভেতরকার বোধ এবং অবোধ,
অতঃপর কোন এক চন্দ্রিমা রাতে হাঁটতে থাকব
খুঁজে পেতে অসমান বধ্যভূমি;
অগভীর মৃত্তিকার অবয়বে
ভরাট যৌবন জুড়ে শুকনো ফুলের সমাহার
বন্ধু তোমাকে বড্ড ভালোবেসেছিলাম।

উড়োজাহাজের ভগ্নাংশে 

উড়োজাহাজের ভগ্নাংশে আমি উড়তে দেখি
রঙ্গীন ঘুড়ি, আতশ বাজির শব্দ
শোকাতুর কৃষ্ণকলি; থেমে থেমে দূর পাহাড়ে ধূসর বিকেল ঘনালে
পুড়ে যাওয়া মাংসল হাতের যৌবনে নেচে উঠি,
ছুঁয়ে দিই আলতো মেহগিনি কপাট;
খুলে যাওয়া দরজায় দাঁড়ায় নর্তকি,
উড়ে যাওয়া রঙ্গীন ঘুড়ি
আমি ভগ্নাংশে উড়তে দেখি পড়শির সাদা শাড়ি;
কালো কাজল রেখায় থোকা থোকা বসত বাড়ি।

ঋতুহীনতায় লেখা কবিতা

এখন জর্জরিত ক্ষরা,
প্রবল কই এখনওতো তোমার কোনো রোদ এলোনা
মেঘে মেঘে অবিরাম গলনের সুর,
শরৎ এলেই ভাবি অবিরাম সেই মুখ
হাসছে অনবরত থেমে থেমে, বাঁকানো ঠোঁট
নধর শরীর, অপূর্ব ফসলের ঘ্রাণ;
অথচ হেমন্ত হতে না হতেই ভুলে যাচ্ছি বারবার
হাতের উপর রাখা হাত, কয়েকটি লকলকে আঙুল
কালচে লাল কারুকার্য।

এইভাবে ভেবে ভেবে অনেক রাতের পরে ঘুম
আহা, আমার কতদিনের ঘুম, তার নবান্ন স্বপ্ন
আয়না থেকে যারা কখনও নামেনা
যাদের অবয়ব গড়ে উঠেই মিলিয়ে যায়
প্রবল তুমি কি জানো
তারাও এইসব উল্লাস ছাড়া আর কিছুই জানে না।

অতঃপর অনেক প্রলম্বিত শীত এবং সল্পায়ু কিছু বসন্ত
প্রানের মাঝে ছড়ানো তোমার কিছু সবুজ
কতদিন যে এইখানে আর কোন ঋতু আসে না।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3297108884"
     data-ad-format="auto">



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
পূর্ণিমা রাতের কথা বলবো তোমায়, বলবো তোমায় চাঁদ জাগা রাতের কথা, কৃষ্ণপক্ষের রাত খেয়েছে সে চাঁদ ওঠে রোজ ভিন্ন আকাশে।



বিষন্নতা, তুমি আজ আর আমাকে ঘিরে থেকো না। জেনো, আমি একডজন মোমবাতি কিনে এনে নতুন জীবন শুরু করে দেব আগামী সপ্তাহে। স্নিগ্ধ তুমি এখনও কি কাক ডাকা ভোরে ধোঁয়া ওঠা কফির মগে আমার জন্য উষ্ণতা ছড়াও? খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমার কবিতারা এখনও কি আলশেমিতে ভরা দুপুরে তোমার মনের জানালায় উঁকি দেয়।
মেলা থেকে ফেরা পথে কোনএকদিন আমি নিশ্চিত দেখেছি বিপরীত মুখি মনহারা এক একলা মানুষ, সপ্তম দিগন্ত পার হয়ে যেন সে চলেছে অষ্টম দিগন্তের দিকে। আমি কতদূরে যাব কিছুই জানি না।
আর কেউ দেখুক বাঁ না দেখুক, আমি ঠিক টের পাই, অভিমান আমার ওষ্ঠে এনে দেয় মৃদু হাঁসি, আমি এমন ভাবে পা ফেলি যেন মাটির বুকেও আঘাত না লাগে। আমার তো কারুকে দুঃখ দেওয়ার কথা নয়।
পুরোনো বাড়ির অন্ধকার ঘরে শূন্যতার মধ্যেও এক বিশাল হাঁ-করা শূন্যতা চেয়ে থাকে,  আকাশ মিলিয়ে যায়, জোয়ারে ভেসে যায় বন্ধুত্ব, আয়ু।এরই মধ্যে এক দমকা হাওয়া এসে সান্ধ্য ভাষায় প্রশ্ন করে, মনে আছে?
তখনই ছটপটিয়ে ওঠে বুক, সমস্ত বিচ্ছেদের দুঃখ মনে পড়ে যায়। এদিক ওদিক তাকাই। আমার দিক মেলে না,কুল মেলে না। খরচ হল এক আধুলি খাতায় লেখা রাজ্যের দেনা। একটা মাত্র জীবন, তার হাজার রকম দুনিয়াদারি।

আজ বহুদুর এসে, কংক্রিট ছাদের নীচে, সামনে খোলা কবিতার খাতা, আমি সেই কিশোরকে দেখি, বসে আছে নদীর ঢালুতে। আমি দেখি নদীটির পাশ ফেরা, বাতাস দ্বিখন্ড করে ডেকে ওঠে চিল। একটু একটু মন খারাপ, কবিতার খাতা মুড়ে উঠে আসি বারান্দায়। আকাশ অচেনা লাগে, মায়াময় গাঢ় চোখে মনে হয় দিগন্তও খুব কাছে এগিয়ে এসেছে। কি সুন্দর আবছায়া নদীটি। চারিদিকে আধো আলো, আধো অন্ধকার। নদীটি বয়ে যায় অবিরল। স্মৃতি বিস্মৃতিময় তার স্রোত। ক্লান্তি আসে না। বকুলের গাছ থেকে পাতা খসে পড়ে, কখনও ফুল, বৃষ্টি আসে, ঝড় বয়ে যায়। আবার দেখা দেয় রোদ। তবু আবছায়া নদীটি বয়ে যায়,বয়ে যায়।

দূর গঙ্গায় বেজে ওঠে জাহাজের ভোঁ। মাথার উপরে উড়োজাহাজের বিষন্ন শব্দ। দুঃশীল রত্নাকর বসে আছেন গাছতলায়। পথিকের অপেক্ষায়। এ পথে আর কোনও পথিক আসে না। সম্ভবত ঈশ্বর তাদের নিরাপদ ঘুরপথ চিনিয়ে দিয়েছেন। তবু অপেক্ষায় বেলা যায়। জীর্ন হয়ে আসে ঘরদুয়ার, বয়স বাড়ে, ক্ষুধা বাড়ে। রত্নাকর বসে থাকে গাছতলায়, পথিকের অপেক্ষায়। বহুকাল কেটে যায়। অভ্যাসবশত রত্নাকর বসে আছে , পাশে রাখা বশংবদ খাড়া। হঠাৎ দূরে শোনা গেল পথিকের গান। রত্নাকর খর্গ তুলে নেয় শুন্যে, দৌড়ে যায়, তারপর ঢলে পড়ে। ভয়ংকর ভারী খর্গ তাঁকে টেনে রাখে। ঝাপসা চোখে রত্নাকর চেয়ে দেখে অদুরে পথিক, তরুন, ঐশ্চর্য্যবান। রত্নাকর কেঁদে ওঠে। পথিক সামনে এসে দাঁড়ায়, কি চাও রত্নাকর?
রত্নাকর হাত জোড় করে বলে, "আমার পরিবার উপোস করে আছে, দয়াময়, দয়া করো। ভগবান তোমার মঙ্গল করবেন।"
মাঝে মাঝে তাঁকে ডাক দিই, 'রত্নাকর, ওহে রত্নাকর।' বুড়ো ভিখিরিটা জানালার কাছে চলে আসে, আমি তাঁকে একটা দুটো পয়সা দিই। জিজ্ঞেস করি, 'কখনও কি ডাকাত ছিলে?' সে মাথা নাড়ে। হাসে। চলে যায়।

দেখি ভাঙ্গা ছেঁড়া অবান্তর সব দৃশ্য ভেসে যায়। কিছুতেই মেলানো যায় না। কখনও দেখি একটা বল গড়িয়ে যাচ্ছে ঘাসের উপর। খেলুড়ির দেখা নেই। তবু বল গড়িয়ে যাচ্ছে। একা, সাদা,রৌদ্রের ভেতর। কখনও দেখি প্রকান্ড ভাঙ্গা একটা মসজিদবাড়ি। আগাছায় ভরা, পরিত্যাক্ত, দেউলিয়া। তবু পড়ন্ত বেলায় তার উঠোনে কে একজন নীরবে নামাজ পড়ছে। দেখি আল্লা বুড়ো দরজি। আল্লার বুকের ভেতর হঠাৎ জেগে উঠেছে ধান ভাঙার তোলপাড় শব্দ। ফসলের মত উঠে আসছে ভালোবাসা। আল্লা বুড়ো দরজি আনমনে চেয়ে আছে। কিছুই মেলানো যায় না। কিছুতেই মেলানো যায় না। তবু চেয়ে দেখি আমার ছেলেবেলার হারানো বল তার কোলের কাছে পরে আছে।
একদিন সুসময়ে তিনি সব ফিরিয়ে দেবেন।।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments



তোমার সেই উজ্জ্বল অপরূপ মুখ। দ্যাখো, দ্যাখো , কেমন নীল এই আকাশ, আর তোমার চোখে কাঁপছে কত আকাশ, কত মৃত্যু, কত নতুন জন্ম...কেমন করে বলি? 

আমি যাকে কষ্ট বলেছি, তুমি তাকে কল্পিত বোলোনা। কল্পিত কষ্টের চুড়া কখনোই এতটা আকাশ ছুঁতে পারে না। যতটা দীর্ঘ্য হবে হিমালয়,  ছুঁয়ে ফেলে আমার ভেতরে জমা কষ্ট নিষাদ। 
তবুও বলি, ভালোবাসা পেলে সব লন্ডভন্ড করে চলে যাবো। যে দিকে দুচোখ যায়...যেতে তার খুশি লাগে খুব। ভালোবাসা পেলে কেন আমি পায়েসান্ন খাবো? যা খায় গরীবে, তাই খাবো বহুদিন যত্ন করে। 
আমি ফিরে যাব আমার মায়ের কাছে, সেই ছোট্ট পিঁড়িটার কাছে। অনেক অযত্ন অবহেলায় পড়ে আছে সে। আমি ফিরে যাবো সেই ছোট্ট থালার কাছে। বহুদিন ভাত বাড়া হয় না তাতে। সেই ছোট্ট গেলাস'টাও ফিরে গেছে কাউকে ফিরে না পেয়ে। আমি জানিনা, উঠোনের সেই চাঁপা গাছটা আজোও ফুল ফোটায় কি না, আমার জানা নেই, আমার খুব জানতে ইছে করে সেই রূপকথার ইতিহাস। শুয়োপোকা থেকে রাজহাঁসের শৈশব জানে কতটা সত্যি ছিল রূপকথা। 
চিলেকোঠারা আজোও জানে কৃষ্ণচুড়ার রঙ পালটে যাওয়ার ইতিহাস, চিলেকোঠার কোনায় কোনায় লেখা আছে দখিনা বাতাসের গতিপথ। 

আমার মনে পড়ে যায় অনেক কাজ বাকি থেকে গেল, অনেক কথা না-বলা থেকে গেল। হয়তো আর কখনোই বলা হবে না, তবু  বলতে ইচ্ছে করে, শুনতে ইচ্ছে করে, লিখতে ইচ্ছে করে সেই শুয়োপোকার গল্প, যার প্রজাপতি হতে ভীষন ভয়। আমি ভুলে যাই আমার অবকাশের  কথা, বুঝতে পারি অবকাশ নেই আমার, অভ্যেসে মিশে গেছিস তুই আমার। তারপর একদিন তুমি জানতে পারবে না বলা গল্পেরা খুঁজে নিয়েছে নতুন মোড়, পেছনে পড়ে রইলো পুরনো ঘরের সেই হাঁসি কান্নারা...একা এবং একা...।।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
   
           ১।
তবু আমার ইচ্ছে হয়,
তোমার সাথে এক বিকেলে হঠাৎ করে দেখা হবে।
তখন বোধহয় গরমকাল, আর
তুমি বৃষ্টি ভেবে ভুল করবে।




                ২।
একফালি কবিতায় অস্তিত্ব ভেসে যাক,
প্রকাশ্য গোপন হোক,
গোপন তুই নিষিদ্ধ থাক।




                 ৩।
বৃষ্টি হলেই ভিজব এবার
ভিজব না আর কথায়;
বৃক্ষ হতে গিয়ে দেখি
জড়িয়ে আছি  লতায়।

                   ৪।
এই খানে এসে প্রেম শেষ হল,
রাখালি মেঠোপথ ধরে কষ্টেরা হেঁটে গেল,
তুমিও চলে গেলে দৃষ্টির আড়ালে।
আবেশের খেয়াঘাটে বসে মধ্যবয়স্ক মাঝি,
ভাটিয়ালী সুরের পাল ওড়ানো...
চুপি চুপি বললাম, " তোমার যেখানে সাধ চলে যাও।"
আমি এই বাংলার পারে রয়ে যাব।




                   ৫।
তারা সকলেই কষ্টে আছে,
তারা সকলেই অনটনে আছে,
তারা সকলেই রাতভর
হাত তুলেছে।

                    ৬।
পাতার প্রস্থান দৃশ্যগুলো
 চোখের আড়ালে চলে গেলে
শেষ হয় কালের কম্পন।
বিনিদ্র রাতের মোহনায় সবুজ নোঙর ফেলে
জাগে বসন্ত।
বন এবং মন জুড়ে আলোর বসন্ত
পড়ে থাকে কিশোরী পাখির পালক।

                     ৭।
নষ্ট জীবন
নষ্ট ভাবা
কষ্ট পাওয়া শুধু,
স্পষ্ট করে যায়না বলা
কোথায় সুখের বিধু;
কোথায় আছে সুখের আকাশ
কোথায় সুখের হাওয়া,
হঠাৎ মাঝে দেখা গেলেও
যায়না তাকে ছোঁওয়া।।




                   ৮।
খালি খাম দেখে মনে হয় ত্রিমাত্রিক বাক্স।
এই নাও,
খালি খামে ভরে দিয়েছি সম্ভাবনা,
যা ছিল এবং যা ছিল না সবকিছু।
কাগজে মুড়ে তোমায় দিলাম
স্পেসটাইম।।


     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
 মেয়ে তোমার ঘোর কাটেনি, এলোমেলো চুল নিয়ে কাঁপছে তোমার ছায়াশরীর, শিহরনে। তুমি এসেছিলে, শুক্লপক্ষের চাঁদ ছিল কার্ণিশের উপর, তারপর যখন তোমার নিঃশ্বাস গাঢ় হতে লাগলো, আমি দেখলাম সব নক্ষত্রগুলো সাদা কাক হয়ে উড়ে যাচ্ছে একে একে। আর তোমার  নাভীতে জমা দুঃখগুলো তখন সুখ নিয়ে মিশে যায় সুদুর অন্তঃরীক্ষে। এদিকে আমার শয্যাপাশে এখনও ভোর হয় নি। কিন্তু মেয়ে, তোমার চোখে জমে আছে একরাশ নিঃশব্দ ধূসর ঘোর।
আমি তারাদের রোদন, ঠিক যেন অবিরাম নষ্ঠ হতে থাকা রাতগুলোর কুন্ডলী। একটি অখন্ড আকাশ আমার শৈশব লিখে রেখেছিল তার বায়বীয় আগুনের বুকে। এখনও আমি চলতে ফিরতে দেখি আমার শৈশব জন্ম নিচ্ছে আলোর কোটরে; বেড়ে উঠেছে বৃষ্টির আবরনে। আগুনে পুড়ে আয়নাতে ভেসে উঠেছে একজন ঘুমিয়ে পড়া যাদুকর, এই অবয়ব আমি কখনও ভুলিনি।

তোমার ভেতর শুকনো নদীর পাড় ঘেঁসে বেড়ে উঠেছে সবুজ ক্ষত, ট্রাক এসে বোঝাই করে নিয়ে যায় উপচে পড়া নিল, ঘামে ভেজা গামছার তলে মুখ মোছা ঘ্রাণের শক্তিই তোমাকে জাগিয়ে রাখে। ভোরের সরল আলো এখনও চোখের তারায়। বিশুদ্ধ বাতাস চুলের মেঘ থেকে ঝরিয়ে নেয় বৃষ্টি। মৃত্তিকার অবয়বে ফুটিয়ে তোলে আলতা ছাপ, যে রঙের মাঝে তোমার হাত বাড়ানো পাপড়ি থেকে ঝরে পড়ে খেয়াঘাট।
মেয়ে, তুমি বৃষ্টি হয়ে ঝরো, খোলা আকাশ আর এলোমেলো হাওয়া, অদ্ভুত কিছু ভালোলাগা আর কিছু টুকরো মেঘ নিয়ে এসো। আমার আকাশ আজ ভিন্নভাবে শ্বাস ফেলতে চাইছে। রোজ দু'টোর সময় আমি একটা দুচাকার দুপুরকে হারিয়ে ফেলতে দেখি তার মনখারাপের হাতল। আমি চমকে উঠি, ছুটে গিয়ে জাপটে ধরি তার নির্জনতার হাতল। আমার সেলফোন দুপুরে ঠিক সাইকেলের বেলের মতই বেজে ওঠে।  ঝকঝকে আকাশ থেকে অলক্ষ্যে ঝরে পড়তে থাকে অন্ধকারের অদৃশ্য কনাগুলো রোদের ফাঁক দিয়ে। রোজ দু'টোর সময় এক সন্ধ্যে আমার বিছানায় ঘুমোতে আসে। আমার কবিতাগুলো ছন্দহীন হয়ে পড়ে তারপর।

তারপর আমি ফিরে যাই তোর আকাশে, আমি দেখি আমার হারিয়ে যাওয়া ঘুড়ি সুতো কেটে উড়ে বেড়ায়। আমি ফেরাতে পারিনা, আমার মন খারাপ করে। ফাঁকা ঘরে জানালার ওপারে দূর নীলাকাশ থেকে ফিসফিসিয়ে ভেসে আসে প্রিয়তম হাওয়া। কান্নায় আমার গলা ভিজে যায়, আমি ফুঁপিয়ে উঠি। আমার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক নির্জন তালগাছ। তালগাছটার শিখরে দুলছে মৌসুমী সমুদ্রের হাওয়া। আমি দেখি এক পিঙ্গল অশ্বারোহী, দিগন্তের ওপারে ওই দেখো থেমে আছে সময়, ডানা মেলে উড়ে বেড়াচ্ছে তেপান্তরের মাঠ, মাঝখানে থমকে আছে আমাদের প্রিয়তম মুহুর্তেরা। যবনিকা সরে যায়, দেখি দূর অন্ধকার স্রোতের ওপারে এক আমোঘ সত্য। ফিরে যাই দিগন্তের কিনারে, দেখি শিশির ভেজা মাঠে শুয়ে আছে কিছু সুখী মাথা।
অন্ধকার নেমে এলে আমি বেঁচে থাকি এক অন্য পৃথিবীতে, চিরকাল আকাশ বলেছি যাকে, চোখ তুলে দেখে নিই, আজ সে হয়ে আছে মহাকাশ।

এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে সচেতন কবিতারা, বন্ধ আছে অন্ধ অভিষেক; কিশোর এসে প্রতিদিন হত্যে দিয়ে পড়ে থাকে। তবুতো জ্যোৎস্নারাতে ঘরে ফিরতে হয় বুকে চেপে রেখে কিছু বেওয়ারিশ ভয়। এই অলীক পৃথিবীতে আমিও একজন অতিথি, আমিও একজন পথিক মাত্র। সকলের মাঝে আমি চিরদিন থাকবনা। ধূমল কুয়াশা কেটে গেছে। স্বর্ণময় শিশির কনাও নীরস। নদীর ঢেউয়ের সাথে দুপুর গড়িয়ে গেল নিঃশব্দে বহুদুর। শ্রাবনের ঝরো ঝরো বর্ষন বয়ে গেল, তবু মনে মরুভূমি।
পিছনে পড়ে ছিল কাতর নদী, কারো কংকালে লেখা থাকে মৃত নদীর নাম। যে যায় সে ফেরে না, তবু কোন কোন রাতে তৃষিত নদীরা ঘুম চোখে জল চায়। ভুল করে আমিও নদীর মত তৃষিত হই, হাত রাখি অর্পিত চাঁদে। ফোঁটা ফোঁটা জ্যোৎস্নারা কাঁদে নিরুপায়, তবুও কেউ মিষ্টি করে বলে না আকাশের ছাদে বসে থাকা পাখির পালকের নাম কবিতা।

তুমি তৈরী থেকো, এবার আমি এসে যাবো। যে কোন দিন, যে কোন জুঁই ঝরবার আগে। বুঝলে নীলা, পথে যদি সন্ধ্যা লাগে পাঁজর খুলে আগুন দেব অন্ধকারে। শান ধরানো তীক্ষ্ণ ফলার লাঙ্গল টেনে সবুজ মাটি চষে বীজ ছড়াবো আবার। সত্যি রক্তে এবার তোমার নীল মেশাবো। ইদেন বনের নিষিদ্ধ ফল ছিঁড়ে খাবো। র‍্যাবের চাকায় পিষ্ট হয়ে যে কোন খুন ঝরার আগেই মাটির কাছে, তোমার কাছে যে কোন দিন এসে যাবো।



     style="display:block"
     data-ad-client="ca-pub-2221917604703020"
     data-ad-slot="3843650204"
     data-ad-format="auto">

Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates