• Home
  • About
  • Contact
    • Category
    • Category
    • Category
  • Shop
  • Advertise

Banggle.Info

facebook google twitter tumblr instagram linkedin
আমার বেডরুমের জানলা দিয়ে তোমায় দেখা গেল সেদিন।
দেখা গেল বিগত সাড়ে-চার বছরের সমষ্টি তুমি হেঁটে যাচ্ছ হালকা পদক্ষেপে।

আমি দ্রুত তোমার পিছু নিয়ে ঝাউগাছ গুলোর উদ্দেশে হাঁটলাম।

আমার বারান্দা থেকে ঝাউগাছের ও-পাশ দেখা যায় না,
কিন্তু ঝাউয়ের ও-পাশ থেকে বারান্দা দেখা যায় শুকোতে দেয়া মেয়েলী জামা সমেত।
অবশেষে তোমাকে ডাকলাম।
তুমি থামলে এবং চিনতেও পারলে আমাকে।
আমরা দু’জন দু’জনের মন রাখলাম এই বলে যে, আমরা কেউই বদলাইনি !
এখন মাঝেমাঝেই আমার ফোনে তোমার কল আসে ‘বাদল সাহেব’ নামে ।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
বিবর্ণ বিকেল
পাতাঝরা সন্ধ্যে
রাত্রির নিঝুম স্তব্ধতা
সবকিছুই এখানে আছে।
কুয়াশায় ঢাকা জীবন সূর্যস্নানে
সিক্ত হবে না কোনোদিন। আঁধারের চোরাগলিতে
রয়ে যাবে ম্লান। ভাবনার অকালবোধন হবে।
স্বপ্নজালে বন্দী স্বপ্নেরা মেলবে না পাখা।
স্বপ্নের আকাশে উড়বে না সুঁতোছেঁড়া ঘুড়ি।
সুখের পালাবদল হবে একূল-ওকূল দু'কূলে।
জীবনের রঙবদলের এই খেলা চলবেই চিরকাল।
ভালোবাসাও রঙ ছড়াবে মনেমনে।
সবকিছু এখানেই থাক-
চলো, তুমি আমি হারিয়ে যাই অন্যলোকে।

Share
Tweet
Pin
Share
No comments

কোন এক সন্ধ্যেয় একদিন টুপ করে আকাশ হবো। তখন সমুচ্চ উচ্ছ্বাসে ভারি হবে প্রতিবেশ। হাওয়ায় ভেসে ভেসে আকাশ পানে ওড়তে ওড়তে নিজেই হয়ে যাবো সুনীল আকাশ। পথচলতি ব্যতিব্যস্ত চোখগুলো আমাকে ভেবে ভেবে পাড়ি দেবে আর অনেকটা পথ। তবু আমি আকাশ হবো। মনগহীনের স্বপ্নবোঁনা সেই সে আকাশ।



আমার বাড়িতে কোন এক সন্ধ্যেয় একদিন সন্ধ্যে নেমেছিল। তবু আমার আকাশ হওয়া হয়ে ওঠেনি। আকাশ হতে গিয়ে একদিন হঠাতই ধপ করে পড়েছিলাম মাটিতে। কিছু বিচ্ছিন্ন কথকতা ঘিরেছিল আমাকে। স্বপ্ন মার খায় তবু মরে না। ফি-বার দেখি, পূণর্বার স্বপ্নে মাতি! হয়তো তোমার ইস্পিত আবর্তন ওখানে বলেই আমি রোজ রোজ আকাশ হতে চাই।



মাঝে মাঝে তুমি যখন ঘাপটি মেরে আকাশ দেখতে বসো মনে হয় ফি-বার- ইস, আমি যদি আকাশ হতাম তবে তোমার সবগুলো চোখই নিবদ্ধ হতো আমাতে। জানো, আমি এখনো আকাশ হয়ে ওঠিনি কখনো তাই তোমার অন্তর্গত চোখ দিয়ে আমাকে দেখাও হয়না কোনদিন। তবু আমার চিন্তারকালে যখন তুমি আসো তখন আমার আকাশ হবার সাধ জাগে। মনে হয় জগতের সবগুলো পাখিকে তার আরাধ্য ডানা ফিরিয়ে দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলে দেবো এবার নির্বিঘ্নে ওড়ো আমাতেই। আমার সবটুকু সৌন্দর্য তোমাদের নিজেদের ভেবে আমাতেই অবগাহন করে নীড় বুঁনো আমাতেই।



তোমাকে একদিন কোন এক একান্ত সময়ে বলেছিলাম তুমি ঠিক ঠিক পাখি প্রতিরূপ। তাই পাখিরূপি তোমার নীড় বুঁনো আমাতে সেই আদিকালের বলে দেয়া কথা মতোই। কাল, কাল কত কাল যায় তবু তোমার আসার কাল হয়না এখনো সেই সাথে আমার আকাশ হওয়ার কালও। তবে জেনো আমি একদিন ঠিকই আকাশ হবো; তোমার সবটুকু ভালোবাসা জমিয়ে রাখার আকাশ।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments

এমনও দিনে তারে বলা যায়। কারে বলা যায়! যে কথা বুকে ধরে রেখেছিল শরতের আমিনা ও গফুর সেই কথা কাকে বলা যায়? 

ভেজা পাতার ছাউনির নিচে' যে কথা জমিয়ে রাখে আসমানীরা, সেই কথা শোনার দোষের কই? রাজার পোশাক পরে প্রবল প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা নিয়ে মঞ্চ থেকে নেমে এসে প্যান্ডেলের দূরতম কোনায় যাত্রার মালিকের কাছে ভিখিরির মতন হাত পেতে অর্থ নিয়ে সংসারের চাল-ডাল-তেল-নুনের হিসাব মেলায় যে অক্ষম, তার কথা কার কানে পৌছবে? অথবা এই যে আমি, গল্পকথক, রাজা ও রানী, রাক্ষস ও ফুলকুমারী, জোকার ও জোলাদের গল্পের ফাঁদ পেতে বসে থাকার চেষ্টা করি আপনাদের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে, আমারই বা বুকের মধ্যে কোন ব্যথা করে চিনচিন, সেই কথা বলবার মতন দিন কি আমার আসে? 

প্রশ্ন সকল উত্তরহীন। তবু, মনের মধ্যে গুঞ্জরিত হয়, 'এমন দিনে তারে বলা যায়, এমনি ঘনঘোর বরিষায়।' 

বর্ষার ধর্মই বুঝি এই! আকাশে মেঘ জমে-জমে আর নিজেতে নিজে স্থির হয়ে থাকতে না পেরে যেমন ঝরে পড়ে কাতর জলকণা, তেমনি বর্ষায়_ নিদারুণ আষাঢ়ে যখন মেঘের পরে মেঘ ঘনিয়ে আসে, তখন মনের মাঝের কথারা-ও যেন হয়ে ওঠে পতনোন্মুখ। অপেক্ষার কাল আর বুঝি সইতে না পেরে 'হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল' হয়ে ওঠে ঘরে ঘরে একা দিন গুনতে থাকা তন্বী বধূর দল, হৃদয়ের কথা জানাতে আকুল হয়ে ওঠে কালিদাসকুল।

সেই আকুলতা থেকেই বুঝি মানুষ গেয়ে ওঠে, 'বন্ধু আইসো রে ... কোলেতে বসতে দিবো, মুখে দিবো পান।'

আমি যখন খুব ছোটো, একেবারে শিশু, সেই সময়ে আমার দিদু যার গায়ের রঙ ছিল পাকা আমের মতন হলুদাভ, যার গলার স্বর ছিল ঝরনার মতন রিনরিনে কিন্তু সুর ছিল বিলাপের মতন করুণ_ প্রায় নিত্যই গাইতেন একটা গীত যেটির কথাগুলো ছিল এ রকম : 'নামো কুলি আষাঢ়ে, নামো কুলি জমিনে, খাইয়া যাও গো কুলি সরলি বাটার পান।'

আষাঢ়ের সঙ্গে কুলি, কুলির সঙ্গে জমিন ও বাটার পানের কী সম্পর্ক তা আমি জানিনি। শুধু বুঝতাম এই সুরে এমন এক বিলাপ আছে, যা আমাকে বেঁধে ফেলেছে। 

আমি যখন স্কুলে পড়ি ততদিনে দিদুর নিভে গেছে চোখের আলো। শীতলাদেবীর অভিশাপে তার পটোলচেরা গহিন নয়ন দুটো আর নেই। সারা মুখে বসন্তের দাগ। গলার স্বরটাও বুঝি আর ছিল না তেমন।

কিন্তু আজও আমার প্রাণে বাজে সেই কুলির স্বর, সেই কুলির সুর, কুলির জন্য সেই ব্যাকুলতা। 

বড় হয়ে বহুবার আমার মা'কে  অনুরোধ করে শুনেছি এই কুলির গীত। এমনকি আজও মাঝে মাঝে আমার মাকে অনুনয়-বিনয় করে বলি, 'মা , কুলির গীতটা একটু শোনাও না।' আমার মা বলেন, 'ধুর ! কী যে বলিস! আমার কি আর সুর আছে!' 

আমি তাকে জবরদস্তি করি। বলি, 'আহা! তোমারে কি আমি সুর দিয়ে  গাইতে বলছি না-কি! তুমি একটু গাও না।'

মা  তখন ইতস্তত করতে-করতে গীতে টান দেয় : 'নামো কুলি আষাঢ়ে, নামো কুলি জমিনে, খাইয়া যাও গো কুলি সরলি বাটার পান।'

রোগে-শোকে জরাজীর্ণ হয়ে যাওয়া আমার মা গীত গাইতে-গাইতে যেন কোথায়, কোন দূরের দেশে চলে যান। কোথায় যান? আমার মাঝে-মাঝে জানতে সাধ হয়। আমার বাবার সাথে বিয়ে হবার আগে আমার মায়ের কি ছিল কোনো কুলি? যে হারিয়ে গেছে? অথবা হয়তো ছিল না কোনো কুলি। তবু, অজানা ব্যথা ও না চেনা আকুলতা নিয়েই আমার মা কি তার অদেখা কুলিকে ডাকতে-ডাকতে চলে যান অচিনপুর? জানি না, সেই প্রশ্নের উত্তর। 

কিন্তু বৃষ্টির দিনগুলো সুন্দর। সুন্দর আষাঢ়ের মধুবর্ষণ। আমার ছেলেবেলায় ঝুমবৃষ্টি যখন নামতো টিনের চালে, তখন ঝমঝম ঝমঝম ঝমঝম শব্দে প্রাণের মধ্যে কী যে দোলা, কী যে আনন্দ, কিসের যে আহ্বান আসত সে হিসেব মেলেনি কোনো দিন। কিন্তু সেই ঝমঝম সুরমূর্ছনা ছেলে ভোলানো এক মন্ত্র হয়ে কোথায় কোন দূরের দেশে, আজও চকিতে আমাকে যেনো টেনে নিয়ে যায়।

তবে আজকাল আমি ভীষণ বৃষ্টিবিদ্বেষী। বৃষ্টির পর পথ যখন কাদা-কাদা হয়ে যায়, রিকশা যখন পাই না, জ্যাম যখন অসহনীয়, তখন বৃষ্টিকে আমার শত্রু মনে হয়। কিন্তু বৃষ্টির প্রতি একটা অদ্ভুত টান আমার ছিল, সেই কথা মিথ্যে নয়। বরং বলা যায়, নিষেধের খুব বেশি কড়াকড়ি ছিল বলেই হয়তো টানটাও ছিল তীব্র।

বৃষ্টি এলেই কোনো একটা উছিলা করে স্কুল ফাঁকি দেবার সে কি আনন্দ। যেদিন বুঝতে পেতাম যে আজ আর ফাঁকি দেবার কোনো উপায় নেই, সেদিন হয়তো স্কুলড্রেস পরা অবস্থায় ইচ্ছে করেই একটু কসরত করে একটা 'পিছলা' খেয়ে আমি পড়ে যেতাম উঠোনে। আর আমার কাপড়-চোপড় নষ্ট হয়ে যেত কাদায়। আমার দাদু তখন বলত, 'আহারে! আহারে! ছেলেটা পড়ে গেলোরে! কি রে 'ব্যাথা লেগেছে?'

আমি বলতাম, 'না দাদু, ব্যাথা পাইনাই।' আর মনে মনে বলতাম, 'হে ভগবান! আজকে যেন আর ইশকুলে যেতে না হয়।'

স্কুলে না যাওয়া, দিনমান বৃষ্টিতে ভিজা, ভিজে ভিজে পাড়ার প্রত্যেকটা বাড়ি একবার করে চক্কর খাওয়া, বাড়ি বাড়ি ঘুরে আমার বয়সী অন্যদের বৃষ্টিতে ভেজার জন্য উস্কানি দেওয়া, দল পাকিয়ে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমাদের বাড়ির পিছন দিকে কন্ট্রাক্টর বাড়ির 'পুকুরে' স্নান করতে যাবার স্বাধীনতা ছিল কী যে লোভনীয়! 

কোনো কোনো বৃষ্টির দিনে চলে যেতাম আরও দূরে  দীঘিতে। আহারে!  দীঘি! আমার জন্য চিরকালই নিষিদ্ধ গন্তব্য। মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে কত যে সেই পুকুরে গেছি, ধরা পড়ে মার খেয়েছি! তবু  পুকুর নিষিদ্ধ আকর্ষণ। 

পুকুর তো তা-ও ছিল ক্ষমাযোগ্য অপরাধ। কিন্তু কোনো কোনো দিন, পাড়ার ছেলেদের সাথে দলবেঁধে নেমে যেতাম মরা নরসুন্দায়!

আষাঢ়ে বা শাওনে মরা নরসুন্দাকেও মনে হতো যেন এক কিশোরী। ঝুম বৃষ্টির মধ্যে নরসুন্দাকে কেমন অবাস্তব-অবাস্তব দেখাত। মুষলধারে বৃষ্টি যখন ঝরতো, বৃষ্টির ফোঁটাগুলো মাটিতে পড়ে আবার যখন জলের কণা ওপর দিকে লাফ দিয়ে উঠতো এবং ঝুম বৃষ্টিতে যখন বেশিদূর দেখা যেত না, সেই সব সময়ে মনে হতো, নদী তো নয়, এ যেন মায়াজালে মোড়ানো এক রূপকথা। যেন এই নদীর ওপারেই আছে রাজার কুমার। পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে এই বৃষ্টিতেই বুঝি সে এলো!

আজও মনে হয়, হয়তো যদি সেই দেশ থেকে কোনোদিন কোনো রাজার কুমার পঙ্খীরাজ ঘোড়ায় চড়ে ঝুম বৃষ্টির মধ্যে ভিজতে ভিজতে মায়াজালে আছন্ন হয়ে এসে নামতো নরসুন্দার পাড়ে, সে দেখতো রাজু নামের এক কিশোর, পায়ে যার জুতো নেই, গায়ের রঙ যার ময়লা, বৃষ্টিতে কেমন উড়ছে!



একবার এক বৃষ্টির দিনে, আমার মা সেদিন বাড়িতে ছিলেন না, আমি ভিজতে ভিজতে উঠে গেলাম আমাদের ঘরের চালে। ঘরের চালে উঠে বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দটা অন্যরকম। সেই আনন্দ আরও একটু বাড়িয়ে নিতে আমি উঠে গেলাম দোচালা ঘরের 'টুই'-এর উপর। সেখানে উঠে টুই-এর মাথায় বসে পিছলা খেয়ে-খেয়ে আমি এসে পড়ছি ঘরের সঙ্গে লাগোয়া বারান্দার চালে। এমন করে খেলতে খেলতে আরেকবার এমন জোরে পিছলা খেলাম যে, ঘরের চাল থেকে এসে বারান্দার চাল ছাড়িয়ে আমি পড়লাম উঠানে! চার হাত-পা চারদিকে ছড়িয়ে আমি যখন চিৎপটাং, আমার দাদু উদ্বেগ নিয়ে তখন বলে, 'হায়! হায়! হায়! ব্যাথা পাস নি রে!'

সেই দাদু আজ নেই। নেই সেই নরসুন্দা। খেলার সাথীরা নেই। নেই সেই পাড়া। নেই সেই আমিও আর।

তবু আহা! বৃষ্টির দিন! তবু ফিরে ফিরে আসে দারুণ আষাঢ়। তবু 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর', বৃষ্টি পড়ে সারা দুপুর, বৃষ্টি পড়ে মনের মধ্যে অবিরাম। আর কত না কথা মনে আসে। মনের কথা হয়তো মনেই রয়ে যায়। অথবা মনের কথা দোসর না পেয়ে যায় বনবাসে একা! 

কিন্তু এই জামানায় মানুষের তো আর বনবাস নেই। মানুষের মনবাস আছে শুধু। তাই মনে মনে আমি এক বর্ষায় উঠে যাই যুবক রবীন্দ্রনাথের বজরায়। 


এই রবীন্দ্রনাথকে দেখে আমার বোধহয় একটু ভালোই লাগে। চারদিকে যখন ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে, যখন পালানোরও আর পথ নেই কোনো, যখন বৃষ্টির মায়াজালে আমাদের বজরাটা আর বাস্তবের কোনো নদীতে নেই, যখন সেটি ঠাঁই নিয়েছে রূপকথার বইয়ে আঁকা ছবিতে, তখন সেই ছবির ভেতর সপ্রাণ হয়ে ওঠে কীভাবে আমি তাকাতাম যুবকের চোখে! এরচেয়ে বরং এই ঢের ভালো। আমি এই সব ভাবি, আর সন্তুকে সম্বোধন করি, 'গুরুজি।' 

বৃষ্টির দিনে স্কুল ফাঁকি দিয়ে আমার ছোট্ট রুমের ছোট্ট চৌকিটাতে কাঁথা মুড়ি দিয়ে দিনমান শুয়ে শুয়ে এই রকম আরও কত না অযাচিত কথা মনে ভেবেছি। ভেবেছি, 'এমন দিনে তারে বলা যায়?' কারে বলা যায়! বরষা যতই ঘন ঘোর হোক, যতই আঁধার হয়ে আসুক চারিধার, বৃষ্টির স্বর্গীয় চাদরে যতই তৈরি হোক মায়াজাল, তাই বলে কি সবকথা উচ্চারিত হতে পারে মুখে? প্রেম হোক, ব্যথা হোক, অথবা হোক তা কোনো এক কুলিকে ডাকার আকুলতা তা কি মানুষ বলতে পারে মুখে? ধরতে পারে ভাষায়? 
Share
Tweet
Pin
Share
No comments


তবে একটা গল্প বলি
বহু দিন আগে
চলো, এইতো সেদিন হলেও কোন ক্ষতি নেই।
আমার এক বন্ধু দুম করে ভালবেসে ফেললো
এক খুব চেনা অজানা মেয়েকে।

না বলার ইচ্ছাটা যখন পোষ মানল না,
কয়েক রাত জেগে বিকেল না হওয়া সন্ধ্যায়
বলেই ফেললো তার কয়েক রাত না ঘুমানোর অজুহাত।
তারপর
দিন রাতের স্বপ্নগুলো গুলিয়ে গেল বাস্তবের সন্ধ্যা
বাড়ি ফেরার আলোতে। 
এরপর যাহয়
আকাশকুসুম দিগন্ত জোড়া
নেই বাতাসে
পোয়াতি ভালবাসা অ্যাবরশনের কান্নায়
মেনে নিলো সম্পর্কের নতুন শব্দকোষ।
লেখা হল না নীল রাত্রির ছেঁড়া চাঁদের উপন্যাস
তারারাও কম পড়ে গেল,
পাঁজরের নীহারিকা ছিটকে দিগন্তে
সে তাকিয়ে নেই
কি দেখবে বা কেন;
তারপর এক দিন হাটতে হাটতে মনে হল
পৃথিবীটা বড্ড বড়,
বুক ভরা দূরে কোথাও জল ছোঁয়া শান্তি।
সে নেই
সেই চাওয়ার মতো
ফেসবুকের পাতা যখন খুশি।
এইতো সেদিন তার সাথে দেখা হল
এটা সেটাই বলেই ফেললো
দ্বিতীয় জীবন অতো দূর নয়,
কাছেপিঠে কোথাও
না দেখা যবনিকায়।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তুমি কি আমার জন্যে, নদী, আজ শহরে ঢুকেছো ?
...যতিচিহ্ন ভরা আকাশে কবি হয়ে উঠতে কার না সাধ জাগে, তবু কিছু স্বর্ণলতায় ভরসা রেখে গদ্যের তাঁবুতে ঢুকে পড়ি ৷ অবান্তর পত্রগুচ্ছে ঢেকে রাখি এ যাবত দেখা, শরশয্যায় শুয়ে থাকেন প্রপিতামহ, ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে যায় পত্রগুচ্ছ, গঙ্গার চরে শুয়ে কাটিয়ে দেওয়া রাত কোন কবিতার জন্ম দেয় না..

হে আলেখ্য, অপচয় চিরকাল পৃথিবীতে আছে;
এই যে অমেয় জল -- মেঘে মেঘে অনুভূত জল--
এর কতটুকু আর ফসলের দেহে আসে বলো ?
ফসলের ঋতুতেও অধিকাংশ শুষে নেয় মাটি ৷
তবু কী আশ্চর্য দেখো উপবিষ্ঠ মশা উড়ে গেলে
তার এই উড়ে যাওয়া ঈষত্ সংগীতময় হয় ৷
( বিনয় মজুমঅদার )

...আমি যেন ষ্টকারের মত দেখি সামনে রাখা টেবিলে সরে সরে জাচ্ছে বোতল খানা, অদ্ভুত, আমি দেখি, কখোনো ডামাডোলে নিজেকে প্রতিপন্ন করি ম্যাজিশিয়ান হিসাবে, দৃশ্যেরা চলে যায় দৃশ্যের গভীরে, অটোর মধ্যে তার প্রেমিকের সাথে মোবাইল নারী প্রিয় হয়ে পড়েন অচম্বিতে , গন্তব্য ছড়িয়ে চলে যাই, হোঁচোট খাই বাড়ী ফেরার পাথে, যেন অহল্যা মুক্তি পায়...
কেননা বুকের মধ্যে আমি বুক
ক্ষীণ কটিজবরদস্ত পাছার মতন
রেখে সাংগীতিকসাংঘাতিক ফলানো
ফসল ফেলে ছুটে গেছি জেব্রা দৌড়
জীব্রাল্টার প্রণালীর অন্যকোনো নালী
বেয়ে সেই পিয়ালী নদীর গাড়
গভীর তরল রব শুনে তাই
পুর্বার আসা অসম্ভব ৷
( তুষার রায়)

... একদা রজনী প্রাতে শব্দেরা ছড়িয়ে যায় আমার অংক বইএর মধ্যে, সে অক্ষর খালাসিটোলায় অক্ষর-বৃষ্টির মতো, আমির খা ডাক পাঠাচ্ছেন ঘনঘন বেতারে, সন্ধ্যা চূর্ণ দিয়ে সাজাচ্ছি দেবী প্রতিমা, কুমু সব এলোমেলো করে দিচ্ছে, পুণে ছাড়িয়ে পাষাণ, সেই দ্বীপ, কুমু জগদ্ধাত্রী হয়ে যায়...
সন্ধ্যা আরও নি:স্ব হয়,
অবিবৃত জলে সারি সারি
দীর্ঘ আলোবিস্তৃত উজ্জ্বল
ভাবে ডুবছে ক্রমশ,
আমি এ জীবণ থেকে
সরে যাব,হাত রাখো
আমার মাথায়,আমাকে
তোমার কাছে ডেকে নাও,
ছায়াবৃত অন্ধকারে অশব্দ
ঢেউয়ের মতো ভেঙ্গে
ফেলো এই সন্ধ্যাবেলা ৷
( দেবারতি মিত্র )

...অর্জিত দৃশ্যাবলী সাজাতে সাজাতে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করি, তবু নদী তীর, জলে ঝাঁপিয়ে পড়া ব্যঙ, হারষ্টেনের অংক বই তুলে রাখি আলাদা করে, অসাবধানে জীবনানন্দ পড়ে যায় জলে, মাছেদের খেলা তার সাথে আজ, উল্টে যায় বইএর পাতা একে একে, লিখতে হাত কাঁপে কিম্বা লন্ঠনের আলো, হাত বুলাই ব্রেইলের বর্ণপরিচয়ে...
অঙ্গুষ্ঠপ্রমাণ আত্মা ঢেকে নিয়ে হাতের তালুতে
নেমে যাই খাদের ওপারে সৌধ, গম্বুজ নিশান,
হাসাহাসি ৷ আঁধার সুড়ঙ্গ জিড়ে দেহ শেষ,
বর্জিত উদ্ভিদ এখানে আমার কাজ খননের অপসারনের ৷
তেতে উঠি মনস্কামনায়কী সর্বস্ব চিল বা ওপরে,
আলোমালা ! বোতাম সদৃশ এক রতি আত্মপ্রতিকৃতিতাকে
দেখি অবসরে - আর কতদিন ?
নি:শব্দ দোলনে ঢেউ কাঁপে তির তির তিরতির
ছলনদীঅন্ধকারে ভেসে যায় উড়িধান , ঘাস ৷
ভেজা ত্বকে সেঁটে থাক এক রাতি পাথরবোতাম
ফাটুক চাঙড় শুকনো আঁশের পোশাকে
আমি ফাটি মনস্কামনায় ৷
( বিজয়া মুখোপাধ্যায় )

... একদিন জে এন ইউ তে অমিতের ডিপ্লোমা দেখে ইচ্ছা করে সমস্ত চামড়া ছিঁড়ে বিভীষণ হয়ে উঠতে, শংখ বাজে, পদ্ম পাড়ে পুস্করে, দয়িনীতা সামাল দেয় কোনোরকমে, এই আলটপকা মাধ্যমে আর ফাত্না ডোবে না, কেবল অপচয়, হয় না...
পৃথিবীতে যত সরু গলি আছে
এ- বছর দেখা শেষ হবে
কখনো বিকেলবেলা সন্ধেবেলাবন্ধুদের
মত সব বন্ধুদের মুখ মনে পড়ে
ভেতরে শরীর নেই কার জামা
কার জামা ঝুলছে বারান্দায়
ডাক্তারখানায় আজ ভদ্র এক মহিলার চোখে জল
আর নয়া মোটোরবাইকের
ব্রেক ঠিক আছে কিনা দেখে নিচ্ছে
এক তরুণ ( কোথায় যে যাবে )
দিগন্তের সঙ্গে প্রিয় আজো দেখা হলো না আমার
( ভাস্কর চক্রবর্তী)
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
কিছুই দেখবনা,
এই চিরচেনা দৃশ্যবলি
ঝুল বারান্দার টবে ফুলের কোলাহল,
সুপারি গাছের সারির বুকের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা
কৃষ্ণচূড়ার সবুজ মায়া,
ইলেক্ট্রিকের তারে ডিগবাজি খাওয়া
ঝুলে থাকা তিনটে ফিঙ্গে,
ক'টি কাক উড়ে উড়ে আসে, যায় ,
ঝুল বারান্দার রেলিঙে বসে;




কিছুই দেখবনা,
দেখবনা আর পাশের বাড়ির ছাদ,
একটি শালিক আমার খুব বন্ধু
রোজ বসে পাশের বাড়ির কার্নিশে,
কোনোদিন না এলে কষ্ট হয়;
তাকেও দেখবোনা,
রোজ বিকেলের মত
সারাদিন নিঃসঙ্গ বারান্দায়
শুধুই নির্জীব বসে থাকা।

শরতের তীব্র নীল আকাশময়
শুভ্র মেঘপরীদের নেচে নেচে যাওয়া ,
কিশোরের লাল ও সাদা ঘুড়ির প্রখর শত্রুতা
যেসব বালকের কোলাহলের আয়নায়
নিমেষেই নস্টালজিক শৈশবের মুখ ভেসে ওঠে।

আটপৌরে জীবনের সমস্ত বিষন্নতা কোলে করে
ঘরে ফেরা কর্মজিবীর দল
এঁচোড়েপাকা কিশোরের
বিড়িটানা বখাটে রৈ রৈ হল্লা
এ শহরের এই পরিচিত ছুটে চলা
ফিরেও দেখবনা;

মন ভালো নেই আজ।। 



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
একদিন তোর ফুল কুড়ানোর দিন ছিল। ফুলের
সাজি নিয়ে আমি তোকে নিয়ে সমস্ত গ্রাম পায়ে
মাড়াতাম। খালি পায়ে আমাদের মৃত্তিকা নৃত্য হতো।

তোর
সাজি ভর্তি ফুল! আর আমার চোখ ভর্তি উচ্ছাস। কেউ
কেউ ফুল দেবেনা বলে, বিনা মেঘে বজ্রপাতের ভয়
দেখাত। আমরা দৌড়াতে পারতাম উটপাখির মতো, আমাদের
শরীরে তখন উত্তাপ ছিল।




তোর মনে পড়ে যেদিন বাশেঁর সাঁকো উঠে গেল
সেদিন তুই হেসেছিলি। ভাবছিল এবার আর তোদের
সাঁকো পেরুতে হবে না হয়তো তার বদলে পিচঢালা পথ
হবে।

কিন্তু খালটা বিনা নোটিশে মরুভূমি হয়ে গেল। কাঁটাতার
তোকে আর আমাকে দুভাগ করে দিয়ে হয়ে গেল
দুটো দেশ ।



Share
Tweet
Pin
Share
No comments
জানি না, ভরা জোছনায় আবার কবে ফিরবো আমার সেই গাঁয়ে।
পুকুরপাড়ের কাদামাটিতে খালিপায়ে হেঁটে বেড়াবো কবে।
জানি না আমি আবার কোনদিন সুস্থ হবো কিনা।
দীঘির পাড়ে বসে আবার কোনদিন বকুলের পাতা ছিঁড়তে ছিঁড়তে
আর গুনগুন গাইতে গাইতে রাত পেরিয়ে যাবে কিনা।
অপবিত্র নোংরা এই আত্মাকে সঙ্গে করে
প্রতিদিন ধুঁকে ধুঁকে বেঁচে থাকাকে
আমার আর আশাপ্রদ কিছু মনে হয়না।
আজ আমি শহরের অধিবাসী তাই
সকালে সন্ধ্যায় নগরের ঘাম-ধুলো-গন্ধের সাথে মিশে যাই,
মিশে যায় নগরবাসীর পাপগুলো আমার দেহে।
তারপর তাদের আলিঙ্গন করে আপন করে নিই অজান্তেই।

ক্রমাগত পাপের মাঝে ডুবে চলেছি আত্মাকে গলা টিপে ধরে,
রাতের নৈঃশব্দে শয়তানের আহবানে সচকিত হই।
বিমর্ষ বিবেক আকুল নয়নে চেয়ে থাকে আমার শ্বদন্তগুলোর দিকে
আমি স্মিত হেসে তাকে নখরবিদ্ধ করি উপর্যুপুরি কয়েকবার।
তারপর নিশ্চিন্তে আবিষ্কার করি পশুত্বকে।
আমাকে কেউ রক্ষা করতে আসেনা, আসেনা স্তব্ধ করতে।
পথে বেরিয়ে আমার চাইতে ভীষণ কদাকার হিংস্র শ্বাপদদের দেখে নিশ্চিন্ত হই।
আমার পথ তো বহুদূর!
গলার গোড়ায় তিতকুটে স্বাদ নিয়ে দিনের আলোতে ঘুরে বেড়াই আবার
মিশে যেতে থাকি পাপের রাজত্বে, বদলে যেতে থাকি।
অশান্তির গ্রাসে হারিয়ে যেতে থাকি প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ
প্রবল থেকে প্রবলতর হতে থাকে দুঃখবোধ, অসহায়ত্ব।

আমার খুব ফিরে যেতে ইচ্ছে করে ছেলেবেলায়।
মুক্তির অপাংক্তেয় স্বপ্নে তাই ভেসে যাই।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
তারা ছিল চারজন-
চারজন বেবুক প্রেমিক।
তাদের একজন আজ
ক্যানভাস করে বিক্রি করে জটিল রোগের
হ্যমোপথি,
একজন যাত্রাপালার সংলাপ লিখে,
একজন মুখে পান আর ঠোটে বিড়ি ঝুলিয়ে
সুন্দরীদের জন্য ক্ষ্যাপ যোগাড় করে দেয় ।
আর যে যুবক তার প্রার্থনার কথামালায় বুনেছিল
তার প্রেয়সীর ঝলমলে রূপ,গুন আর বর্ণমালা
সে আজও
বুকের ভিতর
থেকে হৃদপিণ্ডটা খুলে হাতে নিয়ে বসে থাকে
প্রেয়সীর ফেলে যাওয়া পথের শেষপ্রান্তে ।
Share
Tweet
Pin
Share
No comments
Newer Posts
Older Posts

About me


About Amalie

Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Praesent non leo vestibulum, condimentum elit non, venenatis eros.

Follow Us

Labels

Amazing Facts Books Humanity the guardian Travel আমার একলা থাকার সঙ্গী কথাকাব্য কবিতারা নন্দিনীকে বর্ষার কবিতাগুচ্ছ নন্দিনীকে শীতের কবিতাগুচ্ছ নস্টালজিক মন নীলপরীর গল্পেরা প্রিয় মুভি এবং রিভিউ

recent posts

FOLLOW ME @forbestime

Blog Archive

  • ▼  2017 (150)
    • ▼  December (35)
      • এ্যালিস! এ্যালিস! তুমি বিম্বিত হয়ো জোছোনাতে
      • India's Lesser Known UNESCO World Heritage Sites
      • ঘুমোতে যাওয়ার আগে
      • একটি প্রেমের গল্প
      • The Unlikely Beauty of Broken Glass
      • বৃষ্টিতে ভিজব বলে ভিজে গেল দুই চোখ
      • Celebrating the Bond Between Monkeys and Their Humans
      • 7 Alien 'Earths' May Be Swapping Life via Meteorites
      • 10 Trips to Gift Your Favorite Traveler
      • Geminid Meteor Shower Peaks Tonight—How to See It
      • 30 Facts About 2017’s Most Googled Movies
      • Meet Hangul, the Most Handsome Stag in Jammu and K...
      • Thousands of Refugee Children Are Stranded on Euro...
      • বিষাদ,– তোমাকে আমি লিওনার্দো কোহেনের গানে চিনি
      • রোজকার রোজগার
      • Dhanushkodi: Why A Road Trip To this ‘Ghost Town’ ...
      • 25 World Monuments in Danger
      • This Woman is Your Adventurer of the Year—Video Ex...
      • The Ultimate Nilgiris Road Trip: From Coimbatore t...
      • Kashmir’s Enchanted Valley
      • কার প্রতীক্ষায় আছো
      • তুমি নেই বলে
      • The Best Pictures Of 2017 Siena International Phot...
      • Amazing Autumn In The Polish Sudetes
      • Toddler Keeps Stealing Prince Harry’s Popcorn Unti...
      • রাতের কবিতা
      • 20+ Of The Best Entries From The 2016 National Geo...
      • 10+ Of The World’s Greatest Dads
      • 15 Interesting Facts about Dreams
      • 10 Most Amazing Revenge Stories From Around The World
      • 10 fascinating facts about different countries tha...
      • 10 Strange Mysteries From Around The World That Ar...
      • The 10 Of The Greatest (True) Stories Ever Written...
      • The Top 10 Greatest Love Stories Of All Time (Prep...
      • International Borders Around The World
    • ►  November (27)
    • ►  October (19)
    • ►  September (4)
    • ►  August (15)
    • ►  July (11)
    • ►  June (8)
    • ►  May (31)
  • ►  2016 (25)
    • ►  December (2)
    • ►  March (23)

Created with by BeautyTemplates